Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

একগুচ্ছ কবিতা

Reading Time: 2 minutes

আজ ১২ এপ্রিল। কবি, অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক আশির ব্রত চৌধুরীর শুভ জন্মতিথি। ইরাবতীর পাঠকদের জন্য রইল কবি‘র একগুচ্ছ কবিতা। কবি আশির ব্রত চৌধুরীর প্রতি রইল ইরাবতী পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


  ১. ডুবিয়ে দিয়েছি আস্তো এক নদী। পাখির ঠোঁটের পরিভাষা। ঠিকানায় দোয়েলের নাম। পলক ঘুমিয়ে গেলে, অসম্পূর্ণ ছবি থেকে একটি দিগন্ত আকাশ হয়ে উড়ে গেছে।
কেনো যে জানি না অন্ধকারের শরীরে লেখি সূর্যপ্রপাতের গান। পাথরের পিচ্ছিল শরীর থেকে নিজেকে উদ্ধার করি। মগ্ন হয়ে লেখি অসংখ্য ধ্রুবতারার যজুর্বেদ পাঠ। গলিত লাভার পথ। নেভানো মোমের আলো। তারকাঁটার মাথায় হাতুড়ির আঘাতে আঘাতে সূর্য তুলে ফেলি। তবুও রামদাসী মল্লারে জীবন গেয়ে নেমে আসে অতীতের রাত। অনিদ্রা বাজিয়ে দেখি কতটুকু ভোর কোনখানে অসম্পূর্ণ গান রেখে উঠে গেছে ভীমসেন।
      ২. ডানা থেকে ঝরে গেছে পোয়াতি পালক। গোপনীয় মধুরেণু। সপূস্পক নিখুঁত বৈশিষ্ট্য। হিসেব মিলিয়ে দেখি সাগর ডোবার আগে গ্রহণ লেগেছে কতবার।
নদীভাণ্ডে কতটুকু মাটি আর অনল কান্নার দাগ। উদাও হয়েছে। কতটুকু না ফেরার দেশ। সূর্যের প্রলেপ দিয়ে প্রতিদিন অন্ধকার লিখি। লাটিমের ঘূর্ণনের মাঝে, নিজেকে বিছিয়ে দিই। যে ব্রহ্মাণ্ডে গ্রহণ লেগেছে সেখান থেকেও টেনে আনি সূর্য। বারবার বলি পৃথিবীর সব দুঃখী মানুষেরা একই সমান্তরালে ছবি আঁকে। পৃথিবীর কাছে ক্ষমা চেয়ে যে শবদেহ নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে সে আসলে। কাশ্যপ গোত্রের জাতক।  
  ৩. কথাজন্ম মরে গেলে সাগর শুকিয়ে বালুস্নান চোখেতে বসতি নেয় অনন্ত রাতের হাহাকার কত পথ বন্ধ হয় পাখির ডানায় কত সুর জোনাকি ছবির মত জ্বলে উঠে বৈরাগি রোদ্দুর।
দূরের বারান্দা লেখে সূর্যের ভেতরে অন্ধকার আজন্ম পথিক আমি হাঁটুতেই পথের ঠিকানা কত রাত চুরি হয় শালিকের কত রজঃদিন হে বিন্দু, বৃহৎ হও তুমিই পৃথিবী একদিন।
    ৪. আলোক নিভিয়ে দিই। মুছে ফেলি দূরবর্তী কোন গুচ্ছদিন। আসন্ন প্রবাহ এলে, থেমে যায়, নিভু নিভু জোনাকির গান। জ্বলে উঠে, ধোঁয়ার প্রবোধ ঘর। মৌণ প্রজাপতি দিন।
লোকজ চাঁদের অপেক্ষায় উড়ে আসে, সোনালি মাথার হাঁস মোমের আগুন। শরীর বল্কলে থাকে চোরাবালি অনন্ত রহস্য। থেকে যায়। স্বচ্ছজলে মাছেদের কান্না।
    ৫. প্রতিদিন জমিয়ে রাখি পৃথিবীর গুড়ো। জমিয়ে রাখি হরপ্পার আগুন। যারা, ফুল নেভানোর কৌশল শিখে গেছে, তাদেরকে দেখাতে পারিনি সন্ধ্যে হলেই কিভাবে আমাদের পুকুরে পৃথিবী ডুবে যেতো।
সেই কবে থেকে একটি অসম্পূর্ণ চাঁদকে, শবাসনে বসার কৌশল শেখাচ্ছি। শিখিয়ে যাচ্ছি গৃহসজ্জায় স্বপ্নের ব্যবহার। কিন্তু সে বুঝেনি পুকুরে পাথর ছুড়ে গভীরতা পরিমাপ করার কৌশল ;পুরাতন। সেই থেকে বাড়ি বাড়ি শরৎ বিলিয়ে যাচ্ছি। চোখের জল ফেলার জন্য, বিলিয়ে যাচ্ছি একটি কৃষ্ণসাগর। যাদের দুঃখটি পারভীন সুলতানার অতি তারার সা ছুঁয়ে আমার কাছে ফেরত আসে তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে একটি করে ব্রহ্মচারী সকাল পুঁতে আসি।
      ৬. আয় তোকে সন্ধ্যে করে রোজরোজ প্রদীপ জ্বালাই কত সন্ধ্যে পুড়ে যায় হৃদয়ে কতো না ফরমেট কেউ কি প্রমাণ রাখে সংখ্যাতত্ত্ব নিজে মৃত্যুশীল হতাশার সৌররাত মরে গেলে অসংখ্য রিবেট।
সমূহ ঘাসের দেশে মরে যায় হরিণ চিত্রল সূর্যের ভেতরে মেঘ সেই চোখ এখনও বিরল রক্তের জমাটে ঘোর বুকের গভীরে শুধু কাদা আমার গলার সুর বাঁশরীর কোন ঘাটে বাঁধা। দিগন্তে আগুন লেগে কোথায় পুড়েছে শুধু নীল অব্যর্থ নিশানা রেখে ডুব দেয় মৃত আবাবিল।
           

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>