Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com,diy General Stream to Programming Career

কেরিয়ার: ডু-ইট-ইয়োউরসেল্ফ  D I Y শিক্ষা স্ট্র্যাটেজি  । পৃথ্বীশ মুখার্জি

Reading Time: 7 minutes

জেনারেল স্ট্রিম থেকে প্রোগ্রামিং কেরিয়ারে 

 

ভারতবর্ষে সবাই চায় ইঞ্জিনিইয়ারিং বা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে কারণ এই পথে চাকরি বা রোজগারের সুযোগ খুব বেশি। কিন্তু সবার কপালে সেটা হয় না। কিছুটা মেধা, কিছুটা টিউশান বা গৃহশিক্ষক এর উপর খরচা করার ক্ষমতা আর কিছুটা সৌভাগ্য বসত বেশ কিছু ছাত্র এই লাইনে ঢুকে যায়। কিন্তু দেশের বেশির ভাগ ছেলে-মেয়েদের জেনেরাল স্ট্রিমে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ইতিহাস, ভূগোল, বটানি, বাংলা, ইংরেজী ইত্যাদি নিয়ে তিন বছরের গ্র্যাজুয়েশন  কোর্সে ভর্তি হতে হয়।  তবে এই বি-এ বা বি-এস-সি পাশ করে চাকরি পাওয়া খুব‌ই শক্ত ব্যাপার। আই-এ-এস, আই-পি-এস, ডব্লু-বি-সি-এস, লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক, ব্যাংক, রেল, স্কুল টিচার  এইসব লাইনে মুষ্টিমেয় কয়েকটা খালি পদের জন্য কোটি কোটি আবেদনকারীর ভীড়। কাট-থ্রোট কমপিটিশন। ডোমের চাকরির জন্য মাস্টার্স পাস করা প্রার্থী ! আবাসনে, সুপারস্পেশ্যালিটি হাসপাতালে সিকিউরিটির কাজে বহাল হয় মাস্টার্স করা ছাত্র। কোনও পেশাই ছোটো নয় কিন্তু তাহলে জেনেরাল স্ট্রিমে পড়ে গ্র্যাজুয়েশন করলে ভবিষ্যৎ কী একেবারেই অন্ধকার? একেবরেই না। ছেলেপুলেরা কী স্বপ্ন দেখবে না? নিশ্চয়ই দেখবে। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে চললে, এই জেনেরাল স্ট্রিম থেকেই সফ্টওয়ের সেক্টরে চাকরিও পাওয়া যেতে পারে এবং তার জন্যে চাই একটা ডি-ইট-ইয়োরসেল্ফ (D I Y) শিক্ষার স্ট্র্যাটেজি। কারণ মানুষের আধুনিক জীবন যাপনের সঙ্গে এই সফটওয়ার টেকনোলজি এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে আর এসব না শিখে উপায় নেই।  

এই D I Y কেরিয়ার গড়ার মূলে হচ্ছে জ্ঞান (বা নলেজ) এবং দক্ষতা (বা স্কিল) এর মধ্যে পার্থক্যটা বোঝা । চাকরির বাজারে নলেজের ( মানে ইতিহাস, ভুগোল, ইংরাজি, বাংলা, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ফিলসফি, ইকনমিক্স ইত্যাদি) খুব একটা দাম নেই শুধুমাত্র শিক্ষার ক্ষেত্র ছাড়া। শিক্ষকতা আর অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্তদের কাছে এর দাম। কিন্তু দাম এবং স্থান দুইই আছে স্কিলের – যেমন  প্লামবার, ছুতোর, ইলেকট্রিশিয়ান, মেকানিক, অ্যাকাউন্টেনসি এবং এই লাইন ধরেই ব্লু কলার থেকে হোয়াইট কলারে গেলে কমপিউটার প্রোগ্রামিং। বহু ক্ষেত্রে দক্ষ প্লামবার বা ইলেকট্রিশিয়ান একজন বেকার বাংলা বা ইতিহাসের গ্রাজুয়েটের চেয়ে বেশি রোজগার করতে পারে, কিন্তু বহু বাঙ্গালি ঘরে এই সব ব্লু কলার কাজের উপর স্পৃহা নেই।  তাই হোয়াইট কলার কাজের কথাই হোক। প্রোগ্রামিং ছাড়াও আর কিছু হোয়াইট কলার স্কিল আছে, কিন্তু আপাতত সেগুলো পাশে রেখে এই  প্রোগ্রামিং লাইনেই ভাবা যাক। সেটাই আজকের আলোচনার মূল বিষয়।  

কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পিউটার সায়েন্স না পড়েই কি আই-টি কম্পানিতে প্রোগ্রামিংএর চাকরি পাওয়া সম্ভব? হ্যাঁ  সম্ভব। আর সেটাই এই আর্টিক্‌লের বিষয়। ধৈর্য ধরে পড়লে নিজের বা বাড়ির ছেলে মেয়েদের একটা কেরিয়ার গড়ার পথ দেখা যাবে  সফ্টওয়ার সেক্টরে।  

প্রথম প্রশ্ন, এত বিষয় থাকতে প্রোগ্রমিং শিখবো কেন? কারন সফ্টওয়ার এমনি একটা স্কিল যেটা সব সেক্টরেই ভীষণ ভাবেই দরকার। বর্তমানে অটোমোবাইল থেকে অ্যাস্ট্রোলজি, ব্যাঙ্কিং থেকে বায়োটেকনলজি, রোবটিক্স থেকে রিটেল – প্রত্যেক ব্যবসাতেই সফ্টওয়ারের খুব দরকার আর তাই দরকার প্রোগ্রমিং জানা স্কিল্ড প্রোগ্রমারের। কিন্ত এই চাকরি পেতে গেলে ইতিহাস, বাংলা, ফিজিক্স  বা ইকনমিক্সের ডিগ্রি দেখিয়ে কোন লাভ নেই। একটা গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি খুব‌ই দরকার,  কারণ এ ছাড়া কোন কোম্পানি কথাই বলবে না। আমাদের দেশে graduation is necessary, but not sufficient । এবার দেখা যাক এই নেসেসারি গ্রাজুয়েশনের সঙ্গে কি কি সাফিসিয়েন্ট স্কিল দরকার।  আর ঠিক কি কি করলে একজন জেনারেল স্ট্রিমের  ছাত্রের বায়োডেটা  একটা আই-টি কোম্পানির কাছে গ্রহণযোগ্য বা আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।  

শুরু করতে হবে তিন বছরের স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা নিয়ে যাতে গ্র্যাজুয়েশনের জন্য নির্ধারিত সময়টা বাজে খরচা না হয়ে যায়।  যেহেতু গ্র্যাজুয়েশনের ডিগ্রিটা না করলেই নয় তাই এর পেছনে খুব একটা মাথা ঘামানোর দরকার নেই। একটা মোটামুটি ভদ্রস্থ কলেজ, মানে যেখানে খুব বেশি ছাত্র পলিটিক্স বা নেশা ভাঙের গল্প নেই সেখানেই ভর্তি হয়ে যাওয়া ভাল। বাড়ির কাছে হওয়া খুব দরকার্, যাতে যাওয়া আসায় সময় নষ্ট না হয়, কারণ আমাদের কলেজের কাজের বাইরে অনেক কাজ আছে। সায়েন্স ডিগ্রি হলে ভাল হয়, তা সে বটানি, জিওগ্রফি,  জিওলজি বা সাইকলজি হলেও কোন ক্ষতি নেই। এসব কোন জ্ঞান‌ই কোন কাজের নয় যদিনা কেউ শিক্ষকতা বা অধ্যাপনায় কেরিয়ার গড়তে চায়। কর্পোরেট চাকরীর জন্য দরকার একটা ডিগ্রি আর ৭০% মার্ক্স। এটা একান্ত নিয়ম রক্ষার জন্য, নয়তো বায়োডেটা কেউ খুলে দেখবেই না। 

এইবার আসল কাজ শুরু!  

দামি স্মার্টফোনে পয়সা খরচ না করে প্রথমেই একটা সস্তার ল্যাপটপ কম্পিউটার কিনে ফেল। যদিও তার সঙ্গে একটা সস্তার অ্যানড্রয়েড ফোন খুব দরকার। এই ফোনে আনলিমিটেড  4G ডেটা ভরে , সেই ফোনকে ওয়াই-ফাই হটস্পট করে লাপটপের সঙ্গে টেথার বা কানেক্ট করতে হবে, যাতে ল্যাপটপ থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। স্মার্ট ফোনে ফেসবুক, ইউটিউব, গেমস বা ইনস্টাগ্রামের মতো এন্টারটেইনমেন্ট বা টাইমপাস হয়। আসল কাজ করতে গেলে ল্যাপটপ খুব‌ই প্রয়োজন। ল্যাপটপ নিয়ে এবার কেরিয়ার গড়ার ত্রৈবার্ষিক পরিকল্পনা শুরু করে ফেল ।  

প্রথম বছর

প্রথমেই শিখতে হবে গুগল (Google) সার্চ। ইন্টারনেটে হাজার হাজার টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়, যার বেশির ভাগ‌ই ফ্রি বা নিখরচায় মেলে । নানা রকম সাইটে গিয়ে শিখলেই হল, কিন্তু কী শিখবে?  এতো  জ্ঞান সমুদ্রে পড়ে হাবু ডুবু খাওয়ার মতো। তাও, কয়েকটা দিক থেকে শুরু করা যায়।  প্রথমেই সার্চ করো  “Getting started with Google Docs”।  দাম দিয়ে কেনা বা পাইরেটেড  Microsoft Office ব্যবহার না করে,  ফ্রি অনলাইন  Google Docs  Word Processor  ব্যবহার করতে শেখ। তারপর   Excel এর মতন Google Sheets এ spreadsheet ব্যবহার করতে শেখ।  

ইংরাজির ওপর ভাল দখল না থাকলে ইংরাজি ভাষার ওপর ফ্রি অনলাইন ক্লাস বা টিউটোরিয়াল খোঁজো। ইংরেজী লেখা ও বলার বেসিক জ্ঞান টুকুনি জরুরী। সেক্ষেত্রে স্পোকেন ইংলিশের ক্লাস বা কমিউনিকেটিভ ইংলিশের ক্র্যাশ কোর্স করা যেতে পারে।

আনলিমিটেড ডেটার কৃপায় অসংখ্য সাইট ঘোর আর দেখ জগতে কোথায় কি হছে। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ঘোরো, কিন্তু মনে রেখো, ইন্টারনেটের আড়ালে প্রচুর  বাজে লোক আছে। প্রথম প্রথম অচেনা, অজানা লোকের সঙ্গে ভাব জমানো উচিত নয়। আত্মীয় বা কলেজের রক্ত-মাংসের বন্ধু ছাড়া কাউকে বিশ্বাস করবে না।  আর যে কোন সাইট, যেমন পর্নোগ্রফিক সাইট, থেকে কম্পিউটারে ভাইরাস বা ক্ষতিকর প্রোগ্রাম চলে আসতে পারে । তাই সহজে কিছু ডাউনলোড করবে না। Windows  কম্পিউটারে  ফ্রি  Microsoft Defender প্রোগ্রাম লাগানো থাকলে, ভাইরাসের ভয় অনেকটা কম। মানে  Covid এর বাজরে মাস্ক পরে থাকার মতো। 

কিছুটা গুগল সার্চ নিয়ে সড়গড় হবার পর এবার একটু জ্ঞান বা নলেজ জোগাড় করার পালা।  প্রথম বছর জ্ঞান, দ্বিতীয় বছর দক্ষতা বা স্কিল। এই পরিকল্পনা নিয়ে চললে, এবার প্রোগ্রমিং ব্যাপারটা বোঝার সময় এসে গেছে। আগে স্কুলে প্রোগ্রামিং করা থাকলে ভালো, না হলে ক্ষতি নেই। গুগল সার্চ করো এই বলে-  “Free Coding Tutorials for Kids”। সার্চের প্রথম উত্তরগুলো স্পনসর্ড বিজ্ঞাপন। সেগুলো ব্যবহার করতে গেলে পয়সা লাগবে। এড়িয়ে চলাই ভাল। ইন্টারনেটে ফ্রি টিউটোরিয়াল এত আছে যে বাইজু বা হোয়াইটহ্যাট -এর মতো যায়গায় পয়সা খরচ করা বোকামি। গুগল সার্চ করে অনেক ভাল ভাল টিউটোরিয়াল সাইট পাওয়া যাবে তবে  www.code.org এ “An Hour of Code”  দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। 

 

এই কোডিং টিউটোরিয়াল থেকে কয়েকটা প্রাথমিক ধারণা পরিস্কার হয়া উচিত। ভেরিয়েব্‌ল কি? ইনটিজার, ডেসিমাল, স্ট্রিং আর বুলিয়ান। অপরেটর দিয়ে কি করা হয়? নিউমেরিক, স্ট্রিং আর কমপারিজন অপরেটর। কনডিশনল আর লুপ (বা ইটিরেটিভ) অপারেশনের প্রয়োজন কোথায়? ডেটা ইনপুট্-আউটপুট কি করে হয়? জগতের প্রতিটি কমপ্যুটার ল্যাংগুয়েজ  — সি, সি++, জাভা, পাইথন, জাভাস্ক্রিপ্ট — সব‌ই এই কয়েকটা প্রাথমিক কনসেপ্টের উপর চলে। যে কোন একটা ভাষা শিখলে, অন্য কোন ভাষা শিখতে চার সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে না।  তাই প্রথম বছরে জাভা-স্ক্রিপ্ট অথবা পাইথন, যে কোন একটা ল্যাংগুয়েজ নিয়ে মোটামুটি সড়গড় হয়ে গেলে একটা বিরাট পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে যাবে।  

প্রথম বছরে এই সব প্রাথমিক কোডিং কনসেপ্ট নিয়ে ঘাঁটা ঘাঁটি করে সড়গড় হওয়া খুব দরকারি। এর সঙ্গে আর একটা কাজ করা দরকার আর সেটা হোলো নিজের এক বা একধিক ব্লগ লেখা। নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করার সব চেয়ে সহজ উপায় হোলো ব্লগ। blogger.com অথবা   medium.com এ বিনা খরচায় কি করে ব্লগ খুলতে হয় তা গুগল সার্চ কর “How to create blog at blogger” । শুধু কনজাম্পশন করলেই হয় না, কিছু ক্রিয়েট করতে হয়। মূল মন্ত্র হতে হবে  consumption to creation।  ব্লগ হোলো ডায়েরি লেখার মত। কি লিখবে? নিজের যা ভালো লাগে, তাই। সিনেমা, রাজনীতি, খেলার খবর নিয়ে লেখো। তবে টেকনলজি বা গ্যাজেট নিয়ে লিখলে ভাল। প্রতি সপ্তাহে একটা করে পোস্ট লেখ। গুছিয়ে কোনো কিছু লিখতে পারা কর্পোরেট জগতে খুব‌ই জরুরি। লেগে থাকো। তৃতীয় বছরে এর উপকার বুঝতে পারবে।

দ্বিতীয় বছর  

এইবার শুকনো জ্ঞান থেকে কয়েকটা নির্ধারিত স্কিল দরকার। অনেক কিছুই শেখার আছে, তবে ফুল-স্ট্যাক ডেভেলপার হতে গেলে বা প্রোগ্রামিং এ সম্যক এবং সম্পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে হলে একগুচ্ছ স্কিল দরকার। বড়, কর্পোরেট কমপিউটার সিস্টেম একটা মেশিনে চলে না। থ্রি-টায়ার সিস্টেমে তিনটে মেশিন থাকে। এক হল ইউজার বা যে ব্যবহার করে তার কাছে একটা ল্যাপটপ বা স্মর্টফোন থাকে যেখানে ব্রাউজারে প্রোগ্রাম চলে অর্থাৎ  ফ্রন্ট এন্ড সিস্টেম। দুইহল  মাঝে ওয়েব-সার্ভারে চলে ব্যাক-এন্ড সিস্টেম। তিন,  তার পিছনে তৃতীয় টায়ারে ডেটা রাখা থাকে ডেটাবেস সার্ভারে। ফুল-স্ট্যাক ডেভেলাপার হতে গেলে এই তিনটে ব্যাপারেই স্কিল বা দক্ষতা থাকা দরকার আর এইখানেই বিভ্রান্তি শুরু হয়। কোনটা ছেড়ে কোনটা শেখা উচিত? এখানে নানা মুনির নানা মত! লেখকের মতে একটা জাভাস্ক্রিপ্ট ভিত্তিক (জাভা নয়! জাভাস্ক্রিপ্ট) ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে দক্ষতা অর্জন করাই ভালো। গুগল সার্চ করে দুটো স্ট্যাক পাওয়া যায়।   MERN আর MEAN । MERN স্ট্যাকে আছে- [M] মঙ্গো ডেটাবেস, [E] এক্সপ্রেস জাভাস্ক্রিপ্ট ফ্রন্ট এন্ড,  [R] রিয়্যাক্ট   জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যাক-এন্ড , [N]  নোড জে‌এস রানটাইম । MEAN স্ট্যাকে, [R] রিয়্যাক্টের বদলে [A] অ্যাঙ্গুলার ব্যাক্-এন্ড ব্যবহার হয়। প্রথম বছরে জাভাস্ক্রিপ্ট শেখা থাকলে এই জাভাস্ক্রিপ্ট প্যাকেজ গুলো বুঝতে অসুবিধা হওয়া উচিত নয়। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই, গুগল সার্চ করে টিউটোরিয়াল খুঁজে বার করে, ধৈর্য ধরে, ধাপে ধাপে সেই টিউটোরিয়াল গুলো করতে হবে। আটকে গেলে গুগল সার্চ করে উত্তর আর পথ নিজেই বার করে নেওয়া যায় অনায়াসে।

জাভাস্ক্রিপ্টের মতন ল্যাংগুয়েজ শেখার সঙ্গে আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হোল অপারেটিং সিস্টেম যা দিয়ে মুল কম্পিউটার চালিত হয়। আমাদের বাড়ির ল্যাপটপে সাধারনত উইনডোস ১০ চলে, কিন্তু বড় করপোরেট সেকটরে লিনাক্স এর ব্যবহার বেশি। তাই লিনাক্সে কাজ করার দক্ষতা থাকলে চাকরির সুবিধা বেশি। লিনাক্স শেখার জন্য আলাদা ল্যাপটপ কেনার প্রয়োজন নেই।  উইনডোস ১০ এ উইনডোস সাবসিস্টেম ফর লিনাক্স  (WSL) চালু করে, উবানটু অ্যাপ ডাউনলোড করে নিলে, উইনডোস মেশিনে বসে খাসা  লিনাক্সের  কাজ শেখা আর করা যায়।  

এই রকম নিজে নিজে পড়ার ব্যাপারটা আমাদের কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কাছে একটা অভিনব  অভিজ্ঞতা। কিছু ব‌ই কেনা যেতে পারে কিন্তু এখানে টিউশান স্যারের কোনো গল্প নেই। ইতিহাস, ভূগোল,  অঙ্কের মতন, এই বিষয় গুলি বছরের পর বছর এক থাকে না। প্রতি বছর পালটে যায়। স্কুল কলেজের মাস্টারমশাইরা এসব ব্যাপারে সাহায্য করতে পারলে ভালো । আসলে  যারা জানে, তারা কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করে কিন্তু  তাদের আবার শেখনোর সময় বা ইচ্ছে নেই। যারা নিজে নিজে শেখে, তারাই আই-টি সেক্টরে বড় হয়, নাম কেনে। আজ যা শেখা হচ্ছে, চার-পাঁচ বছরে তা বদলে যাবে। আবার নতুন কিছু  শিখতে হবে। তাই প্রথম থেকেই, নিজে নিজে শিখতে শেখাটা খুব জরুরি।  

তৃতীয় বছর  

কিন্তু শুধু শিখলেই হবে না, নিজের জ্ঞান আর দক্ষতা সকলের সামনে তুলে ধরতে হবে। তাই প্রথমেই খুলে ফেলা দরকার একটা লিংকডইন প্রোফাইল (linkedin.com)। ফেসবুকের মতোই লিংকডইন একটা সোশাল নেটওয়ার্ক যেখানে হৈহুল্লোড় বেলেল্লেপনা নেই কিন্তু আছে গম্ভীর এবং তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে পোস্ট।  চাকরি খোঁযার সহজ উপায়। এইখানে নাম লিখিয়ে, পোস্ট আর কমেন্ট করে নিজের কথা ছড়াতে হবে। এর সঙ্গে দরকার একট গিটহাব ( github.com ) রিপসিটারি।  গিটহাব হলো প্রোগ্রমারদের সোশাল নেটওয়ার্ক। এখানে লোকে নিজের লেখা প্রোগ্রাম জমা করে রাখে, যাতে অন্যরা তা দেখতে পায় এবং ব্যবহার ( মানে কপি-পেস্ট) করতে পারে। চাকরি দেবার আগে, কোম্পানিরা দেখতে চায় তুমি কি রকম প্রোগ্রাম লিখেছো।  

এইবার বায়ো-ডেটা বা  সি-ভি লেখার পালা। গুগল সার্চ করলে নানা রকম ভাবে সি-ভি লেখার স্টাইল পাওয়া যাবে। যেটা ভালো লাগে, সেটা ব্যাবহার করো, তবে সি-ভি তে, ব্লগ (যা প্রথম বছরে শুরু হয়েছিল), লিংকডইন প্রোফাইল ও গিটহাব-এর উল্লেখ করা খুব প্রযোজন। এতদিনে গ্র্যাজুয়েশনের দু বছর হয়ে গেছে, সেই দু বছরের মার্ক‌স নিশ্চয় দেবে আর জানিয়ে দেবে ডিগ্রি কবে পাওয়া যাবে। আর থাকবে স্কিল সেট-এর লিস্ট – পাইথন, জাভাস্ক্রিপ্ট, রিয়্যাক্ট ( বা অ্যাঙ্গুলার), নোড্-জে‌এস  মঙ্গো-ডিবি, লিনাক্স, গিট ।  এই সব কথা গুলি সি-ভি তে থাকলে, সি-ভি লোকের নজরে পড়বে। এইবার সি-ভি বিভিন্ন জব সাইটে পোস্ট করে ডাকের অপেক্ষায় বসে থাকা।  

শেষ কথা 

এই ভাবে চললেই কি করপোরেট রা সোজা সুজি অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে বাড়িতে  পৌঁছে যাবে?  সেটা না হলেও, এটুকু বলা যেতে পারে যে শুধুই একটা গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি থাকার চেয়ে এই সব করলে চাকরি পাওয়ার চান্স শতগুণ বেড়ে যায়। বাজারে এই সব স্কিলের চাহিদা খুব কিন্তু দক্ষ লোক পাওয়া যায় না। কোম্পানিরা হন্যে হয়ে ঘুরছে। তোমার এই স্কিল গুলি থাকলে আর তা দেখাতে পারলে, তারা মাথায় করে নিয়ে যাবে — জানাশুনো, ধরাধরি, তদবির, ঘুষ কিছুই লাগবে না।  

তবে এই  ডু-ইট-ইয়োরসেল্ফ  (DIY) এডুকেশন কিন্তু খুব সহজ নয়। মনের জোর, ধৈর্য আর অসীম একাগ্রতা দরকার। সবাই পারে না। চার-পাঁচ জনের একটা সেল্ফ-স্টাডি গ্রুপ তৈরি করে নিলে অনেকটা শুবিধা হবে।  আর সফ্টওয়ারে কাজ করে  এমন দু-এক জন দাদা-দিদি মেন্টর থাকলে খুব ভাল হয়। তবে তিনি শেখনোর সময় পাবেন না। শিখতে হবে নিজে নিজে, গুগল দেবতার পায়ে ( বা সার্চে) মাথা ঠুকে।   শুধু মাত্র ইংরাজির ব্যাপারে একটা স্পোকেন ইংলিশ ক্লাস করে নিলে, পরে  ইন্টার্ভিউএর ভেতর কথা বলার সময়  আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে।  

ইন্টারনেট একটা অসাধারণ জায়গা, কিন্তু এখানে শুধু মুখ বেঁকিয়ে ছবি তুলে পোস্ট করে কোন লাভ নেই। এটাকে ব্যবহার করে কেরিয়ার গড়তে পারাটাই আজকের দিনে খুব প্রযোজন। তবে ইন্টার্নেটের সঙ্গে সোশাল মিডিয়া যেহেতু ওতোপ্রতো ভাবে জড়িয়ে আছে, তাই শেষ করি আর দুটো  সোশাল মিডিয়া সাইটের কথা বলে। কমপিউটার জগতে নতুন কি হচ্ছে তা জানার প্রথম যায়গা হল স্ল্যাশডট (slashdot.org) এখানে সবাই খুব ক্ষুরধার মস্তিস্কের লোক, তাই এখানে কথা না বলে, চুপচাপ লোকের কথ শোনা আর তাদের থেকে শেখা ভাল। দ্বিতীয়টা হল স্ট্যাকওভারফ্লো  (stackoverflow.com) প্রোগ্রামিং এর কাজে কোথাও আটকে গেলে, এই সাইটে গিয়ে বিনীত ভাবে প্রশ্ন করলে, অন্য মেমবাররা যত্ন করে সাহাজ্য করে।  এই সব সাইট আছে বলেই ইন্টার্নেট ভিত্তিক ডু-ইট-ইয়োরসেল্ফ  (DIY) শিক্ষা সমভব। 

         

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>