ব্রেকআপের পরে (পর্ব-১)

কখনো যদি ব্রেকআপের পরে জানা যায় যাকে ভালোবাসো সেও ঠিক সেরকম ই ভালোবাসে।যদি জানা যায় অস্তিত্ব টলোমলো হয় দুতরফেই একই রকম ভাবে, যদি উপলব্ধি তে আসে, এতদিন এত রকমের ‘ভুল’ শুধু জমিয়ে তোলা হয়েছে ‘তেমন অর্থ রাখেনা’ বোধে, তখন মুঠো ভর্তি আফসোস আর আছাড়িপিছাড়ি মনকেমন ছাড়া আর কিছু পড়ে থাকে না। থাকার কথাও নয়।
প্রেম থেকে ব্রেক আপ এক জার্নি, যেখানে পিছনে ফিরলে গোটা অস্তিত্ব, খন্ড মুহুর্তের যাপনসুখ সবটুকুই নিরর্থক মনে হয়। প্রেম থেকে ব্রেক আপে যাওয়ার পথে এক্কা দোক্কা র বিছানো কোর্ট, টপকে না গিয়ে ভুল দাগে পা দিলেই ভোকাট্টা, পয়েন্ট মিস।ব্রেক আপ এক অনিবার্য যতিচিহ্ন, কিছুতেই বুঝিয়ে না উঠতে পারার, বুঝে না উঠতে পারার। খেলাটা চলেনা আর , চু কিত কিত চলতে থাকে।কথার উপরে কথা সাজে, খাঁজে খাঁজে অপমান,আঘাত সুনিপুণ ভাবে গুঁজে দেওয়া চলে।
ব্রেক আপের পর জানা যায় আসলে যাই বলো প্রেম শুদ্ধিকরণের দাবি রাখে, মনে মনে সে যাবতীয় ভালো থাকা গিলে নিয়ে , ভ্রান্তিটুকু ঢেঁকুরে উগরে দেয়।‌প্রেম এক কল্পিত ওয়েসিস, মনের চিলছাদে তৈরি করা এক ভাসমান বাগান যার সবকিছু ভালোই হবে এমন ইউটোপিয়ান ধারনায় আমরা এক সুখী বুদবুদের মধ্যে বাস করি। উল্টো দিকের মানুষেরা কোন স্বর্গভূমি থেকে আগত নয়, মানুষ, যার মধ্যে অসংখ্য ছিদ্র আছে ভুলে যাই। আদর্শ মানুষ বলেই কিছু হয়না, তবে আদর্শ‌ প্রেমটি কোন গাছের ফল? কোথায় ঝুলে থাকে?
তুমি আর আমি ও সেই এক ই ভ্রান্তিকে বুকে জড়িয়ে এতদকাল বেঁচে বর্তে আছি। আমি তোমার চরিত্রের স্বাভাবিক জটিল আচরণগুলোকে অবজ্ঞা বা উপেক্ষা ভাবলাম, তুমি আমার জেদের বহিঃপ্রকাশকে ব্যভিচার ভাবলে, আর পারফেকশনিস্ট প্রেম কাঁচের বাসনের মতো ঝনঝনিয়ে ভেঙে পড়ল। ‘প্রেমে আছি,ভালো আছি’, এই ‘ভালো আছি” র বোধটি যুক্তির ঊর্ধ্বে, কেবল ভালো খোঁজে, কালো তার সহজ ভঙ্গিতে ছায়া ফেলে মাঝে মাঝে, আমরা অস্বীকার করতে গিয়ে, প্রেমকেই অস্বীকার করে ফেলি।
ব্যস, ওখানে ই ভালোবেসে ব্রেকআপের শুরু।

আমরাও করেই ফেললাম কাজটা,মানে ব্রেক আপ।

 

ক্রমশ…

.

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত