| 26 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
ঈদ সংখ্যা ২০২০

অ্যা ফেইলর

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

আলো পড়ে চকচক করছে মহুয়ার গাল। রুপোলি ইলিশের মত কেমন ঔজ্জ্বল্য তার, কিছুক্ষণ পর শো। শো-স্টপার সে। সত্যি তো? মেকাপ রুমে কেউ আসছে না? মহুয়া চেঁচায় হোয়াই? হোয়াই? চোখের কনটাক্ট লেন্স বসেনি তার। কটকটাচ্ছে চোখ। ব্রার ফিতা আট হয়ে বেঁধে আছে পিঠে, কেটে বসে যাবে হয়তো। আচ্ছা মহুয়ার কী ওয়েট বাড়ছে! জিমে তো সে রোজই যায়। তো? মহুয়া অস্বস্তি কাটাতে চায়, কাটে না, পায়ের হিলগুলো ভয়ংকর চোখে তাকিয়ে থাকে, পারবে তো সে আজ! তাকে পারতেই হবে। এসময় ওয়াইনের গ্লাস তার নার্ভাসনেস কমায়। কতদিন হলো এখনও ফ্লাস জ্বলে উঠলে কেঁপে যায় বুক। ধুকপুক। আজও! আচ্ছা আজ কি কোন দিন বিশেষ দিন, কেউ কি মারা যাচ্ছে? মেকাপরুম একদম খালি? অথচ সে প্রস্তুত। এমন কিছুতো হয়ই। না না কেউই মরছে না, আসলে তার বয়স বেড়েছে কি ভুলভাল ভাবছে। মহুয়ার মাথা ঝিমঝিম করে, কে তাকে কি খাইয়েছে কে জানে, সে তো জানেই এভরিবডি জাস্ট জেলাস টু হার। এমন লাগছে কেন। হুটহাট মনে পড়ছে সব। ঐ তো ক্যামেরা, আলো, রং মুখ- মুখোশ। খচখচ করে তার; ঐ তো ওখানে জুবুথুবু ভঙিতে ডিরেক্ট করছে একটা ছেলে। ছেলে না পাকা বুড়ো। রাহাত হাসান, বেশ দেখতে৷ সুপুরুষ! নাহ বেশ না, এই ছেলে একদিন তাকে উন্মাদ ক্ষ্যাপাটে বুড়ি বলেছে। হাহ্। মহুয়া জানে সে টপ। হোক অতীত। সুপার তো ছিলই। এক দুই তিন, লেটস হ্যান্ডস টুগেদার উইথ তানিয়া, তানিয়া তানিয়া। আলো জ্বলে উঠছে সহস্র আলো একটা দুইটা তিনটা। মাথায় সুঁই ফোটানো অনুভূতি! মহুয়া অবাক হয় তানিয়া কেন? আলো জ্বলছে অথচ সে কোথায়! মহুয়া অনেককিছু মনে করতে চায়।অথচ ভোতা মাথায় শুধু শব্দ। আহা মোজার্ট! এটা কী ক্যাসিনো, এত হই হট্টগোল গেলো কোথায়।পিন, পিন, পিন! এক দুই তিন, লেটস হ্যান্ডস টুগেদার উইথ তানিয়া, ক্ল্যাপ ফর হার। ক্ল্যাপ, ক্ল্যাপ, ক্ল্যাপ। তানিয়া কে? মহুয়ার অন্তর্বাস খুলে যাচ্ছে কেন? কে খুলছে টেনে? চারপাশে অজস্র চোখ। চকচক। ওমা উলঙ্গ মহুয়া একাই নাচছে, কেউ তাকে দেখছে না। বাহ বাহ বাহ! স্টেজে এত আলো থেকে তবে কী হলো! পা উঁচু করো, এই এভাবে তুলে দাও দুই ঠ্যাং,এইভাবে হয় ডগি! তোলো তোলো। মহুয়া ল্যাবঘরে উল্টে থাকা অর্ধমৃত ব্যাঙের মত হাত নাড়ায়, পা নাড়ায়, ঠোঁট নড়ায়, কুমুরের মাটির চাকার মত ঘুরছে তার শরীর। কেন সে এখানে, হোয়াই দিস। ইজ ইট ক্যাসিনো বার, বাট হু ইজ তানিয়া?

বেগুনী, নীল, আসমানী সবুজ হলুদ কমলা লাল। লাল লাল লাল -তাকান এইদিকে দেখুন লাল। বেছে নিন একটা লাল! গাঢ় লাল, ফিকে লাল, কমলা লাল, খয়েরি লাল। লোকটা বলে যায় ক্রমাগত, বলেই যায়। কতক্ষণ এমন চলছে! অনেকগুলো বাক্স তার চোখের সামনে। কোনটায় ত্রিভুজ, কোনটায় চতুর্ভুজ, কোনটায় বৃত্ত! বৃত্তের মাঝে নীল, বৃত্তের মাঝে সবুজ, বৃত্তের মাঝেই লাল। চোখের সামনে ঘুরছে। একঘণ্টা দুঘণ্টা তিনঘণ্টা। মহুয়ার চোখ ক্লান্ত মন ক্লান্ত। লোকটা কী ডিরেক্টর না ডক্টর? বাক্সগুলো নড়তে নড়তে সেগুলো চোখের ভেতর দিয়ে মগজে ঢোকার পথ পেয়ে যায় তার। মগজে ব্যথা পিনপিন৷ তলপেট অনুভূতিহীন! ঘরটা অদ্ভুত সাদা! এটা কী ঘর? নড়ে না কেন দেয়াল! কানে কথা বাজছে চোখের রেপিড মুভমেন্ট মাপতে হবে। মাপতে হবে। মাপতে হবে। রোগীর শ্বাস পড়ছে ঘন! কে লোকটা? কার নির্দেশে এমন বলছে লোকেরা। সশব্দে কে যেন এলো, নিঃশব্দ হয় আবার! তার ইচ্ছে হয় বাইরে গিয়ে জোরে একটা চিৎকার দেয়, ডাকে রাহাত রাহাত। না না রাহাত হবে কেন চ্যাংরা ছেলে তাকে ক্ষ্যাপাটে বুড়ি বলে তাড়িয়ে দিল অথচ সে সিনিয়র আর্টিস্ট! হায় হায় আজকের শো কি শেষ! কখন হলো?কড়া ঘুম আবার তার চোখ আটকে দিতে ধেয়ে আসছে, ঘুমুবে না সে, একদম না। আচ্ছা মেকাপ রুমে কেউ তাকে দেখেনি তো স্টিক নিতে? অদ্ভুত ক্রোধ তাকে অধৈর্য করে। তানিয়াকে মনে পড়ে, লেটস হ্যান্ডস টুগেদার উইথ তানিয়া। ভিবোর টপ। স্টাইল ওয়ার্ল্ড টপ। কারোয়া টপ। মহুয়া কুকরে যায়, কুকুরের মত ছটফট করে। মেয়েটা তার মত সুন্দর নয়, অথচ কি তার দর! মেয়েটাকে ভেবে ভেবে সে এমন এক খাদের কিনারায় চলে যাচ্ছে যেখান থেকে একদিন সে সীমাহীন অধৈর্যে ফেলে দেতে পারবে আলো, পর্দা, মিউজিক, ক্যামেরা ফ্লাশ সব। কেউ তাকে ঠেকায় না কেন? নটসম্রাজ্ঞী বিনোদিনীর মত এক্সপ্রেশন তার, তাকে ছুঁড়ে ফেলা এত সহজ। লোকটার মুখ বরাবর ছুড়ে দেয় সে টেবিল ল্যাম্প, কে লোকটা, ডক্টর না ডিরেক্টর? মহুয়ার ভালো লাগে, উল্লাস হয়; লোকটাকে দেখানো দরকার তার ক্রোধের দৈত্য বের হচ্ছে এবার। পানির গ্লাসের দৈত্য, খাবার প্লেটের দৈত্য, আয়নার দৈত্য পরনের কাপড়ের দৈত্য সব। নটী বিনোদিনীর ভূত হয়ে আসবে সে। ঘাড় মটকে দেবে সবার। যৌবনের সওদা? শেষ হলেই ছুড়ে ফেলা। হু ইজ তানিয়া, হু ইজ শি। মহুয়া আর মনে করতে চায় না কিছু, হাতড়ে শরীরে খোঁজে তার। এই তো তার স্তন, যোনী, পায়ুপথ। আছে তো সব এখনো।বারের চাকা উল্টে গেছে। চুষে চুষে নিঃশেষ শরীর এখন। অম্ল মধুর নোনা, কিছুই নেই। আস্ত নিরেট দানায় নেই সুগন্ধী, নেই স্বাদ। এত সহজে বাদ পড়া যায়। দান এখন তানিয়ার ঘরে। ক্ল্যাপস ফর তানিয়া, লেটস হ্যান্ডস টুগেদার। মহুয়া আর কিছু ভাবতে পারেনা এক নিস্তেজ অনুভূতিতে ঘুমিয়ে পড়ে সে৷ শ্যামলীর তৃতীয় শ্রেণির ইমার্জেন্সি, হসপিটাল অখ্যাত।মহুয়া পড়ে রয় একা ঝাঁঝহীন আবরণহীন। এট্যাম্পট টু সুইসাইড, অ্যা ফেইলর অফ সাকসেস!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত