| 15 এপ্রিল 2024
Categories
বিনোদন

একজন স্ট্রীট ড্যান্সারের গল্প

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট

তাঞ্জন বোস

 

একটা পাঁচতারা হোটেলে নতুন মালিক এসেছেন৷ এসেই দেখে সমস্যা৷ না সেরকম কিছুই না, গল্প হচ্ছে হোটেলের সামনে একটা ধাবা। হোটেলের বাসিন্দারা থাকে হোটেলে, খায় সামনের ধাবায়৷ এই নিয়ে হোটেলের মালিকের সাথে ধাবার মালিকের ঝামেলা৷ এদিকে আবার ধাবার মালিক প্রেম করল হোটেলের মালিকের মেয়ের সাথে, আর তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করল হোটেলের ম্যানেজার৷ চেনা চেনা লাগছে?

হ্যাঁ, ১৯৯৮ এর সুপার ডুপার হিট সিনেমা দুলহে রাজার কথা বলছি৷ শুধু দুলহে রাজা নয়৷ নব্বই দশকে বছরের পর বছর ধরে ননস্টপ হিট বোধহয় একজনই দিয়ে গেছে৷ বলিউড কমেডির অবিসংবাদী সম্রাট গোবিন্দা। অদ্ভুত সাবলীল বাচনভঙ্গি, তুখোড় অভিব্যক্তি আর দারুন প্রানখোলা হাসি, সর্বোপরি দুরন্ত নাচের কমপ্লিট প্যাকেজ৷ সত্যি বলছি, সবাই তিন খানকে নিয়ে লাফায় ঠিকই। কিন্তু বলিউডের নব্বই দশকের রাজা একজনই, গোবিন্দা। কমেডি জঁরের সসম্পূর্ণ নিজের একটা ঘরাণা তৈরী করে নিয়েছিলেন৷ আর সাথের সহ অভিনেতা কারা? কাদের খান, জনি লিভার, শক্তি কাপুর, অন্যতম সেরা কমেডিয়ানের সাথে টক্কর দিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন৷ গল্প বলে কিছুই নেই৷ শুধুই নির্মল আনন্দ৷ দর্শক সারা হপ্তার ক্লান্তি নিয়ে হলে ঢুকত শুধু হেসে হাল্কা হওয়ার জন্য৷ এবং দিনের পর দিন একটা দেশকে হাসিয়ে গেছেন তিনি৷

অথচ শুরুটা অন্যরকম ছিল। ১৯৮৬ সালে ইলজাম সিনেমা দিয়ে ড্যান্সিং আর অ্যাকশন হিরো দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন মিঠুন চক্রবর্তীর এই অন্ধ ভক্ত৷ তারপর আশির দশকে পরপর অনেকগুলোই সিনেমা করেন যেমন খুদগর্জ, দরিয়া দিল প্রমুখ৷ এরমধ্যে কিছু অ্যাকশন, আবার কিছু পারিবারিক গল্প৷ ৯০ দশকটা খুব স্পেশাল গোবিন্দার জন্য৷ ১৯৯০ এ রিলিজ করে গোবিন্দার সিনেমা জগতের অন্যতম সেরা,দুটো হিট সিনেমা, স্বর্গ আর আওয়ারগি৷ ৯১ এ হাম। ৯২ এ গোবিন্দার সাথে জোটবন্ধন ঘটে ডেভিড ধাওয়ানের শোলা আর শবনম সিনেমায়৷ কমেডি অ্যাকশন৷ ৯২ এ আবার দুইজন একসাথে, আঁখে৷ গোবিন্দা কেন, বলিউড সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সেরা হিট সিনেমা৷ এতদিন ধরে নিজস্ব ঘরাণা পেয়ে গেলেন গোবিন্দা৷ এরপর একের এক, কুলি নম্বর ওয়ান, রাজাবাবু, সাজান চালে সাসুরাল। সাথে যোগ হয়েছেন কাদের খান, জনি লিভার, শক্তি কাপুর৷

গোবিন্দা তখন এত বড় স্টার যে বলিউডের ভাইজান সালমান খানও এক সময় গোবিন্দাকে ফোন করে কাজ চায়৷ হ্যাঁ, গোবিন্দা আর ডেভিড ধাওয়ানের নতুন সিনেমার শুটিং শুরু হবে৷ এমন সময় একদিন সলমনের ফোন আসে গোবিন্দার কাছে৷ বক্তব্য, “দাদা, আর কত হিট দেবেন। এই সিনেমাটা অন্তত আমার জন্য ছেড়ে দিন। ” মজার ব্যাপার গোবিন্দা সেই সিনেমাটায় ডেভিড ধাওয়ানকে সলমন খানকে রেফার করে। সলমনই পরে কাজ করেন সেই ১৯৯৭ এর সুপারহিট সিনেমা জুড়ুয়াতে৷

শিল্পা শেঠির অনেক আগেই ইউপি বিহার লুটে গেছেন গোবিন্দা৷ অবশ্য শুধু ইউপি বিহার কেন, আসমুদ্র হিমাচলের অকুন্ঠ্য ভালবাসা পেয়েছেন তিনি৷ কমেডি কিং হওয়ার পাশাপাশি শিকারী বা কিলদিলের মতন ছবিতে ভিলেনের রোলে, কিংবা মনি রত্নমের রাবনে নিজের অভিনয় প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন।

২০০০ সালের পর রাজনীতিতে গিয়ে আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেললেন নিজেকে বলিউড থেকে৷ এককালের প্রিয় বন্ধু ডেভিড ধাওয়ানের সাথে এমন ঝগড়া এখন যে ডেভিড ধাওয়ানে তার জুড়ুয়া টু এর “টান টানা টান” গানের রিমেকে পুরনো গানের লিরিক্স হুবহু রাখলেও একটা লাইন বাদ দিয়ে দেন৷ কারণ সেই লাইনটা ছিল ” গোবিন্দা হিরো হ্যায় উসকা” কিন্তু গোবিন্দা যে শেষ হয়ে যাননি তা বুঝিয়ে দিয়েছেন পার্টনার বা ভাগমভাগ সিনেমাতে৷

গোবিন্দা অরুন আহুজা, যার আদরের ডাকনাম চিচি (মানে কড়ে আঙুল) এমন একজন অভিনেতা যিনি জীবনে প্রচুর পুরষ্কার পেয়েছেন আর পেয়েছেন প্রচুর মানুষের ভালবাসা৷ তবু মনে কোথাও গিয়ে উনি ওঁর কাজের, যথাযোগ্য মর্যাদা পাননি৷ বলিউড ওঁর প্রতিভার পূর্ন ব্যবহার করতে পারেন নি এখনো। শুধু কমেডি কিং করেই রেখে দিল ওনাকে। এমন কি নায়িকাদের অবজ্ঞা করা হত গোবিন্দার হিরোইন বলে। ওনার অদ্ভুত ড্রেসিং সেন্স নিয়ে হাসাহাসি করেছেন করন জোহরের মতন পরিচালক। ওনার আজও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি৷ আশায় থাকব আগামী দিনে উনি আবার ফিরে আসবেন বড় পর্দায়৷

গরু রচনার মতন আমার পছন্দের টপিক মহাভারতও নিয়ে আসি গল্পে। বি আর চোপড়ার মহাভারতে উনি চান্স পেয়েছিলেন অভিমন্যু রোলের জন্য৷ তখন বলিউডে চান্স পেয়ে যাওয়ায় করেননি৷ পরে আবার মনি রত্নমের রাবন সিনেমায় উনি যে চরিত্রটি করেন তা হনুমানের আদলে তৈরি।

আর বলিউডে বোধহয় উনিই একমাত্র অভিনেতা যিনি সারা শরীরে বেবি ফ্যাট নিয়েও খালি গায়ের সলমন খানের পাশে অনায়াসে স্ক্রীন শেয়ার করতে পারেন, বলা ভাল নজর কেড়ে নিতে পারেন৷ শুভ জন্মদিন স্ট্রীট ড্যান্সার৷ আবার ফিরে আসুন বড় পর্দায়৷

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত