চলুন যাই নির্জন পাহাড়ি শহর ধনৌলটি

Reading Time: 3 minutesগাড়োয়াল মানেই গহন হিমালয়ের স্বর্গতুল্য সৌন্দর্যের অপরূপ হাতছানি।উত্তরপ্রদেশ ভেঙে তৈরি হয়েছে উত্তরাঞ্চল। গাড়োয়ালের অন্যতম প্রবেশতোরণ জন উপত্যকার প্রাণকেন্দ্র দেরাদুন শহর। বর্তমানে উত্তরাঞ্চল রাজ্যের রাজধানী। উত্তরাঞ্চলের নির্জন পাহাড়ি শহর ধনৌলটি যাওয়ার পথে পড়বে এই শহরটি। তবে হরিদ্বার হয়েও ধনৌলটি যাওয়া যায়। ধনৌলটি যাওয়ার জন্য এখান থেকে পাবেন যানবাহন। তবে মুসৌরিকে পাশে ফেলে ধনৌলটি যেতে হলে গাড়ি থাকলে সুবিধে। বাসে যেতে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হবে। ধনৌলটি যাওয়ার বা ফেরার পথে উপভোগ করতে পারবেন মুসৌরির সৌন্দর্য। সঙ্গে উপরি পাওয়া চাম্বার প্রাকৃতিক পরিবেশ। কোলাহলমুক্ত শান্ত, নির্মল, নির্জন পরিবেশ আর দূরে রূপোলি বরফের চোখ ধাঁধানো ছটায় অনবদ্য হিমালয়ের শৃঙ্গের সৌন্দর্যএই নিয়ে যেন তৈরি অনন্য ধনৌলটি। উন্মুক্ত পাহাড়শৃঙ্গ, পাহাড়ি উপত্যকা ও দেবদারুর সৌন্দর্যে ভরপুর যেন এক আলাদা মায়াময় রাজ্য। মুসৌরির ব্যস্ততা থেকে মাত্র ২৮ কিমি দূরে ২২৫০ মিটার উঁচ্চতায় এই স্থানটি একেবারে ভিন্ন চরিত্রের। ধনৌলটি থেকে দেখা যায় সূর্যোদয় বা সৃর্যান্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য। ভরা মরশুমে মুসৌরি শহর যখন পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট তখন যেন দলছুট কিন্তু পর্যটকের পথ চেয়ে বসে থাকে নিরালা ধনৌলটি। যাত্রাপথ মাত্র এক ঘণ্টা মুসৌরি থেকে। হরিদ্বার থেকে লাগবে আড়াই ঘণ্টার মতো। এখানে থাকার জন্য রয়েছে গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের ছবির মতো একটি ট্যুরিস্ট বাংলো। বাংলোর সামনেই পার্ক। বাংলোর বারান্দায় বসে শীতের অল্প আমেজে গরম চায়ের কাপে চমুক দেওয়ার মজা যেন আলাদা। তবে মনে রাখতে হবে মুসৌরির থেকে ধনৌলটিতে শীতের প্রকোপ বেশি। ধনৌলটি জনপদকে ঘিরে রেখেছে পার্ক। দেওদার, ওক ও রডোডেনড্রনের মনোরম বনভূমি, ইকো পার্কটি বড় সুন্দর। নানা প্রজাতির পাখি রয়েছে সেখানে। নাম না-জানা, চেনা-অচেনা বহু পাখির ডাক শোনা যায় পার্কে। বাংলোর গা-ঘেঁষেই রয়েছে পার্কটি। ধনৌলটি গেলে চোখে পড়বে চেনা-অচেনা তুষারচূড়া, যেন দিগন্ত বিস্তার করে রয়েছে তারা। পায়ে হেঁটে বেড়ানো আর দু’চোখ ভরে নিসর্গদর্শন। এছাড়া যেন আর কিছু করার নেই এখানে। তবে এমন অলস অবকাশও রঙিন হয়ে ওঠে হিমালয়ের কাছে এসে। পার্কের প্রবেশমূল্য খুব সামান্য। ইকো-নেচার পার্কটি ঘুরে দেখতে দু’-তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। ধনৌলটিতে পাওয়া যায় পাহাড়ি এলাকার ফলের জুস। খেতে সুস্বাদু, থাকেও অনেকদিন। ধনৌলটির অপর বিশেষত্ব মায়ের মন্দির দর্শন। এখানে অধিষ্ঠাতা সুরকন্ডা দেবী। ধনৌলটি থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরে চাম্বার দিকে রয়েছে দেবী দুর্গার এই মন্দির। ধনৌলটি থেকে যেতে সময় লাগে মাত্র আধ ঘণ্টা। পথ পরিষ্কার, সুন্দর, তবে চড়াই। ধনৌলটি থেকে গাড়িতে যেতে হবে কাড্ডুখাল, সেখান থেকে হাঁটা, অর্থাত্‌ চড়াই শুরু। হাঁটার কষ্ট লাঘব করবে পারিপার্শ্বিক প্রকৃতির নৈসর্গিক শোভা। এখানে দুর্গপুজোর সময় বিশেষ উত্‌সব হয়, তখন প্রচুর লোকসমাগম হয়।  সুরকন্ডা দেবী খুব জাগ্রত বলে কথিত রয়েছে এই অঞ্চলে। এছাড়া বিশেষত্ব হল এটি সিদ্ধপীঠ, সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম সুরকন্ডা দেবীর এই মন্দির। হিন্দুদের কাছে যার মহিমা অপার। একদিকে প্রকৃতির অপরসীম শোভা, অন্যদিকে দেবীদর্শন সব মিলিয়ে ধনৌলটি যে অসাধারণ সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। হরিদ্বার, মুসৌরির ভিড় এড়িয়ে নিরালা-নির্জন পরিবেশে দু’-একদিন কাটাতে বেশ লাগবে। থাকলে বাড়তি পাওয়া যাবে, গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের পরিপাটি খাওয়া-দাওয়া ও আতিথেয়তা। কীভাবে যাবেন হাওড়া থেকে দুন, উপাসনা, হরিদ্বার এক্সপ্রেসে হরিদ্বার নামুন। এখন সপ্তাহে প্রতিদিন ট্রেন পাবেন হরিদ্বার যাবার জন্য। উপাসনায় সময় কম লাগে, মাত্র একদিন-এক রাতের ভ্রমণে পৌঁছনো যায় গন্তব্যস্থলে। হরিদ্বার থেকে ধনৌলটির গাড়ি ভাড়ায় দরদাম চলে, কোনও বাঁধা ধরা রেট নেই। একদিন-এক রাতের খরচ (সকালে চেপে পরদিন বিকেলে ফেরা) আনুমানিক ২০০০-২২০০ টাকা।   কোথায় থাকবেন ধনৌলটিতে থাকার জায়গা বিশেষ নেই। কলকাতা থেকে বুকিং করে যাওয়া শ্রেয়। এখানে রয়েছে গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের ট্যুরিস্ট রেস্ট হাউস। ভাড়া দ্বিশয্যা ডিলাক্স ৬৫০ এবং ৮০০ টাকা। খাবার পাওয়া যাবে রেস্ট হাউসে, দাম সাধ্যের মধ্যে। ধনৌলটির এসটিডি কোড: ০১৩-৭৬, ফোন নং ২২৬২২৩। কলকাতার ঠিকানা: জিএমভিএন মার্শাল হাউস, রুম নং-২২৪, ৩৩/১, দ্বিতীয় তল, নেতাজি সুভাষ রোড, কলকাতা-৭০০ ০০১। ফোন নং-২২৩১-৫৫৫৪।   কখন যাবেন ধনৌলটি যাবার আদর্শ সময় ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত। শীতকালে যেতে গেলে সঙ্গে গরম পোশাক অবশ্যই নিতে হবে। গ্রীষ্মকালে বিকেলে হাফ সোয়েটার পরতে হয় ধনৌলটিতে। শীতকালে ধনৌলটির তাপমাত্রা সর্বনিম্ন এক ডিগ্রি বা মাইনাসেও চলে যায়। কৃতজ্ঞতাঃ এবিপি          

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>