পৃথিবী ধ্বংসের ইতিকথা

সাধের এই বাসভূমি ছেড়ে অমুক দিন নাকি চলে যেতে হবে। এদিক ওদিক কান পাতলে এমনই নিদান শোনা যাচ্ছে । আর সেই মহাপ্রস্থান হবে জনগণতান্ত্রিক। যেভাবে সব্বাই রেশন দোকানে লাইন দেয়, সিনেমার টিকিট কাটে কিংবা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁত ক্যালায় সেরকমই একত্রিতভাবে টুক করে পটল তোলা।

এই নিয়ে ফের একটা দিন। যে দিনের পরতে পরতে নাকি লেখা আছে মৃত্যুর ঠিকানা।

বেশ কয়েক বছর, বলা ভাল কয়েক যুগ ধরেই এমন দিন নিয়ে বহু রটনা চলে আসছে। মহাপ্রলয়ঙ্কর দিনকে ঘিরে নানা আশঙ্কার ঘনঘটা।

তাও আবার এমন একটা সময় এই কথাটা ছড়িয়ে পড়েছে যখন মানবসভ্যতা ঘোরতর সঙ্কটে। লড়াই করছে মেঘনাদের মতো আত্মগোপন করে থাকা এক প্রবল শক্তিধর জীবাণুর সঙ্গে।

আর এই চলে যাওয়ার ভয়ে থরহরি কম্পমান প্রলয়কান্ত হালদার। লোকে অবশ্য পুরো নাম ধরে কখনই ডাকে না। নধরপুরের সবার মুখে মুখে ফেরে প্রলয় কিংবা প্রলয়দা। ওকে কেউ প্রলয়বাবু বলে ডেকেছে, এমনটা কিন্তু গোটা মহল্লাতে কেউ বলতে পারবে না।

যে কোনও বিষয়ের মধ্যেই মৃত্যুর আশঙ্কা খোঁজে প্রলয় । সেজন্য আড়ালে ওর একটা বদনামও আছে। প্যানিক প্রলয়। সামান্য মাছ খেতে গিয়েও ওর মনে হয় কাঁটা টা আবার শ্বাসনালীতে বিঁধবে না তো? ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যেতে যেতেও মনে হয় গাড়িগুলো উঠে এসে তাকে চাপা দিয়ে দেবে না তো? এমনকি ট্যাবলেট খেতেও ভয় পায়। ভাবে গিলতে পারব তো?

আরেকটা সমস্যাও আছে। যখন তখন, রাস্তাঘাটে বড় বাইরে যাওয়ার তাগিদ চাপে ওর। এই রোগের কারণে ঠিকমতো চাকরিটাই করতে পারেনি। তিন-চারটে প্রাইভেট ফার্ম থেকেই এক কথা শুনতে হয়েছে, ” প্রলয়বাবু আপনার মতো ইনডিসিপ্লিন্ড মানুষকে দিয়ে আর যাই হোক, চাকরিবাকরি হবে না। সত্যি তো কাজের জায়গা দেরি করে পৌঁছালে কেই বা তা বরদাস্ত করবে।

কিন্তু, এটাও তো ঠিক প্রলয় হালদার তো আর এমনি এমনি দেরি করে না। বড় বাইরে যাওয়ার চাপ সামলে বাড়ি থেকে বেরনোটাই তো আসল সমস্যা। তারপর অফিসের বাসে চড়ার পরেও পেট টা গুড়গুড় করতে থাকে। একেকদিন তো এমন হয় সহযাত্রীরা বলে ওঠেন, ” কি দাদা শরীর টরীর খারাপ লাগছে নাকি?”
প্রলয় কোনওমতে জবাব দেয়, ” না না। প্রেসারটা মনে হয়।”
” তাহলে নিশ্চয়ই প্রেসারের ওষুধ খান নি। বাস থেকে নেমে অবশ্যই ওষুধটা কিনে নেবেন।” বাসজুড়ে গুঞ্জন চলতেই থাকে। প্রলয় মনে মনে ভাবে ধুস, এই হাড়জিরজিরে শরীরে প্রেসার হোক আর প্রেসার কুকার, কারো ঠাই নেই। এ শরীর হল লো প্রেসারের মুক্ত বিচরণ ভূমি।

মুখে অবশ্য কিছু বলে না। প্রেসারের অজুহাতে একটা সিটও জুটে যায়। কনডাক্টরই শশব্যস্ত হয়ে একজন ছোকরাকে তুলে বসিয়ে দেন প্রলয়কে। দরদর করে ঘামতে ঘামতে সে তখন বেগ চাপার কৌশল চালিয়ে যায়।
এই বিদঘুটে ইরিটেবল বাওল সিনড্রম নামক ঘনঘন পায়খানা পাওয়ার রোগটা সারাতে হাজারো ডাক্তারবদ্যি দেখিয়েও কোনও লাভ হয়নি। একজন নামজাদা ডাক্তার তো বলেই দিয়েছেন, ” মশাই ও রোগ আপনার মাথায় চেপে আছে। সেটা নামাতে হবে আপনাকেই। আমি ওষুধ দেব ঠিকই। কিন্তু স্থায়ী সুরাহা মিলবে না।”
গত কয়েক বছর ধরে অবশ্য নধরপুরের বয়োবৃদ্ধ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক মোহন বটব্যালকে দেখিয়ে সেই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। প্রলয় এখন ছোটখাটো একটা ব্যবসাও শুরু করেছে ।

এবারেও যথারীতি ভয়ে পুরো সিঁটিয়ে গিয়েছে প্রলয়।
“ওইদিনটা কি তাহলে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মৃত্যুদিন?” প্রশ্নটাও করে ততোধিক ভীত সন্ত্রস্ত কণ্ঠে।

“আরে বাবা তোর আমার ক্ষেত্রে যদি ভাল সময় থাকতে পারে, তাহলে একটা খারাপ সময় ঘনিয়ে আসতে পারে না ? সেরকমই কিছু ধরে নে না।”
কথাটা শেষ করে প্লাস্টিকের মোড়ক থেকে একটা পান মুখে গুজলেন ষষ্ঠীচরণ মাইতি। চরণ বিয়োগ হয়ে এনার ষষ্ঠী নামটাই এখন চলিত হয়ে উঠেছে। যদিও নধরপুরের অধিকাংশ মানুষের কাছে তিনি ষষ্ঠীদা হিসেবেই বেশি পরিচিত।

এহেন ষষ্ঠী মাইতি আবার পুরো প্রলয়কান্তের বিপরীত। ভয় বলে কোনও বস্তু ওনার অভিধানে নেই। বয়স পঞ্চাশোর্ধ। দুনিয়ার সব ব্যাপারেই টনটনে জ্ঞান। হিল্লি দিল্লি থেকে আমেরিকা, জার্মানিতে কি হচ্ছে, কি হচ্ছে না সব ওনার নখদর্পণে। তবে সমালোচকরা বলে থাকেন ষষ্ঠী মাইতি তাঁর গপ্পগাছায় প্রচুর জল মেশান।

এই তো সেদিন মোড়ের মাথার বীরেন জেঠু বলছিলেন, ” দ্যাখ বয়স তো আমার কম হল না। আর ষষ্ঠীচরণ তো আমার থেকে অনেকটাই ছোট। তাও ওর জ্ঞানবুদ্ধি, পড়াশুনাকে আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু পাশাপাশি এটাও ঠিক, ষষ্ঠী কিন্তু গোয়ালাদের চেয়েও বেশি জল মেশায় ওর ওই গল্পকথায়। “

তাও ষষ্ঠী হলেন নধরপুরের সবেধন নীলমণি। এলাকার নামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এখানকার মানুষগুলোও বেশ হৃষ্টপুষ্ট। জিনগত ভাবেই হয়তো নধরপুরবাসী মোটাসোটা চেহারার ধাত পেয়েছে। তবে ষষ্ঠী আর প্রলয়র চেহারা কিন্তু মোটেই নধরপুরের সঙ্গে খাপ খায় না। দুজনেই রোগা ঠিকই, কিন্তু তাঁর মধ্যেও তফাৎ আছে।

ষষ্ঠীর পেটটা ফোলা, কিন্তু হাত, পা সরু সরু। সবমিলিয়ে কেমন যেন বেঢপ চেহারা। তার ওপর ষষ্ঠী হলেন পাঁচ ফুটিয়া। মানে বেশ বেঁটেই। ভুড়ির সঙ্গে অমন বেঁটেখাটো গতর নিয়ে আজব লাগে ষষ্ঠীচরণকে। তার সঙ্গে পিলে চমকানো বাঁজখাই গলা যেন ষোলোকলা পূর্ণ করেছে।

প্রলয়কান্ত হল একেবারে লিকলিকে চেহারার। তার সঙ্গে ঢ্যাঙা বলে কেমন যেন তালপাতার সেপাই গোছের লাগে। আর গলার আওয়াজ ততোধিক মিনমিনে। যারা ওকে চেনে না, জানে না, তাদের পক্ষে চট করে প্রলয়ের কথা বোঝা মুশকিল। তবে নধরপুরবাসীর কাছে প্রলয়ের সেই মিনমিনে কণ্ঠই বেশ সহজবোধ্য।

এবারেও প্রলয় সেই ভয়ে মরতে আরম্ভ করেছে। চারদিকে যেভাবে ভাইরাসের ভসভসানি চলছে তাতে শুধু প্রলয় কেন, দুনিয়ার সবাই কমবেশি ভয় পেয়েছে। ভাইরাসটা যেন ভ্যাম্পায়ারের মতো পৃথিবীর মানুষকে রক্তশূন্য করে তুলছে। হারিয়ে যাচ্ছে যাবতীয় আনন্দ, স্বাদ-আহ্লাদ।
অজগরের মতো লক্ষ লক্ষ মানুষকে গ্রাস করছে এই মারণরোগ।

এর মধ্যে ষষ্ঠী ওর চিরাচরিত ঢঙে প্রলয়কে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বলা ভাল সাহস জোগাচ্ছেন। যথারীতি তাতে বিস্তর জলও মেশাচ্ছেন। কিন্তু এই আপৎকালীন সময়ে সেই প্রচেষ্টা হার মানাবে যে কোনও বড় মনস্তাত্ত্বিককেও। এমন কাউন্সেলিং শুনতে লকডাউনের নিয়ম মেনেই এদিক ওদিকে তফাৎ করে দাঁড়িয়ে আরও কয়েকজন। হ্যাঁ, তাঁদের মধ্যে বীরেনবাবু আর হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার মোহন বটব্যালকেও দেখা যাচ্ছে।

ষষ্ঠী সমানে বলে চলেছেন, ” আরে। আমি তখন অনেক ছোট। কত হবে? ওই ক্লাস থ্রি-ফোরে পড়ি বড়জোর। হঠাৎ একদিন শুনলাম অমুক দিন নাকি গোটা পৃথিবী টা ধ্বংস হয়ে যাবে। “
” তুমি ঠিকই শুনেছিলে। সেটা ছিল আশির দশকের গোড়ার দিক। সে সময় আমি সবে কলেজে উঠেছি।” পাশ থেকে বিজ্ঞের মতো ফোড়ন কাটেন বীরেন জেঠু।

সেকথা অবশ্য গায়ে না মেখে ষষ্ঠী ফের শুরু করেন, ” তা হল কি যেদিন পৃথিবীর শেষদিন বলে চিহ্নিত হয়েছিল, সেদিন সকাল থেকেই দেখলাম বাড়ির ঠাকুমা, জেঠিমা, মা, কাকিমারা সব ঠাকুরঘরে হত্যে দিয়েছেন। একটু একটু কানে আসছে কিছু কিছু কথা।”
অস্ফুটস্বরে সমস্বরে ঠাকুমারা তেত্রিশ কোটি দেবদেবতার উদ্দেশ্যে বলে চলেছেন, ” হে নারায়ণ, হে ভোলেনাথ, মা লক্ষ্মী, মা সরস্বতী, হে সিদ্ধিদাতা এবারটির মতো মাফ করে দাও। কথা দিচ্ছি আর তোমাদের পুজোয় কোনও অনাচার হবে না। তোমরা যে ফল, যে লাড্ডু আর যে ফুল পছন্দ করো সেগুলো দিয়েই রোজ তোমাদের পুজো করব। কোনও খামতি রাখব না। “
“এই নিবেদনের মাঝেই কানে এল মা, জেঠিমা, কাকিমাদের কান্নার কোরাস। ওদের এই ঠাকুরঘরে গ্যারাজ হয়ে যাওয়ার জন্য সেদিন আমাদের জলখাবার জুটেছিল নমো নমো করে। আর দুপুরে খেতে খেতে বিকেল হয়ে গিয়েছিল।”

“খাবার হ্যাভিটসে এত দেরি মোটেই হাইজেনিক নয়। এই করে করেই বাঙালিদের এত পেটের প্রবলেম, লিভারের গণ্ডগোল।”
আর চুপ না থাকতে পেরে হোমিও চিকিৎসক মোহন বটব্যাল এবার মুখর হলেন।

” আরে ডাক্তারবাবু এটা কি আর রোজকারের কথা নাকি? এটা তো সেই দুনিয়া ধ্বংসের দিনের গল্প।” মোহন বটব্যালকে থামালেন ষষ্ঠীচরণ। ” তাও একটা দিনের গ্যাপও মোটেই হেলাফেলা করার মতো নয়।” তখনও গজগজ করে চলেছেন ডাক্তারবাবু।

মিনমিনে সুরে এবার প্রলয় শুধাল, ” তারপর কি হল ষষ্ঠীদা।” মারণ চিন্তা ভুলে প্রলয় যে ওর কথায় মনোনিবেশ করেছে এটা ভেবেও ভাল লাগল ষষ্ঠীর। তার মানে ভয় কাটিয়ে ওকে অন্য দিকে মনোযোগী করে তোলার চেষ্টা সফল হচ্ছে।

” তারপর আবার কি? সেদিন পৃথিবী ধ্বংস তো দূরের কথা, সামান্য একটু ভূমিকম্পও হয় নি। তবে হ্যাঁ, সন্ধ্যের দিকে একটু বৃষ্টি নেমেছিল বটে। তা দেখেও ঠাকুমার কি ভয়। মনে আছে তাঁর নির্দেশে মা’দের সেই একনাগাড়ে শঙখধ্বনির কথা। এখনও যেন শুনতে পাই সেই আওয়াজ।”

” সব বাড়িতেই শঙখ বেজেছিল সেদিন। ” বীরেনজেঠু ফের মুখ খুলল।

যথারীতি সে কথায় কার্পণ্য না করে ষষ্ঠীচরণ বলে উঠলেন, ” কি রে প্রলয়। ভয়টা খানিক কাটল?”
“হ্যাঁ, গো দাদা। তোমার এই বেত্তান্ত শোনার পর মনটা খুব হাল্কা লাগছে। তা তুমি বলছিলে আরও নাকি বেশ কয়েকবার দুনিয়া ধ্বংসের এমন খবর রটেছিল?”

” তা তো রটেছিলই। একবার শোনা গেল বিষম প্রকাণ্ড এক ধূমকেতুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে গোটা পৃথিবী টা নাকি টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। আমি তখন সবে মাধ্যমিক পাশ করেছি। পড়াশুনার চাপ নেই। দিব্বি খেলাধুলা করে বেড়াচ্ছি। আর হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে অমিতাভ, মিঠুনদের সিনেমাও দেখছি।
এমন একটা সময় ফের রটে গেল সেই ধ্বংসের বার্তা। তখন তো আর আজকের মতো ইন্টারনেট নেই, গুগুলপনা করার বালাই নেই। সংবাদপত্র থাকলেও এখনকার ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মতো এত হাঁড়ির খবর পাওয়া মুশকিল। জনশ্রুতি তখন মারাত্মক মাধ্যম।”

” জনশ্রুতি মানে? ” কৌতুহলী প্রশ্ন এবার প্রলয়ের।
” আরে বোকা জনশ্রুতি মানে হল লোকের মুখে মুখে ফেরা কথা।” তাৎক্ষণিক জবাব ষষ্ঠীর। বলেই আবার আরম্ভ করে, ” সে কথা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ত, যে নিমেষের মধ্যে গাঁ-গঞ্জ হয়ে শহর, শহরতলি সর্বত্র একেবারে গুজগুজ করতে থাকত খবরটা। তার ওপর এমন প্রলয়ঙ্করী খবর হলে তো কথাই নেই। যতই খবরের কাগজে বিজ্ঞানী মহোদয়রা যুক্তি সাজিয়ে লিখুন না, সেদিকে নো পাত্তা। পাড়াতুতো কিছু লোকজনেরাও ছিলেন এসব খবরের খনি। তাঁদের সূত্রেই আরও মাখো মাখো হয়ে উঠত এই ধরনের গুজবগুলো।”

” তাহলে তুমি বলছ, পৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারটা পুরোই গুজব।” প্রলয় আবার সরব।
” হ্যাঁ রে হ্যাঁ। এটা কি মগের মুলুক নাকি? যে ঝটাপট সবাই একসঙ্গে চন্দ্রবিন্দু হয়ে গেলাম। রোগ, মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক মানুষ মারা যান ঠিকই। কিন্তু পাশাপাশি রোজ কত ক্ষুদের জন্ম হচ্ছে বল তো। তাদের মাধ্যমেই তো গড়ে উঠছে নয়া প্রজন্ম। এভাবেই সৃষ্টির কাছে রোজ হেরে চলেছে অনাসৃষ্টি। “

বেশ কিছুক্ষণ লেগেছিল প্রলয়ের ঘোর কাটতে। মনোযোগী ছাত্রের মতো এতক্ষণ যেন ক্লাস করছিল ষষ্ঠীর কাছে। একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে ষষ্ঠীর দিকে তাকিয়ে এরপর প্রলয় বলে উঠল, ” ষষ্ঠীদা তুমি আমার চোখ খুলে দিলে গো। এতদিন ধরে একটা মিথ্যে ভয় আমাকে গ্রাস করে ছিল। রোজ রোজ মরছিলাম।”

” তাহলে এবার থেকে ভয়কে জয় করতে পারবি তো?” এতক্ষণের কাউন্সেলিং কাজে এসেছে দেখে উচ্ছ্বসিত স্বরে বলে উঠল ষষ্ঠীচরণ।
” হ্যাঁ। এবার থেকে যে যতই গুজব ছড়াক না কেন, আমলই দেব না তাকে। তবে হ্যাঁ, লকডাউনটা ঠিকমতো মেনে চলব। ঠিক হারিয়ে দেব ওই শয়তান ভাইরাসকে।” সটান জবাব প্রলয়ের।

” বাহ। এটাই তো চাইছিলাম রে। হ্যাঁ। আমরা সবাই লকডাউনের যাবতীয় বিধিনিষেধ মেনে চললে আর সরকারের কথা শুনলে ঠিক এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারব। আবার কল্লোলিত হয়ে উঠবে এই দুনিয়া। ” সংযোজন করে ষষ্ঠী।
” ষষ্ঠীদা, মনের লকগেট টা এই যে খুলে দিলাম, আর ঝাঁপ বন্ধ হতে দেব না কিছুতেই। প্রাণভরে বাঁচব এবার থেকে।”

মন্তব্য করুন




আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত