বন্ধু দিনের গল্প

অগাস্ট মাসের প্রথম রবিবার কেনো বিশ্বব্যাপি বন্ধু দিবস পালন করা হয় সেটা হয়ত অনেকেরই অজানা।

ইতিহাস-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্ধু দিবসের ধারণার সৃষ্টি হয় শুভেচ্ছা কার্ড বিক্রেতাদের মাথায়।

শুভেচ্ছা কার্ড বিক্রেতাদের পকেট ভারী করার পায়তারা হিসেবে এই ধারণার প্রচুর সমালোচনা রয়েছে। তবে ক্রমেই তা জনসাধারণে মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবসে পরিণত হয়।

বর্তমান সময়ে মানুষ কালেভদ্রে শুভেচ্ছা কার্ড কিনলেও এই দিন বেশ সুপরিচিত। বিভিন্ন শিল্পখাত আজও এই দিবসের বরাত দিয়ে বাড়তি ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছে।

বন্ধু দিবসের ইতিহাস ঘাটলে এর উৎপত্তি পাওয়া যাবে ১৯৫৮ সালে। সেসময় ‘ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড’ শীর্ষক একটি সংস্থা বন্ধুত্বের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে কাজ করত। এই সংস্থাটি জুলাই মাসের ৩০ তারিখে বিশ্ব বন্ধু দিবস পালনের প্রস্তাব জানায়।

২০১১ সালে ‘জেনারেল অ্যাসেম্বলি অফ দ্য ইউনাইটেড নেশনস’য়ের কাছ আনুষ্ঠিক স্বীকৃতিও পায় দিনটি। তবে বিশ্বের অনেক দেশেই তা পালিত হয় অগাস্ট মাসের প্রথম রবিবারে।

এই দিবস সম্পর্কে আরও কিছু আকর্ষণীয় তথ্য রয়েছে।

– বন্ধু দিবসের ধারণা প্রচারের কৃতিত্ব দেওয়া হয় হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল’কে। সেই সঙ্গে আছে সমালোচনাও।

– প্যারাগুয়ে ছিল বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা ১৯৫৮ সালের ৩০ জুলাই বন্ধু দিবস পালন করে।

– বিশ্বের প্রথম বন্ধুত্বের দূত হিসেবে ঘোষণা করা শিশুতোষ কার্টুনচিত্রের চরিত্র ‘উইনি পু’কে। ১৯৯৮ সালে ইউনাইটেড নেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কফি আনান’য়ের স্ত্রী নানে আনান ‘উইনি পু’কে দূত হিসেবে ঘোষণা করেন।

– বন্ধু দিবসের ১০ বছর পূর্তী উপলক্ষ্যে ইংলিশ ব্যান্ড ‘বিটলস’ ১৯৬৭ সালে ‘উইথ ‍আ লিটল হেল্প ফ্রম মাই ফ্রেন্ডস’ নামের গানটি প্রচার করে।

– ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর এবং উরুগুয়েতে বন্ধু দিবস পালিত হয় জুলাই মাসের ২০ তারিখে। সেখানে দিনটির স্প্যানিশ নাম ‘দিয়া দেল আমিগো’ যার অর্থ বন্ধু দিবস।

– নারীদেরও আছে পৃথক বন্ধু দিবস যা তেমন একটা জনপ্রিয় নয়। সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় রবিবারে পালিত হয় উইমেন’স ফ্রেন্ডশিপ ডে’

– শুধু বন্ধু দিবস নয়, আছে বন্ধু মাসও। আর এই ব্যাতিক্রমী মাস হল ফ্রেব্রুয়ারি।

– আবার মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহকে অনেকে দেশে পালন করা হয় পুরনো বন্ধু নতুন বন্ধু সপ্তাহ হিসেবে।

– শুভেচ্ছা কার্ড দেওয়া, বন্ধুর হাতে ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড বাঁধা কিংবা বন্ধুরা মিলে কোথাও খেতে যাওয়া হল এই দিন উদযাপনের সাধারণ রীতি। আবার কিছু দেশে বিপদের সময় বন্ধুর পাশে থাকা বন্ধুদের গোলাপি ও হলুদ গোলাপ উপহার দেওয়ারও চল আছে।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত