হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুচ্ছ কবিতা

Reading Time: 2 minutes
পায়ে পা মিলিয়ে
চারকোলের এক তীব্র চলায়
অনেকটাই পথ তৈরি হয়ে গেল
একেবারে দিগন্তের কিছুটা আগে পর্যন্ত
যেহেতু আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল
সে কোথাও থামবে না
এমনকি ভোরের দরজা ডেকে উঠলেও না
তাই সে ঊর্দ্ধশ্বাসে কোথাও একটা যেন
উড়তে উড়তে হারিয়ে গেল
চলা তো নয়, যেন গভীর গোপন পথ এঁকে চলা
বৈশাখের আম কুড়ানো দুপুরগুলোয়
যারা অনেক পরে এসে
শক্তিতে কুড়িয়ে নিয়েছিল সব আম
তারা বিশ্বাস করতো, আম কুড়োয় তারাই
যারা চোখের সামনে হাতে নিয়ে দেখে নি কোনো আম
আম তো আলো, আম তো ফলাফল
আম তো বিশ্বাসের হাতে বাজতে থাকা এক বাঁশি
গর্তের মুখে ফুল সাজিয়ে নিয়ে
অন্ধকারকে যারা তোমার আমার পথে
জোর করে নামিয়ে আনতে চায়
আমের আলোয় তাদের চোখ হয়ে যায় অন্ধ
তাই চারকোলের ঝোড়ো পথে
মনে হয় উড়ে উড়ে উড়ে যায় সব
কিন্তু কোথায় উড়বে সে ?
সে তো উড়ে উড়েই এসেছে এতদূর
সে জন্ম থেকেই উড়তে থাকা এক প্রাণ
একবারের জন্যে সে উঠোনে পা রেখেছিল
সেগুলোই আজ রেখা হয়ে গেছে
সে রেখা যাওয়ার পথে পথে আছে
সে রেখা ফিরে আসার পথ ধরে
তোমার আমার উঠোনে এসে মিশে গেছে
সে আসবে না
সে তো এসেই আছে
তোমার আমার পায়ে পায়ে জড়িয়ে
শুধু যেদিন চোখে চোখ পড়বে
আলোয় বেজে উঠবে একতারা
সেদিন পায়ে পা মিলে যাবে
.
পরিচয়
দলের ভেতর থেকে একজন এগিয়ে এলো —-
” আমাদের চেনেন নাকি ? “
দরজার ভেতরে সকলের ঘর
দরজাই তাদের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা
চারপাশ দেখে নিয়ে হাওয়ার অনুকূলে
কিছুক্ষণের জন্যে তাদের মুখ খোলা
ফিরে দেখা কৈশোরের রচনায়
একটা বাক্যের কোনো শিকড় নেই
আলোর গায়ে ঠুলি পরানোর দিনে
সবাই তাদের পিঠ দেখেছিল
এর বেশি কি চেনার থাকতে পারে ?
বন্ধু-রক্তে আর কোন পরিচয় উঠে আসে কি ?
.
সীমানা
যতদূর চোখ যায়
তারও অনেক পরে
একেবারে সবুজ বর্ডার পর্যন্ত
আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় “আমার” সীমানা
যে দেখে সে তো আর জানে না
যে দেখায় জানে না সেও
জানলে চোখ পায়ের মাটিতে নেমে আসত ।
.

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>