মাধব রাইর গুপ্তধন (পর্ব-৩)

গত সপ্তাহের পরে…
পারো, হেইই পারো —
পাশের ফ্ল্যাটের বন্ধু মিতেনি পুনম কাপুরের হাসিভরা উদাত্তকণ্ঠ  ভেসে আসে বারান্দা ছাপিয়ে।
বসার ঘরের টুকিটাকি সাজানো জিনিসপত্র শুকনো কাপড় দিয়ে ঝাড়ছিল পারমিতা।
না না,  পারমিতা নয়।  পুরো নাম  পারমিতা সেন।
ফর্সা টুকটুকে ধারালো মুখখানা।  নাকটা টিকোলো বলেই ধার বেশি।  তবে সব ধার ঢেকে নরম হয়ে থাকে এক মাথা তেলতেলে চুলের টেনে বাঁধা লম্বা বিনুনির তলায়।
পুনমের ডাক শুনে হাসি ফুটে ওঠে মুখে।  এক দৌড়ে বারান্দায় বেরিয়ে আসে।
চারতলার পাশাপাশি দুটো ফ্ল্যাট।  দুই বারান্দার মাঝে ফুট ছয়েকের দূরত্ব।
” কি রে ?  চেঁচামেচি কেন সক্কাল সক্কাল ? “
পুনমের মুখের হাসি চওড়া হয়।
” আবে ভুতনি, করে ক্যা ,  দেবদাস কেউ ত আর তোকে ডাকে না।  নয় আমিই ডেকে নিলাম। “
” বুঝেছি বুঝেছি।  তা সক্কাল বেলা এত প্রেম উথলালো কেন মহারানীর ? “
” উথলানো ইয়ানি কি উবাল গয়ে ?    আরে প্যার কোই দুধ কি কটোরি হ্যয় রে, কি উথল জায়েগি ?  “
” হ্যয় না।  “
 নেহাত সাধাসিধে বাংগালি মুখখানা,  লালচে আভার সংগে  একটা ভুরুর উপরে  উঠে যাওয়ায় অসাধারণ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে হটাৎ।
” পুনম ,  আগ নহি জ্বলাই ত প্যার কৈসি ?  উবাল জ্বায়েগী,  থোড়া কোশিশ কর। “
এক মুহূর্তে নিস্তব্ধ হয়ে হাঁ হয়ে  যায় হই হই করা পঞ্জাবনি।
তারপর,  উচ্ছ্বসিত।
” সালে, ছুপ ছুপকে কিতনি পানি পিতি, হাঁ ? খোল দরোয়াজা।  মে আভি আই উধর সে।  “
এসেই পড়ে সে।  একেবারে দুর্দান্ত হই হই করা কালবৈশাখীর মত।  পুনম কাউর।
মিস্টার কাউর গুষ্ঠির এক লৌতা বহু।
মাথার ওপরের গুরুজনেরা অমৃতসরে।  তাই পুনমের হাঁকডাকে ফ্ল্যাটের  চার তলা সরগরম হয়ে থাকে সব সময়।  বর বিশাল, চেহারায় বিশাল আর ততটাই ধীরেসুস্থে কথা বলা ঠান্ডা মানুষ।
পারমিতা পাশের ফ্ল্যাটে এদের পেয়ে বড় ভাল আছে।
পারমিতার বর, ভাস্কর সেন রাশভারি ছোটখাটো মানুষ।  নিপাট বাংগালি ভদ্রলোক। দু পিশ ছানা।  বছর তিনেক তফাত দুই ভাইয়ের। দক্ষিণ কলকাতার নামি ইস্কুলে যায় কারপুলে চেপে, আর নরক গুলজার করে  বিকেল পাঁচটায় ফেরে।
সাড়ে দশটা থেকে পাঁচটা তাই পারমিতা সেন ফ্রি।
ওইটাই পুনমের  তার ফ্ল্যাটে হানা দেবার সময়।
আগামী সপ্তাহে…

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত