Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com,eid 2021 bangla article monika chakraborty

প্রবন্ধ: এক ঘাইহরিণীর ডাক শুনি । মণিকা চক্রবর্তী

Reading Time: 5 minutes 

কবি জীবনানন্দের কবিতার অজস্র লাইন যেন উঠে আসে মাথার ভিতর, নিজের ছায়ার ভিতর, নিজের সঙ্গে নিজেকে নিয়ে, একাকী সময়ের ভিতর। পৃথিবী বিষয়ে সকল রকম অশান্তি যখন পৃথিবীর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন ডুব দেই কবিতার ভিতর। তাঁর অসংখ্য লাইনের উপর ঝুঁকে পড়ি। যেন সেও সাড়া দেয়, শীতল ঘাসের মতো। নিভে আসা সময়ে আবছায়া প্রতিবিম্বের মতো কবিতার মুখ দেখি, সঙ্গে কবিও দেখা দেন। যেন তিনি বলেন সেই সব আমি লিখে গেছি অন্ধকারের ছায়ায় বসে, যখন আলো বয়ে গেছে জলের উপর। নৈঃশব্দের সুরে সেইসব লিখেছি, তোমরা কুড়িয়ে নিয়েছ সেইসব। অদ্ভুত শান্ত রাত গুলোতে একা একাই পরিয়েছি জোৎস্নার চাদর,আমার স্বপ্নেরা যখন বিভ্রান্ত আবার কখনোবা রহস্যজনকভাবে উধাও। জীবনানন্দের কবিতা পড়তে পড়তে এসব ভাবি। ভ্যানগঘের একটি উক্তি মনে পড়ে,‘আই পুট মাই হার্ট এন্ড সোল ইনটু মাই ওয়ার্ক এন্ড লষ্ট মাই মাইন্ড ইন দ্যা প্রসেস’। জীবনানন্দের কবিতা পড়তে পড়তে আমি সেই গভীরতম কাজের ভিতরে ক্রমাগত ডুবে যাবার সাধনার পথটির কথা ভাবি। কেন যেন মনে হয় এক বিশ্ব ব্যাপি শূন্যতার ধারণা ও সেই শূন্যতার সঙ্গে বসবাসের বোধ কবির কবিতায় অপ্রতিহতভাবে রয়ে গেছে। এই শূন্যতাবোধের দুটি অর্থ হতে পারে। এক হচ্ছে বিপুল হাহাকার ও সর্বগ্রাসী শূন্যতা বা এমটিনেস। অন্যটি হচ্ছে জীবনের অর্থহীনতা বা নাথিংনেস। জীবনানন্দের কবিতায় এমটিনেসের চেয়ে নাথিংনেসের বোধটিকে বেশি পাই। কিন্তু যখন আবার প্রকৃতি নিয়ে লিখিত কবিতাগুলোতে তাঁর নিজস্ববোধকে জারিত হতে দেখি,তখন সেখানে বিচ্ছিন্নতা বোধের হাহাকার নেই। বাতাস-পাখি-রোদ-জল-গাছ সবকিছুই যেন প্রবলভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সেখানে তিনি আত্মস্থ, গভীরভাবে অন্বেষণপ্রিয়,অক্লান্তভাবে যিনি জেনে নিচ্ছেন নিজেকে বিশ^প্রকৃতির সঙ্গে, কোনো বিচ্ছিন্নতাবোধে তাড়িত হয়ে নয়। সবুজ ঘাস, বনলতা,কাঙ্খিত নারী,  প্রকৃতির প্রশান্তি ও প্রকৃতির আশ্বাস পটভ‚মি সবকিছু মিলিয়ে এক অপূর্ব উদ্ভাস। স্মরণ করছি ধূসর পান্ডুলিপির ‘অবসরের গান’ কবিতাটিকে। বড়ই প্রিয়। পড়তে পড়তে মনে হয়, কবিতাটির মতোই অবসরের মগ্নতাকে পান করছি চোখ বুঁজে। কবিতাটির স্বাদ জড়িয়ে থাকে সর্বাঙ্গে। শব্দগুলি যেন অবশ করে দেয় শরীর ,নিবিড় মমতায় ঘুম নেমে আসে চোখে। যেন মাঠের ঘাসের গন্ধে, রোদের আরামে ঘুম ঘুম সময়ের ভিতর জেগে আছি, অথবা ঘুমের অলস ঘোরে মরেও আছি।

‘অলস মাছির শব্দে ভ’রে থাকে সকালের বিষন্ন সময়/পৃথিবীরে মায়াবীর নদীর পারের দেশ বলে মনে হয়;/সকল পড়ন্ত রোদ চারিদিকে ছুটি পেয়ে জমিতেছে এইখানে এসে/গ্রীষ্মের সমুদ্র থেকে চোখের ঘুমের গান আসিতেছে ভেসে/এখানে পালঙ্কে শুয়ে কাটিবে অনেক দিন জেগে থেকে ঘুমাবার স্বাধ ভালোবেসে! (অবসরের গান)। এই কবিতাটিতে পাই এক পরিপূর্ণ জীবনের নির্যাস। যেন জীবনের ও প্রকৃতির অশেষ মেলবন্ধনের মাঝে জেগে আছে নানা রকম বর্নিল বিচ্ছুরণের আলো। এক নতুন মাত্রায় এই কবিতা জীবনাকাঙ্খাকে ব্যক্ত করে। মৃত্যুকেও স্বপ্নের মতো মনে হয়। কে খোঁজ রাখে রাজাদের, সিংহাসনের ! পার্থিব ও অপার্থিবতার উর্ধ্বে এক চমৎকার অবসর বেলা ,তার গান যেন সকল মৃত্যু ও ক্ষয়ের বিপ্রতীপ বিন্দুতে। এই কবিতায় কোনো নৈরাজ্য নেই, কেবলই শান্ত সমাহিতির দিকে যাওয়া। এই কবিতাটিকে আমার সকল মানুষের কবিতা মনে হয়। যেন একলা মানুষ,খুশি -মানুষ,দুখী মানুষ ,বিধ্বস্ত মানুষ সকলেই এই কবিতাটির পাশে চুপ করে বসে থাকতে ভালবাসবে।


আরো পড়ুন: প্রবন্ধ: বাঙালি সংস্কৃতি ও বাঙালিয়ানায় নারী । ইশরাত তানিয়া


‘আহ্লাদের অবসাদে ভ’রে আসে আমার শরীর,/ চারিদিকে ছায়া- রোদ- ক্ষুদ-কুঁড়া-কার্তিকের ভির;/চোখের সকল ক্ষুধা মিটে যায় এইখানে,এখানে হতেছে স্নিগ্ধ কান/পাড়াগাঁর গায় আজ লেগে আছে রূপশালি -ধানভানা রূপসীর শরীরের ঘ্রাণ!’

উপরের কবিতাগুলোতে প্রকৃতির সঙ্গে যে একাত্মতার আকাঙ্খা, কোথাও কোথাও তা যেন সরে পড়েছে অন্য এক অচেনা দিকে। পড়তে গিয়ে নানা রকম সময়ের ক্যানভাসে আটকে পড়ি। কখনও প্রকৃতির বিশালতায়, কখনও কোনো প্রাচীনতম নারীর স্থাপত্যকর্মে, কখনও মানব-মানবীর মুখোশের নীচে দেখি এক বেদনার্ত আর্তি, কখনওবা কেবলই অন্ধকার। শান্তিতে থাকা একটি পৃথিবীর চিত্রপট কেবলই যেন স্বপ্নের ব্যর্থ গুঞ্জণ। ফের শুনি নৈঃশব্দ্যের স্বর। নক্ষত্রের নীচে খুলে যাওয়া পথটি কখনও হারায় সবুজ ঘাসের দেশে,কখনও সেখানে দেখি শিকারীর ফাঁদ পাতা। যিনি লিখেন,‘মানবকে নয়, নারি, শুধু তোমাকে ভালবেসে/বুঝেছি নিখিল বিষ কী রকম মধুর হতে পারে’। আবার তিনিই লিখেন, ‘প্রেমের খাবার নিয়ে ডাকিলাম তারে আমি/তবুও সে নামিল না হাতে… অথবা যখন লিখেন-

সোনা-নারী-তিসি-আর ধানে/বলিল সে:কেবল মাটির জন্ম হয়।’ বলিলাম ,‘তুমিও তো পৃথিবীর নারী,/কেমন কুৎসিত যেন…(মনোবীজ… মহাপৃথিবী) বিভিন্ন কবিতায় নারীর প্রতি এইসব দৃষ্টিভঙ্গিকে কোনো মানুষের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বলে মনে হয় না। কখনও নারী বঁধু, কখনও মেয়েমানুষ, কখনও শূকরী,কখনও ব্যবহৃত মাংস,কখনও ডাইনী। কখনওবা নারী প্রসবিনী,পৃথিবীর বীজক্ষেত। চিতা বাঘের মতো তীব্র পুরুষ অথবা শিয়ালের মতো লোভী পুরুষকে জীববনানন্দের নারীদের চারপাশে দেখি। কবিতায় নারীর প্রতি সন্দেহও স্পষ্ট অনুভব করি। কবিতার গায়ে গায়ে ঈর্ষা ও রহস্য ঘিরে থাকে। নিজের মনেই প্রশ্ন জাগে,নারীকে ভালবাসবার কী কোনো শর্ত আছে! আধুনিক নারী বলেই আমি এই প্রশ্নটি রাখি কিনা জানি না। তবে আমার মনে হয় ,নারী বিষয়ক কবিতাগুলোতে কোনো না কোনো ভাবে সন্দেহ ,বিভ্রান্তি আর রহস্যময়তা থেকে গেছে। কখনও কখনও তা এতই স্পষ্ট আর প্রকট যে মনে হয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন। যেন নারীর প্রতি বাক্যগুলি ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে অসংলগ্নতায় ও উ›মুক্তততায়।

‘উইমেন উড বি লাভড উইদাউট রিজন,উইদাউট এনালাইসিস,নট বি কজ সি ইজ বিউটিফুল অর গুড,অর কালটিভেটেড,অর গ্রেসিয়াস,অর স্পিরিচুয়াল বাট বিকজ সি এক্সিস্টস।’…এখানে এসে আমি থেমে যাই। নারীর প্রতি হৃদয়ের এই দর্শনকে আমি কবিতায় খুঁজতে থাকি। মনে প্রশ্ন জাগে,তিনি মূলত প্রেমিকই হতে চেয়েছিলেন! এক কল্যাণী নারীর দেয়া প্রশান্তি আর ভালবাসার খোঁজে তিনি আকুল অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁর ছিমছাম স্বপ্নের ভিতর যে নারী, সে নারীকে তিনি হারালেন কুহেলিকায়। তাই কী আমরা দেখতে পাই তাঁর বোধাক্রান্ত সত্তা ক্রমাগত মৃত্যুমুখী!

‘সাতটি তারার তিমির’ এবং‘ বেলা অবেলা কালবেলায়’ আমরা এক ভয়াবহ অন্ধকারকে অবলোকন করি।‘ হয়তোবা অন্ধকার সময়ের থেকে/বিশৃঙ্খল সমাজের পানে চলে যাওয়া; গোলকধাঁধার ভুলের ভিতর থেকে আরো বেশি ভুলে;…”এই অন্তঃশীল অন্ধকার আমাকে ভাবায়। ‘মানুষের সাথে মানুষের প্রিয়তর পরিচয় নেই নেই আর; আলো আছে তবুও -আলোয় ভরে রয়েছে অন্ধকার’। দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভৎস পৃথিবী নষ্ট করে দিয়েছে মানবীয় সময়ের প্রতি মানুষের বিশ্বাস। তাই অন্ধকার আরোও ঘন হয়ে আসে।

‘চারিদিক দিক থেকে ঘিরে কেবলই বিচিত্র ভয় ক্লান্তি অবসাদ রয়ে গেছে।/নিজেকে কেবলই আত্মক্রীড় করি; নীড় গড়ি।/নীড় ভেঙ্গে অন্ধকারে এই যৌন যৌথ মন্ত্রণার মালিন্য এড়ায়ে উৎক্রান্ত হতে ভয় পাই।/সিন্ধুশব্দ বায়ুশব্দ রৌদ্রশব্দ মৃত্যুশব্দ এসে ভয়াবহ ডাইনীর মতো নাচে ভয় পাই গুহায় লুকাই;’ মানুষের হাতে মানুষের নাজেহাল হবার সংঘাতময় পরিবেশ। দ্বিতীয় বিশ্ব য়ুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সর্বত্রই গোরস্থান। মানুষের বিক্ষিপ্ত মনে কেবলই ঘৃণার আয়োজন। ঘন অন্ধকারের ভিতর মানুষ ক্রমাগত আবিষ্কার করছে অন্যকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার পরিকল্পিত ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে মানুষের অনুভব ক্ষমতা লোপ পাচ্ছে। গণকবরের স্তুপে মানুষের সৃষ্টি আর সৌর্ন্দয্য চেতনা। আগুন আর রক্তের নদী পেরিয়ে যে মানুষেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম হেঁটে চলেছে, তার বিপন্ন ছায়া এসে পড়েছে কবির কবিতায়। বিপর্যস্ত মানুষের গোঙানি আর দমচাপা কান্নার শব্দের ভিতর থেকে উঠে আসে‘ বেলা অবেলা কালবেলার ’…সেসব কবিতা।…‘হয়তোবা অন্ধকারই সৃষ্টির অন্তিমতম কথা;/ হয়তোবা রক্তেরই পিপাসা ঠিক, স্বাভাবিক মানুষও রক্তাক্ত হতে চায়। অথবা…

কোথায় সমাজ, অর্থনীতি?…স্বর্গগামী সিঁড়ি ভেঙে গিয়ে পায়ের নীচে রক্তনদীর মতো মানব ক্রমপরিণতির পথে লিঙ্গশরীরী হয়ে কি আজ চারিদিকে গণনাহীন ধূসর দেয়ালে ছড়িয়ে আছে যে যার দ্বৈপসাগর দখল করে! একদিকে সংগঠিত হচ্ছে হিংসা আর গণহত্যা, অন্যদিকে মিডিয়ায় তাল রেখে বিনোদন শিল্প হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে আতঙ্কের পর্ণোগ্রাফি। সামাজিক ও মনস্তাত্তি¡ক ভাবে পারিপাশের্^র উপর যে দূর্ভাগ্য ও অপচ্ছায়া মানুষ ও প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবণতাকে বদলে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত, অসাধারণ নৈর্ব্যক্তিকতায় এইসব বিষয় লেপ্টে আছে কবিতার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে। গভীর বিতৃষ্ণা আর আতঙ্ক যেন সকল অবসাদ নিয়ে ধারণ করেছে কবিতা গুলিকে। নির্বোধ, কুৎসিত ও যন্ত্রণাবদ্ধ উদ্ভট পৃথিবীর চেহারা এইসব কবিতার ভিতর দিয়ে আমাদেরকে নিয়ে যায় সেইসব রক্তাক্ত দৃশ্যের ভিতর।

কবির কবিতা পড়তে পড়তে কোথাও কোথাও তার বুদ্ধির দর্শন ও হৃদয়ের দর্শন সমান্তরালভাবে হাজির হয়। কখনও কখনও তাঁর ব্যক্তি জীবনও যেন অবিচ্ছেদ্যভাবে পাঠকের চোখের সামনে এসে যায়। জীবনব্যাপি এক ক্রাইসিস যেন মাল্যবান উপন্যাসের ভিতর দিয়ে কবির জীবনের উন্মোচন ঘটায়। উটের গ্রীবার মতো নিস্তব্ধতা এসে জড়ো হয়,পাঠকের মনের ভিতর। কবির মৃত্যু নিয়ে আজও সংশয় রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, তিনি বাইপোলার ডিসঅর্ডার দ্বারা আক্রান্ত ছিলেন। নীচের কবিতাটিতে এই ধরনের একটি মনোভাব পাই… লোকটা কি সত্যিই মরতে চেয়েছিল? কেউ কি কখনও তা-ই চায়? আম -জামরুল -বনে ভয়ংকর সূর্য ডুবে গেলে সে যেন একটা কাজ সেরে নিয়ে আরো একটা কাজ করবে বলে দর্শকের সীট থেকে উঠে গেলো সেই গেলো,আর ফিরলো না… (আত্মহত্যা: মানুষের দিকে)

জীবন যোগ আনন্দ মিলে জীবনানন্দ। তারঁ স্ত্রীর নাম লাবণ্য। কিন্তু তাঁর কবিতায়, গল্পে ,উপন্যাসে জীবনের ঝলমলে রঙের দেখা পাইনা। তাঁর কবিতায় টি এস এলিয়টের কবিতার কিছু ছায়া যেন নিবিড়ভাবে পাই। এলিয়টের প্রথম স্ত্রী উন্মাদ ছিলেন বলেই আমরা জানি। তিনি উন্মাদ স্ত্রীকে পাশের ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে রাতের পর রাত জেগে লিখেছেন ওয়েষ্টল্যান্ডয়ের নির্মম কবিতাগুলি। সেই বইটি বিপুল সাফল্য পায়। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি ক্যাথলিক ধর্ম বিশ্বাসে আশ্রয় নেন। জীবনানন্দের কবিতায় তেমনি নির্মম ও নিরীশ্বর চেতনা খুঁজে পাই। বিভিন্ন লেখা থেকে জানতে পারি,তাঁর এই নিরীশ্বর মনটিকে তাঁর মা কুসুমুমারী দাস ঠিকই চিনতে পেরেছিলেন। তাঁর কবিতার নির্মম সত্যগুলি কাউকেই স্বস্তি দেয় না। আশাবাদী হবার প্ররোচনা ছিল, তাঁর মায়ের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনে।

আমরাও আশাবাদ খুঁজি। যেন আর নিতে পারি না অতল সংশয়। স্বস্তি ও আশ্রয় খুঁজি কবিতায়। লাইনগুলি মাথায় ঘোরে। ক্রমাগত এক ঘোরের মতন। তাঁর গদ্য একটু অন্য মাত্রার। আর গল্প ও উপন্যাস গুলোতে একটা অন্যরকম নিজস্ব নির্মাণ আমরা দেখতে পাই। যেমন-‘আকাঙ্খা কামনার বিলাস, ’কারুবাসনা, প্রৈতিনীর রূপকথা, কুয়াশার ভিতর মৃত্যুর সময়, মেয়েমানুষের ঘ্রাণে, …ইত্যাদি। কলকাতার মেসের বেকার যুবক, শহরের ইট-পাথর, গ্রামের নদী ও প্রকৃতি, নর-নারীর সর্ম্পক সবকিছুই তাঁর একান্ত রচনা হয়ে উঠেছে তাঁর নিজস্ব নির্মাণের বলিষ্ঠতায়। তবু প্রশ্নের পর প্রশ্ন এসে জড়ো হয় মাথার ভিতর। পাঠে নিমগ্ন থাকি। বিস্মিত মন বারবার ওখানে এসে থমকে দাঁড়ায় দেখিবে সে মানুষের মুখ?/দেখিবে সে মানুষীর মুখ?/দেখিবে সে শিশুদের মুখ?…তারপর ‘তবু কেন এমন একাকী?/তবু আমি এমন একাকী।

প্রকৃতির কবিতার কাছে যাই। কেন সেখানে জ্যোৎস্নার আগে প্রেত। ধরণীর আগে ব্যাধবিদ্ধা। ঢেউয়ের আগে কেউটে! …আরও মনযোগী অধ্যয়নে নিবিষ্ঠ হই। অনেক পাঠের পরও রহস্যময়তায় ডুবে থাকি। ফিওদর দস্তয়েভস্কির একটি উক্তি মনে পড়ে… ‘দ্যা অফুল থিং ইজ দ্যাট বিউটি ইজ মিষ্টিরিয়াস এজ ওয়েল এজ টেরিবেল। গড এন্ড দ্যা ডেভিল আর ফাইটিং দেয়ার এন্ড দ্যা ব্যাটেলফিল্ড ইজ দ্যা হার্ট অফ ম্যান।’

     

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>