‘দি ডিরেক্টর’ দেখে কে কি বলছেন


কামরুজ্জামান কামুর আলোচিত ছবি ‘দি ডিরেক্টর’ ইউটিউবে  রিলিজ করেছে এই ঈদে। বাংলাদেশে ইউটিউবে নিয়মিত গান, মিউজিক ভিডিও, নাটক কিংবা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়ে আসলেও আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুক্তি দেয়ার ঘটনা এই প্রথম। কেমন হলো কবি কামরুজ্জামান কামুর ‘দি ডিরেক্টর’ জানাচ্ছেন কবি ও সাহিত্যিকরা তাদের নিজস্ব মতামত।


অমিতাভ পালের মতামতঃ

কামুর দি ডিরেক্টর সিনেমাটা দেখলাম। লোকে যেইভাবে পর্ন বা হুমায়ুন আহমেদকে দেখে~ কামু সেইভাবেই দেখাতে চেয়েছে তার সিনেমাটাকে। মোটা দাগের সিনেমা। কামু যদি এভাবেই দেখাতে চায় সিনেমাটাকে, তাইলে কোন কথা নাই। কিন্তু এভাবে দেখাতে না চাইলে কামুর এই সিনেমাটা যাচ্ছেতাই।

প্রথম কারণের জন্য ডোনেশন করা যেতেই পারে। কিন্তু দ্বিতীয় কারণের জন্য কামুকে এক পয়সাও দেয়া ঊচিত না।

এখন সিদ্ধান্ত আপনার…

 

শোয়াইব জিবরানের মতামতঃ

গানের কথা বাদ দিলে ‘দি ডিরেক্টর’ চলচ্চিত্রটা কোনো দিক থাইকাই আমরারে স্বস্তি দেয় না, তৃপ্ত করে না। একটা অতৃপ্তি, অর্থহীনতা নিয়া আমরা ছবিটি দেখা শেষ করতে পারি। সাউন্ড, লাইট, অভিনয়, স্টোরি টেলিং, ফিচারিং… সব, সবকিছু নিয়াই সে অনুভূতি গড়ে উঠতে পারে।

অখনে এটারেও একটা ছকে ফেলার জন্য এটা একটা সুররিয়ালিস্টিক, এ্যাবসার্ড ফিল্ম এসব বলতে পারি। তাতেও অস্বস্তিটা যায় না। আর কিছুই হয় নাই বলে ফেলতে পারলে তো মামলা ডিশমিশ, খালাস। কিন্তু সবার জন্য সেটা বলাও সহজ না।

এ চলচ্চিত্রটার শক্তি এখানেই।

মহ্সীন চৌধুরী জয়ের মতামতঃ

দি ডিরেক্টর

রঙের মেলায় বায়োস্কোপ দেখার জন্য কত ঘুরেছি। দেখতে পাই নি। প্রেম করার সময়ও মনে হইছে আমার বয়সও বাড়ছে না কোনোভাবেই। একটা গানে কী পরিমাণ মুগ্ধতা কাজ করলে একটা সময়কে নিজের ভেতর রাঙানো যায়।

সেই কামু ভাইয়ের ছবি ‘দি ডিরেক্টর’। সময় করে প্রত্যাশা নিয়ে দেখতে বসলাম। অথচ তব্দা খেতে হলো ছবির মধ্যবর্তী সময়ে এসে। ছবির কাহিনি সেই ডিপজল-শাকিব মার্কা নায়কদের গতানুগতির কাহিনির মতোই। তারকাখচিত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয়কেও অভিনয়ই মনে হইছে।

কাহিনি, চিত্রনাট্য, পরিচালনা সবই এভারেজ লেভেলের। আমার মনে হয়, এরকম মুভি বানানোর চেয়ে না বানানোই উত্তম ছিল। অনেক সৃষ্টির মাঝে এ এক অনাসৃষ্টি যেন।

নির্ঝর নৈঃশব্দের মতামতঃ

কামুভাইয়ের সিনেমাটা অবশেষে দেখে ফেললাম। কোথাও বাহিরে ছিলাম বলে এতদিন দেখা হয়নি। অনেকদিন, অনেকদিন এই সিনেমা দেখার অপেক্ষা করে ছিলাম, ১০/১২ বছর তো হবেই। এই সিনেমারে মুক্তি নিয়ে কতো কিছু হলো, আন্দোলন, মানববন্ধন। মানববন্ধনে আমিও ছিলাম।

কামুভাই মানে কামরুজ্জামান কামু। তার সঙ্গে কখনো আলাপ-পরিচয় আমার হয়নি বা নিজে গিয়ে আলাপ করিনি। কিন্তু তারপরও তাকে আমি কামুভাই বলছি, এর কারণ ‘কার মালা হতে খসে পড়া ফুল রক্তের চেয়ে গাঢ়?’ মানে তার গানের কথা। তার কবিতা পড়ার আগে আমি তার লেখা গান শুনেছি সঞ্জীব চৌধুরীর কণ্ঠে।

কামুভাইয়ের সিনেমা এক নিশ্বাসে দেখলাম যেন। সময় কোন দিক দিয়ে গেল টের পেলাম না। কেবল রয়ে গেল অতৃপ্তি। ‘দি ডিরেক্টর’ মূলত সেই চিরন্তন অতৃপ্তির কাহিনিই বয়ান করে। এইটা মূলত কোনো সিনেমা নয়, এইটা একটা কবিতা। একটি লাল চাদরের আখ্যান, লাল চাদরের প্রতিশ্রুতি এইখানে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মানে ‘হাতের উপর হাতের পরশ রবে না।’

পুলিশ যখন পেটায় তখন চিৎকার করে কামু বলে, ‘আমি কবি, আমাকে ছেড়ে দাও’ তখন নিজে কামু মনে হয়। এই সিনেমার সব থেকে শক্তিশালী সংলাপ যেটা আমাকে তীব্রভাবে হন্ট করেছে, ‘তোমরা কবি ও ক্রিমিনালের পার্থক্য বোঝো না।’

এটা অতুলনীয় এক সিনেমা। দেশ-বিদেশের কোনো সিনেমার সঙ্গে তুলনা করে এই সিনেমা দেখা যাবে না। এই সিনেমা দেখতে হলে আগে থেকে কামুকে জানতে হবে মানে তার কবিতা, তার স্বপ্ন এইসব সম্পর্কে জ্ঞাত হতে হবে। এই সিনেমা দেখতে দেখতে কখনো মনে হয় ভিডিও গেম খেলছি, কখনো মনে হয় কমিক পড়ছি। যেনো কামুভাই যা ইচ্ছা তা করেছেন। মনে হচ্ছিলো এর স্ক্রিপ্ট তার মাথার ভিতরেই ছিলো, কাগজে লিখেননি। দেখতে দেখতে কখনো মনে হয় এটা আমি বানিয়েছি। কিংবা আমি বানালেও এমনই বানাতাম।

আপতত শেষ কথা হলো এই সিনেমা দেখতে হবে গভীর মমতা ও ভালোবাসা নিয়ে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত