যে ১০টি কারণে দ্রৌপদী মহাভারতের আদর্শ নারী

পঞ্চস্বামী গর্বিতা দ্রৌপদী। মহাভারতের কবি ব্যাসদেব তাঁকে তুলনা করেছেন নীলকান্ত মণির সঙ্গে। বিরাট রাজের এই কন্যা শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় সখী। সেই মহাভারতের কাল থেকে এখনও পর্যন্ত দ্রৌপদীর গুণ, পছন্দ, ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য এবং চরিত্র আমাদের ভাবায়। নারী হোক কিংবা পুরুষ, দ্রৌপদীর প্রশংসা সবার মুখে।
দ্রৌপদীর জন্যই মহাভারতের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। এই মহাকাব্যের প্রতিটা চরিত্র আমাদের কিছু না কিছু শেখায়। সে আমরা পছন্দ করি আর না করি দ্রৌপদীও সেই রকমেরই একটি সংবেদনশীল চরিত্র। যে নিজের মতো করে জীবনযুদ্ধে লড়তে শেখায় আমাদের। এখানে আমরা আলোচনা করব জীবনের প্রতি দ্রৌপদীর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে।


১) অধিকারের জন্য লড়ুন

দ্রৌপদী সেই বিরল নারীদের একজন যিনি নিজের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছেন। পঞ্চস্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও নিজের গুরুত্ব আলাদা করে বুঝে নিয়েছিলেন। কৌরব শিবিরে দূত পাঠানোর সময় স্বয়ং অর্জুন শান্তির কথা বললেও দ্রৌপদী বিরোধিতা করেছেন।
যথার্থ ক্ষত্রিয় নারীসুলভ আচরণ করেছেন দ্রৌপদী। এই একবিংশ শতাব্দীতেও যার চরিত্র ভাবায় আমাদের।

২) চাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন

মহাদেবের কাছে দ্রৌপদী স্বামী হিসাবে চেয়েছিলেন নম্র, শক্তিশালী, সুদর্শন, জ্ঞানী এবং দক্ষ পুরুষ। একজনের মধ্যে সমস্ত ভালো গুণ থাকা সম্ভব নয় বলে তাঁকে বর দিলেন পাঁচ স্বামীর। তাই চাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

৩) বিশ্বস্ত পুরুষবন্ধু

কৃষ্ণ সর্বদা সহায় থেকেছেন দ্রৌপদীর। সে বস্ত্রহরণ হোক কিংবা দুর্বাসা মুনিদের খাওয়ানোর সময়! কৃষ্ণ সবসময় দ্রৌপদীর পাশে থেকেছেন, সাহস জুগিয়েছেন, বুদ্ধি দিয়েছেন। প্রয়োজনে সাহায্য করেছেন উপযুক্ত বন্ধুর মতো।

৫) একমাত্র নিজেকে বিশ্বাস করুন

বস্ত্রহরণের সময় শেষ পর্যন্ত কাউকেই পাশে পাননি দ্রৌপদী। না স্বামী, না পুত্র। অভিজ্ঞতা, দক্ষতার মতো নিজস্ব সম্বলগুলিকে ধারালো করে ঠিক সময়ে কাজে কাজে লাগানোই পারদর্শীতা।

৬) যাকে শ্রদ্ধা করেন তাঁকে নয়, যে রক্ষা করে তাঁকে বাছুন

এক্ষেত্রে চূড়ান্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন দ্রৌপদী। আর্জুনের প্রেমে তিনি পাগল। তাঁর জন্য সব কিছু করতে পারেন দ্রৌপদী। অন্যদিকে মধ্যম পাণ্ডব ভীম ভালোবাসেন দ্রৌপদীকে। পাঞ্চালীকে খুশি করার জন্য সব কিছু করতে পারেন ভীম। তাই দুঃশাসনের রক্তপান থেকে কীচক বধের জন্য দ্রৌপদী বারবার গিয়েছেন ভীমের কাছে। অর্জুনকে তিনি এসবের জন্য অনুরোধ করেননি।

৭) ধৈর্যের অভাবে মহান সাম্রাজ্যেরও পতন হয়

কৌরবরাই এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। সংখ্যায় বেশি ছিলেন তাঁরাই। সুযোগও বেশী ছিল। কিন্তু পান্ডবেরা মুখ বুজে ১২ বছরের বনবাস এবং ১ বছরের অজ্ঞাতবাস কাটিয়েছিলেন। পাণ্ডবদের বারবার ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন দুর্যোধন। ধৈর্য ধরে সহ্য করেছেন। যথাযথ সুযোগের অপেক্ষায় ধৈর্য ধরে থেকেছেন দ্রৌপদীরা।

৮) সৎ উদ্দেশ্য এবং কর্তব্যে অবিচল

মহাভারত জুড়ে এই কথাই বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য পবিত্র হলে না পাওয়া ঘটে না। কর্তব্যে অবিচল ও নিরপেক্ষ থাকলে ন্যায় হবেই।

৯) নিজের মনকে বুঝুন এবং বলুন

নিজেকে খুব ভালো চিনতেন দ্রৌপদী। নিজের পছন্দ-অপছন্দ জানতেন। কী চাইছেন সেটা নিজের কাছে স্পষ্ট ছিল। কীচককে হত্যা করতে চাওয়া হোক কিংবা নিজের চুল খুলে রেখে স্বামীদের তাতানো হোক! দাবি জানিয়েছেন সোচ্চারে।

১০) চুপ করে মার খাওয়া নয়

বলিষ্ঠ নারী চরিত্র দ্রৌপদী। সেই সময়ের প্রেক্ষিতে তাঁকে বিদ্রোহিণী বলা যায়। ভরা রাজসভায় কুরুবৃদ্ধদের কাছে নিজের নিগ্রহের কৈফয়ৎ চেয়েছেন দ্রৌপদী। অন্যায় মনে হলে গলা তুলেছেন। কোনও সুযোগই ছাড়েননি।

প্রচ্ছদ ছবি: সোনিয়া কুমার

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত