আজ গোলাম মুরশিদের ৮০তম জন্মদিন

Reading Time: 2 minutesআজ ১৯ মার্চ ড. গোলাম মুরশিদের জন্মদিন। এই শুভদিনে ইরাবতী পাঠকদের জন্য তুলে এনেছে তারই একটি লেখা যা যুগান্তরে প্রকাশ পেয়েছিল।   ১৯৪০ সালের ৮ এপ্রিল বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামে ড. গোলাম মুরশিদ জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ করেছেন। তার প্রথম কর্মজীবন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর প্রায় দু দশক তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডনে বিবিসি’র বাংলা বিভাগে কাজ করেছেন। এ ছাড়া ১৯৯১ সাল থেকে লন্ডনে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। গোলাম মুরশিদের উল্লেখযোগ্য গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে আছে আশার ছলনে ভুলি, রাসসুন্দরী থেকে রোকেয়া: নারীপ্রগতির একশো বছর, বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান, সংকোচের বিহ্বলতা, সমাজ সংস্কার আন্দোলন ও বাংলা নাটক, রবীন্দ্রবিশ্বে পূর্ববঙ্গ পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রচর্চা, স্বাধীনতা সংগ্রামের সাংস্কৃতিক পটভূমি, হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি, বিলেতে বাঙালির ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর: একটি নির্দলীয় ইতিহাস, বিদ্রোহী রণক্লান্ত।     নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হয়নি : ড. গোলাম মুরশিদ   আমরা দুটি আলোর মশাল দেখতে পাই। একটি মশালে দেশের অর্থনীতির ব্যাপক উন্নতি এবং আরেকটি মশালে নারী অন্দোলনের সামনের দিকে এগিয়ে চলা। এরই ফলস্বরূপ নারীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে কাজ করছ্। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে কিন্তু নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হয়নি। কাজেই নারীর যে ক্ষতায়ন হয়েছে তা আংশিক ক্ষমতায়ন। ধর্মের দোহাই দিয়ে, সামাজিক, পারিবারিক সংস্কৃতি বিভিন্ন দোহাই দিয়ে নারীকে আটকে রাখা হচ্ছে। এই বলয় ভেঙে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। নারীদের নিজের অধিকারের কথা চিৎকার করে বলতে হবে তাহলে নারী এগিয়ে যেতে পারবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দু’দিন ব্যাপী জাতীয় পরিষদ সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক ও গবেষক ড. গোলাম মুরশিদ এ কথা বলেন। “একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করি, শক্তিশালী নারী সংগঠন ও নারী আন্দোলন গড়ে তুলি’’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, যুগ যুগ ধরে নারীদের যে উত্থান, অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি তা বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের অর্জন। নারীরা আজ সমস্ত পেশায় এগিয়ে এসেছে। কিন্তু নারীর প্রতি সহিংসতাও ক্রমাগত চলছে। নারীর প্রতি সহিংসতা কেন হচ্ছে, নারীর অধস্তনতার পিছনে, কোন আইন, কোন সামাজিক দর্শন কাজ করছে সে বিষয়ে মহিলা পরিষদ জানার চেষ্টা করে। নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন হবে, নারী পূর্ণ অধিকার নিয়ে, ব্যক্তি অধিকার নিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। সার্বজনীন মানবাধিকার নীতিমালার আলোকে অভিন্ন পারিবারিক নীতিমালা সরকারের কাছে পেশ করেছি। সমাজ কাঠামোগতভাবে নারীকে অবদমন করে রাখার জন্য যে কৌশল অবলম্বন করছে সে বলয় ভাঙ্গার জন্য সমাজ, সরকার ও রাষ্ট্রকে ক্রমাগত নাড়া দেয়া হচ্ছে। নারীর উন্নয়নের জন্য আত্ম পর্যালোচনা ও আত্ম প্রশিক্ষণ অনেক জরুরি। ২০১৬ হতে ২০১৭ তে নারী এবং মেয়েশিশুদের ওপর সহিংসতার মাত্রা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। একই সাথে সুকৌশলে পাঠসূচির যে বিবর্তন হচ্ছে তা আমাদের প্রত্যাশা ছিল না। নারীর জন্য সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা সেই বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। নারী আজ চ্যালেঞ্জ মোকবেলা করছে গন্ডি ভেঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাগত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, বিশ্ব যখন অতি ধীরে ক্রমশ অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে তখন পূর্ব এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে দেশ অগ্রসর হচ্ছে। যেখানে নারীর অবদান উল্লেখযোগ্য। অর্থনৈতিক সামাজিক সূচকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নারী আন্দোলন, মানবাধিকার আন্দোলন তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।      

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>