| 20 মে 2024
Categories
ধারাবাহিক সময়ের ডায়েরি

পদসঞ্চার (পর্ব-১৯)

আনুমানিক পঠনকাল: 5 মিনিট

২৬ এপ্রিল । রবিবার

বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ২৯০০২০৯ জন মানুষ, মৃত ২০২১০০জন , আরোগ্যপ্রাপ্ত ৮৩০৪৭৮ জন। ইউরোপে মোট আক্রান্তের তিন চতুর্থাংশই ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ও ব্রিটেনের। আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা স্পেন, ইতালি, জার্মানি, ব্রিটেন ও তুরস্কের চেয়ে বেশি । ভারতে আক্রান্ত ২৪৯৪২ জন, সুস্থ ৫২১০, মৃত ৭৭৯ জন মানুষ। ভারতে যে সব রাজ্যে করোনার আক্রমণ বেশি  তাদের রাজ্য অনুযায়ী আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এই রকম :  অসম- ৩৬ + ১, বিহার- ২৭৪ + ২, ছত্তিশগড়- ৩৭ + ০, হরিয়ানা- ২৯ + ৩, হিমাচল প্রদেশ- ৪১ + ১, ঝাড়খন্ড- ৮২ + ৩, কেরল- ৪৬৮ + ৩, মধ্যপ্রদেশ- ২০৯৬ + ১০৩, মহারাষ্ট্র-৮০৬৮ + ৩৪২, দিল্লি- ২৯১৮ + ৫৪, পঞ্জাব- ৩২২ + ১৮, রাজস্থান- ২১৫২ + ৩৬, তেলেঙ্গানা- ১০০১ + ২৫, উত্তরপ্রদেশ- ১৮৪৩ + ২৯, পশ্চিমবঙ্গ- ৬১১ + ২০, অন্ত্রপ্রদেশ- ১০৯৭ + ৩১, জম্মু কাশ্মীর- ৫২৩ + ৬।

কালকেই আমার এক বামপন্থী বন্ধু গর্বভরে বলছিলেন যে করোনা ঠেকানোর জন্য ভিয়েতনামকে যেমন বিশ্ব মডেল করা দরকার, তেমনি কেরলকে ভারতীয় মডেল করা দরকার। ভিয়েতনাম ও কেরলের সাফল্য অনস্বীকার্য। কিন্তু চিনের চেয়ারম্যান যেমন আমদের চেয়ারম্যান হতে পারেন না, তেমনি এক দেশের মডেল অন্য দেশের মডেল হতে পারে না। ভূপ্রাকৃতিক ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী প্রত্যেকটি দেশের সমস্যা পৃথক ধরনের। এক মডেল অন্য দেশে সফল না হতে পারে । তাছাড়া, ভিয়েতনাম ও কেরলের সাফল্য নিয়ে বামপন্থীদের গর্ব করার কিছু আছে কি? চিন, রাশিয়া প্রভৃতি অন্যান্য কমিউনিস্ট দেশের ব্যর্থতা তখন অন্য কেউ তুলে ধরতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীরা আবার কেরলের কথা বারবার তুলে ধরেন এ রাজ্যের প্রশাসনের ত্রুটি ও ব্যর্থতা প্রমাণের জন্য। আমরা নিরপেক্ষভাবে কেরল ও পশ্চিমবঙ্গের সাফল্য ও ব্যর্থতা তুলে ধরব। কিন্তু তার আগে এই দুই রাজ্যের ভূপ্রাকৃতিক ও সামাজিক বৈপরীত্য তুলে ধরা দরকার। ২০১১ সালের জনগণনার পরিসংখ্যানটাই আমাদের হাতিয়ার।

এই পরিসংখ্যান বলছে কেরলের লোকসংখ্যা ৩ কোটি, পশ্চিমবঙ্গের লোকসংখ্যা ৯ কোটি। কেরলের রাজধানী তিরুবন্তপুরমের লোকসংখ্যা ৭৮৮২৭১ ও শহরতলীর লোকসংখ্যা ৬৭৯৭৫৪। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার লোকসংখ্যা ৪৫৮০৫৪৪, শহরতলীর লোকসংখ্যা ১৪৯০৮১১; সংলগ্ন হাওড়ার লোকসংখ্যা ১০৭২১৬১। তিরুবন্তপুরমের বস্তিবাসী ৩৩২০, কিন্তু কলকাতার বস্তিবাসী ১৪৯০৮১১। কলকাতা ও হাওড়ার প্রসঙ্গ এই কারণে তুললাম যে এ রাজ্যে মোট সংক্রমণের ৭০% এই দুই শহরে । আরও দুটি তথ্য দেওয়া যাতে পারে। কেরলে দারিদ্যসীমারেখার নিচে ১.০৫% মানুষ, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেটা ১৩.৯৮%। কেরলে সাক্ষরতার হার ৯৩.১১%, পশ্চিমবঙ্গে ৭৬.২৬%।

পশ্চিমবঙ্গের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার মূলে আছে উদ্বাস্তু আগমন। প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে এ রাজ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ এসেছেন । অবৈধভাবে আগমনের স্রোত অব্যাহত। জ্যোতিপরিমল সরকার তাঁর গবেষণাপত্র ‘ Bangladeshi   Migrants  to  West Bengal   :  a  cause  of  concern’  এ বলেছেন : ‘The  numbers  of  illegal  migrants  into   West Bengal   have   actually   created   an  alarming  situation  in  India.‘ এ রাজ্যে ইন্টারন্যাশনাল বর্ডার থাকার ফলে বিপদ বেড়েছে। করোনা সংক্রমণে সেই বিপদ কতটা তার হিসেব এখনও পাওয়া যায়নি।

কেরলের মানুষ অনেকবেশি স্বাধীনচেতা ও গণতন্ত্রপ্রিয়। তাই তাঁর দলীয় প্রভাব অতিক্রম করে প্রতি পাঁচ বৎসর অন্তর সরকার বদলে দেন। পশ্চিমবঙ্গের একেবারে বিপরীত চিত্র। বামেরা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় ছিলেন ৩৪ বৎসর, তৃণমূল ১৩ বছর-সামনের বিধানসভায় জিতলে পনেরো বছর হবে। সেই কারণে এখানে শাসক তাঁর ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেন যেন-তেন প্রকারেণ। সেই কারণে এখানে করোনা যুদ্ধটা অনেকটা নির্বাচনী যুদ্ধে পরিণত। এ রাজ্যের নির্বাচনী যুদ্ধে বাম ও কংগ্রেস হীনচেতা ; বিকল্প শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে ভারতীয় জনতা দল। করোনা প্রতিরোধের ব্যাপারে বাম ও কংগ্রেস শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, কিন্তু যুদ্ধ শুরু করেছেন ভারতীয় জনতা দল। একজন অঘোষিত সারথিও তাঁরা পেয়েছেন। তিনি রাজ্যপাল। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে তিনি অভিযোগের টুইট করে যান। শাসকদলও ক্রুদ্ধ প্রতিবাদ করে অসচেতনভাবে বুঝিয়ে দেন যে তাঁদের খামতি আছে।

করোনাযুদ্ধে কেরলে এই রাজনৈতিক যুদ্ধ না থাকায় সেখানে শাসক ও বিরোধীরা একযোগে কাজ করতে পেরেছেন। কেরলের আরও দুটো সুবিধে ছিল।  কেরলের ত্রিশুর, আলফুজা ও কাসারগড়ের তিনটি শিক্ষার্থী ছিল উহান মেডিকেল কলেজের ছাত্র। তাঁরা কেরলে ফেরেন ৩০ জানুয়ারি। সম্ভবত এঁদের কাছে কেরল সরকার উহানের অবস্থা, সেখানকার লকডাউনের চরিত্র সম্বন্ধে অবগত হন। অবগত হন  contact  tracing-এর ব্যাপারও। তাই দেখি এই ছাত্রদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন এমন ৩০০০ মানুষকে সরকার কোয়ারেন্টাইনে রেখেন, এবং সঙ্গে সঙ্গে ‘রাজ্য বিপর্যয়’ ঘোষণা করেছেন। ভারতের মধ্যে কেরালাই একমাত্র রাজ্য যেখানে বিদেশাগতদের ২৮ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এইরকম সিদ্ধান্তের পেছনে উহানের অভিজ্ঞতা কাজ করেছে বলে মনে হয়। সার্সের অভিজ্ঞতাকে যেমন কাজে লাগিয়েছিল তাইওয়ান ও ভিয়েতনাম, তেমনি কেরল কাজে লাগিয়েছে দুবছর আগের নিপার অভিজ্ঞতা। কেরলের সাফল্যের সূত্রগুলি এরকম : ১. এয়ারপোর্টে নিশ্ছিদ্র নজরদারী  ২. কন্টাক্ট ট্রেসিং-এ যত্ন ও নিষ্ঠা  ৩. কঠোর কোয়ারেন্টাইন  ৪. সমস্ত ল্যাব, ক্লিনিক, হাসপাতালকে হেল্থ প্রোটোকল মেনে চলতে বাধ্য করা  ৫. অঙ্গনওয়াড়ি, আশাকর্মী, প্যারা মেডিকেল, ডাক্তার সকলকে নিয়ে পরিকল্পনা,  ৬. বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে কাজে লাগানো ৭. জনচেতনাবৃদ্ধি—‘ব্রেক দি চেনে’র মতো কর্মসূচি  ৮. এবং ব্যাপক টেস্টিং।

পশ্চিমবঙ্গে জনসচেতনতার কাজ শুরু হয়েছিল মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে। এখানে প্রথম করোনা আক্রান্ত ইংল্যান্ড ফেরত ১৮ বছরের এক যুবক। তারপরে ২০ মার্চ ইংল্যান্ড প্রত্যাগত ২২ বছরের যুবকের করোনা ধরা পড়ে। ২১ মার্চ ২৩ বছরের যুবতী করোনা আক্রান্ত হন। বিলাসপুর থেকে এসেছিলেন ৫৭ বছরের এক প্রৌঢ়, করোনা ধরা পড়ে তাঁর ও বাড়ির ২ পুরুষ ও এক নারীর। ২৪ তারিখে ইজিপ্ট ফেরত ৫৮ বছরের প্রৌঢ় ও ৫৫ বছরের প্রৌঢ়ার করোনা ধরা পড়ে। দিল্লিতে ইংল্যান্ড ফেরত মানুষদের সংস্পর্শে এসেছিলেন কে পরিবারের যে ৪ টি নারী ও ১ টি শিশু, তাঁরা সংগোপনে চলে এলেন এই রাজ্যে। ২৮ তারিখে আমেরিকা ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা আত্মীয়দের সংস্পর্শে আসায় করোনা আক্রান্ত হলেন ৭৬ ও ৫৬ বছরের দুই প্রৌঢ়া।

বিমানবন্দরে সতর্ক নজরদারি যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না কন্টা্ক্ট ট্রেসিং। সরকার ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিনামূল্যে রেশনের ঘোষণা করেছেন, করোনা মোকাবিলার জন্য ২০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু করোনার আশু বিপদ সম্পর্কে যথেষ্ট অবহিত নন বলেই মনে হয়। তাই দেখি সরকারের প্রথম দিকের বুলেটিনে আক্রান্তদের ভ্রমণের গতিবিধি লিপিবদ্ধ হত না। মুখ্যমন্ত্রী রাস্তায় নেমে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন। হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার একদিন আগে অর্থাৎ ২২ মার্চ লকডাউন ঘোষণা করেছেন। ততদিনে ভাইরাস অন্যান্য জেলায়—পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া, কালিম্পং-এ ছড়িয়ে পড়েছে। ২ এপ্রিল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার টাস্ক ফোর্স গঠন করেছেন এবং ৩ এপ্রিল মৃত্যুর কারণ বিচারের জন্য গঠন করেছেন অডিট কমিটি।

কিন্তু যে দুটি কাজ জরুরি ছিল  তা হল বিমান বন্দরে তীক্ষ্ণ নজরদারি আর কন্টাক্ট ট্রেসিং। তা করা হয় নি। খামতি ছিল টেস্টিংএরও। পরবর্তীকালে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে সরকার কারচুপি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেটা যে খুব অসত্য নয় পরবর্তীকালে তা প্রমাণিত। কেননা তুলনামূলকভাবে বেশি টেস্টিং হতে দেখা গেল আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।

লকডাউনের ব্যাপারেও সরকারের ব্যর্থতা আছে। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে কড়াকড়ি করলেও বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছিলেন। ফলে লকডাউনের সময় পুলিশের সঙ্গে মানুষ লুকোচুরি খেলতে লাগলেন। তাছাড়া ভোজনবিলাসী বাঙালির প্রতিদিন বাজারে যাওয়া চাই। লকডাউনেও টালা থেকে টালিগঞ্জের বাজারগুলিতে ভিড় দেখলে চমকে ষেতে হয়। মাস্ক একটা মুখমণ্ডলে থাকে বটে, কিন্তু সেটা থাকে থুতনিতে। পুলিশকে দেখলে নাক-মুখে উঠে আসে। অবশ্য এই চিত্র শহর ও শহরতলীতেই বেশি।

এই বিশৃঙ্খলা, এই যা-ইচ্ছে-তাই করার মনোভাবটা যেন আমাদের চরিত্রগত। আমরা যতটা অধিকারসচেতন, ততটা দায়িত্ব সচেতন নই। ‘দিতে হবে দিতে হবে’—শ্লোগানটা আমাদের প্রিয়, কিন্তু আমাদেরও যে কিছু করার আছে তা আমরা ভাবি না। নিজের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হলে আমরা অন্যের দিকে আঙুল তুলি, কিন্তু কখনও আত্মসমালোচনা করি না। করোনা আক্রমণের পটভূমিকায় কেন্দ্রের শাসক দোষ দিচ্ছে রাজ্যের শাসককে, রাজ্যের শাসক বলছে সব দোষ কেন্দ্রের, বিরোধী দল দোষ দিচ্ছে শাসক দলকে, শাসক দল বলছে এসব চক্রান্ত। আমি আগেই দেখাবার চেষ্টা করেছি যে এসব তরজার মূলে আছে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। করোনা যুদ্ধ করার নামে আমরা আসলে নির্বাচন যুদ্ধ করছি। কেরলেও ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু সেখানে করোনার নামে নির্বাচন যুদ্ধ হচ্ছে না। কারণ সেখানে শাসক ও বিরোধী সবাই জানেন কেরলের মানুষ কোন দলের সরকারকে পাঁচ বছরের বেশি রাখেন না। তাই ‘আগে কেবা প্রাণ করিবেক দান’ করে লাভ নেই।

বাঙালি হয়েও আয়নায় নিজেকে যখন দেখি তখন এক মহাজনের উক্তি মনে পড়ে যায়, বড় লজ্জা হয়। সেই মহাজনের নাম রবীন্দ্রনাথ। বিদ্যাসাগর চরিত আলোচনায় তিনি লিখেছিলেন, ‘ আমরা আরম্ভ করি , শেষ করি না ; আড়ম্বর করি, কাজ করি না ; যাহা অনুষ্ঠান করি তাহা বিশ্বাস করি না ; যাহা বিশ্বাস করি, তাহা পালন করি না ; ভূরিপরিমাণ বাক্য রচনা করিতে পার, তিল পরিমাণ আত্মত্যাগ করিতে পারি না; আমরা অহংকার দেখাইয়া পরিতৃপ্ত থাকি, যোগ্যতালাভের চেষ্টা করি না; আমরা সকল কাজেই পরের প্রত্যাশা করি, অথচ পরের ত্রুটি লইয়া আকাশ বিদীর্ণ করিতে থাকি; পরের অনুকরণে আমাদের গর্ব, পরের অনুগ্রহে আমাদের সম্মান, পরের চক্ষে ধূলিনিক্ষেপ করিয়া আমাদের পলিটিকস এবং নিজের বাকচাতুর্য নিজের প্রতি ভক্তিবিহ্বল হইয়া উঠাই আমাদের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য।’ করোনা যুদ্ধের নামে এই নির্বাচনী যুদ্ধে ‘পরের চক্ষে ধূলিনিক্ষেপ করিয়া আমাদের পলিটিকস’ কথাটা আমার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে।

 

 

 

 

 

 

 

 

[ক্রমশ]

 

 

 

 

 

আগের সবগুলো পর্ব ও লেখকের অন্যান্য লেখা পড়তে ক্লিক করুন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত