দীর্ঘ কবিতা

রাসুলমিথের হাওয়া

……………………………..

আমাদের গেরস্থফুল ফুটে আছে কুপির আলোয়, এই নিশুতিগাঙের পাড় তেল চিটচিটে হয়ে আছে কুসুমের খোপাঁর কাটায়, তিথি ও তৈজষ মিলে হৃদয়ে উচ্চারিত প্রেম, এদিকে পাহাড়ের সিনা বেয়ে ভাটিয়ালি মেঘ আসে; আর আজানের দিকে দিকে ওড়ে ধুলি, থমকে দাঁড়ায় পরাগের রুকু- পাঁজরে নকশাকাটা মানুষের হাসি! শুধু এক আত্মমুগ্ধ পাখি, বাঁয়ে ঘুরে ঈদগাহে নামে; এইদিকে নির্জনতা, এইদিকে রাসুলমিথের হাওয়া, কথা কয় শিসভারি পাতা!

 

এই মাটি বৃষ্টিকে লেখে যতিহীন চিঠির বাতাস! আমাদের গঞ্জছাড়ানো মাইক, স্কুলঘরে ভোটের ঘোষনা ছড়ায়, ঘরে ঘরে সিরায় ভেজানো পিঠা, কোথাও তন্দ্রাকে ছুঁয়ে থাকে দরুদে হাজারি!

 

লগিতে হেলান দিয়ে ডুবে যায় মাছের জিকির, সিঁথির সরিষা তেলে পিছলে যাচ্ছে হাওয়া, দিগন্তকুঠুরি খুলে তারে দেখাবো হেমন্ত আয়াত, সিরাতুল মুস্তাকিম! আর, পেটে এক ঢেউয়ের ধাক্কা পেয়ে তীরে আসে কালবাউস, যেন, স্রোতের ভনিতা শেষে তার অমানিশা লাগে, লেজের সাঁতারে লাগে আজান ধ্বনির মিম, যেন রাত শেষে সুবহে সাদিক এসে যমুনার বুকের ওপর বসে, পাঠ করে দূরের কুরসিখানি!

 

আমাদের সামনে সুইয়ে সুতা পরানোর দৃশ্য ও দাদীমা, আমাদের একাকীত্বের গানে কান পাতে গাছের কলোনি, নীল রঙে ভাঁজ হয়ে আছে মায়ের জায়নামাজ- যারা সহিসালামতে নিঃসঙ্গতাকে এগিয়ে দিচ্ছে চেয়ার, যারা খুলির ভিতর গিয়ে মেরামত করে এলো শৈশবের সাঁকো, তারা নিঃসন্দেহে ট্যাকল করছে যাপন, আগুনের ভিতরঘরে বুঝেসুঝে রাখতে পেরেছে জীবন! রাত শেষে তা দেয়া ডিম রেখে উড়ে যাচ্ছে কোকিল, উড়ালে গুটানো পায়ের নিচে দেখে নেয় হাটবার, ভ্যান থেকে নামে ভারতীয় পেঁয়াজ মশলা, তার কাছে বড়সড় ঘুড়ি মনে হয় মসজিদের ছাদ, মাটি ও মৃদঙ্গে বাজে প্রাকৃতের অক্ষর, টিকিকে ছাটায় ভূপেন বড়ুয়া!

 

এই গাঁয়ে নেই পলায়নপরতা কারো, আছে রামের ধনুক টানা তর্জনীভঙিটি কারো, মাটিতে রয়েছে খরায় দাগানো ফাটল; ভূমিহীন মানুষেরা ভাবে নূহের প্লাবন এলো, আর মহাস্থানগড়, চালের মজুদ নিয়ে ফেরত যাচ্ছে চাষী, দাম নেই, দাম ঝরে গেছে মধ্যস্বত্ব রোগে!

কারো হাতে নিউজপেপার, কেউ চেক করে বলিউড চার্ট; কেউ আসে কবজ নিতে, মেয়েটার জ্বরের দাওয়াই; আমাদের গেরস্থফুল, ছেয়ে আসে হাশর সুরায়!

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত