| 19 মে 2024
Categories
ঈদ সংখ্যা ২০২১

সাজ্জাদ সাঈফের একগুচ্ছ কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

কাছেই ফারাও

(উৎসর্গ- প্রিয় অগ্রজ জিললুর রহমান)

*

আমাদের স্বপ্নের মুখ তালাবদ্ধ

প্রত্যাশার গলা ধরে ছোবল দিতেছে সাপ;

 

সুদূর কোন‌ও গ্রামে ঢুকে পড়া অতিথি পাখির

বিপন্নতার মতো, ফ্যালফ্যাল করে আছে আমাদের চোখ!

আর, গলনালীর জখম লুকিয়ে করতালি সমেত আমরা

হেসে উঠি মাঝেমধ্যে, যেহেতু আমাদের নগরজীবন

বাউন্সি পিচ; আমাদের বেঁচে থাকাটা পোশাকি-

প্রতিশ্রুতিরা খামখেয়ালী!

 

এর ভিতর গভীর রাতে

অতলান্তিক বীণার উজ্জয়িনী, শুনি;

ডুমুর ধরেছে ডালে, লেবুগাছ পেয়ে

কাঠবিড়ালী, দ্রুতই উঠে গেলো একা!

 

সমস্ত ভানপেরিয়ে আসি, সঞ্জিবনী হাওয়ার কাছে

 

মৃতপ্রায় নদীটির সাথে দেখা, মৃতপ্রায় আছিয়ার সাথে দেখা;

কাছেই ফারাও, কাছেই কড়াই, ফুটন্ত তেল!

 

 

 

 

 

দুঃশাসন

জলেরা জবাই হচ্ছে স্রোতে

তুমি-আমি রক্তসুরভিত গাঙ

 

পৃথিবীতে টর্চ ফেলছে দুঃশাসন

ঘরে ঘরে জ্বলছে কয়েল রাতে;

গুপ্তহত্যার রাত মেনে নিয়ে দেশ

বুক-করাতের কল-

 

আমার এখন ঘুম পাচ্ছে, তোমার সামনে জলের চাঁদনী জ্বলে;

আমার ঘুমেরা স্বপ্নদাঁতাল বিষে,নীল!

 

আর তুমি রক্তবর্ণ সাপ, যেনো এই দেশটারই ইতিহাস লাল

এঁকেবেঁকে এসে ফণাবৃত্তের ফোঁস, কতদিন হলো ফোঁস, তাক করে আছো পতাকার দিকে!

 

 

 

 

 

 

 

ইতিহাস

[কবি পলাশ গঙ্গোপাধ্যায়, প্রিয়ভাজনেষু]

মহত্ত্ব অপেক্ষা মহত্ত্বের অভিনয়ে

তুমি স্বচ্ছল, ড্রামাটিক!

 

তার ওপর বেঁচে থাকাটার

কিছু ধার দেনা থাকে, পুষ্পের থাকে

নিত্য ভ্রমরডানা, কিছুদিন হাসিখুশি থাক

মর্ত্য ও মাটির কলহে জল, তুচ্ছকে হাত নেড়ে ডাকো!

 

এইদিকে শহীদ মিনার ঘেঁষে, প্রাচীন গ্রন্থাগার

আমাকে ধীর-স্বর ডাকে, গল্পের বিপ্লবী;

যেনো কোনো কবিতাগ্রন্থের পাতা, রাইফেলে ভরে যাচ্ছে একা;

এইদিকে ভুলেও কখনো, তাকাবে না তুমি, তাও জানি!

 

তার ওপর গানের কলিতে প্রেম;

তার ওপর চাষাদের চিৎকারে, স্বাধীন বাংলাকে

দিশাহীন-বিবস্ত্র লাগে, এতসব জানো নাকি তুমি?

 

এইসবে মন দিতে গিয়ে বাবার আহত মুখ, বারবার এসে

চোখে ভাসে কেনো? বাবাকে প্রশ্ন করি, কতদিন বাবা নেই, হাসি নেই;

অকূল দরিয়া নেই বুকে!

 

জিজ্ঞাসা শুনে ইতিহাস, নিজ জ্ঞানে চুপ করে হাঁটে!

 

 

 

আমরা ভিজুম

দুই ধারে রোদ নিয়া বিদিক নদীও হাসে

ঢোল-বেহালার হাসি, বিহানের কোল ঘেঁষে

ঋতুরাজ মহাকাশে যায়, পাখি ওড়ে, পাখা-ঘুম-ঘুম

কোরক খুলছে রোদ, শেষ দৃশ্যে আমরা ভিজুম!

 

সখী, কে সে ডাকে বিলের পানিতে? ডাকে ধানী চর?

এই প্রেম ছনের কুটির খড়, গায়ে থাকে পাতার অক্ষর।

 

দুই কাঁধে মেঘ নিয়া, জাগো তুমি তিরিশ শ্রাবণ

হাড়মাসে ভুখ লাগে যার, তারে কয় পিরিত পাবন;

দুই চোখে নিদ পড়ে নাই, রাত নামে নিঝুম বাগান

তারে কয় পরাগে পরশ, যার, ফুল ফুটে কলির নিদান।

 

এই প্রেম তিরের ফলায় গাঁথা, কলিজার টুকরা কেমন

ছুঁই ছুঁই জ্যান্ত দেখায়, মহাসড়কের ধারে প্লাবন যেমন!

 

 

 

 

 

ভরা বর্ষার দেশে

[কবি জুয়েল মোস্তাফিজ, প্রিয় সতীর্থ]

বলতে ভুলে গেছি আমার‌ও একটা ঈশ্বর দরকার, এই দেশে;

যখন সব কটা ফুল ঝরে ন্যাড়া দেখাবে বাগানগুলি

আমি যেন হাত পেতে চেয়ে নিতে পারি সুরভি!

 

যখন কাগজের বাঘ এসে দরোজায় ফেলে যাবে গোলপাতার ফসিল

আমি যেন তার জন্য হুংকার চাইতে পারি যেচে!

 

যখন আমার মেরুদন্ডকে দুই ধাপ

নামিয়ে দিতে

নাড়িয়ে দিতে

উদ্যত হবে কামার ছাত্রেরা

তখন যেন হাঁটুর বদলে চাকা

পায়ের বদলে চাইতে পারি ক্রাচ!

 

এই ভরা বর্ষার দেশে

আমার একটা ঈশ্বর দরকার, যে কোনো কুমারী নদীর বালু দখল হ‌ওয়া দেখতে দেখতে আমি যেন

ঝাঁপ দিতে পারি রাষ্ট্রের আগুনে!

 

 

 

 

 

 

 

One thought on “সাজ্জাদ সাঈফের একগুচ্ছ কবিতা

  1. সুন্দর সব কবিতা। সাজ্জাদ সাঈফের কবিতার অমৃত বারিবর্ষণে বারবার আমরাও ভিজতে থাকি। খুব গভীরে টের পাই “আমাদের বেঁচে থাকাটা পোষাকী—প্রতিশ্রুতিরা খামখেয়ালী” আমাকে উৎসর্গিত কবিতার জন্যে ভালোবাসা নিরন্তর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত