| 26 মে 2024
Categories
ধারাবাহিক সময়ের ডায়েরি

পদসঞ্চার (পর্ব-১৬)

আনুমানিক পঠনকাল: 5 মিনিট

২১ এপ্রিল । মঙ্গলবার

‘মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো মহাপাপ।’

রবীন্দ্রনাথের এই কথাগুলি ইতিহাসগতভাবে সত্য। মানুষের ইতিহাসে ধ্বংস যেমন আছে, তেমনি আছে সৃষ্টি। হয়তো বা রবীন্দ্রনাথের নটরাজ- কল্পনা মানুষকে নিয়েই। এই মানুষ যেমন যুদ্ধের বিভীষিকা সৃষ্টি করেছে, তেমনি আবার মুখর হয়ে উঠেছে শান্তির আন্দোলনে। ইতিহাসে মানুষের দুই রূপই দেখতে পাই আমরা। যে পরিবেশ ধ্বংসের কথা এর আগে আলোচনা করেছি, সেই পরিবেশকে রক্ষার জন্য আন্দোলনও করেছে মানুষ। একদিকে সে যেমন গাছ কেটেছে, অরণ্য উচ্ছেদ করেছে বন কেটে বসত গড়ার তাগিদে, তেমনি সে গড়ে তুলেছে চিপকো আন্দোলন, গাছকে জড়িয়ে ধরে নিজের বুকে নিয়েছে কুঠারের আঘাত। এভাবে নিরন্তর ধ্বংস আর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে মানব জীবনের ধারা।

কিন্তু তীব্র সংকটের সময় আমরা ইতিহাসের এই সত্যকে সম্বল করে আশ্বস্ত হতে পারি না।

এই যেমন এখন । এই করোনা নামক এক অদৃশ্য অণুজীবের পৃথিবী পরিক্রমার সময়। সেই ১৫ এপ্রিলের পর থেকে আমি আর করোনা আপডেট দেখছি না। সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন । আক্রান্তের, মৃতের। আজকের কাগজে দেখলাম আমাদের দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

না, কোন প্রতিকার নেই, নেই কোন প্রতিষেধক। শুধু সংক্রমণকে ঠেকাতে ঘরের কোণে মুখ লুকিয়ে রাখতে হবে আমাদের। কতদিন চলবে এভাবে কেউ জানে না। এরকম অবস্থায় বিশ্বাসকে অবিচল রাখা একেবারে অসম্ভব। আমার যেসব বন্ধু সাহিত্যের সঙ্গে জড়িত, তারা ফোন করে হতাশা জানায়। আর কে পড়বে সাহিত্য? কি হবে সাহিত্যের ভবিষ্যৎ? ভয়, কর্মহীনতা, ক্ষুধা আর অনিশ্চয়তার আবহে সাহিত্যের শেষ নিঃশ্বাস শোনা যায়।

তাই আমি একদিন ঠিক করলাম আমার সব বইপত্র, খাতাটাতা আমার স্ত্রীকে দিয়ে দেব। এইসব আগাছা দিয়ে সে জৈব সার তৈরি করুক। ইতিমধ্যে তার ছাদ-বাগানের গাছগুলো জৈবসারের সিঞ্চনে বেশ ডাঁটো হয়ে উঠেছে। এই লকডাউনের বাজারে তার বাগানের শাক-সবজি আমাদের অনেকটা সামাল দিয়েছে। প্রয়োজনের আনন্দ দিয়েছে। সাহিত্য তো শুধু অপ্রয়োজনের আনন্দ দেয়।

আমার কথা শুনে হাসছিল আমার স্ত্রী। আমাকে বলল, ‘বাইরে দেখো একবার।’দেখলাম। আকাশ ঝকঝকে। সে বলল, ‘কাল ঠিক এমনি সময়ে কালো মেঘ ছিল, ঝড়ো হাওয়া ছিল।’ সে যা বলতে চাইছে, তার মধ্যেও কবির কবিতা আছে : মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয় / আড়ালে তার সূর্য হাসে।

মহেশতলার গৌরী মাঝির কথাও বলল সে। গৌরী গৃহবধূ। স্বনির্ভর প্রকল্পে কিছু কাজ করত। এখন সেসব বন্ধ। গৌরীর মনে হল এলাকার বেশ কিছু মানুষ কষ্টে আছে। খাবার জুটছে না। সে সরকারি সাহায্যের আশায় বসে না থেকে নিজে ঘুরে ঘুরে অবস্থাপন্ন লোকেদের কাছ থেকে চাল ও টাকা সংগ্রহ করে অভাবী মানুষদের দিতে লাগল। সংক্রমণের ভয়ে ঘরের কোণে মুখ লুকিয়ে বসে থেকে চাচা আপন প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করল না। স্বার্থপর মানুষদের পাশাপাশি গৌরীর মতো মানুষরাও তো আছে, যারা এখনও বিশ্বাস করে মানুষ মানুষের জন্য। সংবাদ মাধ্যমে এসব খবর কিছু কিছু প্রকাশ পায়, আবার কিছু কিছু শুনতে পাই বিভিন্ন স্থানে থাকা বন্ধুদের মুখে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বেচ্ছাসেবকরাও রাস্তায় বেরিয়ে মানুষের সেবা করছে। যেমন আমাদের এলাকার রঞ্জন দাশগুপ্ত ও তার কমরেডরা। কিন্তু রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সেবাকে পুরোপুরি নিঃস্বার্থ বলতে পারব না। সেখানে রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষের মন জয় করার একটা উদ্দেশ্য থাকে।

গৌরীদের কাজে তেমন কোন উদ্দেশ্য নেই।

কলকাতার পি জি হাসপাতালে আট বছরের মেয়ের চিকিৎসা করাতে এসে বীরভূমের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক পরিবার আটকে পড়েছে। হাসপাতালের কাজ সেরে নিজের হস্টেলে ফেরার পথে চিকিৎসক হর্ষিত বাসকির কাছে এই পরিবারের দুর্দশার কথা শুনলেন বাবলু সর্দার। ইনি  ওই হাসপাতালের আ্যনাস্থেশিয়োলজি বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসক। অগ্র পশ্চাৎ চিন্তা না করে তিনি তাঁর গাড়িতে তুলে নিলেন সেই অসহায় পরিবারকে। অচেনা পথ। আতঙ্কগ্রস্ত পরিবেশ। বাবলু সর্দার গাড়ি চালিয়ে ২৭০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রামপুরহাট থানার আদিবাসীপ্রধান গ্রাম শুলুঙ্গাতে পৌঁছে দিলেন সে পরিবারকে। পরের জন্য কাষ্ঠারোহণ করা যাদের স্বভাব তারা তো আত্মপরিবৃতির সুরক্ষিত দুর্গে থাকতে পারে না।

রাজেশ শাহের বাড়ি বিহারে। কাঁকুড়গাছির এক হোটেলে রাঁধুনির কাজ করেন তিনি। লকডাউনের জন্য বন্ধ হোটেল। কিন্তু রাজেশের কাজ বন্ধ হয়নি। স্থানীয় এক ক্লাব হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী, পুলিশকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং ভবঘুরেদের খাবার দেবার পরিকল্পনা করে। এগিয়ে আসেন রাজেশ। ভোর সকালে উঠে পড়ছেন তিনি। মাস্ক আর গ্লাভস পরে খুন্তি হাতে নিয়ে চলে যাচ্ছেন গরম কড়াইএর সামনে। ৫০০/৬০০ জনের রান্না করছেন বিনা পারিশ্রমিকে।

উলুবেড়িয়ার দুটি গ্রাম।  রাজখোলা আর তেহট্ট। মুসলিমপ্রধান গ্রাম। গ্রামের হিন্দুদের সঙ্গে  মুসলমানদের সম্পর্কটা ভালো ছিল না। কিন্তু করোনা সংক্রমণের পটভূমিকায় কেটে গেল সাম্প্রদায়িক বিভেদ। রাজখোলা গ্রামের শিক্ষক এস এম শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে জড়ো হলেন শুভঙ্কর ভট্টাচার্য, কুন্তল প্রামাণিক, শেখ মনিরুল ইসলাম, শ্যামলী গায়েন, শেখ সিরাজুল হক এঁরা সব। গ্রামের গরিব মানুষদের জন্য কিছু করা দরকার। তৈরি করা হল তালিকা। প্যাকেটে ভরা হল চাল,ডাল, আলু, তেল। যথাস্থানে পৌঁছাতে লাগল নিত্যপ্রয়োজনীয় সেসব জিনিস। এ সংকটে মেরুকরণ মানলে হিন্দু-মুসলমান সবাই মরবে যে!

খড়গপুরের মনীশ গুপ্ত। তাঁর ডান পা ছোট হয়ে যায় কোমরের অস্ত্রোপচারের পরে। প্রতিবন্ধী। কিন্তু সেই মনীশ প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে বেরিয়ে পড়েছেন তিন চাকার স্কুটি নিয়ে। ঘুরছেন স্টেশন আর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। পথবাসী অভুক্ত মানুষ, পুলিশকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন শুকনো খাবার, পানীয় জল। অথচ মনীশ পয়সাওয়ালা বাড়ির ছেলে নন । তাঁর বাবার সামান্য মুদির দোকান আছে। তবু তো তাঁরা যাহোক কিছু খেতে পারছেন! যারা একেবারে পাচ্ছে না তাদের কথা ভেবে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

হাসপাতালের গেটের বাইরে বসে আছেন রুগীর আত্মীয়-স্বজন। লকডাউনে দোকান-পাট বন্ধ। তাই জুটছে না খাবার-দাবার। আ্যাম্বুলেন্সচালক হারান শেখ দেখছিলেন এই কষ্ট। স্থানীয় বাসিন্দা প্রণব মালাকার, আ্যম্বুলেন্সচালক সুবীর মোদক, বাবু ঘোষ, হাবু সাহা, কাঞ্চন বাসপোদের সঙ্গে আলোচনা করলেন তিনি। লটারিরে পাওয়া টাকা থেকে ৫ হাজার দিলেন হাবু ঘোষ। তারপরে আরও অনেকে। টাকা দিলেন শল্যচিকিৎসক দিগন্ত মণ্ডল। রোজ ১৫০/২০০ পাত পড়ে। এক ওষুধ দোকানের কর্মী অশোক সাহা হেঁশেলের ভার তুলে নিয়েছেন নিজের ঘাড়ে।

এক বছর পঞ্চাশের মানুষ হনহন করে হেঁটে এসে স্কুলঘরের তালা খুললেন। কাঁধের কাপড়ের ঝোলাটা নামিয়ে রাখলেন। তাতে আছে চাল, ডাল এসব। মানুষটি জলপাইগুড়ির জয়ন্তীপাড়ার শিশু শ্রমিক স্কুলের শিক্ষক প্রতীম চৌধুরী। তাঁকে দেখে আশপাশের বস্তি থেকে  ছুটে এল একদঙ্গল রোগাভোগা শিশু। বাচ্চাদের দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে তিনি বললেন, ‘আর একটু অপেক্ষা কর তোরা। ঝটপট রান্না সেরে ফেলব। তারপর খাওয়া।’  কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের অনুদান না আসায় প্রতীম ভাতা পাচ্ছেন না। লকডাউনের জন্য টিউশনিও বন্ধ। এদিকে বন্ধ ছাত্রদের মিড ডে মিল। তাই বলে বাচ্চাগুলো কি না খেয়ে থাকবে! তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল-ডাল চেয়ে-চিন্তে জোগাড় করে আনছেন তিনি। একালেও এমন শিক্ষক আছেন যিনি শিক্ষাদানের সঙ্গে ছাত্রদের কথাও ভাবেন, তাদের কষ্টের ভাগ নিতে জানেন।

আভভারি লোকমণি।  অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলার টুনির এক প্রৌঢ়া নারী। বেসরকারি বিদ্যালয়ে আয়ার কাজ করেন। মাইনে মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা। লকডাউনে বিদ্যালয় বন্ধ। লোকমণি দেখলেন এই গরমে পুলিশগুলো রাস্তায় টহল দিচ্ছে। তাদের খাবার দেবার সাধ্য নেই লোকমণির। কিন্তু তাদের পিপাসা মেটানোর সাধ্য তো তার আছে। তাই লোকমণি মুখে মাস্ক এঁটে জলের বোতল নিয়ে নেমে এলেন রাস্তায়। পিপাসার্ত পুলিশের হাতে তুলে দিতে লাগলেন জলের বোতল। অভিভূত পুলিশও বলল, ‘আম্মা, তুমি রোজ একবার দেখা দেবে। তুমি আমাদের মা।’ এতো শুধু জল দেওয়া নয়, পুলিশও বুঝল তাদের পাশে আছে দেশের মানুষের সহানুভূতি আর ভালোবাসা।

বর্ধমানের গুসকরার মনসুর শেখ। বছর পঁয়তাল্লিশ বয়স। মুরগি ও খাসি মাংসের দোকান তাঁর। লকডাউনের প্রথম কয়দিন বন্ধ ছিল দোকান। তারপরে দোকান খুললেও মনসুর দোকান চালানোর ভার তাঁর ভাইপোর উপর দিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত হলেন। অন্য কাজটা কি? পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে কার কি অসুবিধে হচ্ছে, সেটা জানা । সাধ্যমতো প্রতিকারের চেষ্টা করা। খাবার বা ওষুধ পৌঁছে দেওয়া। বিহার থেকে লেপ তৈরির কাজে এসেছে কিছু পরিষায়ী শ্রমিক। তাদেরও খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন মনসুর।

‘আমি সামান্য এক টোটো চালক। টাকা দিয়ে সাহায্য করার ক্ষমতা আমার নেই। কিন্তু এই সময়ে জরুরি কাজে যাঁদের বেরোতে হচ্ছে, তাঁদের মুশকিলে পড়তে হচ্ছে। তাই আমি এটুকু সাহায্য তো করতে পারি। চেষ্টা করছি জরুরি কাজে যাতে সাহায্য করা যায় মানুষকে।’ একথা  উত্তর ব্যারাকপুরের টোটো চালক টিঙ্কু চক্রবর্তীর। ভোর সকাল হোক বা মধ্যরাত, ফোনে ডাক পেলেই বেরিয়ে পড়ছেন মধ্যবয়সী মানুষটি। ভাড়া-টাড়ার কথা মাথায় নেই তাঁর।

মানুষের পাশে মানুষতো দাঁড়াচ্ছে। সব মানুষ তো আর স্বার্থপর হয়ে যায়নি। তাহলে মানুষকে অবিশ্বাস করব কিভাবে!

এইসব দৃষ্টান্ত আমাকে স্থিতধী করল। ভাবলাম মহাপ্রলয়ের পরে বৈরাগ্যের মেঘমুক্ত আকাশে বারেবারে তো ইতিহাসের নতুন সূর্যোদয় হয়েছে। ভুল তো বলেন নি রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ কবি, লেখক। এই ঘনঘোর সংকটে একজন কবি তো আমার মনে আশা-ভরসা জাগিয়ে তুললেন। তাহলে কে বলল সাহিত্য শুধু অপ্রয়োজনের আনন্দ দেয় ? সে যে কাজ করে যায় গোপনে গোপনে।

আমি মনে মনে বলতে লাগলাম : সংকটের কল্পনাতে হোয় না ম্রিয়মান। বলতে লাগলাম : আমি ভয় করব না ভয় করব না / দুবেলা মরার আগে মরব না ভাই মরব না।

সেই সঙ্গে আর একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। লকডাউনের অখন্ড অবসরে মহামারী বা অতিমারী নিয়ে যে সব বই লেখা হয়েছে, তার কিছু পড়ে নেব। প্লেগ একসময় বিভীষিকা নিয়ে দেখা দিয়েছিল। প্লেগ মহামারীর পটভূমিকায় লেখা বোক্কাচিওর ‘ দি ডেকামেরন’ (১৩৫৩), ড্যানিয়েল ডিফোর ‘ এ জর্নাল অফ দি প্লেগ ইয়ার’ (১৭২২০), মেরি শেলির ‘ দি লাস্ট ম্যান’ ( ১৮২৬) পড়ব প্রথমে। গ্যাব্রিয়েল গ্রাসিয়া মার্কোজের ‘লাভ ইন দি টাইম অফ কলেরা’ (১৯৮৫) আর একবার পড়ব।  স্প্যানিস ফ্লু নিয়ে লেখা ‘দি লাস্ট টাউন অন আর্থ’ (২০০৬), পেটার হেলারের ‘দি ডগ স্টারস’ (২০১২), ইবোলা ও এইডস নিয়ে লেখা রিচার্ড প্রেসটনের ‘দি হট জোন’ (১৯৯৪) আমার তালিকায় আছে। আমি নিশ্চিত জানি অনতিবিলম্বে করোনাভাইরাস নি্য়েও প্রকাশিত হবে একাধিক বই।

 

 

 

 

[ক্রমশ]

 

 

 

আগের সবগুলো পর্ব ও লেখকের অন্যান্য লেখা পড়তে ক্লিক করুন।

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত