| 19 এপ্রিল 2024
Categories
পাঠ প্রতিক্রিয়া সাহিত্য

নির্জনতম সেই গাছ : অর্কায়ন বসুর কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: < 1 মিনিট
প্রতি বছর-ই আমি পছন্দের তরুণ কবিদের কবিতার বই সংগ্রহ করি সাধ্য মতো। সব সময় হয়ত হয়েও ওঠে না। এ বছরেও অনেকের বই কিনেছি। অর্কায়ন বসুর বইটি কিনতে চেয়েছিলাম। ও কিছুতেই কিনতে দিল না। প্রথম বই উপহার দিল। উপহার পেতে কার না ভালো লাগে। কিছু আগে ছাদে বসে পড়েও ফেললাম। ছোট্ট বই, বেশি সময় লাগার কথা নয়। তবু আমি সময় নিয়ে একাধিক বার পড়লাম কবিতাগুলি। এই লেখাগুলি মগ্নপাঠ দাবি করে। মেধা মনন ও আবেগের সংমিশ্রনে গড়ে ওঠা নিজস্ব এক স্বরের কবিতাগুলি । প্রতিটি লেখাই কম-বেশি ভালো লেগেছে তথাপি নাম কবিতা “কর্কট রাশির জাতক “সবচেয়ে বেশি পাঠের আনন্দ দিয়েছে। অর্কায়ন চিত্রকল্প ও দৃশ্যকল্প নির্মানে দক্ষ কবি। রহস্যময়তার হলুদ একটা টোনে আঁকা প্রতিটি পংক্তি। নিজেকে নিবিড় মন্থন এসব। টানা গদ্যে লেখা কবিতা শরীরে ছড়িয়ে রয়েছে পালকের মতো নরম পংক্তি। যা থেকে ভেসে ওঠে ‘শরীরে খয়েরি অসুখ’। ‘পিয়ালি রঙের আলো’র পাশে ‘অন্ধ সেই বাথটাব -‘কে দেখি।’ বাদামি সন্ধের গায়ে’ শুনি ‘পিয়ানোয় বাজছে একটা সার্কাস’। ‘লোকটা মুছে যাচ্ছে আয়নায়’ আমার মতোই। কী অপূর্ব ভাবনা- চয়ন ‘শাদা পদ্ম ফুটে আছে নেমপ্লেটে’। সারাজীবন এভাবেই পদ্মফুটে থাকুক কবির নেমপ্লেটে– লালপদ্ম, নীলপদ্মের প্রমিত অভিমান থাক। প্রেম থাক কৃষ্ণচূড়ার সহজ সারল্যে। কবিতা তো অনুভবের, আত্মপাঠের। শীতের দুপুরে ছাদে বসে রোদে পিঠ দিয়ে অর্কায়নের কবিতা পড়তে পড়তে কী যে এক অনুভূতি হ’ল আমার ,  তা ব্যাখ্যাতীত। প্রথম বই এবং সার্থক। অর্কায়ন আরো লিখুক। ‘আলো- আলো ভোরে’র দিকেই এগিয়ে যাক ‘ কর্কট রাশির জাতক’।
চমৎকার প্রচ্ছদ শুভদীপ সেনশর্মার। মুগ্ধ করে রাখে। ছাপাও খুব সুন্দর। এমন সুন্দর একটি প্রকাশনার জন্য রোদরং প্রকাশনকে ধন্যবাদ জানাই। বন্ধুদের বলব, প্রকৃত অর্থে যাঁরা কবিতা যাপন করেন বা করতে চান এই বইটি পড়ুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত