আজ ২৪ সেপ্টেম্বর কবি দীপ রায়ের জন্মতিথি।ইরাবতী পরিবার কবিকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।
ধ্বনি
গলায় বিঁধে আছে কাঁটা
প্রতিশোধস্পৃহা
দু-আঙুলের অক্লান্ত শ্রম
মাঝনদী বরাবর দেহ ফেলছে বারংবার
প্রতি ব্যর্থতায় আরও এক ফিট করে
মাটি সরে যাচ্ছে অন্দরে
তুমি শুনতে পারছো মনোরম বিউগল
আমি কান চেপে আচ্ছন্ন হচ্ছি
নিজের আর্ত-চিৎকারে…
স্বস্তিক
তেল-সিঁদুরের সংমিশ্রণ
অনামিকা
ম্যাজেন্ডা নখ
রয়্যাল ইমালসন দশ-ফিট
রিমুভার
তুলো
চুঁইয়ে পড়ছে ধৈর্যরা
দক্ষতা
ঘরময় ছড়িয়ে তুলোমেঘের ঘনত্ব
প্রিয় টেডির তলপেট ফাঁসিয়ে
নির্লিপ্তস্থির ব্লেডের গাল
কান পেতেছে সূক্ষ্মতায়, বিহ্বল জংরোগ
ঘাড়মোড়া প্রশমিত ক্ষোভ…
অতঃপর গো-এজ-ইউ-লাইক
ফ্ল্যাশব্যাকে ভেজা স্মৃতির নেগেটিভ
ধৈর্য্যশীল সেলাইকল…
মোহনা
মোহনা কেঁদেছে শৈশবে
একবার মেলায় রঙিন ফিতে বায়না করায় গরম খুন্তি আছড়ে পড়েছিল ওর কাঁচা পিঠে
মোহনা কেঁদেছে যৌবনে,
প্রায়শই ওর স্কুলফেরত সাইকেলের পথ আটকে দাঁড়াত তিনচারটি কালচে ঠোঁট
মোহনা কেঁদেছে বার্ধক্যে,
অকেজো কোমরে শেষজীবনে ওর স্থান হয়েছিল এক বৃদ্ধাশ্রমে
ভরসা
ফ্রন্টিয়ারে জনপ্লাবন, আঁকাবাঁকা পথ
যতদূর গেছে মাইকের নিঃশ্বাস
ধুলোখেকো পা-জোড়া…
যাই বলো অবাঞ্ছনীয় অথবা অকাঙ্খিত
তীব্র সমালোচনার দাবিঝড়
যেন পৃথিবীর ছাতি ফাটিয়ে উঠে আসা
এক বিচ্ছিন্ন মাউথপিস,
আড়ষ্ঠতার ঘামে ক্ষনিকের মৃদু বাতাস…
জেগে আছ ঘুমকাতুরে?
কত বাড়াভাতের মুখে ছাই রোজ
কত সজোরে লাঠি অসহায় পাঁজরে
টের পেয়েছ কি সেসব কখনো
জেগে আছ ঘুমকাতুরে ?
কত বুটেদের মিছিল দাপাচ্ছে আজও
ছিটিয়ে স্পর্ধার রেণু ফুলেদের মৃতদেহে
তবু কেন নিশ্চুপ, এত বিকারহীন
জেগে আছ ঘুমকাতুরে?