বিস্ময়কর বইয়ের দোকান

বই মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। কিন্তু ব্যস্ততার শহরে, হর্ন-জ্যামে বসে মানুষের মনে আর বই পড়ার মতো শান্তি থাকে না। ডিজিটাল যুগে কাগজ ছেড়ে বই কম্পিউটার স্ক্রিনে আর ট্যাবে ঠাঁই পেলেও ছাপা বইয়ের আবেদন কিন্তু কমেনি। নিয়ম করে আমাদের দেশেও প্রতিবছর বইমেলা হয়। ঢাকা শহরে রয়েছে বেশকিছু বইয়ের দোকান। যাঁরা বই পড়তে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এসব জায়গায় বই পড়াটা খুবই আরামদায়ক কাজ। বিভিন্ন দেশে রয়েছে বেশ বড় এবং সমৃদ্ধ সংগ্রহের বইয়ের দোকান। এয়ার ট্রিপস্টার জানিয়েছে তেমন ছয়টি বইয়ের দোকানের খবর।
১. লিব্রেরিয়া এল অ্যাতেনিও গ্র্যান্ড স্প্লেনডিড, বুয়েনস আয়ার্স, আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্স। এই শহরেই রয়েছে লিব্রেরিয়া এল অ্যাতেনিও গ্র্যান্ড স্প্লেনডিড দোকানটি। বিশাল এই দোকানে রয়েছে তাকভর্তি সব বই। ফ্রেসকো করা ছাদের সিলিং, মঞ্চের মতো বিশালাকৃতির পর্দা এবং বই পড়ার জন্য থিয়েটার বক্সের মতো আলাদা জায়গা। মনে হবে কোনো বিখ্যাত নাট্যমঞ্চে এসে উপস্থিত হয়েছেন। আর যে কোনো জায়গা থেকে পুরো দোকানের ভিউ দেখার জন্য রয়েছে ছোট ছোট বারান্দা। ১৯২০-এর দশকে এটা আসলে সিনেমা হলই ছিল। সিনেমা দেখার প্রথম যুগের সাক্ষী এই মিলনায়তন। বুয়েনস আয়ার্সে প্রথম সবাক ছবিও দেখানো হয়েছিল এই হলে। ২০০০ সালের দিকে একবার এটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে বাঁচিয়ে একে বইয়ের দোকান বানানো হয়েছিল।

২. পোলার মাসস্ট্রিশ, মাসস্ট্রিশ, হল্যান্ড
২০০৭ সালে খোলা হয় এই দোকানটি। ১৩০০ শতকের একটি ডোমিনিকান চার্চ এটি। চার্চে রয়েছে আসল ভল্টেড সিলিং এবং ফ্রেসকো। স্টিলের বইয়ের তাকে থরে থরে সাজানো বই। পড়ার জন্য রয়েছে ক্রস (X) আকৃতির টেবিল। এই দোকানটির আগের নাম ছিল বোয়েখান্দেল সেলেক্সিজ ডমিনিকানেন। তবে এরই মধ্যে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে দোকানটি। এটিকে বাঁচানোর জন্য এখন সবাইকে অর্থসহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৩. পপুলার কিডস রিপাবলিক পিকচার বুক স্টোর, বেইজিং, চীন
বাচ্চাদের জন্য তৈরি করা হলেও বড়রা এখানে বসে বই পড়ার লোভ সামলাতে পারেন না। ছোটদের সঙ্গে তাঁরাও বই কেনেন ও পড়েন। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত এই রঙিন বইয়ের দোকান। গোলগাল, আঁকানো বাঁকানো বিভিন্ন আকৃতির বুকশেলফ রয়েছে এখানে। গোলাকৃতির শেলফগুলোতে বসে আরামসে বই পড়তে পারবেন।

৪. আতলান্তিস বুকস, সান্তোরিনি, গ্রিস
২০০৪ সালে গ্রিসের সান্তোরিনি দ্বীপে বসে ওয়াইন খেতে খেতে হালকা চালে আড্ডা দেওয়ার সময় চার বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন একটি জাদুকরি বইয়ের দোকান খুলবেন। যেখানে গেলেই সবার বই পড়তে ইচ্ছে করবে। চার বন্ধু আবার তিন দেশের বাসিন্দা- ইংল্যান্ড, সাইপ্রাস ও যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক করলেন সান্তোরিনিতেই দেবেন সেই বইয়ের দোকান। এভাবে শুরু আতলান্তিস বুকসের। সাহিত্যমেলা, বইপড়া এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মতো নানা আয়োজন সব সময় লেগেই থাকে আতলান্তিসে।

৫. শেকসপিয়র অ্যান্ড কোম্পানি, প্যারিস, ফ্রান্স
এই দোকানের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫১ সালে। অনেক বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিক এখানে এসে সময় কাটিয়েছেন, বই কিনেছেন। অ্যালেন গিন্সবার্গ, হেনরি মিলার ও উইলিয়াম বুরোগ তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। মূলত এটি ছিল একটি আশ্রম। ১৭০০ শতকে নির্মাণ করা হয়েছিল এটি। দোকানটির মধ্যে বেশ কিছু সরু করিডর রয়েছে, যা থেকে একটি রুম থেকে আরেকটি রুমে যেতে হয়। এসব করিডর, হলওয়ে সবখানেই রয়েছে বইয়ের বড় বড় তাক। আরাম করে বসে বই পড়ার জন্য রয়েছে আর্মচেয়ার।

৬. প্লুরাল বুকশপ, ব্রাতিস্লাভা, স্লোভাকিয়া
স্লোভাকিয়ার এই বইয়ের দোকানে পাবেন শুধু তাক আর তাক, সব তাকই বইয়ে ঠাসা। সিঁড়ি দিয়ে কয়েক ধাপে ভাগ করা হয়েছে দোকানটিকে। চাইলে বইয়ের তাক থেকে বই নিয়ে সিঁড়িতে বসে পড়তে পারেন। এত বইয়ের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলাটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। প্লুরাল বুক শপের ইন্টেরিয়র বই পড়ার জন্য বেশ আরামদায়ক।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত