সত্যজিৎ যেভাবে বলিউডকে বদলে দিচ্ছেন

ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে পরিচালক হিসেবে একমাত্র অস্কার বিজেতা তিনি, এখনও। যিনি পৃথিবীর সর্বকালের সেরা পরিচালকদেরও একজন।

চলচিত্রের নতুন ভাষা আবিষ্কার করেছিলেন তিনি। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য বলিউড তার সিনেমার স্টাইল, ভাষা কিছু বোঝেনি, আয়ত্ত্ব করার চেষ্টাও করেনি দীর্ঘকাল। কেন? হয়তো বাঙালি বলে।

মুম্বাই বৃটিশ আমলে নিজেদের বঞ্চিত ভেবেছে, তাই বৃটিশরা চলে যাবার পর বাংলার রাজনৈতিক প্রভাব কমা মাত্র শিল্প সংস্কৃতিতে নিজেদের জাতে ওঠানোর জন্য উঠে পরে লাগল মুম্বাই। শিল্পের দিক থেকে না পারলেও ব্যাবসায় এগিয়ে গেল তারা এবং তারই প্রভাবে মুম্বাইতে তৈরি হতে লাগল বাজারি ছবি যার সাথে শিল্পের সম্পর্ক ক্ষীন। গত প্রায় ৪০ বছর ধরে এভাবেই বিকশিত হয়েছে মুম্বাই। আজকের অমিতাভ, অক্ষয়, শাহরুখরা এসবেরই বাই প্রোডাক্ট।

মুম্বাইয়ের প্রভাব বাড়ার ধারাবাহিকতায় ৭০ দশকের পরে ইন্ডিয়ান mass audience এবং চলচিত্র পরিচালকরা আবর্জনা বানাতে শুরু করে। এবং সেটাই পরবর্তীতে তথাকথিত মূল ধারা ( Main Stream) হয়। বিনোদন আর শিল্পের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে।

অথচ সত্যজিৎকে ঘিরে সারা দুনিয়ার ছবি পাগল মানুষের উৎসাহের শেষ নেই। সব ফিল্ম ইন্সটিটিউটগুলোতে তাকে পড়ানো হয়, দেখানো হয়। ইন্ডিয়ান ছবি বলতে এখনও সত্যজিৎ এর ছবিই বোঝে সারা পৃথিবী। এমনকি হলিউডের কয়েকটি ছবির গল্প, সংগীত তার ছবি থেকে নেয়া বা তার ছবি অবলম্বনে।

২০০৪ সালের পর থেকে সুজয় ঘোষ, দিবাকর ব্যানার্জি, অনুরাগ বসুরা স্টারডম মেথড থেকে বেরিয়ে এসে Content based ছবি বানালো এবং দর্শকের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেল। গ্যাংস্টার, কাহানী, লাইফ ইন এ মেট্রো, বারফি, ডার্টি পিকচার, কুইন, মাসান এসব ছবি এই দশকে বলিউডের ছবির ধারা পরিবর্তনে মাইল ফলক হিসেবে কাজ করেছে।

এই ছবিগুলোর পরিচালক, কাহিনীকার, স্ক্রিপ্ট রাইটাররা কিন্তু প্রত্যেকেই সত্যজিৎ এর চ্যালা। এরা সত্যজিৎ এর সাহিত্য, পরিচালনা ও ব্যাক্তিত্ব দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ও অনুপ্রেরিত।

এখন যে পরিবর্তীত সময়ের হাওয়া আমরা পাচ্ছি উপমহাদেশ জুড়ে তার পেছনে তাই আর কেউ নয়, সেই সত্যজিৎ ই আছেন। অনেক আগেই তিনি ইন্ডিয়ান ( ভারতীয় উপমহাদেশীয়) দর্শককে বুঝেছিলেন। তাই দর্শকের রুচি তাকে বানায়নি, তিনিই দর্শক তৈরি করেছেন। ইন্ডিয়ান দর্শককে এক ইন্টারভিউতে তিনি ধুয়েছিলেন আচ্ছামত। তারই একাংশের লিংক দিলাম। এখনও যে খুব একটা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে তেমন নয়, তবে হচ্ছে।

আজ এই ক্ষনজন্মা প্রতীভার মৃত্যুবার্ষিকী। শ্রদ্ধাঞ্জলি!

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত