বিকল্প ব্যবস্থায় কান উৎসবের মার্শে দু ফিল্ম

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসব হবে অনলাইনে। এজন্য জল্পনা ও পরিকল্পনাও চলছে সমানতালে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিকল্প ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হতে পারে কানের ৭৩তম আসর।

কানের বাণিজ্যিক শাখা মার্শে দু ফিল্ম অনলাইনে আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ জুন থেকে ২৬ জুন সিনেমা কেনা-বেচার এই কার্যক্রম চলবে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র শিল্প ও ফিল্ম প্রফেশনালদের সহযোগিতা করবে স্বতন্ত্র এই অনলাইন মার্কেট। বিকল্প পন্থায় তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এটি।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ বছরের দ্বিতীয় ভাগে কী অপেক্ষা করছে তা কেউ জানে না। ২০২০ সালে কানসহ বড় আকারের কোনও চলচ্চিত্র উৎসব করা সম্ভব হবে কিনা তাও জানা নেই আমাদের। তাই নতুন পন্থায় মানিয়ে নিচ্ছি আমরা। এর প্রথম পদক্ষেপ মার্শে দ্যু ফিল্ম অনলাইন। বিশ্বের অনেক পেশাদার চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও কর্মীর অংশগ্রহণ ও পরামর্শ নিয়ে নতুন ধরনের এই মার্কেট চালু করা হচ্ছে।’
নতুন পদক্ষেপ প্রসঙ্গে কানের মার্শে বিভাগের নির্বাহী পরিচালক জেরোম পেইয়ার্ড বলেন, ‘চলমান কঠিন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের একটি বৈশ্বিক মঞ্চ প্রয়োজন। গত সপ্তাহে আমরা বিশ্বব্যাপী পরিবেশকদের মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করে দেখেছি, তাদের ৮০ শতাংশই অনলাইন মার্কেটের ব্যাপারে আগ্রহী। আর ৬৬ শতাংশ পরিবেশকেরই যেকোনও পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র এবং পোস্ট-প্রোডাকশন ও চিত্রনাট্য তৈরির পর্যায়ে থাকা ছবি কেনার সামর্থ্য আছে।’

মার্শের নির্বাহী পরিচালকের কথায়, ‘চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ছবি কেনা, অর্থলগ্নি করা ও অংশীদার পেতে অনলাইনে আধুনিক ও কার্যকরি প্ল্যাটফর্ম দেবো আমরা। পেশাদার চলচ্চিত্রকর্মী যাদের কানে আসার সময় বা সুযোগ নেই, তারা যেন আমাদের সঙ্গে থাকতে পারেন সেজন্য একটি নতুন মার্কেটের মডেল নিয়ে নিরীক্ষা করছি আমরা।’ কান উৎসব চলাকালীন মার্শে দ্যু ফিল্মে সাধারণত যেসব কার্যক্রম হয়ে থাকে, সেগুলোই অনলাইন মার্কেটে থাকবে বলে জানা গেছে। নতুন ছবি ও নির্মাণাধীন কাজ ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার জন্য সেলস এজেন্টরা পাবেন ভার্চুয়াল বুথ।

ভার্চুয়াল প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে প্রতিটি দেশ তাদের চলচ্চিত্র, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও শুটিং লোকেশনের কথা জানাতে এবং প্রযোজকদের সহায়তা প্রদান ও বৈঠক আয়োজন করতে পারবেন। এটি সাধারণত কানে ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল বিভাগে দেখা যায়।মার্শে দ্যু ফিল্মের নেটওয়ার্কিং অ্যাপ ‘ম্যাচ অ্যান্ড মিট’-এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা অধিবেশনে অংশগ্রহণের অনুরোধ কিংবা বৈঠক আয়োজন করতে পারেন, অনলাইনে এটি ভিডিও কলে সম্পন্ন হবে। প্যালে ডে ফেস্টিভ্যালের নিচতলার জায়গাটায় নির্দিষ্ট ফি দিয়ে যে কেউ তাদের ছবি দেখাতে পারেন। প্রযোজনা সংস্থাগুলোর সুযোগ থাকে বুথ বা টেবিল ভাড়া নিয়ে কাজ তুলে ধরার।
পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র কিংবা পোস্ট প্রোডাকশনে থাকা ছবি ও প্রজেক্ট উপস্থাপন করা যাবে অনলাইন স্ক্রিনিংসে। এজন্য থাকবে ১৫টি ভার্চুয়াল প্রেক্ষাগৃহ।
কান ডকস, কান নেক্সট, প্রডিউচার্স নেটওয়ার্ক, গোজ টু কান, ফ্যান্টাস্টিক সেভেনসহ বেশকিছু কর্মসূচি ও সম্মেলন থাকবে। এগুলোতে উদ্ভাবক, প্রযোজক, সেলস এজেন্ট ছাড়াও সুরকার, গ্রন্থ প্রকাশকরা বৈঠক করতে পারবেন। এছাড়া ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেটের মাধ্যমে কান এক্সআর উপভোগের সুযোগ তো থাকছেই।
আগামী ২৯ মে’র মধ্যে মার্শে দ্যু ফিল্ম অনলাইনের অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়া যাবে ৯৫ ইউরোতে। এরপর কিনতে হলে লাগবে ১৯৫ ইউরো। এর সঙ্গে থাকবে চলচ্চিত্র নির্ভর অনলাইন নেটওয়ার্ক সিনান্দোর বছরব্যাপী সাবস্ক্রিপশন। ২০০৩ সালে মার্শে দ্যু ফিল্মে এটি চালু হয়।

ফ্রান্সের সাগরপাড়ের শহর কানে আগামী ১২ থেকে ২৩ মে উৎসবটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে জুন-জুলাই পর্যন্ত কান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয় গত মাসে। কিন্তু গত ১৩ এপ্রিল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখো ঘোষণা দেন, আগামী ১১ মে পর্যন্ত দেশটি লকডাউন থাকবে। এছাড়া জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত কোনও উৎসব বা অনুষ্ঠান করা যাবে না। তাই কোন উপায়ে উৎসবটি করা যায় সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনা চলছে।আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন, বৈশ্বিক দুর্যোগের কারণে এবারের উৎসব ব্যাপক পরিসরে করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে কানের তিন প্যারালাল বিভাগ ডিরেক্টর’স ফোর্টনাইট, ক্রিটিকস উইক ও এসিআইডি’র ২০২০ সালের আসর বাতিল করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত