| 19 জুলাই 2024
Categories
দুই বাংলার গল্প সংখ্যা

চিমটি  

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.comঅগ্রহায়ণ মাসের মাত্র দুইদিন অতিক্রান্ত হয়েছে। মাসের শুরুর প্রথম দুইদিনেই প্রচ- বৃষ্টি। গতরাতে অফিস থেকে পিয়াস বাসায় পৌঁছায় যখন, তখন রাত ঠিক বারোটার ঘরে ঘড়ির কাটা। বাসেই প্রচন্ড- ক্ষুধায় হাসফাস করে সে কিন্তু তখন তো আর খাওয়া সম্ভব না। তারচেয়ে বরং বাসায় পৌঁছে  রাতের ডিনার করার পরিকল্পনা করল পিয়াস।

মধ্যরাত। আকাশে কোনো তারা নেই। রাস্তায় লোকজনও তেমন নেই। আর থাকবেই বা কেন-গত দুইদিন যেভাবে বৃষ্টি হলো আর সঙ্গে শীত-তাতে কে থাকবে। এমনিতেই বৃষ্টিতে ঢাকাবাসীর দুর্ভোগের সীমা নেই। একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অবশ্য ঋতুরও পরিবর্তন ঘটেছে। বলা যায় বাংলাদেশে এখন আর ছয় ঋতু নেই। বর্ষা, শীত আর গরম। অবশ্য গরমকালই বেশি থাকে। পিয়াস ভাবছে জলবায়ু পরিবর্তনের ঢেউ বাংলাদেশে লেগেছে। রাতের খাবার শেষ করে বিছানায় পিয়াস শুয়ে পড়র। লাইট অফ করে দিল। ঘুমানোর চেষ্টা করছে।

মনটা বিষন্ন। দুদিন আগে ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু ফ্রিজ নয়, মোবাইল চার্জারও কাজ করছে না। এর অবশ্য কারণও আছে। দুই দিন আগে সকাল বেলা যখন পিয়াস সিলিং ফ্যানের সুইচ অন করে  তখন ফ্যান অনেক জোরে ঘুরা শুরু করল। কী কারণে সাথে সাথে ফ্যানটা অফ করে দিল। সর্বনাশটা তখনই ঘটে। হঠাৎ অতিরিক্ত ভোল্টেজে ফ্রিজ যায় বন্ধ হয়ে। কী আর করা। ঘটনা যা হবার তা তো ঘটে গেছেই।

ঘুম থেকে যখন উঠে তখন সকাল এগারোটা। দাঁত ব্রাশ, দাড়ি সেভ, গোসল করে ফ্রেশ হয় পিয়াস।  বউ প্র্যাগনেন্ট। গ্রামে বাপের বাড়িতে গেছে কনিনিকা। চার বছর আগে কনিনিকাকে বিয়ে করে পিয়াস। একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে সে। অনেক ইচ্ছে ছিল বউকে ব্যাংকে চাকরি করাবে। কিন্তু সে আশা ভেঙে দিয়েছে কনিনিকা। বিয়ের পরই চাকরি করবে না বলে প্রমিজ করিয়েছে সে। কোনো মতে চাকরি করে সংসার চলে পিয়াসের। যে মাইনে পায় তা দিয়ে সংসার চলে যায় যদিও মাস শেষে টানাপোড়েন পড়ে। প্রতি মাসের শেষের দিকে ঋণ করে চলতে হয়। এ নিয়ে প্রায়ই মান-অভিমান চলে পিয়াস-কনিনিকার।

আজ বৃষ্টি নেই। গোসল, নাস্তা সেরে অফিসের উদ্দেশে বের হলো। দশ মিনিটের পথ হেঁটে চলে গেল বাসস্ট্যান্ডে। এরপর বাসে উঠল। পয়ষট্টি সিটের বাস। কোনো সিট ফাঁকা নেই। সবশেষ সিটের আগের একটা সিট ফাঁকা। একপাশে এক বোরকা পড়া তরুণী বসা। পাশের উল্টাদিকে সিটে এক পুলিশ কর্মকর্তা বসা। হাতে ওয়াকিটকি। পড়নে ইউনিফরম। পিয়াস কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বোরকা পড়া তরুণীর পাশে গিয়ে বসল। এর আগে যখন দাঁড়িয়ে ছিল, তখন একপলকে দেখেছিল তরুণীকে। স্মার্ট, বয়স ষোল কিংবা সতের বছরের বেশি হবে না। পায়ে সেন্ডেল। হাতে কালো ব্যাগ। কালো বোরকা পড়া। মাথায় হালকা বেগুনী স্কার্ফ পড়া।

বাস যাচ্ছে। রাজধানীতে বাসের অবস্থা খুবই করুন। এক সময় ঢাকাকে বলা হতো মসজিদের শহর। কিন্তু সময় পাল্টেছে। এখন মেগাসিটি। বিশ্বে বসবাসের অনুপযোগী শহরের মধ্যে একটি শহর ঢাকা। বলা হয় জ্যামের শহর। যাদুর শহর। এসব ভাবনা পিয়াস গতরাতেই পত্রিকার সম্পাদকীয়তে পড়েছে। বাস যাচ্ছে। গন্তব্য গাজীপুর টু গুলিস্তান।

রোদ উঠেছে। আবহাওয়াটা চমৎকার। বাস আজিমপুর অতিক্রম করল। পাশে বসা  তরুণী পিয়াসকে জিজ্ঞেস করল

-আপনি কোথায় যাবেন?

-পল্টন।

-আপনি?

-সদরঘাট। লঞ্চে বরিশাল। আগৈলঝাড়া চিনেন?

-হ্যাঁ, চিনি।

বাস যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর তরুণী আবারও জিজ্ঞেস করল

-কতক্ষণ লাগতে পারে গুলিস্তান পৌঁছতে?

-জ্যাম থাকলে দেড় দুই ঘণ্টা।

-এত সময়?

-হ্যাঁ, ঢাকার রাস্তার অবস্থা খুবই করুন।

এতক্ষণ এই সামান্য কথোপকথনের দিকে খেয়াল করল ঔ পুলিশ কর্মকর্তা। পিয়াসও বেশ সতর্ক। কারণ পিয়াস জানে এরকম চলতি পথে অনেক তরুণীই ফাঁদ পেতে যাত্রীর সর্বস্ব খুইয়ে নেয়। আবছা আবছা ঘুমিয়ে পড়ল পিয়াস। কিন্তু মাথায় সেদিনের টেলিভিশনে এক প্রামাণ্য চিত্রে দেখে জসিমের ঘটনা। সেদিন জসিম এরকম বাসেই এক তরুণীর ফাঁদে পড়ে নিঃশ্ব হয়েছিল। জসিম অফিস থেকে বিকেলে বের হয়ে বাসার উদ্দেশ্যে বাসে উঠেছিল। পথে এক তরুণী (তার পাশের যাত্রী) তাকে বশ করে ফেলে। কথোপকথনের ছলে জসিমকে পটায়। বাসায় না গিয়ে জসিমকে নিয়ে যায় হাতিরঝিলে। কথোপকথনের ফাঁকে জসিমকে হাতিরঝিলের ধারে লেকপাড়ে ভ্রাম্যমাণ রেস্টুরেন্টে বসিয়ে কোক খাওয়ায়। জসিম আনমনা হলে কোকে ওই তরুণী নেশা জাতীয়  কিছু দেয়। পরে খাওয়ার পর জসিম কিছুই বুঝতে পারে না। এরকম সময় ওই তরুণী জসিমের পকেট থেকে দুইটা মোবাইল সেট ও পনের হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। সেদিনই অফিসে বেতন পেয়েছিল জসিম।

এসব ভাবতে ভাবতে পিয়াসের ঘুম ভেঙে গেল। বাস যাচ্ছে। বনানী ক্রসিংয়ে পাশের সিটের পুলিশ কর্মকর্তা নেমে গেল। এরপর পিয়াস কিছুটা নিজেকে হালকা ভাবল। নিজেকে ফুরফুরে অনুভব করল। তরুণীও নতুনভাবে কথা বলা শুরু করল।  পিয়াসের ডান হাতের সঙ্গে তরুণীর বাম হাত ঘেঁষে রাখল। তবে পিয়াস কোনো প্রশ্ন করে না। তরুণীটি কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে তখন পিয়াস কিছু বলার চেষ্টা করে।

বাস যাচ্ছে থেমে থেমে। রাস্তায় কিছুটা জ্যাম। হালকা গরম। পিয়াসের শরীরে সব সময় একটু গরম বেশি অনুভূত হয়। বংশগত কারণে অন্যদের তুলনায় ঘামে বেশি। একটু গরম অনুভূত হলেই ঘামে শরীরের কাপড় ভিজে যায়। হেল্পারকে বলল বাসের ফ্যানগুলো চালু করতে। এ সময় আমড়ার হকার উঠল বাসে। আমড়া, আমড়া, আমড়া.. বলে হকার যাত্রীদের কাছে বিক্রির জন্য আহ্বান করছে। এ সময় তরুণীটি ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ছোট্ট হ্যান্ড ব্যাগ বের করল। হ্যান্ড ব্যাগ খুলে সেল ফোনটি দেখল। পিয়াস আড়চোখে তাকাল। তরুণীর শরীর থেকে পারফিউমের গন্ধ বের হচ্ছে। দেখল তরুণীর হাতের নখে নেলপালিশ দেওয়া। নখগুলো লম্বা লম্বা। একবার তরুণী চোখের দিকে তাকাল। তরুণীও তাকাল। তরুণী জিজ্ঞেস করল

-ভাইয়া, আপনি বাসে ঘুমান কেন? শরীর খারাপ?

-না শরীর খারাপ না।

যে কোম্পানিতে চাকরি করে পিয়াস, সে কোম্পানিতে দিনে ষোল ঘণ্টা কাজ চলে। আট ঘণ্টা করে শিফটিং ডিউটি। পিয়াস প্রতিদিন ইভনিং শিফটে ডিউটি করে। রোজ রোজ দুপুরের খাবার নির্দিষ্ট সময়ের একটু আগে খেয়ে বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বাসে ঘুমানো পিয়াসের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে অভ্যেসটা পুরনো নয়। গত এক বছর ধরে এটা হচ্ছে। একদিন তো ঘুমানোর কারণে গন্তব্য ছেড়ে চলে গিয়েছিল অন্য বাস স্ট্যান্ডে। এই একদিনই ছিল ব্যতিক্রম। অন্যসব দিনগুলো ঠিকমতো অফিসে পৌঁছায়। জসিমের ঘটনায় পিয়াস খুবই শিক্ষা নিয়ে পথ চলে নিত্যদিন। আজও সতর্ক। বাস যাচ্ছে। আবারও ঘুমাল পিয়াস। দুই মিনিটের মতো হয়েছে ঘুম। তরুণীটি হ্যান্ড ব্যাগ দিয়ে পিয়াসের ডানহাতে  টুকা দিয়ে ইশারায় বলল, মাথা সিটে হেলান দিয়ে ঘুমান। পিয়াস একবার তরুণীর দিকে তাকিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। মাথা ঝিমঝিম করছে পিয়াসের। চোখ খুলে জানালা দিয়ে তাকিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে পিয়াস।

বাস যাচ্ছে। কথোপকথন চলছে। পিয়াস নিজেকে আগের চেয়ে হালকা করে নিল। মহাখালী ফ্লাইওভার অতিক্রম করল। টাঙ্গাইল বাস স্ট্যান্ড এর ঠিক আগে আবারও জ্যাম। বাস নড়ছে না। তরুণীটি আবারও পিয়াসকে জিজ্ঞেস করল

-আপনি কী করেন?

-চাকরি।

-কোথায়?

– কোম্পানিতে।

-প্রাইভেট?

-হ্যাঁ।

-আপনি যেভাবে বাসে ঘুমান, সব তো নিয়ে যাবে। আমার দুলাভাই একবার ঢাকা থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় বাসে ঘুমিয়ে পড়ে সব হারিয়েছিল। পরে বিকাশে টাকা এনে বিপদ সারতে হয়।

-ও..তাই! হ..এরকম হয় বাসে। তবে আমার কখনো হয়নি।

-ভাইয়া, এতকিছু বললাম মাইন্ড কইরেন না।

-ওকে। তরণী একটা হাসি দিয়ে পিয়াসের ডানহাত ঘেঁষে বসল।

বেলা তখন দুইটা বাজে। বাস টাঙ্গাইল বাস স্ট্যান্ড অতিক্রম করল। তিব্বত মোড় পার হতেই দুইজন হিজড়া উঠল বাসে। সবার কাছ থেকে টাকা উঠাচ্ছে। পিয়াসের পাশে  এসে বলল, দে ভাই দশটাকা দে। পিয়াসের পাশে তরুণী বসা। টাকা না দিলে হিজড়া যদি হ্যারেজম্যান্ট করে সে ভয়ে পকেট থেকে পাঁচ টাকা বের করে দিল। কিন্তু হিজড়া নাছোড় বান্দা। দশ টাকা নিয়েই ছাড়বে। পিয়াস একটু বিষন্ন। কারণ পকেটে পয়ত্রিশ টাকা ছিল। ত্রিশ টাকা বাস ভাড়া দিয়েছে। আছে মাত্র পাঁচ টাকা। যদি ও (হিজড়া) না নেয়। ভাগ্য প্রসন্ন। হিজড়া পাঁচ টাকা নিয়ে তরুণীকে বলল, আই তুমি দশটাকা দাও। তরুণী কোনো কিছু না বলে পাঁচ টাকা হ্যান্ড ব্যাগ থেকে বের করে দিল। হিজড়া সামনের যাত্রীর কাছে চলে গেল। তরুণী পিয়াসকে বলল

-ভাইয়া ও বুঝল কেমনে আমরা একসঙ্গে নই?

-ওরা এরকমই। সেদিন উত্তরার এক বাসা থেকে বাচ্চা নিয়ে গিয়েছিল। পরে সাত হাজার টাকা দিয়ে বাচ্চা ফেরত নেয় (পাশের সিটের যাত্রী বলল)।

-তরুণী বলল, আমাদের গ্রামের হিজড়াতো এরকম নয়।

পিয়াস কিছু বলছে না। হঠাৎ ভাইয়া ভাইয়া বলায় কিছুটা ভাবছে সে। ভাবতে ভাবতে আবারও ঘুম। ততক্ষণে বাস মগবাজার ফ্লাইওভার পার হয়েছে। হঠাৎ তরুণীটি পিয়াসের ডানহাতে জোরে চিমটি দিতেই আচমকা ঘুম ভেঙে যায়। তরুণীর দিকে তাকাতেই বলল, ঘুমাচ্ছেন যে এজন্য।

তরুণীর হাতের লম্বা লম্বা নখের চিমটিতে পিয়াস ব্যথা অনুভব করল। বাম হাত দিয়ে ডান হাতের ব্যথার স্থানে ম্যাসেজ করতে লাগল। তরুণী দেখে বলল

-ব্যথা পেয়েছেন মনে হচ্ছে, সরি। এরপর জানালার দিকে ঘুরে বসল সে।

পিয়াসের মেজাজটা তিনশ ষাট ডিগ্রী উপরে উঠে গেছে। একজন অপরিচিত, চেনা নেই, জানা নেই, কখনো দেখা হয়নি, হঠাৎ বাসে দেখার পর কিছু আলাপ হয়েছে-এতেই সে এরকম আচরণ করল! এর কারণ ভাবার চেষ্টা করছে পিয়াস।

বাস যাচ্ছে। কাকরাইল থেকে প্রায় দশ বারোজন মহিলা উঠল। সিট ফাঁকা না থাকায় সবাই দাঁড়িয়ে গেল। তরুণীটি বলল

-ব্যথা পেয়েছেন মনে হচ্ছে। ভাবী জানলে কী ভাববে?

পিয়াস কিছু বলছে না। চরম বিব্রত সে। বাস পল্টনের কাছাকাছি। পিয়াস বলল, সামনে পল্টন, এরপরেই গুলিস্তান। পিয়াস উঠে চলে এল বাসের দরজার কাছে। পল্টনে বাস থামতেই নেমে হাঁটা শুরু করল।

দুই.

রাত বারোটা এক। চারদিকে সুনসান নিরবতা। অফিস শেষে বাসায় ফিলল পিয়াস। ফ্রেশ হয়ে ডিনার সেরে কম্পিউটার নিয়ে বসল। পিয়াস বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করলেও রাতে সে আউট সোর্সিংয়ের কাজ করে। এতে যে টাকা আয় হয় তাতে কিছুটা সংসারে হেল্প হয় তার। যখনই আউট সোর্সিংয়ের কাজ শুরু করল তখন তরুণীর ঘটনা মনে পড়ে গেল। মাথায় একটা চক্কর দিল। চোখে ঝাঁপসা দেখছে সে। বাথরুমে গিয়ে মুখ ও চোখ ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুঁয়ে নিল। কাজ আর করল না। বিছানায় শুয়ে পড়ল। ভাবনায় একই প্রশ্ন কেন তরুণীটি চিমটি দিল? সে কি ভালোবাসতে চেয়েছিল না কি ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিল, ইভটিজিং না কি বয়স তাই চঞ্চলপনা হয়ে উঠছিল, না অন্যকোনো মতলব ছিল? নানা প্রশ্ন কিন্তু প্রশ্নের কোনো উত্তর সন্ধান করতে পারছে না। চিমটির রহস্য ভাবতে ভাবতে ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে পিয়াস।

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত