চির নিদ্রায় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অফস্পিনার


ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে হার মানলেন ব্রুস ইয়ার্ডলি। বুধবার ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার এক হাসপাতালে ৭১ বছর বয়সে মারা গেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অফস্পিনার।


মিডল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ইয়ার্ডলি মিডিয়াম পেসার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। মাঝেমধ্যে দেখা যেত স্পিন করতে। ২৭ বছর বয়সে তিনি পুরোদস্তুর স্পিন বোলার হয়ে যান। ১৯৬৬ সালের ডিসেম্বরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ইয়ার্ডলির। প্রথম শ্রেণির পরের ম্যাচটি খেলেছেন তারও প্রায় চার বছর পর।

প্রথম এক দশকে মাত্র ১৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার সুযোগ পান ইয়ার্ডলি। এই সময়ে মাত্র ২৪৬ রান করেন, আর নেন ৬ উইকেট। শুরুটা বাজে হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা পেতেও লেগে গেছে অনেক সময়। সৌভাগ্যবশত তিনি অস্ট্রেলিয়ার জার্সি পেয়ে যান ১৯৭৮ সালে। কেরি প্যাকার্সের বিতর্কিত ওয়ার্ল্ড সিরিজ শুরু হওয়ায় বিভক্ত হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট। তখনই জিম হিগসের সঙ্গে স্পিন বোলার হিসেবে জায়গা পান ইয়ার্ডলি।

ভারতের বিপক্ষে পঞ্চম ও শেষ টেস্টে তার অভিষেক হয়। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও জায়গা পান দলে। নতুন অধ্যায়ে শুরুতেই বিখ্যাত হয়ে যান ইয়ার্ডলি, বল নয় ব্যাট হাতে। ব্রিজটাউন টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অ্যান্ডি রবার্টস, কলিন ক্রফট ও জোয়েল গার্নারকে নিয়ে গড়া শক্তিশালী পেস আক্রমণকে সামাল দিয়ে খেলেন ৭৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ওই ইনিংসে ২৯ বলে অস্ট্রেলিয়ার দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন, যা অক্ষত ছিল ৩৮ বছর।

১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩- পাঁচ বছরে ৩৩ টেস্ট খেলেন ইয়ার্ডলি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ৭ উইকেট নিলেও পরের সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েন, সিদ্ধান্ত নেন অবসরের। টেস্টে ৯৭৮ রানের সঙ্গে ঝুলিতে পুরেছেন ১২৬ উইকেট। ওয়ানডে খেলেছেন মাত্র ৭টি।

অবসরের পর ধারাভাষ্যকক্ষে অনেকবার দেখা গেছে ইয়ার্ডলিকে। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন শ্রীলঙ্কার কোচ। টেস্টের শীর্ষ উইকেটশিকারি মুত্তিয়া মুরালিধরন তার বিতর্কিত বোলিং অ্যাকশনের সময় ভালোভাবে সমর্থন পেয়ে গেছেন সাবেক এই স্পিনারের।

সূত্রঃক্রিকবাজ, ডেইলি টেলিগ্রাফ

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত