একটি সাদা বক

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.comকলেজ থেকে ফিরে সোজা বাথরুমে ঢুকলো শর্মি। সকাল থেকেই তলপেটে হালকা ব্যথা করছিল, নাস্তাও তেমন করা হয়নি টেবিলেই ছিল। চাচা বেরিয়ে যাবার সময় একবার বলেছিল। জানালার কার্নিশে রোদ পড়তেই চোখের পাতারা নেড়ে উঠে চুলকায়, গতরাতে মায়ের কথা খুব মনে পড়েছিল কখন যে বালিশে মুখ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল…। মায়ের কথা আবার মনে করে চোখ মেলে তাকায় রোদের দিকে। অনেকদিন মায়ের সাথে কথা হয় না। পিরিয়ডের সময় মায়ের যে কত বকুনি খেত সে! একবার তো বিছানা ভিজে গেছিলো তার খেয়ালই ছিল না। এরপর বাথরুমে গিয়ে গোসল। মাকে বিছানার চাদর বালিশ সব ধুতে হয় সাথে চেঁচামেচি তো আছেই। এখন তাই মনে করে চাচীর বাসায় সাবধানে থাকে। এমনিতে চাচীকে তাঁর একদমই ভালো লাগে না।

রাঙামাটি কলেজে ভর্তি হওয়ার পর শর্মি যখন প্রথম চাচার বাসায় আসে চাচী বললো দেবরকে,

-‘চট্টগ্রাম শহরে এত কলেজ থাকতে এখানে এত দূরে ভর্তি হওয়ার কি দরকার ছিলো?-

-ভর্তি হয়েছিল তো, কিন্তু মেয়ের ইচ্ছে হলো এখানে পড়ার’ শর্মির বাবা হেসে বলেছিল।

-ভর্তি বাতিল করে আবার! দেবরের কথা শুনে একটা বিরক্তি চেহারায় চাচীর মুখখানা সেসময় কিরকম যে লেগেছিল তা এখনো মনে আসলে মনটা খারাপ হয়ে যায় শর্মির।চাচী মনে মনে সন্দেহ করে নিশ্চয়ই ওখানে কোন সমস্যা হয়নি তো! না হলে আবার এখানে কেন! এসব ভাবতে ভাবতে নিজের রুমে ঢুকলো। শর্মি কলেজে হোস্টেলের সিটের জন্য অপেক্ষা করে দরখাস্ত দিয়ে রাখে, একবার হোস্টেলে চলে যেতে পারলেই সে সবার কাছ থেকে বাঁচে। তবু শহরে ফিরে যাবার তার আপাতত ইচ্ছে নেই। আর তাই বাবাকে বলেই এই পাহাড়ি জায়গায় দ্রুত আসা যদি কলেজ ট্রান্সফারের মেয়াদ শেষ হয়ে যেত তাই। বাবার কথা ভাবতেই মনটা খারাপ হয় আরো চাচীকে যেন অনুরোধ করতে হয়েছে  থাকার জন্য। কিন্তু কিছুদিন পর এ বাড়িতে থাকার একটা বড় বাঁধা কারণ হয়ে দাঁড়ায় তার মনের ভিতরে ঘুরপাক খাচ্ছিল যা সে ইতিমধ্যে আরো বুঝতে পারছে।আর এ কারনেই আল্লা! হোস্টেলের সিটটা যদি পেয়ে যেত!

বিকেলে স্কুল শেষে চাচী বাড়ি ফিরে যদি দেখেন যে শর্মির ঘরের দরজা বন্ধ, তখন তিনি এসে চেঁচামেচি করতে থাকেন।কেননা সে হয়তো জেগে কখনো বা ঘুমিয়ে যায় দরজা বন্ধ করে সারাক্ষণ একটা অস্থিরতায় কখন যে ঘুম চলে আসে পাশের রুমে যখন তার চাচাতো ভাই ফিরোজ পাইচারি করতে থাকে ভীষণ অস্থিরতায় আরো।দরজা খুলেই সে বেসিং এ গিয়ে মুখ ধুয়ে নেয়,বেসিং এর পাশ দিয়ে গেলে বামে ফিরোজের রুমটা,বিছানাটা এখান থেকে পুরো দেখা যায়। শর্মি আয়না দেখছে আর ফিরোজর লাল চোখ দুটি চেয়ে আছে ওর দিকে।সে দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল। বাহিরের রোদ জানালা ভেদ করে ডায়েনিং টেবিলে পড়ে। আয়নার সামনে দাড়িয়ে শর্মি দেখছে পেছনের রোদের রেখাটা। আসতে আসতে এই জায়গাটা তার ভাল লেগে গিয়েছিল। মনোরম পরিবেশ বিশুদ্ধ বাতাস, নদীর পাড় শহরের কোন কোলাহল নেই আর নতুন বন্ধুরা।জানালা দিয়ে দেখলো একটা সাদা ডানাওয়ালা সরু গলার বক, এরকম একটি সুন্দর বকপাখি সে কখনো তার শহরে দেখেনি।সে দেখলো আরো ভাল করে বকটির ঠোঁটের মাঝে বিষাক্ত কীটটি বকের ঠোঁটটিকে কামড়ে ধরে রেখেছে।    

চাচাতো ভাই ফিরোজের ঘরে যেত আগে প্রায় আড্ডা দিত কিন্তু কয়েক দিন পর ফিরোজের আচরন তার কাছে কেমন জানি অস্বাভাবিক মনে হলো।সেদিন দুপুরে কড়া রোদে দুজনে বারান্দায় বসে কথা বলছিলো। তার হাতটি ধরে বললো, ‘শর্মি আমাকে তোর কেমন লাগে?’

বাসায় এই সময়ে কেউ থাকেনা, শর্মিরও একা ভাল লাগতো না সে আর কেবল ফিরোজ। ফিরোজ তার ছয় বছরের বড়।পড়াশোনা শেষ করে বাবার ব্যবসাটা মাঝে মাঝে দেখে সে।সেদিন আড্ডার ছলে ফিরোজ তার বুকে একবার হাত দিয়েছিল, এ নিয়ে তার সাথে বেশ কথা কাটাকাটি হয়।বারান্দার রোদের দিকে তাকিয়ে শর্মি এসব ভাবছিল। চাচীকেও কিছু বলেনি। বলার সাহসও নেই। একবার মাকে বলেছিল একথা কিন্তু মা চুপ কিছু বলেনি। নিজেকে ভীষণ একা মনে হলো তখন।

আরেকদিন দুপুরেও কলেজ থেকে বাসায় আসার পর ফিরোজ তার রুমে এসেছিল, তার অখেয়ালে তাকে জড়িয়ে ধরেছিল। বাসায় কেউ ছিল না। চাচী স্কুলের চাকরি শেষে ফিরে বিকেলে আর চাচার ব্যবসার কাজ সেরে রাত হয় আসতে। জোর করে চুমু খেয়েছিল, শর্মি তাকে সরানোর চেষ্টা করে।এবার সে তাকে জোরে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। শর্মি ফিরোজের কুপ্রস্তাব কখনোই মেনে নিবে না। এই কয়েকদিনে কলেজে এক পাহাড়ি মেয়ে রত্না চাকমা, ওর সাথে তার ভাল বন্ধুত্ব হয়। রত্না সব কিছু শুনে খুব অবাক হয়, তাকে ভয় না পেতে বলে।কলেজের ভেতরে বিরাট দিঘীর পাড়, সেখানে দুজনে বসলো। শর্মি হঠাৎ দেখে, সাদা বকটি বক দিঘীর পানিতে সাঁতার কাটছে আর তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে অবাক হয়ে বকটির দিকে চেয়ে থাকে।একটু পর বকটি উড়ে গেল।শর্মি এদিক ওদিক খুঁজে, রত্না বললো, ‘কি হল? কিছু দেখেছিস?’

-না কিছু না।     

পরের দিন কলেজ থেকে এসেই সে তার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।বিছানায় শুয়ে রইলো। জানালার দিয়ে বাইরে তাকালো খেলার মাঠে ছেলেমেয়েরা ফুটবল খেলছে।একপক্ষ বলটি নিয়ে দ্রুত বিপক্ষ দলের দিকে যাচ্ছে।শর্মির দৃষ্টি ডান দিকে ফিরতেই একটা সাদা বক উড়ে আসলো। এখানে বক কোথা থেকে? পাশের নদীর ঘাট থেকে আসছে মনে হয়। বকটি মাঠের পাশে জলাশয়ে বসলো। হঠাৎ কিসের যেন শব্দ শর্মিকে কানে আসলো। দরজায় টোকা দিল, কে কে? নিজের কণ্ঠ নিজের কাছেই কেমন জানি লাগলো তার, বুকটা ঘেমে গেল।

ফিরোজ ডাকলো, ‘শর্মি দরজাটা খোল।’

কেন ভাইয়া? বুকটা অনবরত যেন কাঁপছে ফিরোজের কণ্ঠ শুনে।

‘দরজাটা খোল বলছি, তোর সাথে কথা আছে।’ ফিরোজের ভয়াল কণ্ঠে শর্মি বিছানায় আরো শক্ত হয়ে বসে আছে, চুলগুলো এলোমেলো।খেলার মাঠে চিৎকার শোনা যাচ্ছে, সে বারান্দার দিকে ফিরে তাকালো কই গেলো বকটা! জলাশয়ে কেউ নেই। শূন্য একেবারে।

সে উঠে দরজার সামনে দাঁড়াল। টেবিলের উপর রাখা ঘড়ির কাঁটায় শব্দ স্পষ্ট শোনা গেল। আড়াইটা বেজে পাঁচ মিনিট।

-‘ফিরোজ ভাই প্লিজ তুমি চলে যাও, আমার ভাল লাগছে না’। এবার খুব জোরালো কণ্ঠে সে বললো। রত্না তাকে বলেছিল যতক্ষণ চাচী আসবে না ততক্ষণ দরজাটা বন্ধ রাখতে আর ভয় না পেতে। বিছানায় শুয়ে পড়লো। ডান হাতে মোবাইল নিয়ে কন্টাক্ট লিস্টে গিয়ে মায়ের নাম্বারটি সিলেক্ট করলো কিন্তু ডায়াল করতে গিয়ে করলো না আবার।চোখ ভিজে গেল। আর এভাবে ঘুম চলে আসে। ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখলো একটা সাদা বক, বড় ডানাওয়ালা সরু গলা তার সামনে আসলো। বকটি জলাশয়ে বসেছিল, হঠাৎ জলাশয় থেকে একটা সাপ উঠে বকটিকে গিলে ফেললো। সে ভয় পেয়ে চিৎকার দিল । বকটি ততক্ষনে সাপটির পেটে। শর্মি শর্মি! ধপাস করে উঠে গেল বিছানায় ঘুম ভেঙ্গে। ঘড়িতে ৫ টা। চাচী খেতে ডেকে বলল, ‘এত বড় ধিঙ্গি মেয়েকে ভাত খেতে ডাকতে হয়।অসহ্য যন্ত্রণা!’ চাচীকে কে এ বিষয়ে যে কিছু বলবে সাহস নেই তার।

সেদিনের পর থেকে ফিরোজ যতবার তার কাছে আসার চেষ্টা করেছে সে দূরে সরে গেছে। ঘরে কেউ থাকলে সে কিছু করে না কিন্তু দুপুরে কলেজ থেকে আসার পর এভাবে রোজ রোজ দম বন্ধ হয়ে আসছে। কারণ কখনো কখনো রাত হলেও দরজায় টোকা দেয়, ঘামে সে ভিজে যায়। সারাটা রাত তার ঘুম আসে না। ভয়ে ভয়ে কাটে।পড়াশোনায়ও তার মন বসে না। এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে শীঘ্রই তাকে একটা সিটের ব্যবস্থা করে দিতে। একমাত্র তার কলেজ বন্ধু রত্না তার পাশে আছে, এজন্য তার ভয়টা কম লাগছে। বাসায় এসে বেশ ক্লান্তি লাগে। প্রচণ্ড খিদা পায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকায় জলাশয়ে বকটি অনবরত সাঁতার কাটে।সে এখন খুব আপন তার। শর্মি ঘুমিয়ে যায়, ঘুমের মধ্যেও সেই বকটিকে দেখে। সে নদীর পাড়ে যায় বকের সাথে সেও নদীতে নামে, সাঁতার কাটে।রাতে তার ভীষণ জ্বর আসে, মাথা ব্যথা বমি হয়। বাবাকে খবর দেয়। পরের দিন দেখতে আসেন। তিনদিন বাসা থেকে বের হয়নি একদম।

বাবা চলে যাবার পর শর্মি একদিন রত্নার সাথে তার বাড়ি গেল কলেজ থেকে দুই তিন মাইল দূরে নদী পার হয়ে সবুজ পাহাড়ের ওখানে। চাচী একবার ফোন করেছিল এর মধ্যে। সে অবশ্য বলেছিল আগেরদিন চাচাকে। বাড়ির চারপাশে বাগান ফুলে ভরা, একপাশে জুমক্ষেত। রত্নার মা মোনা চাকমা, তাকে খুব আদর যত্ন করলো,বিভিন্ন রকম খাবার বানিয়ে দেয়। সে কখনো এসব খাবার খায়নি। পাহাড়িদের খাবার এবারে প্রথম খেল। রত্নার এক ছোটবোন আর বড় ভাই আছে। বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। ছুটিতে বাড়ি আসে।

বিকেলে দুই বান্ধবী মিলে গান করলো।নৌকায় দুজনে চড়লো, গলুই এর উপর বসে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিল।নদীর ধারে বসে গান করতে করতে হঠাৎ শর্মির কেমন জানি মনটা আনন্দে উতলে পড়লো। নিজের ভেতরের পুরোনো সমস্ত বিষাদ ভয় ফিরোজের চেহারা, মায়ের কথা সব ভূলে গেল।

অনেক দূরে পাহাড়ের বুকে চেয়ে রইলো। ওদিক থেকে একটা বক উড়ে পানিতে আসলো তার সামনে। এটা কি সেই বকটি যাকে গতকয়েক দিন ধরে স্বপ্নে দেখেছিল,সেদিন খেলার মাঠের জলাশয়ে দেখেছিল। হা ঠিক একই রকম দেখতে সাদা ডানাওয়ালা সরু গলার বকটি যেন তাকে ডাকছে বার বার। তখন নিজেকে বক মনে হলো, তাকে পছন্দ করেছে সে ডাকলো তাকে চল আমার সাথে চল,অনেক দূরে।ওই পাহাড়ের অনেক উঁচুতে। সে ঠিক করলো রত্নার সাথে এখানেই থেকে যাবে। রোজ ওর সাথে কলেজে যাবে আর আসবে। এখানে কেউ তাকে বিরক্ত করবে না। তাছাড়া বকটিও খুশি হবে। রোজ তার সাথে এখানে এসে কথা বলতে পারবে। মায়ের সাথে কথা বলতে হবে।

কিন্তু মায়ের প্রতি তার রাগ আরো বাড়ল, কেন তাকে সেদিন বিশ্বাস করলো না।সেদিনের পর থেকে মা তাকে অনেকবার কল দিয়েছিল কিন্তু সে ধরেনি একবারো। মায়ের উপর আগে থেকেই রাগ করে সে রাঙামাটিতে চলে এসেছিল যেদিন মাকে সে বলেছিল কলেজের অধ্যাপক শিশির স্যারের বাসায় পড়তে যাবে না আর। শর্মি সপ্তাহে তিনদিন করে যেত ফিজিক্স পড়তে, দশ বারো জন পড়তো। সেদিন শর্মিকে এক্সট্রা ক্লাসের জন্য আসতে বলেছিল আরেকজনও আসার কথা। গিয়ে দেখে কোন স্টুডেন্ট নেই, কেবল সে। স্যারের বউও ছিলনা বাসায়, বাচ্চাকে নিয়ে বেরিয়েছিল।সে চলে যেতে চেয়েছিল কিন্তু স্যার জোর করে থাকতে বলে। পড়াতে পড়াতে স্যার তার গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করে, সে সরে যায় বার বার।এরপর তিনি যখন তার কোমরে হাত দেয় সে চিৎকার করে জোরে স্যারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তারপর দরজা খুলে দৌড়। মাকে জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিল। কিন্তু মা কিছুই করেনি বলেনি স্যারকে। এবারো চুপ, চাচীকেও কিছু বলেনি, তিনি  সব জেনেও চুপ। 

কর্ণফুলী নদীর দিকে দিকে চেয়ে রত্নাকে আজ খুব মিস করছে। ‘কি তোমার রত্নার কথা মনে পড়লো?’ বাঁ হাতে সিগারেট নিয়ে একটু হেসে বলল ওমর। খুব ভাল কেটেছিল দুইবান্ধবীর একসাথে। আজ প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেল রত্নাকে দেখেনি। একবার এসেছিল শহরে কিন্তু সে ব্যস্ত থাকায় দেখা হয়নি।

-আচ্ছা, তুমি তোমার চাচার ওখানে যাওনি আর?

-না কখনোই না। মা যেতে বলেছিল আমি যাইনি।

-ওরা এসেছিল? ওমর শর্মির হাত দুটি ধরে বলল।

-হা এসেছিল। কেবল চাচা। ফিরোজের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। আমি মানা করে দিয়েছি।

-তুমি কি আর কিছুই বলোনি তাদের? ওমর চেপে ধরলো তার হাত দুটি।

এই মুহূর্তে ব্রীজঘাটায় জাহাজের একটা বিকট শব্দে শর্মি সামনে তাকাল। ঘাটের আশেপাশে লোকজন বেড়ে গেল। বিকেল হলেই এদিকে লোকজন আসতে থাকে, অনেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসে। কাপলের সংখ্যাও কম না। দূরের জাহাজটার দিকে চেয়ে ওমর সিগারেটের শেষটানটা দিল। আজকে সিগারেট বেশি টানছে সে, শর্মি পাশ ফিরে তাকাল তার দিকে। ওমর তাকে বাঁ হাত দিয়ে আলিঙ্গন করলো। সন্ধ্যা নামলো, জাহাজের আলোগুলো জ্বলছে।জমজমাট ঘাটা, কেউ চা খাচ্ছে,কেউ কাকড়া খায়,কারা যেন একটু দূরে গিটার বাজিয়ে গান গাইছে।

-কি! তুমি কি আমায় ভয় পাচ্ছ? ওমর ওর মুখের দিকে চেয়ে বললো।

-না এখন আর ভয় পায় না। ভয় পেলে তোমায় নদীতে ধাক্কা মেরে ফেলে দিতাম।শর্মি ওমরের বুকে মাথা রেখে হাসলো। ওমর আরেকটা সিগারেট ধরাল। নিচে পানির স্রোত আরো বাড়লো, সেখানে একটা ভাঙা নৌকা হালকা দুলে উঠলো। গলুই এর উপর একটা বোতল দুলছে এপাশ ওপাশ। শর্মি চেয়ে আছে বোতলটার দুলুনির দিকে। হঠাৎ একটা সাদা ডানাওয়ালা বক উড়ে এসে বসলো দড়ির উপর। বকটির মুখে একটা মাছ। মাছটি ছটফট করছে বকের ঠোঁটে।কিন্তু মাছটি ফেলে দিয়ে তাঁর দিকে চেয়ে রইলো অনবরত গলাটা উঁচু করে ডেকে চলছে। শর্মির মনে হলো কি যেন বলতে চাচ্ছে সে। সে যখন ঘুমিয়ে যায় তখন বকটি রোজ রাত্রে এসে কথা বলে তার সাথে। শর্মি ওমরের বুকে ঘুমিয়ে স্বপ্নে চলে গেলো। স্বপ্নে তার প্রিয় বকটির কাছে ফিরে গেল। 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন




আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত