| 14 এপ্রিল 2024
Categories
ঈদ সংখ্যা ২০২০

কবিতাগুচ্ছ

আনুমানিক পঠনকাল: 4 মিনিট
রাবার বাগানে দিনরাত্রি
 
আর এ’ই লেখাপত্র, এ’ই ঘুমভাঙানো ফেনায়িত রোদ, সকাল-সকাল
ক্ষুরধার তলোয়ারে ফালি ফালি হয়ে,ছড়িয়ে পড়ছে গানে, রাবার বাগানে।
 
ডোমেদের চোখে চোখে মড়া সেঁকা দেয়া
ভ্রান্ত আগুন জ্বলে, বেদে নারীদের
এই পথে যাওয়া-আসা দেখি;
 
কতকাল এক শিকারী আঙুল, তাক করে রাখা
সুন্দরের দিকে, ছেনি-ছোঁয়াহীন মিনারের দিকে;
উড্ডয়নে!
 
মসজিদের ছায়া খেয়ে-খুঁয়ে, ফিরে যায় পিঁপড়ার শুমারি;
‘দুনিয়া’ ‘দুনিয়া’ বলে ডাকি- সাড়া আসে, ছায়া-প্রচ্ছায়া আসে;
বিস্মৃতি হতে উকি দেয় মাচাফুল, রোদ পেয়ে জ্বলজ্বল করে
প্রাচীন স্বপ্নের ভেতর।
 
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
 
 
করোনা সিরিজঃ সাডেন ডেথ
হীরক-রোদের উত্তরে এসে পাবো
মাটিমাখা ভাষার গোধূলি, সে আমি নিজেই ভাবিনি!
নিচে ছায়া মেলে দুলছে পাতারা, গাছে-
এ’ই ধানী গন্ধের বনে ঈর্ষাকে ঘোড়ায় বসাই
এ’ই দাবার ছকে এসে, দূর্যোগ-মহামারী, পাঠায় ইশারা;
 
অনেকটা হেঁটে এসে পা রাখি দ্বিধাচিহ্নে।এইদিকে মৃত্যুও, ভ্রাতৃপ্রেমী;
ফুসফুস ভরে আছে আত্মঘাতে, বিধুর আয়াতে ভারি!
 
আর হে বিপন্নতা, কিন্নরী রাত্রির শেষে, চোখে চোখে
অনিদ্রা রপ্ত হলো।এতে কার অন্তর্ধান, তোমাকে প্রসন্ন করে?
পৃথিবীকে প্রতিহত করে, এ কেমন সাডেন ডেথের ট্যাবু?
 
ভীন্ন ভীন্ন গোধূলির কাছে স্বরলিপি গচ্ছিত রেখে
ছোপ-দাগা হরিণীরা চায়, নিজ নিজ কান্নাকে ফিরে!
 
এই বাঁক থেকে তোমার নিজস্ব গান, চাঁদলাগা হাওয়ার আঘাতে
ফিরে যাচ্ছে ইছামতী, বুকে নাও তাকে।
 
 
 
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
 
 
 
ঝাড়বাতি জ্বলে টের পাও?
 
আমার তুমি আশ্চর্য কলি, জানো ঝিলিমিলি?
আমার তুমি
একার তুমি
কুঁড়েঘর আলো করা নারী, দ্বিতল চাঁদের
মেঘছোঁয়া পাড়, বিজলি-কিনার ঢের!
 
আমার বিশদে তুমি কালো মেয়ে, খুব ভালো মেয়ে
দৌড়হীন ঘর, সে-ঘর বিস্মিত, পাহাড়ের চেয়ে
কতো উঁচু হলে মনে ছাপ পড়ে চেহারার, আর
দু’দিকে নদীকে নিয়ে জনপদ, গর্বিত কবিতার
ধ্বনি, আমার তেমন তুমি, মাটি ফুঁড়ে গাছের শেকড়
দাগ কেটে ছাড়ায় নিজেকে, সে-রকম মাটির ওপর
আলো আর আলোকিত ঘর, সে-তুমি আমার
দ্যুলোক-ভরাট হাসি, সে-হাসি অমোঘ সেতার!
 
আমার তুমি আশ্চর্য ফুল, এইদিকে চাও
লোকে ব’লে যাক, ঘুরে ফিরে যাক ব’লে
ঝাড়বাতি জ্বলে হঠাৎই, তুমি টের পাও?
তাকালে তোমার চোখে, তাকালে অতলে!
তুমি সে-অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে*
শতাব্দী পারি দিয়ে আসা ডোডো, নির্ভয়ে
বুকে আসে সবুজ উড়াল নিয়ে, চঞ্চল;
আমার সে-তুমি, বিয়েত্রিচ, ও’প্রাঞ্জল!
 
(বিঃদ্রঃ কবি জয় গোস্বামীর ‘সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে না পাওয়া অতল’-এর সিকোয়েল করে এখানে অতলকে চেনারূপে পাবার ধারা রক্ষিত হয়েছে, ভাষিক উত্তরাধিকারসূত্রে এটুকু স্বাধীনতা কবিমাত্রেরই আছে মর্মে ইতিহাসও স্বাক্ষ্য দেয়।)
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
মায়ের স্মৃতি
 
ধার করা আয়ু নিয়ে বলো, বাঁচা যায় নাকি মা?
এই এতোসব অসুখে-বিসুখে, তুমি যে কান্না
ঝরিয়ে, ঝ’রে ম্লান স্বরে, একা ঘরে চেয়েছো নিদানও
আমি তো বুঝি মা, আমাদের হাসিমুখ তোমার বাঁধানো!
 
এতো গান গা’য় পাখি, মৌসুমী হাওয়ায় ভাসে
স্মৃতির শালুক দেখো, দূরে চেয়ে সেইখানে ব’সে
বলো মা আমার কেনো, নিদ্রা শিথিল হয়, দুঃস্বপ্নে
জগত জড়ুল নাকি, এতো যে ব্যাথার দশা, গাছবর্ণে!
 
যে মানুষ হেসে খুলে দেয়, ডাকাত দেখেই তার সদর ফটক
যে মানুষ সোফায় হেলে, বসে বসে দেখে টিভির নাটক
আর সব নকল ছায়ার ‘আমি’, দূরতর গাঁও-গেরামেই, নির্বাসিত
আপত্তি করে নাই রাত, অনিদ্রা টেনে আনে যদি ‘স্মৃতি’, বঞ্চিত!
 
আমি তো বুঝি মা, বুঝি-
 
মেঘলা দুপুরে হলো যার বুকে, বিষাদ ফলন
তুমি কি বাড়াবে হাত?
ইহকাল সাফ করে, বুকে হেঁটে, ধুয়ে দেবে মন?
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
 
সারাদিন প্রশ্নের মতো, পশুপালনের মতো
 
আমার কোনো বাজনা ছিলো না নিজের, ফটিকছড়ি কিংবা নিমাই পাহাড়;কোনোটাই ছিলো না আমার, অল্প আঁচে জ্বাল হচ্ছে চা; পিছনে হরগঙ্গাপুর, নিস্তরঙ্গ থাকার মানে আমার জানা-
 
তারপর‌ও পশুপালনের মতো
দূরের চরগুলিতে ঘুরতে যায় আমার হৃদয়, পাতকুয়া খুঁড়ে
সেখানে পানি তুলছে কেউ, সাথে ঘুঘুডাক, ঘরগুলি ছনে বাঁধা;
 
এখানে সারাদিন প্রশ্নের মতো
মেঘেদের আসা আর যাওয়া, স্বরভঙ্গ লাগে;
গমের ক্ষেতে লুকিয়ে পড়ছে রুগ্ন শেয়াল!
 
যেনো প্রচন্ড রাতে
নোঙর আটকাচ্ছে মাটি, একটি মাত্র শব্দের মতো, একান্ত
পরাহত জলবায়ুতে;
 
ক্ষরণ আসে, চিরদিন স্তব্ধতা ভেঙে!
এর নাম রেখেছি আবেগ, হালকা চালে লুকায় মনস্তাপ।
ঘূর্ণি থেকে পৃথক হচ্ছে হাওয়া-
 
অনেকটা দূর এগিয়ে গিয়েছে ঘাস
কোথাও তৃণভোজন মানায়, কোথাও উপাসনা কল্পনা করে কেউ; অনেকটা দূর সামনে এসে, পিছন ফিরে জোৎস্নাকে দেখে মানুষ। ঘূর্ণি থেকে পৃথকতর। যতোদিন পায়ে হাঁটাহাঁটি আছে, ফুরাবে কুয়াশা, স্বপ্নকে ভিতরঘরে ডেকে!
 
 
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
 
 
যাত্রাবাড়ী
 
তোরা যারা হেঁটে গিয়েছিলি পাহাড়ে, আমি নিচ থেকে সবাইকে
নাম ধরে ডেকে দেখেছি, গোড়ালিতে জোর থাকাটা জরুরি
নিজেকে উঁচু দেখাতে কাজে দেয়-ভাবতেছি, অথৈ অবধি যাবার আগে
একবার ঘুরে যাবো পুরাটা শহর;
 
তিনদিকে সিঁড়ি নিয়ে হাওয়া খায় ফ্লাইওভার
আর তাতে দাঁড়ালে নিচকার মানুষ ও জীবিকা
কতোখানি তুচ্ছ দেখায়, দেখবো;
 
তোমাদের সুনীল ছাতায় বৃষ্টিকে হাসিখুশি ঝরতে দেখে
চিনচিন ব্যাথাও বুকে চাপা পড়ে যায়, আর সেই ব্যাথার ধারে এসে
সকালেই কোনও যাত্রী, যাবে বলে ‘নছিমন-নছিমন’ ডাকে!
 
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত