দেবীপক্ষ

নদীর পাড়েই তার বাস
মেখলায় নীল পাড়
জমিতে কাশ ফুলের নক্সা
আকাশ জুড়ে যখন “ইয়া দেবী সর্বভূতেষু…”
ঠিক তখুনি হয়েছিল ওর জন্ম
টানা টানা চোখ, বিস্ময় ভরা তার দৃষ্টি
প্রকৃতি ওর নাম দিয়েছিল আগমনী
নদীর পাড়েই ওর জন্ম, নদীর তীরেই ওর বাস
ওর মায়ের নাম ছিল মৃন্ময়ী
শিউলি ভরা উঠোনে, ওর মা মাটির উনুনে রাঁধতো শাপলা শালুক
ওর ভাই ছিল না,
বোন ছিল না।
বাপ?
নাহ, ছিল না বোধ হয়
ছিল মৃন্ময়ী আর
আগমনী।
মেঘের ভেলা, কাশের বন, পাল তোলা নৌকো নিয়েই ওদের জীবন।
গোটা জীবন
ওদের জীবনের নাম ছিল শরৎ
আর হ্যাঁ,
বলতে ভুলে গেছি  ঢাকের শব্দ ওদের আয়ুকাল।
উৎসব নিভে গেলে, নদী বাঁক নিতো
সময় এসে চিৎকার করতো, তফাৎ যাও।
মৃন্ময়ী নদীর বুকে গলতে থাকতো,
আগমনীর সুরে লাগতো বিজয়ার বিরহ
পদ্মপুকুর হরতালে হতো দিশেহারা
শুক্লপক্ষের জ্যোৎস্না মরে, ক্ষয় হয়ে যায় চাঁদ
নদীর তীরেই বাজত বিসর্জনের বাজনা
আবাহনের সুর ছেড়ে বিষাদগ্রস্ত
আগমনীই
শুধু ফিরে আসার আশার মত, কাছে আসার গল্প
আগমনী শুধু মৃন্ময়ীর গল্প নয়
চিন্ময়ী আনন্দের নাম।
নদীর ফিরে আসা, ঘরে ফিরে আসার গল্প।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত