সম্পাদক বুদ্ধদেব বসু

আজ ৩০ নভেম্বর সব্যসাচী সাহিত্যিক,সম্পাদক বুদ্ধদেব বসুর শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবারের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি ।


 

রাজীব সরকার 

রবীন্দ্রনাথের পর সবচেয়ে কীর্তিমান সব্যসাচী সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু। সাহিত্যের সব শাখা তার বিচরণে ঋদ্ধ হলেও কবিতায় ঘটেছে তার শীর্ষতম নিমগ্নতা। শুধু কবি হিসেবে নয়; কবিতা কর্মী, কবিতার শিক্ষক, প্রচারক, সংগঠক হিসেবেও। রবীন্দ্র প্রভাববলয় অতিক্রমের চেষ্টা তিরিশের অনেক কবিই করেছেন। ‘কল্লোল-কালি কলম-প্রগতি’ এবং ‘পরিচয়-পূর্ব্বাশা- কবিতা’র সঙ্গে যুক্ত কবিবৃন্দই আধুনিক বাংলা কবিতার স্থপতি। জীবনানন্দ, সুধীন্দ্রনাথ, অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে সেই আধুনিকতার উচ্চায়ত ধারক। কিছু পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান প্রেমেন্দ্র মিত্র, অজিত দত্ত, সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এরা প্রত্যেকেই আধুনিক বাংলা কবিতার অবয়ব নির্মাণে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। এরপরও তাদের সবার চেয়ে আলাদা মর্যাদায় উচ্চারিত হবে বুদ্ধদেব বসুর নাম। গোটা একটি জীবন কবিতার আলিঙ্গনে সমর্পণ করেছেন তিনি। কবিতা তার অশরীরী প্রণয়নী। আধুনিক বাংলা কবিতার পক্ষে বলিষ্ঠতম কণ্ঠস্বর তার। তার যোগ্যতম শ্যেনদৃষ্টিতে মলাটবন্দি হয় আধুনিক বাংলা কবিতার বিশ্বস্ত সংকলন। কবিতা ও আধুনিকতার শত্র“ প্রতিক্রিয়াশীল ‘শনিবারের চিঠি’ সপ্তরথীর মতো আক্রমণ করে তাকেই। আধুনিক বাংলা কবিতা প্রতিষ্ঠার জন্য এত শ্রম, ঘাম, ত্যাগ স্বীকার আর কেউ করেননি। ভাবীকালের শ্রেষ্ঠ কবিকে স্বাগত জানানো, অবহেলিত কবি প্রতিভাকে খাঁটি জহুরির মতো চিহ্নিতকরণ, আধুনিক কবিতাকে জনপ্রিয় করে তুলতে নিদ্রাহীন উৎকণ্ঠা ও উদ্যোগ, আধুনিক কবির রচনার সনিষ্ঠ মূল্যায়ন- বুদ্ধদেবের কবিতাবিষয়ক কীর্তি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বহুমুখি বুদ্ধদেব বসুর কবিতাকেন্দ্রিক কর্মযজ্ঞের উজ্জ্বলতম প্রকাশ ঘটেছে তার ‘সম্পাদক’ সত্তার মধ্য দিয়ে।

সম্পাদক হিসেবে বুদ্ধদেব বহুবর্ণিল সাফল্যের পরিচয় দিলেও বর্তমান প্রবন্ধে আলোকপাত করা হচ্ছে সিকি শতাব্দী ধরে তার সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকাটি। ছাত্রাবস্থায় ‘পতাকা’ ও ‘প্রগতি’ নামে দুটি ক্ষণস্থায়ী পত্রিকা সম্পাদনায় অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি উদ্যোগী হয়েছিলেন শুধু কবিতাকেন্দ্রিক একটি সাহিত্যপত্র সম্পাদনা করতে। ‘পরিচয়’ সাহিত্যপত্রের এক আড্ডায় অন্নদাশংকর রায়ের হাতে ইংরেজি ‘পোয়েট্টি’ পত্রিকাটি দেখে তিনি উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন ‘কবিতা’ প্রকাশ করতে। তার ভাষায়-

‘আমি কখনও কখনও এমন পত্রিকার স্বপ্ন দেখতাম যেটা শুধুই রূপ ঐ মার্কিনি নমুনাটিতে দেখতে পেয়ে আমি একটি দুঃসাহসিক কথা চিন্তা করে ফেললাম : এরকম একটা বের করা যায় না বাংলায়? তা হ’লে তো কবিতা এবং কবিরা পদপ্রান্তিক অবমাননা থেকে বেঁচে যান। অুিবাসের বদলে একেবারে রিজার্ভ করা সেলুন গাড়ির ব্যবস্থা অন্য কারো জায়গাই নেই সেখানে।”

শুধু কবিতার জন্য একটি সাহিত্যপত্রের আবির্ভাবে সেদিন কবিতার কৌলিন্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। কবিতা অর্জন করেছিল স্বতন্ত্র মর্যাদা এবং যোগ্য কবির জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল ‘কবিতা’। সম্পাদক বুদ্ধদেব বসুর স্বকীয় দর্শন ও স্বপ্নের বীজ অংকুরিত হয়েছিল ‘কবিতা’ পত্রিকায়। প্রথম সংখ্যাতেই নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করে তুললেন- ‘কবিতা’ হবে ‘এমন কোনো পত্রিকা’ ‘যার মধ্য দিয়ে কবিতা হতে পারে বিশেষভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত ও রসজ্ঞজনের দৃষ্টিগোচর’। রবীন্দ্রবলয় অতিক্রম প্রয়াসী আধুনিক কবিদের প্রধান পীঠস্থান ‘কবিতা’ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের সসম্ভ্রম দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তিনি নিয়মিত কবিতা পাঠিয়েছেন এ পত্রিকার জন্য। রসজ্ঞজনের দৃষ্টিগোচর করার পাশাপাশি ‘কবিতা’কে ভালো কবির বিকাশ ও লালনভূমি হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করেছেন বুদ্ধদেব বসু। একজন সৎ সম্পাদকের এর চেয়ে উপযুক্ত কাজ আর কী হতে পারে? রবীন্দ্র পরবর্তী শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃত জীবনানন্দ দাশের আবিষ্কারক সম্পাদক বুদ্ধদেব বসু। বুদ্ধদেব বসু পাকা জহুরির মতো আধুনিক বাংলা কবিতার সবচেয়ে বড় রতœ জীবনানন্দকে চিনতে পেরেছিলেন। আবির্ভাবলগ্নে জীবনানন্দ যখন উপেক্ষিত তখন বুদ্ধদেবই তাকে লোকচক্ষুর অন্তরাল থেকে বের করে আনলেন। তার পত্রিকায় ‘প্রকৃতির কবি’ শিরোনামে জীবনানন্দের ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ কাব্যের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করে তাকে প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েছিলেন। ‘কবিতা’র পাতায় জীবনানন্দের কবিতা এবং তার কবিতা সম্পর্কে আলোচনাই যে তাকে আধুনিক বাংলা কবিতার কেন্দ্রীয় পুরুষে পরিণত করেছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু জীবনানন্দই নয়, আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম স্রষ্টা সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের আবিষ্কারকও বুদ্ধদেব। ‘কবিতা’ পত্রিকায় তার কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয়। তার প্রতি বুদ্ধদেবের সীমাহীন উচ্ছ্বাসের প্রমাণ তারই উদ্যোগে নিজের প্রকাশনা ‘কবিতা ভবন’ থেকে প্রকাশিত হয় সুভাষের কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। বাংলা কবিতার নতুন সম্ভাবনা এভাবেই সম্পাদক বুদ্ধদেবের পরিচর্যায় বিকশিত হতে থাকে। নবীন কবি হিসেবে বিষ্ণু দে, প্রেমেন্দ্র মিত্র , সমর সেন, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, সুধীন্দ্রনাথ, অমিয় চক্রবর্তী, অজিত কুমার দত্ত ‘কবিতা’য় ঠাঁই পেয়েছেন। সচেতন পাঠকের সঙ্গে নবাগত কবিদের উপযুক্ত সেতুবন্ধন বুদ্ধদেব নির্মাণ করেছিলেন তাদের কবিতা ও কবিতার আলোচনা প্রকাশের মাধ্যমে। এ কথা বিস্মৃত হওয়ার কোনো কারণ নেই যে, বুদ্ধদেব নিজেও ছিলেন একজন কবি। সাধারণত কবি-সম্পাদক সমকালীন কবিদের উত্থান ভালো চোখে দেখেন না নিজের গুরুত্বহানির অমূলক আশংকায়। অথচ এমন ঈর্ষাপরায়ণতা সম্পাদক বুদ্ধদেবকে কখনও গ্রাস করতে পারেনি।

শুধু ভালো কবি নয়, ভালো পাঠক তৈরির পটভূমি তৈরিতেও ভূমিকা পালন করেছেন সম্পাদক বুদ্ধদেব বসু। সাহিত্যের চেনা গলি নয়, পাঠকের অভ্যস্ত প্রাত্যহিকতা নয়, বুদ্ধদেব সাফল্যের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন নিরীক্ষা প্রবণতাকে। পাঠকের সাহিত্যরুচি নির্মাণের ব্রত তিনি গ্রহণ করেছিলেন। কবিতার রসাস্বাদনের জন্য পাঠকের সংস্কারমুক্ত মন ও গভীর উপলব্ধি জরুরি। প্রতিভা শ্রমের সমবায়ে যেমন ভালো কবি নির্মিত হন, একই নিষ্ঠা প্রয়োজন সমঝদার পাঠক হওয়ার জন্যও। বুদ্ধদেবের উপলব্ধি-

‘‘কবি হয়ে জন্মাতে হয়, কবিতার পাঠক হয়েও জন্মাতেই হয়, হয় তো।”

কবিতার উপযুক্ত পাঠক তৈরির জন্য তিনি শুধু ভালো কবিতাই ছাপেননি ‘কবিতা’র পাতায়, কবিতা বিষয়ক নিবন্ধ, আলোচনাও প্রকাশ করেছেন। এ ক্ষেত্রে সম্পাদক বুদ্ধদেব বসুর সবচেয়ে বড় সহযোগী গদ্যশিল্পী বুদ্ধদেব। অসম্ভব মেধা ও মনীষার অধিকারী বুদ্ধদেবের সুবিস্তৃত অধ্যয়ন জগতে পাশ্চাত্য সাহিত্যের গভীর প্রভাব পড়েছিল। ইউরোপ-আমেরিকার শ্রেষ্ঠ কবি লেখক, সাহিত্যান্দোলনের খবর- কোনোকিছুই তার অজানা ছিল না। অগাধ সাহিত্যজ্ঞান তার সম্পাদনা প্রতিভাকে সর্বত্রগামী করেছিল। ‘কবিতা’ পত্রিকা তাই হয়ে উঠেছিল সাহিত্যের বিশ্বায়নের প্রতীক। কিপলিং , ইয়েটস, ভার্জিনিয়া উলফ, র‌্যাবো, এইচজি ওয়েলস রাইনার, মারিয়া রিলকে, গ্যোটে, বোদলেয়ার, হাইনে- বিশ্বসাহিত্যের সব উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক নেমে এসেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয় সাহিত্যপত্র ‘কবিতা’র উর্বর ভূমিতে। নিজে অনুবাদ করেছেন, অন্যকে দিয়ে অনুবাদ করিয়েছেন- এভাবেই বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটেছিল বাঙালি লেখক ও পাঠকের। বুদ্ধদেবের যোগ্যতম সম্পাদনা ছাড়া এটি সম্ভব ছিল না।

বুদ্ধদেব বসু প্রমাণ করেছেন সম্পাদকের অন্যতম গুণ বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। সম্পূর্ণ অনাসক্ত ও নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বাছাই করেছেন ভালো কবিতা, স্বীকৃতি দিয়েছেন যোগ্য কবিকে। ‘কবিতা’ পত্রিকায় কবিতা ছাপা হওয়া মানেই কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ- বাংলা সাহিত্যে এমন গৌরব আর কোনো সাহিত্যপত্র অর্জন করতে পারেনি। পঞ্চাশের দশকে কবি যশোপ্রার্থী আল মাহমুদ ও তার সতীর্থ কবির কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করতেন যেন ‘কবিতা’ পত্রিকায় তাদের কবিতা ছাপা হয়। বুদ্ধদেবকে ‘কবিদের কবি’ আখ্যা দিয়ে আল মাহমুদ লিখেছিলেন-

‘‘আমাদের তখনকার আড্ডাটা ছিল ‘বিউটি রেস্তোরা’, বাংলাবাজারে। সেখানে গেলে আমার বন্ধু শহীদ কাদরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে সদ্য প্রকাশিত কবিতা পত্রিকার চৈত্র সংখ্যাটি হাতে তুলে দিয়ে বললেন, এই নাও তোমার কবিতা ছাপা হয়েছে।… আমি এক ঝটকায় পত্রিকাটি হাতে তুলে নিয়ে দেখে নিলাম। জীবনানন্দ দাশ ও বুদ্ধদেব বসুর পরেই আমার কবিতা ছাপা হয়েছে।… আমার তিনটি কবিতা ছাপা হওয়াতে আনন্দে আমার ফেটে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। সেদিন থেকেই আমি ভেবে নিয়েছিলাম আমি কবি হব। কবি ছাড়া আর কিছু না। এভাবেই বসু আমাদের জীবনে এক মহান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।’’

বাণিজ্যিক লক্ষ্য, রাজনৈতিক সংকীর্ণতা, গোষ্ঠীকেন্দ্রিকতা- এসব মূর্খ স্থূলতা সম্পাদক বুদ্ধদেবের কাছে প্রশ্রয় পায়নি। রাজনৈতিক মতাদর্শে দীক্ষিত হয়ে কবিতা লেখার পক্ষপাতী তিনি ছিলেন না। অথচ মার্কসবাদে দীক্ষিত কবিরা ‘কবিতা’র পাতায় উপেক্ষিত হননি। বুদ্ধদেবের প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘কবিতা’র জয়রথকে এগিয়ে নিয়ে চলা। কবিতার প্রতি অকৃত্রিম প্রেমে তিনি ব্যয় করেছেন সমগ্র জীবন, বছরের পর বছর ধরে, দশকের পর দশক পেরিয়ে। নির্মোহতা, প্রেম, অধ্যবসায়, নিষ্ঠা, ঋজুতা- নানা কষ্টিপাথরে সম্পাদনার মান বিচার করা যায়। প্রতিটি মানদণ্ডে বুদ্ধদেব সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হবেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তার সম্পাদনা প্রতিভাকে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিতে কুণ্ঠিত হননি বুদ্ধদেবীয় দর্শনবিরোধী অশোক মিত্র। তার মূল্যায়ন-

‘‘বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বঙ্গদর্শন’-সম্পাদনা, অথবা রবীন্দ্রনাথের ‘সাধনা’-সম্পাদনা, সমকালীন সাহিত্যচিন্তায় যে আলোড়ন তুলেছিল, বুদ্ধদেবের ‘কবিতা’ কীর্তি তার অন্তত সমপর্যায়ের, কিংবা সম্ভবত শ্রেষ্ঠতর। কবিতাকে সাহিত্য সৃষ্টির পুরোভাগ উপস্থাপন করার মতো স্পষ্ট সাহসের উন্মোচন, পঁচিশ বছর ধরে সেই সাহসের জয়গান ঘোষণা, বঙ্কিম রবীন্দ্রনাথের যুগে অভাবিত ছিল, হয়তো তার পরেও অভাবিত থেকে যেত, যদি না বুদ্ধদেব বসু তার উদ্যম-কল্পনার ঘোড়সওয়ারে দুঃসাহসী উদ্যামতার জিন চড়াতেন।”

বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদকীয় নেতৃত্বে কবিতা লেখার কাজটি হয়ে উঠেছিল রীতিমতো একটি আন্দোলন, যার মুখপত্ররূপে উজ্জ্বল প্রকাশ ‘কবিতা’ পত্রিকার। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল আধুনিক বাংলা কবিতার সগৌরব অবয়ব নির্মাণ। আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ‘কবিতা’ পত্রিকা বন্ধ করে দেন বুদ্ধদেব। মাত্র ছাব্বিশ বছরের আয়ু ‘কবিতা’র যেন ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়ে দ্রুত নিজের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে অন্তর্হিত হল। বিরোধ আর বৈপরীত্যের মধ্যে বিরল সমন্বয়ের কৃতিত্ব সম্পাদক বুদ্ধদেব বসুর। আধ্যাত্মিকতার পাশে রাজনৈতিক দর্শন, নাগরিক বিচ্ছিন্নতা ও নৈঃসঙ্গের মাঝে প্রকৃতি তন্ময়তা, পদ্যছন্দের পাশে গদ্যছন্দ, রোমান্সনির্ভর কবিতার পাশে বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শন, অতিন্দ্রীয় চেতনার পাশে ইন্দ্রিয়ঘন উচ্ছ্বাস- সবকিছুই প্রশ্রয় পেয়েছে ‘কবিতার’র পাতায়। সব্যসাচী বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদনা আদর্শ বাংলা সাহিত্যে শীর্ষতম স্থানের দাবিদার।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত