| 3 মার্চ 2024
Categories
খবরিয়া

ঔপন্যাসিক অরুন্ধতী রায়ের দাবি করোনাকে মোদি ব্যবহার করছে

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

 

 ঔপন্যাসিক অরুন্ধতী রায় দাবি করেছেন ভারতবর্ষের ‘মুসলমান-বিরোধিতা এবং -ঘৃণার যে সংকট’ তা এই অতিমারীর ফলে প্রকাশিত হয়েছে। 
  

ম্যান বুকার পুরষ্কার বিজেতা বলেছেন যে অতীতে নাৎসিরা যেরকম কৌশল ব্যবহার করেছিল, সেই একই কায়দায় ভারত সরকার কোভিড ১৯ ব্যাধিটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

লেখিকা এবং রাজনৈতিক কর্মী অরুন্ধতী রায় গত শুক্রবার অভিযোগ করেছেন যে ভারত সরকার হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলার জন্য করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ব্যবহার করছে। জার্মান সংবাদ মাধ্যম ‘ডয়েচেভেল্লে’(DW)কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে হিন্দু জাতীয়তাবাদী এই সরকার মহামারী দূরীকরণের জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারে, কাজেই এখন সারা বিশ্বের এদিকে নজর রাখা উচিত। তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘পরিস্থিতি হয়তো বা গণহত্যার দিকে এগোচ্ছে।’     

লেখিকা আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, কোভিড ১৯ ভারত সম্পর্কে এমন একটা সত্য উন্মোচন করছে, যা অল্পবিস্তর আমরা সবাই জানতাম। আমরা শুধুমাত্র অতিমারীর সংকট নয়, ঘৃণার সংকট, ক্ষুধার সংকটে ভুগছি।’

বর্তমানে ভারতের ১.৩ বিলিয়ন মানুষ দেশব্যাপী ছয় সপ্তাহের  লকডাউনে রয়েছে। জনস হপকিন্স  ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান অনুসারে, বিশ্বের দ্বিতীয়-জনবহুল দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ১৩,৮৩৫   জন সংক্রমিত এবং ৪৫২ মৃত। ভারতকে  প্রায়শই এমন একটি  দেশ হিসাবে উল্লেখ করা হয় যেখানে সরকারী পরিসংখ্যান এবং প্রকৃত কেসের পরিসংখ্যানের মধ্যে বিরাট ফারাক থাকা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ‘মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করবার জন্যই দিল্লীতে দাঙ্গা এবং গণহত্যা ঘটানো হয় এবং ক্রমে মুসলিম বিদ্বেষের সংকট জোরালো হয়ে ওঠে। কোভিড ১৯এর লকডাউনের আড়ালে সরকার তরুণ শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা, আইনজীবী, বিশিষ্ট সম্পাদক, সংবাদমাধ্যমের এবং রাজনৈতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা ইত্যাদি করে চলেছে। এদের বেশিরভাগকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে।’

রায় দাবি করেন যে সরকার অতীতে জার্মানিতে হলোকাস্টের সময় নাৎসিরা যেধরণের কৌশল অবলম্বন করেছিলো, বর্তমান সরকারও ঠিক সেই পথে হেঁটে ভাইরাসটিকে ব্যবহার করছে। আরএসএস [রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ] মোদী যার সঙ্গে জড়িত এবং যা বিজেপির [ভারতীয় জনতা পার্টি]-এর মাতৃ- সংগঠন তারা দীর্ঘকাল ধরে বলেছে যে ভারত সম্পূর্ণ হিন্দু রাষ্ট্র হওয়া উচিত। এই মতবাদে বিশ্বাসীরা ভারতের      মুসলমানদের সঙ্গে জার্মানির ইহুদিদের তুলনা করেছেন। অতীতে জার্মানিতে টাইফাস রোগটিকে যেভাবে ইহুদীদের ঘেটোবন্দী করে রাখা, তাদের ঘৃণ্য এবং কলঙ্কিত করবার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, বর্তমানে কোভিড ১৯কেও ঠিক সেরকমভাবে মুসলমানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

লেখিকার এই তত্ত্ব যে ভারতে অতিমারীকে মুসলমানদের প্রান্তিক করে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, তা স্বাভাবিক কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমর্থকদের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র নলিন কোহ্‌লি অরুন্ধতী রায়ের এই তত্ত্বকে সম্পূর্ণরূপে নস্যাৎ করে ডয়েচেভেল্লেকে জানিয়েছেন যে এই দাবি ‘বিভ্রান্তিমূলক, মিথ্যা এবং সম্পূর্ণরূপে বর্ণবাদী’। তিনি আরও বলেন যে নরেন্দ্র মোদী সরকারের একটি নীতিও ভারতবাসীদের ধর্ম, জাতি কিম্বা বর্ণের ভিত্তিতে বিভাজন করেনা, বরং আইনানুগ পথে নির্ধারিত হয়।           

 এদিকে বিজেপির সংসদ সদস্য রাকেশ সিনহা টুইট করেছেন যে মোদী সরকার ‘যে কোনও পক্ষপাতদোষ থেকে মুক্ত’ এবং প্রধানমন্ত্রী ‘করোনার সঙ্কট থেকে ভারতীয়দের বাঁচাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন’,   তবে অরুন্ধতী রায়ের মতো ‘অকর্মণ্য, মূর্খ’ কেউ কেউ জনমানসে সাম্প্রদায়িক বিষ ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজেপির আরেক সদস্য টুইট করে বলেছেন যে অরুন্ধতী রায়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, কারণ তার অভিযোগ রাষ্ট্রদ্রোহের সামিল। 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত