চিঠি

অনামিকা,
স্মৃতির স্মরণীতে আজ নিয়নের আবছা আলো।বোবা বাস্তব আর পরিস্থিতির জাঁতাকলে পরে, তোকে অতীতের অববাহিকায় ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। তবুও যখন,প্রেমের আধিক্যে,আসেপাশের গুমোট আবহাওয়ায় নকল আদ্রতা দেখা যায়, তখন সেই আবেগঘন দিনগুলোর কথা মনে পরে যায়।
তোর নিশ্চয়ই মনে আছে সেই বছরের কথা। সালটা ২০০১ সরস্বতী পূজোর দুদিন পরেই ছিল আমার উচ্চমাধ্যমিক।অঞ্জলির ফাঁকে তোর আমার গোপন দৃষ্টি বিনিময়ে,আমাদের মানসিক দুরত্বটাকে   বাসন্তি রঙের পেলব প্রলেপে মধুময় করে তুলেছিল।
আমার গোঁফ তখন ও সুস্পষ্ট হয়নি। খোঁচা গাল আর মনের ভাঁজ খুঁজেছিল তোকে। তোর অপটু শাড়িতে  লুকোনো ক্লিভেজে ছিল আমোঘ আকর্ষন।তোর মধ্যে জীবনের পুরো নির্যাসটা দ্রবিভূত করতে চেয়েছিলাম।মনে হয়েছিল স্কুল থেকে তোর বাড়ির রাস্তাটা যেন শেষ না হয়, তারপর academy আর নন্দনে আঁতলামো। বই মেলায় গিটার হাতে যখন উদার্ত কন্ঠে গান গাইতাম,
“পৃথিবীটা যেন ছোট হতে হতে…..” তখন বুঝিনি তুই পাশে বসে অন্য পৃথিবীর কথা ভাবছিস আর আমার পৃথিবী ছোট আরও ছোট হয়ে শুধু আমাতে এসে থামবে। গঙ্গা ধারের আবেগ মাখা বেঞ্চিগুলো/আজ সেখানে মৌনতা-জমছে ধুলো”
তুই কোথায় আছিস কিভাবে আছিস জানিনা কিন্তু তোর হাতের দ্রাঘিমাগুলো এখনও যেন জীবাস্ম হয়নি। তোর চোখের স্নিগ্ধতা এখনও যেন স্বপ্নে উঁকি দেয়।তোর নিশ্বাসের উষ্ণতা যেন নিকোটিন বুকে এখনও ধাক্কা মারে। মনে পড়ে, তুই শহীদ মিনারের কাছে দাঁড়িয়ে বলেছিলি
“চল না, ভাঁঙা ট্রামগুলোর মত রাতটা এখানেই কাটিয়ে দি।”
তুই চলে যাওয়ার পর কবিতা লেখা ভুলে গিয়েছিলাম।জীবনের মানেটাই তুই বদলে দিয়েছিলি।পাগলের মত ডায়রিতে লিখেছিলাম-
             পিটুইটারি গ্রন্থি মাঝে
             লাগিয়ে দেব গিঁট
             বুঝেছি আমি, বুঝেছি আবার
             লাভ ইজ বুলসিট
জীবনের প্রিজমে আলো ফেললে আজ আর রামধনু দেখা যায়না। দেখা যায়, ঘোলাটে হয়ে আসা অস্পষ্ট কিছু রঙের ধূসর কোলাজ।
আজ আমার কথা শোনার, তোর কোন প্রযোজন নেই। তোর জীবনের হাইওয়েতে আজ অজস্র সিগন্যালহীন ফ্লাইওভার। তবুও একটা কথা বলতে খুব ইচ্ছা করছে 
 “শূন্যতাকে চিরতরে একক ধরে
  কষছি নিজের জীবন গনিত নতূন করে
  সুখের ভাগটা কোনোদিনই নাই বা দিলি
 কাছে ডাকিস, চোখের কোনে কান্না এলে”
ইতি
উন্মাদ

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত