| 18 এপ্রিল 2024
Categories
এই দিনে গদ্য সাহিত্য

রোদ ঝলসানো কবি সমুদ্র গুপ্ত কে মনে পড়ে

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করতে কবিতার প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতার খুব বেশি গুরুত্ব অনুভব করেছিলেন কবি সমুদ্র গুপ্ত, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ আর মোহন রায়হান। এই ত্রয়ী কবিই মুলত কবি মুহাম্মদ রফিক কে ঘিরে  মূল সংগঠক এর ভুমিকা পালন করেন। তিনজনই বাম রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি কাব্যে সমুদ্রে গুপ্ত হতে চেয়েছিলেন বলেই আব্দুল মান্নান বাদশা থেকে সমুদ্র গুপ্ত নাম ধারণ করেছিলেন। উপর্যুক্ত তিন কবির মধ্যে এখনো যিনি কাব্যজীবনে আছেন তিনি মোহন রায়হান। আমরা যারা এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাহিত্য সংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলাম তখনও এই তিন কবির কবিতা বক্তব্যের  শুরুতে আবৃত্তি করতাম। কবি নব্বই দশকে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরী এন্ড ইন্সটিটিউট এর বইমেলায় এসেছিলেন। কবিতা পড়েছেন। আমি তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছি। কবির সাথে মুহম্মদ নুরুল হুদা, তসলিমা নাসরিন, ইমদাদুল হক মিলন সহ আরো অনেকেই এসেছিলেন। কবির সাথে আজিজেও কয়েক বার কথা হয়েছে। দারুণ প্রাণোচ্ছল মানুষ। মন খোলে হাসতেন। আজ কবির ১২তম প্রয়াণ দিবস।
কবি কে পরম  শ্রদ্ধা।

কবির হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে লেখা কবিতার বইটি আমাকে বেশ টানে। মানুষের জন্যই তাঁর উদ্বেগ- আবেগ, নিজের বেদনা কে আমি বু্ঝতে পেরেছিলাম নিজেই যখন রোগ শয্যাগত ছিলাম। তখোন কবি জামিল জাহাঙ্গীর, আমাকে আবিদ আজাদ, ওমর শামস এর কবিতা গ্রন্থ এনে দিয়েছিলো। আমার স্ত্রী  শাহীন কালাম আজাদ কে নিয়ে নীলক্ষেত, কনকর্ড আজিজ থেকে খোঁজে খোঁজে সমুদ্র গুপ্তের বই যা পেয়েছে এনে দিয়েছে। বই এনে দিয়ে আমার পরম সুহৃদ কবি মোশতাক আহমদ। আমি তখন সমুদ্র গুপ্তের কবিতাই বেশি পড়তাম। কবির প্রকাশিত কবিতা সম্পাদনা ও গদ্য গ্রন্থের এখানে একটি তালিকা তুলে ধরলাম।

কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা

রোদ ঝলসানো মুখ ১৯৭৭
স্বপ্নমঙ্গল কাব্য ১৯৮৭
এখনো উত্থান আছে ১৯৯০
চোখে চোখ রাখে ১৯৯১
একাকী রৌদ্রের দিকে ১৯৯২
শেকড়ের শোকে ১৯৯৩
ঘাসপাতার ছুরি ১৯৯৮
সাত সমুদ্র নদীও বাড়িতে ফেরে
ছড়িয়ে ছিনিয়ে সেই পথ
চলো এবার গাছে উঠি
হাতে হাতে তুলে নিলে এই বাংলার মাটি রক্তে ভিজে যায়
তাহলে উঠে দাড়াবো না কেন
খালি হয়ে গেছে মাথা শুধু ওড়ে

নিবন্ধ গ্রন্থসম্পাদনা

ডিসেম্বরের রচনা (শত্রুতা চিহ্নিতকরণ ও শত্রুতা বিকাশ প্রকল্প)

সম্পাদনা গ্রন্থসম্পাদনা

বাংলাদেশে বঙ্কিম

এই বীর মুক্তিযোদ্ধার রচনা সমগ্র এখনও বাংলা একাডেমী প্রকাশ করল না, তাঁকে এখনো মরণোত্তর পুরষ্কারও দিল না। আপসোস। কবি হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে শ্রুতি লিখিত অপ্রকাশিত একটি কবিতা উল্লেখ করছি সমুদ্র গুপ্তর শেষ কবিতা


কোন রঙের মেয়ে


কতদূর পিছনে
ফুটেছে অত উজ্জ্বল রঙধনু
সাত কেন সাত কোটিতেও
ফুরাবে না রঙ
রঙের অশেষ বর্ণনা

এমনি উড়ে ভেসে যাও
মেঘের উপর দিয়ে
পৃথিবী কেবলই রঙ চায়
রঙের উৎস দু’পায়ে মাড়িয়ে যায়

কালো সাদা হরিৎ পীত বাদামী ক্ষীর
অবনীর অজস্র পরিধির সর্বত্রই
তুমি কোন রঙের মেয়ে
আমরা তো কেবলই চিনি
স্ত্রী কন্যা ভগিনী জায়া ও জননী

রোগশয্যায়, স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা
২১, মে ২০০৮
শ্রুতিলিখনঃ ফিরোজ আহসান।

ভালো থাকুন কবি আকাশে তারাদের সাথে, আমরা আকাশ দেখার ছলে তোমাকেই খুঁজবো তারাদের সাথে কবিতার আড্ডায় আর  কোলাহলে।

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত