আজ মুক্তি পাচ্ছে ‘ফেলুদা: ফিফটি ইয়ার্স অফ রে’জ ডিটেকটিভ’

আজ শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে ‘ফেলুদা: ফিফটি ইয়ার্স অফ রে’জ ডিটেকটিভ’। ফেলুদা’র পঞ্চাশ বছরের জার্নি নিয়ে তৈরি এই তথ্যচিত্র শেষ হয়েছে ক্রাউডফান্ডিংয়ের জোরে। আপাতত নন্দন এবং প্রিয়া সিনেমায় আসছে ছবিটি পঞ্চাশ পেরিয়ে গিয়েছে ফেলুদার। তাকে নিয়ে বানানো তথ্যচিত্র ‘ফেলুদা: ফিফটি ইয়ার্স অফ রে’জ ডিটেকটিভ’ কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে যখন, তখন ফেলুদার ৫৩ চলছে। সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়ের তৈরি ডকুমেন্টারি মাঝপথে আটকে গিয়েছিল, প্রযোজক পিছু হঠায়। ক্রাউডফান্ডিংয়ের সাহায্যে ছবি সম্পূর্ণ করে শেষমেশ হল’এ মুক্তি পাচ্ছে ফেলুদার পঞ্চাশ বছরের জার্নি। আগামী ৭ জুন থেকে নন্দন এবং প্রিয়া সিনেমাহলে দেখা যাবে প্রায় দু’ঘণ্টার এই ডকু-জার্নি। যা ফেলু-ভক্তদের কাছে বড় পাওনা তো বটেই!

পঞ্চাশ বছর ধরে কীভাবে সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট একটা চরিত্র ‘কাল্ট’-এ পরিণত হল, সেটাই ডকু-ফিচারে তুলে ধরেছেন সাগ্নিক। কর্পোরেট এবং অ্যাড ফিল্মমেকার সাগ্নিকের বড় পরদার জন্য প্রথম কাজ এটাই। গোবিন্দ নিহালনি এবং সন্দীপ রায়ের সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। বুধবার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে সাগ্নিক জানালেন, ফেলুদা যে দু’মলাটের বাইরে গিয়ে একটা বিরাট ফ্যানবেস তৈরি করতে পেরেছে বাংলা ও বাংলার বাইরে, লোকে কথায়-কথায় আজও যেভাবে ফেলু-জটায়ু-মগনলালকে ‘কোট’ করে— এটার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়েই পরিচালক ভেবে ফেলেছিলেন এই ডকু তৈরির কথা। সন্দীপ রায়কে বলাতে তিনিও উৎসাহ দিয়েছিলেন। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়েছিল কাজটা। যা এতদিনে দেখতে পাবেন কলকাতার ফেলুপ্রেমীরা।

সন্দীপ রায় ক্যামেরার নেপথ্যে না থেকে এ ছবির অন্যতম মুখ। বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফেলুদা’র যত ‘ফ্যান’, তাঁদের খুঁজে ইন্টারভিউ করেছেন সাগ্নিক। জানালেন, ফেলুদা’র ছবির সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত প্রায় সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি। শুধু শশী কপূর বাদ দিয়ে। ছবির শুটিংয়ের জন্য জৈসলমের থেকে শুরু করে লন্ডন পর্যন্ত চষে ফেলেছেন সাগ্নিক। ‘‘সোনার কেল্লার দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম মুকুল, অর্থাৎ কুশল চক্রবর্তীকে। সঙ্গে বাবুদা। ওখানে দাঁড়িয়ে ওঁরা শুটিংয়ের গল্প বলেছেন,’’ বললেন সাগ্নিক। আবার লন্ডনে গিয়ে বেকার স্ট্রিটের এক বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যেখানে ফেলুদা বলছে, ‘গুরু, তুমি ছিলে বলেই আমরা আছি’, সেটা রি-ভিজ়িট করতেই সাগ্নিক আর তাঁর টিম পৌঁছে গিয়েছিল লন্ডনে। এছাড়া বারাণসী, মুম্বই, শান্তিনিকেতন-সহ বিভিন্ন লোকেশনে চলেছে শুটিং।

সন্দীপ রায় বললেন, ‘‘আমার উপরি পাওনা হল, এই ছবির জন্য আর-একবার জৈসলমেরটা ঘোরা হয়ে গিয়েছে আমার। সেই ১৯৭৩-এ গিয়েছিলাম ‘সোনার কেল্লা’র ইউনিটের সঙ্গে। তারপর এই। পুরোপুরি পালটে গিয়েছে জায়গাটা।’’ কীভাবে ‘সোনার কেল্লা’ ছবিটার উপর জৈসলমেরের ইকনমি দাঁড়িয়ে আছে, সেটাও বলছিলেন সত্যজিৎ-পুত্র, ‘‘ওখানে মুকুলের নামে দোকানের নাম পর্যন্ত রয়েছে, ‘মুকুল স্টোন শপ’! ত্রিকূটগড় দুর্গকে এখন ‘সোনে কা কিলা’ বলেই সকলে চেনে,’’ বলছিলেন সন্দীপ। পরিচালক জানালেন, কীভাবে জৈসলমেরে কুশল চক্রবর্তীকে স্বাগত জানিয়েছিল স্থানীয়রা, যাঁদের সকলেই অবাঙালি।

সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আর-এক ফেলু সব্যসাচী চক্রবর্তীও। ছবির বেশির ভাগ অংশটা তাঁকে নিয়েই। কারণ, তিনিই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে (১৯৯৫ সাল থেকে) ফেলুদার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সব্যসাচী বললেন, সন্দীপ রায় চাইলে আবারও তিনি ফেলুদা হতে রাজি! ‘‘ফেলুদাকে নিয়ে এই ডকুমেন্টেশনটা খুব জরুরি ছিল। আর এই প্রথম কোনও ফিকশনাল চরিত্রের ‘বায়োপিক’ দেখব আমরা। পরবর্তীকালে গুগাবাবা আর শঙ্কুকে নিয়েও এই ধরনের ডকুমেন্টারির কথা ভাবতে পারেন সাগ্নিক’’, আশা সব্যসাচীর।

শুরুতে ‘কলস এনটারটেনমেন্ট’এর রিচার্ড পিটার্সকে সাগ্নিক পাশে পেয়েছিলেন প্রযোজক হিসেবে। প্রজেক্ট শেষ হওয়ার আগেই মাঝপথে পিছু হঠেন তিনি। অবশেষে অনলাইন ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ‘উইশবেরি’র সাহায্যে ছবি সম্পূর্ণ করেন পরিচালক। নিউ ইয়র্ক ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার হয়েছিল ‘ফেলুদা: ফিফটি ইয়ার্স অফ রে’জ় ডিটেকটিভ’-এর। এছাড়া গত দু’বছর ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ঘুরেছে ছবিটি। গত বছর শহরের শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের ক্লোজ়িং ফিল্মও ছিল এটি। এবার হল’এ সাধারণ দর্শকের দরবারেও হাজির হচ্ছে ফেলুদা, তার পঞ্চাশ বছরের জার্নি সঙ্গে নিয়ে!

 

 

 

 

.

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত