১
দাসত্ব ফুরায় না আর
যেভাবে ভেসে আসে স্বয়ংক্রিয় শীৎকার
কিছু শুকনো গোলাপের পাপড়িও
অন্ধ হবার আগে দেখে নেয়
কীভাবে রঙের মানুষ
ছবির ভেতর নড়েচড়ে
যশোর রোড ধরে বিরতিহীন আলাপে
ঘোরলাগা কন্ঠে বলে যায়..
এক ঝুড়ি সন্তান হলে
আমরা ঘরোয়া ফুটবল লীগ তৈরী করব
নাম হবে লা ফুরিয়া রোজা..
২
চৈত্রে ফোটা রোদফুলকিগুলো
ছুটে এলে ক্ষোভ হয়
অবিকল নেমে আসে সেইসব পাতা
পুরনো দিনের মতো
পৌঁছে দেয় ব্যথার চক্রাবর্তে
ফ্রেমের ভেতর পরস্পর জড়িয়ে থাকে দুটো ক্যান্ডিফ্লস
ততক্ষণে
কবিতার হাত ধরে পেরিয়ে যাচ্ছো শার্শা
গিন্সবার্গের সাথে দু’জনই গাইছো ফিরে আসার যশোর রোড
শুনতে শুনতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছি.. ফিরছি নিজস্ব টাইমলাইনে..
৩
চৈত্র এলে পুড়ে যাই বারবার
নদীও শাখা-প্রশাখা খুলে আর দাওয়ায় বসাতে পারে না
চতুর মুখের দিকে আড়াল করি দীর্ঘশ্বাস
পোড়াসূর্যের দিন
অস্বীকৃতির দায় আর আমার নয়
কাউকে কিছুই বলব না
বলা মানে হাওয়ার অবৈধ অনুপ্রবেশ
বলে ফেলা মানে সুগন্ধ হারানো কোনো ফুল
হাতের ভেতর থেকে হাত সরিয়ে নিলে
যেমন নিভে যায় আনন্দলহরী..
৪
এদিকে বর্ষাকাল। ঋতু বসন্তবাহার। কাল রাতে মৃত মাকে নিয়ে আকাশপথে পৌঁছে গেছি তোমার ডেরায়।
মায়ের চোখভর্তি আতঙ্ক। তোমার জন্য। ঘরের ভেতর উড়ে বেড়াচ্ছে একলা মাছি। পপকর্ন খাচ্ছে ছেলে। আমাদের ডানা পুড়ে পুড়ে জন্ম নিচ্ছে তোমার আয়ু।
কীভাবে পালটে গেল স্পর্শ ও সম্পর্ক।
পাখি অনন্তকাল গায় না। প্রেম চিরদিন থাকে না। তবু আর কিছুদিন, অল্প ভালোটি তুমি বাসিও।
৫
শরীরভর্তি রোদ নিয়ে ঢুকে পড়েছি তোমার শরীরে। তখন আমার ডানা ছিল, ছিল ব্রাকেট মধ্যবর্তী কিছু কথা আর মামুলি কিছু আশা। এসবের বাইরে জলপাইয়ের আচার ভর্তি বয়ামগুলোয় কিছু চরিত্র চৈত্রের রোদ মাখছিল।
ওই বাইরেটাই আমাকে উদ্বেল করে দেয়। ভয় পেয়েছিলাম। ব্যথাও। ব্যথা ছেড়ে আর কোনো সুখ বাজল না। ডানা ভস্ম করে দিল ভয়। দুপুরের ঝিমধরা রোদে বাবা ডাকছিলো, জেটপাখি, জেটপাখি!
বিছানার পাশে জমা রইল হাতঘড়ি ও প্রেস্ক্রিপশন..

কবি, গল্পকার। পেশা গ্রাফিক ডিজাইনিং। লেখালিখির শুরু ২০০৭ এ। সম্পাদক, ঐহিক বাংলাদেশ।