| 18 এপ্রিল 2024
Categories
পাঠ প্রতিক্রিয়া সাহিত্য

নিবু- নন্দুর বই আড্ডা

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট

নিবু আর নন্দু মাঝে মাঝে আড্ডা দেয়। দেখা হলেই সেলফি তোলে। হাহাহিহি করে। তবে কি শুধুই অকাজের বন্ধুত্ব? নাহ… দুজনে সদ্য পড়া বই নিয়ে আড্ডা দেয়। আজ ওরা আড্ডা দিচ্ছিল বুবুন চট্টোপাধ্যায়ের লেখা কবিতার বই ‘সাড়া দাও’ নিয়ে। বইটি কলিকাতা লেটারপ্রেস দ্বারা প্রকাশিত। বইটিতে মোট ৫৭টি কবিতা আছে। বিনিময় মূল্য ১২৫ টাকা।


     

নিবু – আচ্ছা নন্দু, বুবুনের ‘সাড়া দাও’ পড়েছিস?

নন্দু- আরে, ঐ বই পড়েছি, একথা বলা মুশকিল।

নিবু- কীরকম, কীরকম? মানে!!

নন্দু- হ্যাঁ রে, ঐ বই পড়া শেষ হবেনা জন্মে।

নিবু- আরে হ্যাঁ, এটা আমারও মনে হয়েছে তো। বারবার পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া, নানারকম অর্থ খুঁজে পাচ্ছি একটা কবিতার। 

নন্দু- একদম। এইজন্যই … অনেকরকম অর্থ লুকিয়ে থাকছে। আচ্ছা, প্রচ্ছদটা সম্বন্ধে তোর কী মনে হয়? কবিতাগুলির যে অন্তর্লীন বিষাদ, সেটাই কি প্রতিফলিত হচ্ছে গাঢ় রঙের ব্যবহারে?

নিবু- না, ঠিক সেরকম নয়  আমার মনে হচ্ছে যে, ধর… একটা অন্ধকার ঘর, সেখানে এসে কেউ ঠকঠক করে ধাক্কা দিয়ে ডাকলো… ‘সাড়া দাও।’… কেউ খুব উদ্বিগ্নএরকম একটা ছবি তৈরি করছে কবিতাগুলো এবং এই উদ্বেগটাই যেন দেখতে পাচ্ছি এখানে।     

নন্দু- আরে বাহ, দারুণ বললি তো! হ্যাঁ, সব কবিতাতেই একটা ধাক্কার ব্যাপার আছে বৈকি।   

নিবু- একদম। পড়বার পরে ভাবতে হবে। ভাবতে, ভাবাতে বাধ্য করবে পঙক্তিগুলি। যেমন, ১৭ পাতায় দেখ, এই ‘খরা’ কবিতাটা। মানুষের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কথা…

নন্দু- হ্যাঁ, উফফ, শেষ দুটো লাইন সাঙ্ঘাতিক– ‘প্রকৃতি কিছু দেয়না আর/ মানুষ মানুষ খায়’

নিবু- হ্যাঁ, প্রকৃতি মানে মানুষেরই অন্তরের যে প্রকৃতি, তারই ক্ষয় এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া।     

নন্দু- সত্যি। আচ্ছা, বুঝলি… আমার ভালো লেগেছে বেশ ‘ইলিশ’ কবিতাটা। শেষ কবিতা। মনে হচ্ছে একটা বেশ বড় ক্যানভাসে, সামগ্রিক একটা সময় এবং সমাজ ধরা পড়েছে এই কবিতায়। নিবু- ঠিক! আবার কিছুটা এরকম ভাবনার কবিতা… একটু দ্যাখ, এই ৪০ পাতায়, ‘আনাজপাতি’ … পড়ে বুঝতে পারি, আমরা দিনকে দিন কেমন যেন কৃত্রিম হয়ে যাচ্ছি। মানুষের যে প্রকৃত নির্যাস সেটা হারিয়ে যাচ্ছে।      

নন্দু-  সত্যিই, বেশিরভাগ কবিতাতেই ভাবিয়ে তোলার ব্যাপার আছে। আসলে কবিতায় মানুষ যেমন একটা অলীক কল্পলোকের আরাম খোঁজে, সেটা নেই। বরং একটা তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া জটিল সময়ের অস্থিরতা, সেটা আছে। তবে, ব্যতিক্রম একটা কবিতা…    

নিবু- কোনটা বল তো? 

নন্দু- দ্যাখ, এই যে, ২৪ পাতায়, ‘মাতৃতান্ত্রিক’, এটা পড়লে বেশ একটা ভালো লাগা তৈরি হয়, বেশ একটা আবেশ।

নিবু- হ্যাঁ, খুব সুন্দর একটা ছবি আঁকা হচ্ছে যেন … ‘আগামী কোনোদিনে আমরা একসঙ্গে মাচ্চুপিচু যাবো’।

নন্দু- হ্যাঁ, দারুণ! তাই না? 

নিবু- এরকম একটা আরাম অবশ্য এই ‘স্মৃতি’ কবিতাতেও আছে। বেশ নরম আলো আলো…

নন্দু- হ্যাঁ, তা আছে, আবার একই সঙ্গে একটা অতীতচারিতা… সেটা ‘দুব্বোঘাস’ কবিতাতেও আছে।   

নিবু- আচ্ছা, এই ৬১ পাতার ‘গিরগিটি’ কবিতাটা পড়েছিস? কী মনে হয় তোর? এই যে, ‘ঈর্ষা’র নতুন সংজ্ঞা তৈরি হয়েছিল আমাদের ছোটবেলায়, ওনিডা টিভির বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে, মনে আছে তোর?   

নন্দু- আরে হ্যাঁ, এটা দারুণ জায়গা ধরেছিস তুই নিবু!… বিজ্ঞাপনের ট্যাগলাইন ছিল, ‘নেবারস্‌ এনভি, ওনারস্‌ প্রাইড!’  

নিবু- ঠিক! হয়তো ঐরকম একটা সময়ের সন্ধিক্ষণ থেকে আমাদের মূল্যবোধ বদলে যাওয়া শুরু হয়েছিল। আমি কাউকে ঈর্ষা করছি, কিম্বা আমাকে কেউ ঈর্ষা করছে- পুরো ব্যাপারটা হয়তো ভীষণ কম্পিটিটিভ হয়ে যাচ্ছিলো…

নন্দু- ঠিক বলেছিস। ঈর্ষা মহিমান্বিত হল এবং এই কবিতায় দেখ… শঙ্খ ঘোষ মনে পড়ছে… কিন্তু একটা অন্য মেরু তৈরি হয়েছে, ‘মূর্খ বড়ো সামাজিক হয়…    

নিবু- এবং হয়তো ভালোবাসার রকমসকমটাও বদলে গেলো।    

নন্দু- একদম। শেষ লাইনে ‘ঈর্ষার মেঘ ভালোবাসার ছলনা করে খুব’।   

নিবু- মোটকথা, সব মিলিয়ে বইটা কবিতাপ্রেমী মানুষের ভালো লাগার মত বই।   

নন্দু- একদম। ছাপাই, বাঁধাই ভালো। বানান ভুল চোখে পড়লো না।    

নিবু- ঠিক। সংগ্রহে রাখা যায়। আমাদের ভালো লেগেছে।  তবে, আমরা তো আর সমালোচক নই। সাধারণ পাঠক।

নন্দু-  একদম। বেশি জটিলতা আমরা বুঝিও না।

নিবু – সেই দিক থেকে বুবুনের কবিতা কিন্তু একেবারেই দুর্বোধ্য নয়।

নন্দু – হ্যাঁ, এটা তো একটা প্লাস পয়েন্ট বলে মনে হয় আমার।

নিবু- আমারও। আর হ্যাঁ, মেলা থেকে কেনা আরও বই নিয়ে আড্ডা দেবো, বুঝলি!

নন্দু- আরেবাবা, একটু সময় দে আমায়। আরও পড়ে নিই। আবার আড্ডা হবে।

 

 

 

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

পরিচিতি          

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত– জন্ম ৯ই এপ্রিল, ১৯৭৫, মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে। গৃহবধু। পড়তে ভালো বাসেন। সেই থেকেই লিখতে আসা। বিভিন্ন প্রিন্ট এবং অন লাইন ম্যাগাজিনে গল্প ও কবিতা লেখালেখি করেন।   

 নন্দিনী সেনগুপ্ত জন্ম ৪ঠা জুলাই, ১৯৭১, কলকাতায়। ২০০৩ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূবিদ্যায় পিএইচডি। গল্প, কবিতা লেখালেখি ছাড়াও ইংরেজি এবং জার্মান ভাষা থেকে অনুবাদের কাজ বিশেষ পছন্দের।      

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত