গানে গানে মা

‘মা’ শব্দটি পৃথিবীর সবচেয়ে কোমল শব্দ। মায়ের চেয়ে মধুর আর আপন আর কিছু এই তল্লাটে নেই। সন্তান হয়তো মায়ের সাথে কখনো বিরূপ আচরণ করে, জাগতিক টানে হয়তো মায়ের অবদান ভুলে যায়; কিন্তু মা ঠিকই তাদের আগলে ধরেন। তাইতো জন হেরিস বলেছিলেন, ‘সন্তানেরা ধারালো চাকুর মত। তারা না চাইলেও মায়েদের কষ্ট দেয়। আর মায়েরা তাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত সন্তানদের সাথে লেগে থাকে’। মা এমনই।  এই সর্বংসহা মা‘কে নিয়ে পৃথিবীজুড়ে রচিত হয়েছে প্রচুর গান, কবিতা, গল্প আর সিনেমা। বাংলাতেও কোনো অংশে কম হয়নি। তেমনি মা’কে নিয়ে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া সকলের বহুবার শোনা কয়েকটি  গান থাকলো আজকের এই বিশেষ দিনে, যেগুলো মায়ের প্রতি ভালোবাসা উস্কে দিবে বলে ইরাবতী বিশ্বাস করে।

দশ মাস দশ দিন ধরে গর্ভে ধারণ

শিল্পী : জেমস সুর ও কথা: প্রিন্স মাহমুদ জেমসের গান মানেই অন্যকিছু, অন্যরকম এক ভালো লাগা। আর এই অসম্ভব মানুষটি যদি ‘মা’কে নিয়ে গেয়ে উঠেন, তাহলেতো কথাই নেই। হলোও তাই। মাকে নিয়ে গাওয়া জেমসের ‘দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ’ গানটি সমকালকে জয় করে বাংলা গানের ইতিহাসে অলিখিতভাবে তালিকাভুক্ত হয়ে যায়। ১৯৯৯ সালে ‘এখনো দুচোখে বন্যা’ নামের অ্যালবামটি শুধু এই একটি গানের জন্যই সুপার ডুপার হিট করে। গানটি সম্পর্কে জেমস বলেন, ‘মা পৃথিবীর একটি শ্রেষ্ঠ উপহার। আমি আমার মাকে হারিয়েছি, প্রিন্সও তার মাকে হারিয়েছেন। তাই হয়তো এই গানটি প্রিন্স মাহমুদ এমনভাবে লিখেছেন যারা মা হারিয়েছে, তারা বলতে পারবে এই গানের আসল অর্থ। শুধু যারা মাকে হারিয়েছেন তারাই নয় সব শ্রোতার কাছেই এই গানটি ভালো লাগবে’। দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ…

ওই আকাশের তারায় তারায়

শিল্পী: রাশেদ জামান সুর: শওকত আলী ইমন কথা: আসিফ ইকবালে এই গানটি প্রথম শুনা যায় এনটিভি ক্লোজআপ ওয়ান –এর আসরে। রাশেদ জামান এই গানটি প্রথম করেন। সুর এবং কথায় মায়ের প্রতি অন্যরকম এক ভালো লাগা তৈরি করে দেয় গানটি। মা’কে নিয়ে গাওয়া এখন পর্যন্ত এতো চমৎকার গান খুব একটা হয়নি। যদিও এই গানটি সবাইকে ছুঁয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ গীতিকার আসিফ ইকবাল। কারণ মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি তার মাকে হারান, মাকে হারানোর যে বেদনা তিনি তা হারে হারে টের পেয়েছেন; তার গানের পরতে পরতে মায়ের প্রতি সেই আর্তিই যেনো উঠে এসেছে। আর রাশেদের কণ্ঠেই এই অমায়িক গানটি যেনো আরো অসাধারণত্ব পেয়েছে। রাশেদের কণ্ঠে ‘ওই আকাশের তারায় তারায়।

পথের ক্লান্তি ভুলে স্নেহ ভরা কোলে তব মাগো

শিল্পী ও সুর: হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কথা: কথাঃ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার এই গানটিতে প্রকৃত মায়ের চেহেরা তুলে ধরেছেন গৌরীপ্রসন্ন বাবু। মা’কে নিয়ে লেখা শুধু বাংলা গানের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এমন হৃদয় নিংরানো ছুঁয়ে গান খুবই বিরল। মায়ের প্রতি সন্তানের হৃদয়মথিত যে আকুতি, এবং একই সাথে মায়ের সারল্য অসাধারণভাবে শব্দে, বাক্যে গেঁথে দিয়েছেন সুরকার।১৯৫৭ সালে উত্তম কুমার অভিনীত ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’ নামের ছবিতে প্রথম ব্যবহার করা হয় এই গানটি। আর এই ছবির সংগীত পরিচালকও ছিলেন স্বয়ং হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ছবিতে তিনি নিজেই সুর দিয়ে গানটি গেয়েছিলেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’ ছবিতে গানটি

মধুর আমার মায়ের হাসি

সুর:সুধীর লাল চক্রবর্তী কথা:প্রণব রায় মায়ের সাথে কারো তুলনা চলে না। মায়ের হাসি, চলন-বলন সবই লেগে গেখে থাকে সন্তানের । । মা হয়তো কখনো সখনো দূর আকাশের তারা হয়ে যায়, কিন্তু তবুও সে সন্তানের সুখে-দুঃখে অদৃশ্য ছায়া হয়েই প্রদীপ জ্বেলে রাখেন। মধুর আমার মায়ের হাসি/চাঁদের মুখে ঝরে/মাকে মনে পড়ে আমার/মাকে মনে পড়ে গানটি বাংলায় বহু শিল্পী গেছেছেন। তারমধ্যে অনুপ ঘোষাল এই গানটির জন্য জনপ্রিয়। সাদী মুহম্মদের কণ্ঠে ‘মধুর আমার মায়ের হাসি’

একটা চাঁদ ছাড়া রাত আঁধার কালো

কবির বকুলের লেখা এবং কুমার বিশ্বজিতের সুর ও কণ্ঠে গানটি বেশ জনপ্রিয়তা এনেছে শ্রোতা মহলে। পিএ কাজল পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা’ ছবিতে গানটি ব্যবহার করা হয়। গানটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান বিশ্বজিৎ এবং কবির বকুল। এটি একাধারে বিজ্ঞাপনচিত্র, চলচ্চিত্র ও অডিও অ্যালবামে ব্যবহার করা হয়েছে। গানটি প্রথম বের হয় ২০০৯ সালে ওয়ারিদের বিজ্ঞাপনচিত্রে। এরপর ‘স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে গানটি জনপ্রিয়তা পায়। একই বছর গানটি প্রকাশ হয় কুমার বিশ্বজিতের একক অ্যালবাম ‘রোদেলা দুপুর’-এ।

 

মা

তারে জমিন পর সিনেমায় ব্যবহার করা এই গানটি হিন্দি সিনেমার গানে একটি মাইলফলক।

অরিজিৎ সিং এর কন্ঠে মা

মা কে নিয়ে আরো কিছু হিন্দি গান

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত