দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুচ্ছ কবিতা

লাল পতাকা

পয়লা মে সকালটা রোদে পুড়ছে
ঘাম ঝরছে সময় মেপে
রোজকার হিসেব নিকেষ বড়ই একপেশে
হকের পাওনা গুলো লকার বন্দী
এলোমেলো হাওয়ায় ভাসছে
বৃষ্টি আসবে কিনা
সেই খবর মেঘেরা শোনাচ্ছে না
রোদ্দুরের প্রতিটি কণায়
জীবনের গান গাইছে শেষ পংক্তির জনতা
লোকাল ট্রেনের বগিতে ঠাসাঠাসি ভিড়
স্বপ্নালু দুচোখ খুঁজছে সাম্যের ভোর
মুষ্টিবদ্ধ হাতে এখনও লাল পতাকা

 

 

 

পূর্ব পশ্চিমে পোঁতা একই নাভিমূল

আমরা জল কে জলই বলি
দেশ কে মা
সূর্য উদয় এবং সূর্যাস্ত
দুই দেখি করজোড়ে প্রনাম মন্ত্রে

আমরা বাংলাকে বাংলাই বলি
পূর্বে দাঁড়িয়ে বাংলার দেশ
পশ্চিমে আশ্রয় ভূমি
ভারতের মাটি মিশেছে বঙ্গোপসাগর

আমরা কান্নাকে কান্নাই বলি
গভীর থেকে গভীরে ছড়ানো শিকড়
সকাল সন্ধ্যে প্রেম সংকীর্তন
পূর্ব পশ্চিমে পোঁতা একই নাভিমূল

 

 

দেখা হয় তাঁর সাথে

প্রতিদিন দেখা হয় তাঁর সাথে
শীতগ্রীষ্মশরৎহেমন্ত
বর্ষা আর বসন্তে
এমনকি বাতি স্তম্ভেট্রাফিক সংকেতে
রোজই হাত পেতে রাখি
রোজই হৃদয়ে জাগে শান্তিনিকেতন
ক্লান্তিহীন জোড়াসাঁকোর ঠাকুর দালান
মুক্ত আকাশের বুকে ঠিকানাহীন ডাকবাক্স
দুহাতের আঙুলের ভাঁজে চেনা পৃথিবীর গল্প
মানুষের উজাড় করা ভালোবাসায়
আদি ভারতের চেতনার উৎস মুখ
জানতে চায় কোন পথ মিশেছে মুক্তিতে
কবিগুরু হাসেন যেন অন্তর্যামী
শান্তির বাণী হবে না ব্যর্থ পরিহাস
রবির কিরণে কথা আর গানে….

 

 

মনুষ্যত্বের মরীচিকা বৃদ্ধাশ্রমের জানলায়

মনুষ্যত্বের মরীচিকা বৃদ্ধাশ্রমের জানলায়
মা বাবা দাঁড়িয়ে সন্তানের অনন্ত প্রতীক্ষায়
আর্ন্তজালের গোলক ধাঁধায় উপচে ওঠা প্রেম
মহা উল্লাসে গান গাইছে শিস দিয়ে দিয়ে
বসন্ত শেষে ঝরা ফুলেদের বন্যায়
ভাসছে শেষ যাত্রাপথ
একটা শালিক সকাল থেকেই পাক খাচ্ছে
একটা শিশির বিন্দু মায়ের আঁচল ভিজিয়ে দিচ্ছে
একটা ছেঁড়া লুঙ্গিতে বাবার টান টান মেরুদণ্ড
মাতৃ দিবসপিতৃ দিবস যেন সৌখিন ফ্যাশন শো
রোজকার বেঁচে থাকা বড্ড বেশি সাজানো
জন্মের পর থেকে প্রতিদিন ছিঁড়ছে নাড়ির টান
কৃত্রিম ভালবাসা মুছে দিচ্ছে পরিশ্রমের ঘাম
লোভের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে
সুগন্ধি মেখেও যাচ্ছে না মনের ভাগাড়

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত