মাধব রাইর গুপ্তধন (পর্ব-২)

গত সপ্তাহের পরে…

মাধব রাইর গুপ্তধন (পর্ব-১)


গংগা । হিমালয়ের মুকুট থেকে নেমে আসা জাহ্নবী । উত্তর ভারত ছুঁয়ে সারা আর্যাবর্তের ভাল লাগা মন্দ লাগা , পাপ পুণ্য , রাজনীতির উত্থান পতনের চিহ্ন বয়ে নিয়ে চলেছে সমুদ্রে । কত তার শাখা প্রশাখা , কত তার পথের দোসর । নরম উর্বর পলিতে বংগভূমিকে সাজিয়ে তুলেছে সে পরম যত্নে । ঘাসের সবুজ চাদরের সজীব রঙ দেখলেই মানুষ বোঝে বাংলায় এলাম । শস্যে ঝলমল , সবুজে স্নিগ্ধ ।
বাংলার কোমরে রুপোর বিছেহার পরায় জলের স্রোত । পতিতপাবনী গংগে দক্ষিণ বাহিনী ভাগিরথী হয়ে বয়ে চলে সাগরে মিশবে বলে ।
দুই পারে নরম পলি সবুজে সবুজ । অজস্র রংগের ফুল গাছে গাছে । মাটিও বুঝি মিষ্টি হয় ?
আকাশে সোনার রোদ । জলে রুপোলি মাছ ।
খোলের বোল ওঠে তা খিটা তা খিটা । খঞ্জনীর ঝংকারে রসের ঢেউ ।
অধরং মধুরং হসিতং মধুরং —-মধুরাধিপতেরখিলং মধুরং



মুক্তাভস্ম মকরধ্বজের সংগে খয়েরের অনুপান , পানের সংগে মনেও রঙ লাগে । লাল টুকটুকে ঠোঁট নবাবজাদার । পানের জর্দার কি খোসবু। গড়গড়ায় জলের সংগে গোলাপের পাপড়ি ওঠে নামে । সোনায় মোড়া নলে চুমুক দেয় ঠোঁট ।
জগত শেঠের বাড়ির ছেলে পাশের তাকিয়ায় হেলান দিয়ে আড়চোখে তাকায় । ভাবে আমি কম কিসে ?
সিরাজির ছিলাকাটা বিদেশি কাঁচের পেয়ালা হাতে নিয়ে ভুরু তোলে রাই মাড়ওয়ার ।
“আর গদি কার জোরে চলে বাংলাদেশে ? তোদের তলোয়ারের ওপর না আমাদের সাত পুরুষের আসরফি মোহর চুনি পান্নার স্তূপের ? কমবখত নবাবি দেখায় কাকে ?”
রঙ্গিন বাইজী সদ্য লক্ষণাবতী থেকে এসেছে বজরায় ।
টুকটুকে নবাবজাদাকেই নিশানা করে তিরছি নজর হানে । যত টুকরা পরন ঠুংরির বন্দিশে দুপাট্টা নবাবপুত্রের সামনে এসেই খসে যায় সমে পড়ে ।
রাগে গন গন করতে থাকে জগত শেঠের বংশধর ।
” এত বেয়াদবি ? আচ্ছা । দেখে নেব ।
এই বেতমিজ জেনানাই এবার  নসীপুরের বাগান বাড়ির মঞ্চে বেআবরু নাচ নেচে মেহমানদের হোলিতে খুসি করবে । মাথার চুল ঠেকে পায়ের নখ অব্ধি কিনে নেব কাল রাতের মধ্যে । আমার নাম মাধব রাই ।

 

পরের সপ্তাহে…

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত