চোরাকাটা (পর্ব-৮)

ক্যাডেট কলেজ থেকে যখন সবাই মিলে বেড়াতে যেত, তখন ট্রেনজার্নিকেই বেশি পছন্দ করতো ওরাবাসে আড্ডাটা ঠিক জমে না। সিটগুলো সব ছাড়া ছাড়া। তাছাড়া অন্য মানুষজনের সামনে নিজের মতো করে হই হুল্লোড় করা যায় না। ট্রেনে পুরো বার্থ রিজার্ভ করে বেশ হৈ হৈ করতে করতে যাওয়া যায়। 

ওরা ফিরছিল রাতের ট্রেনে। দ্রুতগামী ট্রেন। চলছিল উল্কার বেগে। ছয় সাতটা স্টপেজ পর পর কিছুক্ষণের জন্য জিরিয়ে নিচ্ছিলো ট্রেনটা। 

দুপুরে জার্নি শুরু করার পর থেকে ওদের কয়েকদফা তাস, গানের আসর, খাওয়াদাওয়া…সব হয়ে গেছে। অনেক দূরের পথ। সারারাতের জার্নি পড়ে আছে সামনে। রাত সবে জমতে শুরু করেছে। ওদের মধ্যে কেউ কেউ ঢুলতে ঢুলতে বসে ছিল এতক্ষণ। শেষমেষ আর না থাকতে পেরে যার যার জায়গায় গিয়ে শুয়ে পড়েছে। বেশ চাপাচাপি করে জায়গা করে নিয়েছে সবাই। কিন্তু বন্ধুদের মধ্যে মিল মহব্বত থাকলে চাপাচাপিতে ভালোবাসা আরো বাড়ে, কমে না। 

সোহেল আর দিনার দুজনেরই হাত পা ছড়িয়ে ঘুমানোর অভ্যাস। হোস্টেলে নিজেদের সিঙ্গেল বেডের পাশে ওরা এক্সট্রা আরেকটা বেঞ্চ এনে জোড়া দিয়ে নিয়েছে। অত চিকন বেডে নাকি ঘুমিয়ে অভ্যাস নেই ওদেরদুই পা দুদিকে ছড়িয়ে এক হাতে কোলবালিশ জাপ্টে বেশ রাজকীয় কায়দায় ঘুমায় দুজন। শান্তরা মজা দেখার জন্য দুজনকে একসাথে বিছানা করতে বললো। প্রথমে দুজনের কেউ-ই আপত্তি দেখালো না। কারণ আগে থেকেই বলা আছে, থাকা খাওয়া ঘুমানো এসব নিয়ে কারোরই কোনো অভিযোগ থাকা যাবে না। যে অভিযোগ দেখাবে, পরের ট্যুরে তাকে সঙ্গে নেওয়া হবে না। সেজন্যই কোনোকিছু নিয়েই কেউ টুঁ শব্দটিও করেনি।

যথারীতি চাদর মুড়ি দিয়ে মাথার নিচে দুটো হাল্কাপাতলা বালিশ চাপা দিয়ে শুয়ে পড়েছিল সোহেল আর দিনার। মজা শুরু হলো আধঘণ্টা পর থেকেই। প্রথমে কেউ নড়াচড়া করেনি। তাই সমস্যাও হয়নি। চোখের পাতা ধরে আসতেই শুরু হয়ে গেল হাঙ্গামা। সোহেল নাকি দিনারের গায়ে পা তুলে দিয়েছে। একই অভিযোগ দিনারেরও। দুজনের হৈ হট্টগোলে অন্যদের ঘুম মাথায় উঠে গেল। শেষে বিরক্ত হয়ে সবাই জেগে উঠে বললো,

‘এই শোন, নতুন নিয়ম করা হলো তোদের দুজনের জন্য। সারারাত তোরা পালা করে করে ঘুমাবি। একজন ঘুমাবি, আরেকজন এক কোণায় জেগে বসে থাকবি। তারপরে তিন ঘন্টা পর সে অন্যজনকে ডেকে তুলবি। এভাবে সারারাত পালা করে করে ঘুমাতে হবে তোদের।’

দুজনেই শুরু করলো বেজায় আপত্তি। অন্যরাও হাল ধরে রেখে বললো,

‘প্রস্তাবে রাজি না থাকলে দুজনের মধ্যে একজন ট্রেন থেকে ঝাঁপ দে। কে ঝাঁপ দিবি, সেটা লটারি করে ঠিক করে নে!’

দিনার ঘুম ঘুম চোখে প্রস্তাবকারীকে হুমকি দিয়ে বললো,

‘উলটাপালটা কথা বললে তোকেই জানালা থেকে ধাক্কা মেরে বাইরে ফেলে দিব শালা!’

সেও উল্টে তেড়ে এলো,

‘এই তুই আমাকে জানালা থেকে ধাক্কা মারবি? মার দেখি একবার, দেখি কত সাহস তোর!’

ঘুম মোটামুটি মাথায় উঠে গেল সকলের। শেষমেষ সবাই মিলে ঠিক করলো, আজ আর ঘুমানোর দরকার নেই। ঘুম যখন চটেই গেছে, তখন বাকি রাত গল্প-গুজব করেই কাটিয়ে দিবে সবাই। প্রথমে হাল্কা পাতলা আপত্তি এলেও ধীরে ধীরে গল্প জমতে লাগলো। আড্ডাবাজিতে কেউ খেয়ালই করলো না, রিয়াজ আর অনিক বার্থে নেই। দুজনের অনুপস্থিতি কেউ টেরই পেল না। 

শান্তর একবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়লো। ট্রেনের লম্বা প্যাসেজ পার হয়ে সে চললো বাথরুমের দিকে। আশেপাশে শুনশান নিস্তব্ধতা। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। নিস্তব্ধতা ভেদ করে কারো কারো তীব্র নাক ডাকার আওয়াজ ভেসে আসছে। এই ভীষণ শব্দে বাকীরা ঘুমাচ্ছে কীভাবে কে জানে, ভাবতে ভাবতে চললো শান্ত। হঠাৎ প্যাসেজের শেষ প্রান্তে দুটো ছায়ামূর্তি চোখে পড়লো। নিজেদের মধ্যে কী নিয়ে যেন তুমুল তর্ক করছে তারাগলার স্বর অনুচ্চ, কিন্তু কান পেতে রাখলে বোঝাও যায়। হয়ত রাতের বেলা বলেই এত দূর থেকেও সব কথা মোটামুটি কানে ভেসে এলো শান্তর। চোখ কচলে ভালো করে তাকালো সামনে। অবাক হয়ে দেখলো রিয়াজ আর অনিক বেশ হিসহিসে চাপা স্বরে কথা বলছে। দুজনের চোখেই কীসের যেন চাপা আক্রোশ। নিজেকে যথাসম্ভব আড়াল করে নিয়ে দুজনের কথা শোনাতে মন দিল অনিক।

‘তুই বলছিস, এসব তুই এখানেও চালায়ে যাবি? ওরা কেউ যদি বুঝতে পারে?’

‘বুঝলে বুঝুক! রিয়াজ ব্যাপের ব্যাটা! কাউরে ডরায় না! শালা, তোর মতো মিনমিনে মিনশে নাকি আমি? যা করি বুক উঁচিয়ে করি! পারলে তুই ঠেকাতে আয়। হারামজাদা এক্কেরে হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে দিব! তোর বাপের মাথা যেটুকু উঁচা আছে, সেটুকুও এবারে মাটিতে গড়াবে। জমিজমায় হাত পড়ছে, এবারে আরো কত কিছুতে পড়বে কে জানে! তুই আমারে জ্ঞান দিতে আসিস?’

‘দেখ রিয়াজ, তোর কিন্তু বহুত বাড় বেড়েছে! তুই কার সাথে কথা বলছিস ভুলে যাচ্ছিস কিন্তু!’

‘আচ্ছা, তাইলে তুই মনে করিয়ে দে না শালা কার সাথে কথা বলছি! কথা বলছি এক ভেড়া ম্যান্দামার্কার সাথে। মুরোদ নাই বাইনচোত, আমারে শাসাইতে আসিস! আমি যা ইচ্ছা তাই করবো। তুই আমারে নিষেধ করতে আসার কে রে? বেশি তেড়িবেড়ি করলে আমিও সবকিছু ফাঁস করে দিব, বলে দিলাম! হুঁশ রাখিস, আমার অজানা কিন্তু কিছু নাই!’ 

‘কথায় কথায় ‘ফাঁস করে দিব’ ‘ফাঁস করে দিব’ বলছিস! কী জানছিস তুই? তুই কিছুই জানিস না! কিছুই হয়নি তুই জানবিটা কী?

‘আচ্ছা…ডিটেলে শুনতে চাস কী জানি? যা জানি তা তোর আর তোর বাপের ইজ্জত এক্কেরে ধুলায় গড়াগড়ি খাওয়াইয়া দিতে পারে রে! আমার সাথে লাগতে আসিস না! ফল ভালো হবে নারে অনিক!’

একেবারে পরিষ্কার হুমকি। বিশেষ করে রিয়াজের শেষের কথাটুকুতেই কেমন যেন মিইয়ে গেল অনিক। ঠিক যেন জোঁকের মুখে নুন পড়লো। আর একটাও কথা জোগালো না অনিকের মুখে। এক সেকেন্ড, দুই সেকেণ্ড…সময় কাটতে লাগলো রুদ্ধশ্বাসে। শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করতে লাগলো শান্ত। এই বুঝি খেঁকিয়ে উঠবে অনিক। গর্জে উঠবে ওর ভেতরের জমিদারি রক্ত। ছিঁড়েখুঁড়ে হাড়মাশ বের করে ফেলবে রিয়াজের। শান্তর অপেক্ষার প্রহর অবশেষে ফুরোলো এক সময়। কথা বলে উঠলো অনিক। কিন্তু গলার আওয়াজটা শুনেই চমকে গেল শান্ত। যেন জমিদারের সুযোগ্য উত্তরসূরী অনিক নয়, কথা বলছে অন্যকোনো অনিক। এই অনিককে ঠিক যেন চেনে না শান্ত। মিনমনে ফ্যাসফ্যাসে গলায় অনিক বললো,

‘দেখ রিয়াজ, তুই কিন্তু আমাকে কথা দিয়েছিস। তুই আমাকে সাফ বলে দিয়েছিস যা দেখেছিস কাউকে বলবি না। এখন তুই কথা ঘোরালে হবে নাকি?’

রিয়াজ বাঘের মতো গর্জে উঠলো,

‘ওহ্‌ আচ্ছা বেশ বেশ! এই তো স্বীকার করলি এবার, কিছু একটা দেখেছি আমি! তাই না? হা হা হা… আর কী বললি? কথা ঘোরানো? আমার তোকে দেওয়া কথা রক্ষা করতে হবে! আর তুই আমার ইজ্জতের ফালুদা বানায়ে খাবি, তাই না রে শালা?’

উত্তরে অনিক হয়ত আরো কিছু বলে থাকবে। কিন্তু শান্তর আর কিছু শোনা হয়নি। পাশের একটা বার্থের দরজা খুলে গেলে ওর আর সেখানে ঘাপ্টি মেরে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হয় না। ঘুম জড়ানো চোখে এক বয়স্কা ভদ্রমহিলা বার্থ থেকে বেরিয়ে এলেন। ওকে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পিটপিট করে বার কয়েক তাকালেন। শান্ত বুঝলো, কিছু একটা সন্দেহ করছেন ভদ্রমহিলা। কী জানি আবার কোন ঝামেলায় জড়িয়ে যায়, এটা ভেবে সেও আর ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপদ মনে করলো না। ওদিকে রিয়াজ আর অনিকও পায়ের আওয়াজ শুনে এদিকেই ফিরে তাকিয়েছে। শান্ত ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে ফ্যাকাশে মুখে হাসলো। ভয় পেল ভীষণ। ওরা কিছু ধরে ফেলেনি তো? এই যে শান্ত এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে ওদের কথা শুনছে! ওরা যে বিষয়ে আলাপ করছিল, সেটাকে তো আর ভদ্রস্থ কিছু বলা যায় না!

ভদ্রমহিলার একপাশে শান্তকে ওভাবে জবুথবু হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে অনিক আর রিয়াজের মুখের রেখাও পালটে গিয়েছিল। বিশেষ করে অনিকের মুখের রঙ বিবর্ণ হয়ে যেতে দেখেছে শান্ত। এত ভয় সেদিন কেন পেয়েছিল অনিক, খুব ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সেটা জানা হয়নি। যেকথা শান্ত সেদিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনেছিল, সেই কথা হয়ত ওদের দুজনের কেউই ওকে শুনিয়ে খুশি হবে না! তবে রিয়াজ যেভাবে হুমকি দিচ্ছিলো তাতে এটা বোঝা যাচ্ছিলো, সে কিছু একটা নিয়ে অনিককে ব্ল্যাকমেইলিং করছে।

ব্যাপারটা সেদিন সেখানেই থেমে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পরেই ওরা তিনজনই নিজেদের বার্থে ফিরে এসেছিল। শান্ত এসেছিল সবার পরে। বাথরুম থেকে ফিরেই চুপচাপ শুয়ে পড়েছিল একটা চাদর মুড়ি দিয়ে। বন্ধুরা হল্লা করেছিল সারারাত। মাঝে মাঝে রিয়াজের গলার স্বরও শোনা যাচ্ছিলো। অনিকের কথা অবশ্য শুনতে পায়নি শান্ত।

কলেজে ফিরে যাওয়ার পর এরপরে বেশ অনেকদিন শান্ত এড়িয়ে চলেছে ওদের দুজনকে। রিয়াজ আগের মতোই সামনে দিয়ে ঘুরঘুর করলেও অনিক কেন যেন একেবারে চুপ মেরে গিয়েছিল। কী জেনে ফেলার সম্ভাব্য ভয়ে অনিক রিয়াজকে এত ভয় পেতে শুরু করেছিল, সেটা জানতে খুব ইচ্ছে করছিল শান্তর। কিন্তু নিজে থেকে কেউ জানাতে না চাইলে তো আর এত গোপন কথা জানা যায় না! তবে রিয়াজের ব্যাপারটাও কারও কাছ থেকে সেভাবে চাপা থাকেনি। তাতে তার বিশেষ কিছু অসুবিধা হয়েছে বলেও মনে হয়নি। বরং সে নিজেই ডেকে ডেকে নিজের সুকীর্তি দেখাচ্ছিল সবাইকে। ড্রাগ নেওয়া শুরু করেছিল রিয়াজসম্ভবত সেদিন ট্রেনের বাথরুমেই সে প্রথম এই কাজে বিসমিল্লাহ করেছিল। একই সময়ে বাথরুম ব্যবহার করতে গিয়ে অনিক ধরে ফেলেছিল ব্যাপারটা। আর সেখান থেকেই দুজনের ঝগড়াঝাঁটির সূত্রপাত।

অনিকের বাবার বিশাল বাড়িঘর বিক্রি করে ঢাকায় চলে যাওয়ার কথা শুনে বেশ অনেকদিন পরে সেদিন রাতের ঐ ঘটনাটা মনে পড়ে গিয়েছিল শান্তর। হঠাৎ কী এমন কঠিন দায় এসে গিয়েছিল অনিকদের যে এতদিনের সবকিছু এভাবে বিক্রি করে চলে যেতে হবে? অনিক নিজেই বলেছিল, ওর বাবা ঐ বাড়িঘর ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে পারেন না। তিনি তাহলে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছিলেন? 

রিয়াজ কী কথা জেনে গিয়েছিল? অনিকের বাবার কোনো গোপন কিছু? শান্ত বইতে পড়েছিল, জমিদারদের অনেক গোপন আজেবাজে কুকীর্তি থাকে। সেরকমই কিছু না তো! কিন্তু তার সাথে জমিজমা বিক্রি করে দেওয়া…টাকা পয়সার প্রয়োজন…এসবের কী সম্পর্ক থাকতে পারে? ভেবে ভেবে সেই বয়সেই মাথা খারাপ হওয়ার দশা হয়েছিল শান্তর। কিন্তু কূলকিনারা করতে পারেনি কোনো।

মাঝখানে কত কী ঘটে গেল! জীবন কত পাল্টে গেল সবার!

এক অনিক বাদে আর কেউই ওরা জীবনে এখনো সেটল হতে পারলো না। অন্যদের গল্পগুলো হয়ত অন্যরকম। কিন্তু শান্তর জীবনের নদী অশান্ত ছিল বরাবর। এখনো সব মিলিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। ছোটবোনটার লেখাপড়া শেষ হলে ওকে একটা বিয়েশাদী দিতে পারলে, তবে শান্ত ঝাড়া হাতপা। বাবা-মা অনেক আশা নিয়ে বোনটাকে ওর জিম্মায় রেখে গিয়েছে। দু ভাইবোনই ওরা লেখাপড়াতে বেশ ভালো। তাই মাঝপথে বোনের লেখাপড়াটা বন্ধ করে দিতে ইচ্ছে করেনি। হোস্টেলে থেকে পড়ছে। শান্ত নিজের কাছে এনে রাখতে চেয়েছিল। লেখাপড়ার ক্ষতি হতে পারে ভেবে শান্তর বোন এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। নিজের জন্যও আর অন্যকিছু ভাবা হয়ে ওঠেনি শান্তর। তাছাড়া…

‘স্যার, আরেক কাপ কফি দিব?’

ওয়েটারের কথা শুনে মুখ তুলে তাকায় শান্ত। স্মার্ট সুদর্শন একটা ছেলে। হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। আজকাল অনেক ভালো ঘরের ছেলেমেয়েরা অবসর সময়ে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম কাজ করছে। পাশাপাশি লেখাপড়াটাও চালিয়ে যাচ্ছে একই সমান্তরালে।

‘উ…দাও। আরেক কাপ ক…নাহ চা দাও। কফি শপে চা হবে কি?’

‘সরি স্যার, আমরা তো চা করি না। ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড এবারে অন্য ফ্লেভারের একটা স্পেশাল কফি টেস্ট করে দেখেন আমাদের। আশাকরি মন্দ লাগবে না।’

শান্ত মৃদু হাসলো। ছেলেটা সত্যিই স্মার্ট। এমন ঝকঝকে তরুণদের দেখতেও ভালো লাগে। সে নিজেও যুবক। যদিও তরুণ বলা যায় না এখন আর। হাসিমুখে শান্ত বললো,

‘আচ্ছা দাও দেখি তোমাদের স্পেশাল কফি। খেয়ে দেখি!’

‘ওকে স্যার!’

শান্ত ঘড়ির দিকে তাকালো। নাহ অনিক বেশ দেরি করছে। ঢাকার জ্যাম। কী জানি কোন ঝামেলায় জড়িয়ে গেছে! ভাবতে ভাবতেই কফি শপের স্লাইডিং ডোরটা নড়ে উঠতে দেখলো শান্ত। অনিক ঢুকছে ভেতরে। মুখটা বেশ শুকনো। এই একদিনেই অনেকখানি ঝড় বয়ে গেছে হয়ত বেচারার ওপর দিয়ে। শান্ত হাত নেড়ে ডাকলো।

‘অনিক, এই যে… এখানে আমি!’

অনিক ওকে দেখলো। অল্প হাসি ঝুলিয়ে এগুতে লাগলো ওর দিকে।

 

 

(ক্রমশ)

 

 

আগের পর্ব ও লেখকের অন্যসব লেখা পড়তে ক্লিক করুন।

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত