ক্যারিবীয় কবি ডেরেক ওয়ালকট ও তার চারটি অনুবাদ কবিতা

Reading Time: 6 minutes

অনুবাদ: কামরুল ইসলাম

ডেরেক ওয়ালকট :

ক্যারিবীয় কবি ও নাট্যকার ডেরেক অলটন ওয়ালকট জন্মেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি ছোট্ট দ্বীপ সেন্ট লুসিয়ার ক্যাস্ট্রিজ শহরে, ২৩ জানুয়ারি ১৯৩০ সালে। তাঁর আফ্রিকান এবং ইংলিশ বংশসূত্রের উল্লেখ করে তিনি তার বাল্যকালকে ‘সিজোফ্রেনিক’ হিসেবে বিশেষায়িত করেছেন। তিনি একালের সবচেয়ে সম্মানিত লেখক যার কবিতা ও নাটকে উপনিবেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঐতিহ্যের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী আফ্রিকান ও ইউরোপিয়ান কালচার-বিরোধী মনোভাব ফুটে উঠেছে। যখন তিনি ইংল্যান্ডের সাহিত্য-রীতি মেনে চলছেন তখনও তিনি প্রায়শই ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের ক্যারিবীয় সংস্কৃতির গ্রাসকে নিন্দা করেছেন। তার কবিতার ভাষায় ইংরেজির সাথে সেন্ট লুসিয়া দ্বীপের আদিবাসীদের বিচিত্র ডায়েলেক্টের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। তার বিখ্যাত কবিতা A far cry from Africa তে তিনি তার অনিশ্চিত আইডেনটিটির কথা তুলে ধরেছেন- যা তার কবিতার একটি অন্যতম সুর। I who am poisoned with the blood of both/ where shall I turn, divided to the vein? তার মা ছিলেন মেথোডিস্ট স্কুলের একজন শিক্ষিকা। তিনি ভালো কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং মায়ের কবিতা আবৃত্তির সৌন্দর্যে বালক বয়সেই ওয়ালকট মুগ্ধ হয়েছিলেন। একটি স্থানীয় থিয়েটারের সাথে ছিল তার মায়ের সম্পৃক্ততা। ওয়ালকটের হয়ে ওঠায় তার মা ও বাবা উভয়েরই অবদান ছিল অপরিসীম। তার বাবা কবিতা লিখতেন এবং ছবি আঁকতেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন তার পিতার প্রভাবের কথা এবং এও বলেছেন যে পিতার শিল্পর্কম তার জন্যে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছে এবং তার কাজ সেই কাজেরই বিস্তৃতি। ওয়ালকটের বাল্যকালের ইচ্ছে ছিলো আঁকিয়ে হবার। তার আত্মজীবনীমূলক কবিতা Another Life (1973) এ তিনি ও তার বন্ধু দাস্তান সেইন্ট ওমের প্রতিজ্ঞা করছেন যে, শিল্পের মধ্য দিয়ে তারা তুলে ধরবেন সমস্ত ক্যারিবীয় অঞ্চলের দৃশ্যাবলী।

ওয়ালকটের সবচেয়ে প্রশংসিত এপিকধর্মী কবিতা Omeros (1990) নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির প্রাক্কালে সুইডিশ একাডেমি উল্লেখ করেছিলো, এটি মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ইতিহাসের মধ্যে পরিভ্রমণ, একধরনের তীর্থযাত্রা। হোমারের ওডেসির সমান্তরালে ক্ল্যাসিক্যাল চরিত্র এচিলিস, হেলেন এবং হেক্টরের বিপরীতে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান জেলে, বেশ্যা এবং জমিদারদের চরিত্র হিসেবে এনেছেন। ওয়ালকট মূলত সারা পৃথিবীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আবিষ্কারে ব্রতী হয়েছেন এখানে এবং বর্তমান ক্যারিবীয় জনগণের আইডেনটিটিতে এদের কতখানি প্রভাব রয়েছে তা সন্ধান করেছেন। Omeros-এ তিনি বলেছেন, ‘Art is history’s nostalgia. এই কবিতা বিষয়ে অলিভার তাপলিনের মন্তব্য: ‘কবিতার সর্বাঙ্গ ঘিরে রয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর পুনঃপুনঃ অনুরণন- যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চরিত্রগুলোর জীবন গড়নে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এচিলির আফ্রিকান পূর্বপুরুষদের ওপর কৃতদাসদের পাশবিক আক্রমণ, নেটিভ আমেরিকানদের ওপর ইউরোপিয়ানদের আক্রমণ, ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজ এবং বাতাস প্রবাহের দিকের দ্বীপগুলোতে প্রথম উপনিবেশ স্থাপন… কিন্তু মিঃ ওয়ালকট এইসব মৃত্যু ও দুর্ভোগের দৃশ্যাবলী একজন হোমারের বস্তুনিষ্ঠ সহানুভূতির আলোকে স্মরণ করেছেন, যিনি বলেছেন কী ঘটেছিলো ট্রোজান এবং গ্রিকে।’

১৯৯২ সালে তাকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। নোবেল কমিটি তাকে এই পুরস্কার দিয়েছিল ……for a poetic oeuvre of great luminosity, sustained by a historical vision, the outcome of a multicultural commitment তার পরবর্তী সময়ের কাব্যগ্রন্থগুলো হলো Tiepolo’s Hound (2000), The Prodigal (2004), Ges White Egrets (2010) শেষের এই কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ২০১১ সালে T.S. Eliot Prize এবং OCM Bocas Prize পান।.২০০৮ সালে ইসেক্স ইউনিভার্সিটি তাকে অনারেরি ডক্টোরেট প্রদান করেন। ২০০৯ সালে ওয়ালকট আলবের্তা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছরের জন্যে আবাসিক অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্তি পান এবং ২০১০ সালে ইসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে কবিতার অধ্যাপক পদে অভিষিক্ত হন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কবিতার অধ্যাপক পদের প্রার্থিতা তিনি স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করে নেন, কারণ সে-সময়ে তার বিরুদ্ধে যৌন-হয়রানির মিথ্যে মামলাসহ মিডিয়াগুলোতে বেশ লেখালেখি চলছিল। তার এ দুঃসময়ে তার খুব কাছের বন্ধু শেমাস হিনিসহ অনেক বিখ্যাত কবিই তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তার পক্ষে লেখালেখিও করেছেন।এসময়ে তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী রুথ প্যাডেল ঐ পদে নির্বাচিত হলে কয়েকদিনের মধ্যেই ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এ একটি প্রতিবেদন ছাপানো হয় এই মর্মে যে, রুথ প্যাডেল সাংবাদিকদের প্ররোচিত করে ওয়ালকটকে ঐ ধরনের মানহানিকর মামলায় জড়িয়ে ফেলে। অতঃপর মিডিয়া ও অ্যাকাডেমিক চাপের মুখে রুথ প্যাডেল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কবিতার অধ্যাপক পদ থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য হন। পৃথিবীর সভ্য দেশেও এধরনের ব্যাপার ঘটে থাকে এবং এতে অবাক হবারও কিছু নেই।

গত ১৭ মাচর্ ২০১৭, এই বিশ্ববরেণ্য কবি ইহলোক ত্যাগ করেন, সেন্ট লুসিয়ায়, ৮৭ বছর বয়সে। ডেরেক ওয়ালকট একজন মৌলিক বহুমাত্রিক কবি, জীবন ও শিল্পের আন্তরসম্পর্কের মৌল দিগন্তের সন্ধান পেয়েছিলেন বাল্যে ও কৈশোরে। জীবনকে তিনি কতভাবেই না চেনেন! এই চিনতে পারার ক্ষমতা সব শিল্পীর সমান থাকে না। বড় মাপের শিল্পী হতে হলে ঘাসের ডগা থেকে কৃষ্ণগহ্বরের অতল গভীরতা পর্যন্ত দেখতে পারার ক্ষমতা থাকতে হবে। ডেরেক ওয়ালকটের চোখ দুটো ছিল বিস্তীর্ণ সমুদ্রের মতো অতলান্তিক। একজন শিল্পী যে-সব গুণের কারণে স্পর্শ করেন আকাশের নীল কিংবা চারপাশের অনন্ত তিমির, সেসব গুণের অধিকারী ওয়ালকটের কবিতায় দেখা যায় বিশ্ববীক্ষণের বহুবর্ণিল গুঞ্জন। সময়কে ধারণ করে অনন্ত সময়ের দিকে ধাবমান তার কবিতাবিহঙ্গ। এই শব্দকারিগর শব্দ ও বাক্যের নতুন সম্ভাবনাকে নানাভাবে নিরীক্ষা করেছেন। সময় ও শব্দ কখনো কখনো এক হয়ে জেগে ওঠে তার কবিতা কিংবা নাটকে। বাংলা কবিতার মহান কারিগর জীবনানন্দ দাশ যেমন নক্ষত্রশাসিত কবি ছিলেন, ডেরেক ওয়ালকট ছিলেন সমুদ্রশাসিত।

শেমাস হিনি ওয়ালকটের deep and sonorous possession of the English language এর ব্যাপারে যেমন বলেছেন, তেমনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ইংরেজি-ভাষী কবিদের সাথে তার শ্রেষ্ঠত্বকেও তুলে ধরেছেন। রবার্ট গ্রেভস লিখেছেন, তার সমসাময়িকদের তুলনায় ওয়ালকট একটু বেশিই ইংরেজি ভাষাকে তার ভেতরের সৌন্দর্যের সূক্ষ্ম অনুধাবনে ব্যবহার করতে জানেন। ইংরেজি ভাষার ক্যারিশমা এবং তার ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতার রহস্য তিনি সুচারুভাইে বোঝেন বলে অনেকের ধারণা। প্রকৃতপক্ষেই তিনি an elated, exuberant poet madly in love with English. বিশ্ববরেণ্য এই কবির ওপর শ্রদ্ধা নিবেদনার্থে তাঁর কয়েকটি কবিতা ইংরেজি থেকে বাংলায় তরজমা করা হলো।


Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com,Derek-Walcott

আগুনে একটি শহরের মৃত্যু   সেই ক্রোধান্বিত খ্রিস্টের বাণী প্রচারক সুউচ্চ আকাশ ছাড়া সবকিছুকে সমান করে ফেলার পর মোমবাতির প্রোজ্জ্বল চোখের সামনে, ধুঁয়োয় যার অশ্রু ঝড়ে পড়ছে, আমি আগুনে পুড়ে মরে যাওয়া শহরের ছাইমেদ দিয়ে গল্পটি লিখলাম; আমি একটি গল্প বলতে চেয়েছিলাম যা মোমের চেয়েও মট করে ছিঁড়ে যাওয়া তারের মতো বিশ্বস্ত। সারাদিন আমি অন্যদেশে এবড়ো-খেবড়ো গল্পের মধ্যে হেঁটেছি এবং রাস্তাগুলোতে মিথ্যুকের মতো তোলা দেয়ালগুলোয় আঘাত পেয়েছি; পাখি-দোলা আকাশের নিনাদ, মেঘগুলো ছিল গাদাগাদি আগুন সত্ত্বেও লুটতরাজ ও শাদা রঙের কারসাজি উন্মুক্ত, ছেঁড়া-ফাড়া সব। ধোঁয়াচ্ছন্ন সমুদ্র যেখানে যিশু হেঁটেছিলেন, আমি জিজ্ঞাসা করেছিলোম- মানুষের কাঠের পৃথিবী ব্যর্থ হলে কেন মানুষ তখন মোমের ক্রন্দন হয়ে পড়ে? শহরে পাতাগুলোই কাগজ আর পাহাড়গুলো বিশ্বাসের স্তূপ যে বালক সারাদিন হেঁটেছিল, তার কাছে গাছের প্রত্যেকটি পাতাই সবুজ নিঃশ্বাস। ভালোবাসার পুনর্নির্মাণ আমার কাছে পেরেকের মতোই মৃত বলে মনে হয় মৃত্যু ও অগ্নিদীক্ষাকে আশীর্বাদ।       মধ্যগ্রীষ্ম, টোবাগো   প্রশস্ত রৌদ্রতপ্ত পাথুরে সৈকত।   শুভ্র উত্তাপ। একটি সবুজ নদী।   একটি ব্রিজ, রৌদ্র-ঝলসিত হলুদ পামগাছ   গ্রীষ্মের ঘুমঘর থেকে ঝিমুচ্ছে সারা আগস্ট ধরে।   কিছুদিন- আমি ধরে রেখেছি, কিছু দিন- আমি হারিয়েছি,   কিছু দিন যেন বেড়ে উঠছে জলদি, যেমন আমার কন্যারা, আমার বাহুডোরে বেড়ে উঠছে দ্রুত।     পোর্ট অব স্পেনের বাগানের রাত্রিগুলো রাত, কালো গ্রীষ্ম একটি গ্রামের ভেতর তার ঘ্রাণকে সরলীকরণ করে ফেলে সে ধারণ করে আছে নিগ্রোর অভেদ্য মুখোশ এবং বেড়ে উঠছে গোপনে ঘামের মতো অনেকটা তার সরুগলি দুর্গন্ধময় ওয়েস্টার শেলের খোসায়   সোনালি কমলার কয়লা কিংবা তরমুজের কয়লাপাত্র বাণিজ্য ও খঞ্জনিগুলো তার উষ্ণতা আরো বাড়িযে দেয় নরকের আগুন কিংবা বেশ্যালয়: পার্ক স্ট্রিট পেরিয়ে নাবিকদের মুখের দিকে উদীয়মান ঢেউয়ের চূড়া চলে গেছে   সমুদ্রের ভুতুড়ে আলোয়, ফরাসি নাইট ক্লাবের আলোগুলো জোনাকির মতো বেজে ওঠে তার ঘন চুলের ভেতর   হেডলাইটে চোখ ধাঁধিয়ে গেলে এবং ট্যাক্সির হর্ন যখন আর কানেই যাচ্ছে না সে সস্তা রাস্তার পিচের আলো থেকে নিজের মুখম-ল সরিয়ে নেয়   শাদা নক্ষত্রের দিকে সেই শহরের মতো যা জ্বলে ওঠে নিয়নের আলোয়, সে এখন নেকড়ের মতো জ্বলে উঠবে নিশ্চয়   দিনের আলো ছড়াতেই, কুলি তার দু-ভাগে কাটা মস্তকবিহীন নারকেলের গাড়িটি (ট্যামব্রিল) বাড়ির দিকে ঘোরায়-   *টামব্রিল- খোলা গাড়ি। ফরাসি বিপ্লবের সময় এই গাড়িতে করে অভিযুক্তদের গিলোটিনের দিকে নিয়ে যাওয়া হতো।  
আরো পড়ুন: নোবেল বিজয়িনী ডরিস লেসিং এর নোবেল বক্তৃতা

  ভালোবাসার পর ভালোবাসা   এমন একদিন আসবে যখন তুমি সোল্লাসে তোমার গৃহপ্রান্তে পৌঁছানোর জন্য নিজেকে অভিবাদন জানাবে নিজের আয়নার দিকে তাকিয়ে হেসে হেসে একে অপরকে স্বাগত জানাবে এবং বলবে, বসো, খেয়ে নাও।   তুমি পুনরায় ভালোবাসবে সেই আগন্তুককে, যে ছিলে তুমি নিজেই তাকে মদ পান করতে দাও। খাবার দাও। সেই আগন্তুককে ফিরে দাও হৃদয় যে তোমাকে ভালোবেসেছিল   তোমার সমস্ত জীবনে, যাকে তুমি অবজ্ঞা করেছিলে অন্যের জন্য অথচ যে তোমাকে হৃদয় দিয়ে চেনে। বুকশেলফ থেকে প্রেমপত্রগুলো তুলে নাও,   সেইসব ছবি, সেই দুর্দান্ত নোটগুলো, আয়না থেকে তোমার প্রতিবিম্বকে আলাদা করো, বসো। তোমার জীবনকে উৎসবিত করো। ইউরোপের ম্যাপ   লিউনার্দোর ধারণার মতো যেখানে ভূ-দৃশ্য জলবিন্দুর ওপরে ভাসমান অথবা ড্রাগনেরা যেন তাদের রঙের ভেতর গুটিসুটি মেরে আছে, আমার ঝুর ঝুর খসে পড়া দেয়াল কিংবা উজ্জ্বল বাতাসের ভেতর ইউরোপের ম্যাপগুলো জেগে আছে তাদের শিরা-উপশিরাসহ।   এর জানালার নিচের শেলফে একটি বেয়ার ক্যানের রিম ক্যানালেটো হ্রদের ধারের সন্ধ্যার মতো জ্বলে উঠছে অথবা সেই পাহাড়ি আশ্রম যেখানের কুঠুরিতে বসে বুড়ো জেরোম প্রার্থনা করছে- তার সাম্রাজ্য যেন একদিন দূর শহরের কাছে চলে যায়।   আলো স্থির হয়ে আসে, আর তার গোলাকার বৃত্তে যেন সবকিছু। একটি ফাটা কফি কাপ, এক টুকরো পাউরুটি, একটি টোল-খাওয়া পাত্র যেন হয়ে ওঠে সেইসব; যেমন চার্ডিনের ভেতর অথবা বেয়ারের মতো উজ্জ্বল ভার্মিয়ারের ভেতর, এগুলোর কোনোটাই আমাদের করুণার পাত্র নয়।   এর ভেতরের এগুলি ল্যাক্রিমা রেরাম নয়, শিল্প নয়। কেবল সেই উপহার যেগুলো দেখতে যা তা-ই; অন্ধকারে তারা বিভক্ত যেখান থেকে তাদের কখনো তুলে আনা যাবে না।  
ওয়ালকটের সবচেয়ে প্রশংসিত এপিকধর্মী কবিতা Omeros (১৯৯০)। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির প্রাক্কালে সুইডিশ একাডেমি উল্লেখ করেছিলো, এটি মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ইতিহাসের মধ্যে পরিভ্রমণ, একধরনের তীর্থযাত্রা। হোমারের ওডেসির সমান্তরালে ক্ল্যাসিক্যাল চরিত্র এচিলিস, হেলেন এবং হেক্টরের বিপরীতে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান জেলে, বেশ্যা এবং জমিদারদের চরিত্র হিসেবে এনেছেন
   

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>