বলিভিয়া এই মুহূর্তে ১৩-১১-২০১৯ : রোদরিগো উরকিওলা ফ্লোরেস

writer name : Rodrigo Urquiola Flores

 

বিদেশের বন্ধুরা যারা আগ্রহ আর অহংকার নিয়ে ঘটনাবলীর উপর লক্ষ্য রেখে যাচ্ছেন তাঁদের জানাচ্ছি বলিভিয়ায় কোন ক্যু হয়নি। যা হয়েছে তাহল নির্বাচনী প্রতারণা, যে নির্বাচন শুরু হয়েছিল ২০১৬ র ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে গণভোটের মাধ্যমে এবং যা কলঙ্কের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছয় ২০ শে অক্টোবর ২০১৯ । হ্যাঁ সেনাবাহিনী রাষ্ট্রপতিকে ডিঙিয়ে ক্ষমতায় চলে এসেছে কিন্তু কোনভাবেই তা ক্ষমতা দখল করেনি। বাস্তবে এই মুহূর্ত পর্যন্ত যখন লেখাটা লিখছি তখন আমাদের দেশের কোন প্রধান নেতা নেই। নির্বাচনী প্রতারণার সামনে জনজাগরণ ঘটেছে। তারপর OAE অর্থাৎ আমেরিকান রাষ্ট্র সংগঠন পুনর্নির্বাচন করার কথা বললে সরকারের কাজ করা বন্ধ হয়ে যায়। এটি উল্লেখ করা দরকার যে সেনাবাহিনী এখনও পর্যন্ত দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি অনুগত থেকেছে। লোকে বলে ছোটবেলা থেকে কেউ যদি বলিভিয়ার মত কোন জনবহুল দেশে থাকে, কেউ যদি সম্পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে প্রথম দুদফায় এভো মোরালেসের জন্য ভোট দিয়ে থাকে, সে (যখন বিষয়টাই স্কুলবেলায় ছিল, মানে এভো জমানার আগে, লোকজন আমায় লেখক হিসেবে চিনবার আগে)  যখন পাশের বড়লোক পাড়া কালোতে শহরে গেলে “বড়লোকের ছেলে”-রা (যারা পয়সাওয়ালা, গায়ের রঙ সাদা, সাধারণত পদবী ইউরোপীয় থাকে) তাকে বলত- “হেগো ইন্ডিয়ানের পুত”, গায়ের রঙের জন্য যথেষ্ট কাছাকাছি বলা যায় এমন সব ছেলেরা সকলে জানত এই সব বুদ্ধু বর্ণবিদ্বেষী জিনিস সহ্য করতেই হবে। সৌভাগ্যবশতঃ তাদের প্রতি সেই গভীর ঘেন্না সে পুষে রাখেনি আজীবন যেমনটি আমার আর সব বন্ধুরা রেখেছে। এমন ঘেন্না যা প্রায় অন্ধ করে দেয়, তোমাকে ভাবায় যে সব মানুষ একই রকম বর্ণবিদ্বেষী, যখন ব্যাপারটা এরকম নয় তখনও ভাবতে থাকে। স্মৃতি একটা জঘন্য জিনিষ, যখন বিস্ফোরণ ঘটে মাঝে মাঝে প্রায় অসহনীয়। এবং সেজন্যই বিদেশের বন্ধুরা দয়া করে মাথার মধ্যে টিভি সিরিয়াল বানানো বন্ধ করুন এবং আসল ঘটনাগুলো জানুন। সবচেয়ে ভাল হয় কোন বলিভিয়ার বন্ধু যিনি বলিভিয়ায় থাকেন তাকে জিজ্ঞেস করুন আসল ঘটনাটা কী ঘটছে। আমি কয়েকজনকে উত্তর দিয়েছি (সবাইকে নয় কেননা সময় পাইনি উত্তর দেবার) আমায় যখন তারা জিজ্ঞেস করেছে। আমার বলতে সমস্যা নেই।

একটা সময় ছিল যখন প্রতিবাদ সংঘটিত হত। যখন মানুষ বুঝতে পারত না কোন পক্ষ নেবে সে। একদিকে তোমার বিবেক বলছে যে প্রতারণা ভাল কাজ নয় এক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে। আর অন্যদিকে যখন তুমি দেখছ এই বর্ণবিদ্বেষকে যখন তাকে মূর্খ ও গুহার ভেতর চাপা দেওয়া হয়েছে বলে ভাবা হয়েছিল মৃত, তাকে বের করে আনছে ঝুলি থেকে অনেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছে তখন সে নিশ্চিত ভাববে এভো আরো ১০০ বছর ক্ষমতায় থেকে যান যতদিন না এইসব মানুষগুলো শিক্ষা না পায়। আসলে এইসব ঘটনাগুলো স্মৃতি খুঁড়ে আনে। আমি অস্বীকার করতে পারিনা যখন আমার প্রচুর বন্ধু উল্লাস করছিল। যারা কাছ থেকে দেখেছিল কোন না কোন এইসব বর্ণবিদ্বেষী ঘটনা, তাদের ভেতরকার লড়াই বের করে আনছিল এবং তাদের যারা অপমান করেছিল তাদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছিল, তা দেখে আমারও আনন্দ হয়েছিল। কিন্তু হিংসাকে উৎসাহ দেওয়া ঠিক নয়। তাতে যাই হোক না কেন। মাঝে মাঝে রাগ আমাদের বিপথগামী করে দেয়। দেশের সীমানা এখন নাজুক হয়ে আছে। এই সময় তোমাকে সজাগ থাকতে হবে, না হলে এর পরে তুমি সেই সব কাজই করবে যা এতদিন এই বুদ্ধুগুলো করে এসেছে। যার জন্য তুমি এদের ঘেন্না করেছ।  চট করে তুমি সাদা চামড়ার লোকদের ঘেন্না করতে শুরু করবে। যাদের টাকাপয়সা আছে তাদের লুট করতে শুরু করবে।  সান্তাক্রুজ (অর্থনৈতিক রাজধানী) থেকে এসেছে বলে লা পাস (রাজনৈতিক রাজধানী) -এ ঢুকতে দেবে না। আমরা নিজেদের অসভ্য রাক্ষস হতে দিতে পারি না। বলিভিয়া বর্ণবিদ্বেষে জর্জরিত একটি দেশ। আর এইসব “বড়লোকের ছেলে” রা কোন বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়। এই ঘেন্নায় আমরা যদি ইতি না টানি তাহলে আমরাই আমাদের দেশ ধ্বংস করে দেব। যাদের টিকে থাকতে হয় তাদের আরো অনেক বুদ্ধিমান হতে হয়। চোখের বদলা চোখ নিলে আমরা অন্ধই হয়ে যাব।

“ঘুমন্ত সিংহেরা জেগে উঠেছে”- আমার বহু বন্ধু, প্রতিবেশি যারা সারা জীবন আমার পাশাপাশি বসবাস করেছে তারা একথা বলছে, হাসছে। আমি আর একবার জোর দিয়ে বলছি আমাদের স্মৃতি শাসন করা শিখে নিই বন্ধু। আমরা নিজেদের রাক্ষসে পরিণত করতে পারি না। ক্লান্ত হয়ে পড়া পর্যন্ত আমাদের এই সব কাজ চেষ্টা করেই যেতে হবে। না না না না না ওদের চেয়ে আমাদের নিচু হওয়া খারাপ হওয়া চলবে না। এ সেই ঘুমন্ত সিংহ নয় যে পুমা কাতারি পুড়িয়ে দিয়েছে (পুমা কাতারি বলিভিয়ার বাস কোম্পানি ১১ই নভেম্বর এদের ৩৩ টি বাস পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে উন্মত্ত জনতা), এ সেই ঘুমন্ত সিংহ নয় যে আমাদের অজস্র ভীত দেশবাসীকে বের করে এনেছে ঘর থেকে। এ সেই ঘুমন্ত সিংহ নয় যে চিৎকার করে বলছে – “ হ্যাঁ এখন গৃহযুদ্ধ হোক!”।  ধ্বংস করার ইচ্ছেয় এই প্রবল ঘেন্না বইতে পারি না। এ ঘেন্না আমাদের অন্ধ করে দিচ্ছে। অনেক কার্যকারণ বুঝতে দিচ্ছে না। “প্রকৃত জনপদ হল সমান নীতি সকলের জন্য” এমন কথা বলে আমার বন্ধুরা। সত্যি কথা হল প্রকৃত জনপদ হল যেখানে মানুষ ভালবাসে তার মাটিকে, যখন তুমি সত্যিকারের ভালবাসো তখন তুমি ধ্বংস করো না। একবার ভাবো তোমরা বলিভিয়া সেইরকম দেশে পরিণত হয়েছে যেখানে আমরা একে অপরকে ঘৃণা করছি না।

“এখন আমরা যে রাক্ষসের কথা বলছি সেটিকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব”- কথাটি লুইস ফেরনান্দো কামাচোর, বলিভিয়ার বোলসোনারো, বিবিসি কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন। [ লুইস ফেরনান্দো কামাচো অতি- দক্ষিণপন্থী মাল্টি- মিলিওনেয়ার নেতা যাকে সমর্থন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইনি চান বলিভিয়াকে বিভক্ত করতে। সেই সঙ্গে সমর্থন কুড়িয়েছেন ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার। ইনি এভো মোরালেসের হঠাত পদত্যাগের পরে দ্রুত রাষ্ট্রপতি ভবনে ঢুকে এক হাতে বাইবেল অন্য হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে ঘোষণা করেছেন “বলিভিয়ায় পাচামামা আর কখনও ফিরবে না। বলিভিয়া যিশুখ্রিস্টের”। * পাচামামা হল জননী পৃথিবীকে বলা হয় , ইনি ইন্ডিয়ান জনজাতির দেবী। ] লোকটা প্রতারণার চাইতেও বড় স্থান দেয় রণক্ষেত্রকে। মনে হয় শ্রীমতি জেনাইনে আন্যিয়েস রাষ্ট্রপতি পদে বসতে পারেন। এঁর ওপর এখন সংবিধান সম্মত শাসনের দায়িত্ব এসে পড়েছে। [প্রাক্তন সেনেটর জেনাইনে নির্বাচনের আগে এভো মোরালেসের বিরোধী আসনে ছিলেন। সংবিধান আদালতের সমর্থনে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন।] কামাচোর এখন নিজের বাড়ি ফেরা উচিৎ। অন্য কাজে মন দেওয়া উচিৎ। ইনি যথেষ্ট নিজের ভাগের কাদা ছুড়ে নিয়েছেন। নিজের দেশকেই ইনি চেনেন না। এমন কথা কেউ এক হাতে বাইবেল নিয়ে বলতে পারেন না যখন সে বলে –  বলিভিয়ায় আর কখনও পাচামামা ফিরবে না। আমরা কোন রকম উন্মত্ততাকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। সেটা রাজনৈতিক হোক বা ধার্মিক। ক্ষমতায় একজন ভারসাম্য যুক্ত মানুষ চাই আমাদের। তাদের বুঝতে হবে আমাদের ইন্ডিয়ান ভাইরা যে লড়াই লড়ে এসেছেন টা ব্যর্থ হতে দেওয়া যায় না। এতদিনে যা অগ্রসর হওয়া গেছে সেটাকে আবার পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় না। মানুষকে সমাজের সব ক্ষেত্রের মানুষের কথা শুনতে হবে। সত্যিটা হল উন্মাদদের কানে কোন কথা যায় না। দেখে মনে হতে পারে মুখে হাসি ঝুলিয়ে রেখে তারা কথা শুনছে কিন্তু আসলে শোনে না তারা। আমরা এক ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ ছিলাম এবং এভাবেই আমাদের থাকতে হবে।

এখুনি একটা ভিডিও দেখে উঠলাম যেখানে উইপালা [ উইপালা একটি পতাকা যা বলিভিয়া, পেরু, একুয়াদোর, আর্জেন্টিনা, চিলি এবং কলম্বিয়ার ইন্ডিয়ান জনজাতির মানুষের যৌথ প্রতীক।] পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ইন্ডিয়ান মানুষ ক্ষুব্ধ। তাদের ক্ষোভের কারণ আমরা বুঝতে পারি। এই রাগ বুঝতে পারি যেখানে তোমাকে আহত করা হবে বলে তোমায় পৃথক করে দেওয়া হয়। এই কাজ কারা করেছে? তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। এখনও তারা না করে থাকলে নতুন করে মাফ চাক। ওরা এখনও বুঝতে পারে নিও লড়াই সম্ভ্রম আদায় করার জন্য সম্মান লাভের জন্য করা হয়। প্রাক্তিন রাষ্ট্রপতি কার্লোস মেসা  ও কামাচো যদি তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিবারণ না করেন তাহলে লা পাজে বিপদ ঘনিয়ে আসছে। হয়ত দুজনেরই দৃশ্য থেকে বিদায় নেওয়া উচিৎ। এখন সময় হয়েছে আমাদের প্রত্যেককে নিজেদের ছোট ছোট আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে এবং অন্যকে ক্ষমা করতে হবে। হ্যাঁ মশাই আপনারা যাদের শরীর আগুনে পুড়েছে যাদের পতাকার লাঞ্ছনা করা হয়েছে তাদেরও বুঝতে হবে আমরা সকঅলেই মানুষ ও আমাদের সবার ভুলভ্রান্তি হয়। আমাদের বিনয়ী হতে হবে এটাই আমাদের দেশের বৈশিষ্ট্য। উত্তরাধিকারের অহংকার আমাদের দেশের কোন মঙ্গল করবে না। আমাদের সব হারাতে হতে পারে। আমরা সকলে ভাই ভাই। এক মায়ের গর্ভ থেকে এসেছি। আমাদের পরস্পরকে অপমান করা বন্ধ করতে হবে।

লেখকের শপথ আমি পড়ে এসেছি আমার দুই সহকর্মীর সামনে যারা দুজনেই আমার মতের বিরোধী। যাদের আমি পরম অনুরাগী। অবশ্যই আমি তাদের নাম্বলব। আমি কাপুরুষ নই যে পাথর ছুঁড়ে নিজের হাত লুকোব। না ক্লাউদিও ফেররুফিনো কোকেউগনিওট(বিশিষ্ট গল্পকার)– তুমি ভুল বলছ যখন বলছ- ভাল মাসিস্ট হল মৃত মাসিস্ট। [ মাসিস্ট হল বাম সোশ্যালিস্ট দল ১৯৮৭ সালে যারা গঠিত হয়েছিল।] । এভো মোরালেস কোন “প্রথম এভারিস্তো, পাছার রাজা” নন। [এভারিস্তো পারামোস পেরেজ একজন স্পেনীয় পাঙ্ক গায়ক। যিনি ফ্যাসিজমের প্রবল বিরোধী কন্ঠ হিসাবে বহু সম্মানিত।নিজেকে “পাছাদের রাজা” বলে পরিচয় দিতেন মানে ব্যাকবেঞ্চারদের শিরোমণি] । এবং “ডোরাকাটা জার্সি” –র এভো মোরালেসও এখন নেই। যখন কেউ দূরে থাকে তখন পরিপ্রেক্ষিত হারিয়ে ফেলাও সোজা। এবং নিজেকে অন্তর্গত পশুত্ত্বের কাছে সমর্পণ করাও সহজ।  তোমাকে আমার দেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি বন্ধু। আমার বাড়িতে থাকবে, ঠাকুমার সঙ্গে শোবে। ঠাম্মা এভোর অসম্ভব ভক্ত। তাকে অনেকেই মাসিস্ত বলে। হয়ত ঠাম্মা নিজেও নিজেকে বাম সমাজপন্থী মনে করে। তবে তিনি হয়ত অন্য অনেকে পন্থীর চেয়েও বেশী এভো পন্থী। অনেক ভাল মানুষই আছেন যারা এভোকে প্রতীক হিসাবে মনে করেন। প্রথমে তো তিনি আমাদের মতই ছিলেন। আমি নিজেও মাঝে মাঝে ওঁকে “ডোরাকাটা জার্সি “ বলে সম্বোধন করেছি। কিংবা কাছাকাছি কোন নামে, কেননা আমিও টাই পরা পছন্দ করি না। তিনি এমন এক দেশ শাসন করতে এসেছিলেন যেখানে বেশির ভাগই ইন্ডিয়ান জনজাতির মানুষ। তিনি অনেক ভাল কাজ করেছেন। আমাদের সেসব স্বীকৃতি দেওয়া দরকার।

না রামোন রোচা মোনরোই (বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক) এভো মোরালেস স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোন দেবদূত নন। কোন রাজনীতিকই তা নয়। কারোকেই মৃত্যু পর্যন্ত সমর্থন করা উচিত নয়। আবার অনৈতিক কিছুকে সমর্থন করাও অপরাধ। আমাদের সবার সম্মান করা উচিৎ আইন সংবিধান রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি। ক্ষমতায় আসার জন্য প্রতারণা করা উচিৎ নয়। আমাদের জাতির জ্ঞানী মানুষেরা বলেন আমাদের “মুইয়ু” নিয়ম মান্য করা উচিৎ।

[মুইয়ু ইন্ডিয়ান জনজাতির তৈরী নিয়ম] যেখানে বলা হয়েছে শাসনভার একবার গ্রহণ করা উচিৎ। ছোট ছোট্ট উপজাতি এই নিয়ম পালন করে থাকে। আমাদের উদার হওয়া দরকার। ফেলিপে ক্রিসপে (ইন্ডিয়ান জনজাতির নেতা)  সঠিক বলেন সংখ্যাগুরু কার্যালয়গুলোয় ইন্ডিয়ানদের সংখ্যা নগণ্য, বরং কেয়ারা জাতির লোক, কিংবা আরো কিছু খারাপ নামের মানুষ দেখা যায়। এই লোকগুলোর উদ্দেশ্যে দেওয়া সব গালিও আমাদের বর্জন করতে হবে।

আমার মনে হয় এভোর সবচেয়ে বড় ভুল হল নীতিগত ভুল। কারণ শাসনতন্ত্রে বহু এমন মানুষ ছিলেন যারা চান না নতুন কোন নেতা বা শাসক উঠে আসুক। যে ধরনের নেতা আমাদের প্রয়োজন, এ দেশের গ্রামের মানুষের কী চাই যেকথা বুঝবে সে, গ্রামের, শহরের, ক্ষেতের চাষির ছেলে যারা পিচ রাস্তায় লড়াই করে যাচ্ছে প্রাণপণ, যারা উভয়পক্ষের প্রয়োজন বুঝবে। ঠিক সে কারণেই আমরা এখন পরিত্যক্ত। আমাদের নেতাদের এজন্যই এমন মরীয়া ভাব। অনেক বলিভিয়ানই এখন কামাচো বা মেসা এমনকী চী-র দিকেও দৌড়চ্ছে। [ চী হুয়ান চুং- ক্রিস্টান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা] ওই লোকটা আরেক উন্মাদ। সবকিছু ভারসাম্য হীন হয়ে গেছে তাই অবস্থা ভয়ঙ্কর। কারণ আর কিছু নেই। এই দেশে বিরোধী আর কেউ নেই। এটা প্রায় কমেডির মত। কোন গণতন্ত্রে এটা ভাল চিহ্ন নয়।

আমাদের ভারসাম্য চাই। মনে হয় যখন এটা আসবে আমরা সত্যিকারের শান্তি খুঁজে পাব। আমাদের সে শান্তি স্থায়ী হবে। ততদিন আসুন পরস্পরকে জড়িয়ে থাকি আর ব্যাপারটা বুঝতে চেষ্টা করি যা মনে হচ্ছে বহুদূরে রয়েছে। সেটিকে যথাস্থানে নিয়ে আসি চলুন।

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত