| 29 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

চারটি কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট

খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু অতঃপর স্বাধীনতার বীজ

ঘোর অন্ধকার দিন হায়েনার রাত
ভারতের সিংহাসনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ
বিপাশা গঙ্গা যমুনার পাড় ভাঙ্গে
উদিত সূর্যের দেশে চর জাগে,বর্গির আভাস।

ভুল নেতা ভুল ভূ-ভাগ দ্বিজাতি তত্ত্বের অভিশাপ
হক-ভাসানি-সোহরাওয়ার্দী অভিন্ন সংগ্রামের অঙ্গীকার
জলপাই বাহিনীর শকুনী আচার-অনাচার
ভাটির দেশে মাটির মনে হতাশার মনস্তাপ।

১৭ মার্চ ১৯২০, টুঙ্গিপাড়ায়  লুৎফুর -সায়েরার কোলে
মেঘাচ্ছন্ন আকাশ মুখরিত স্বদেশে খোকা ধুমকেতুর আবির্ভাব।
লিকলিকে লম্বা সুস্থির আবার দুরন্তপনা কিশোর ছাত্র
অসীম সাহসে মৌলিক দাবিতে আগলে দাঁড়ায় পথ
১৯৩৯ এ হক-সোহরাওয়ার্দী মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে
সেই থেকে অবিরাম  স্বপ্নমধুরতায়  পিচ্ছল পথ চলা।

২৩মার্চ ১৯৬৯ রেসকোর্স ময়দানে ১৪অধরে মুখরিত একটি ধ্বনি
আকাশ- বাতাস, বৃক্ষ -পাখি,সাগর-নদী ঢেউয়ের কল্লোলে শুনি
বঙ্গবন্ধু তুমিই আমাদের মুক্তির দিশারী।

রেসকোর্সের বাঙালি বীজ তলায় কখন রোপিবে বৃক্ষ বীজ
তৃষ্ণার্থ মৃত্তিকার বুক চিরে ব্রাত্য জনতার শৌর্য-বীর্যে
স্বদেশ জাতির উদ্বেগ উৎকন্ঠায় প্রতীক্ষিত সময় কাটে।
৭মার্চ ১৯৭১ আকাঙ্ক্ষার  উৎসব মেলা আজ
অতঃপর
পিতা শোনালেন যুদ্ধ জয়ের অমর ঘোষণা
“এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম,আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম”।

 

 

 

 

পাখিটি শেখ মুজিবুর রহমান

 

বাতাসের কান আজ খুব উদগ্রীব টনটনে খাড়া

ইথারের যন্ত্রীরা খুব ব্যস্ত তটস্থ একটি ঘোষণার আশায়

 

আকাশে সতর্ক চক্কর দিচ্ছে পশ্চিমী বাজপাখি  

 

তাগড়া শ্বেতকপোতেরা ঝাঁক ঝাঁক আসছে বাক-বাকুম স্বরে
উহাদের ভিড়ে চুপিসারে ঢুকে পড়েছে কতিপয় গিরগিটি  
অকুতোভয় পাখপাখালি সমস্বরে আওয়াজ তুললো মুক্তি চাই মুক্তি
অধীর অপেক্ষা করতে করতে উচ্চশিরে দৃপ্তপায়ে টঙে এলেন পাখিরাজ
কলরেডি মাইকের সামনে দাঁড়ালেন এবং গাইলেন মুক্তি বারতা
জয় বাংলা বাংলার জয়।

 

 

বঙ্গপিতার লন্ঠন 
(উৎসর্গ: শেখ হাসিনা)

আদি পিতা এসে আঁধারে লন্ঠন জ্বালিয়েছে
ঘোর অমানিশায় যুগান্তরে মরুবুকে
এশিয়ার সর্ব প্রান্তরে…

আমাদের দেশ উপমহাদেশে
স্বাধিকার-স্বাধীনতা আন্দোলনে
জাতিপিতা মুজিবের উদ্যত তর্জনী দেখে
হিমালয় থেকে বহমান গঙ্গা-পদ্মা
স্বাধীন দেশে কালরাত পঁচাত্তরের পনের আগস্ট
রক্তের ধারায় নদীমাতৃক দেশটা লাল
বেদনার জ্বালা সহে অন্তরালে
টুঙ্গিপাড়ার লন্ঠন হাতে এগিয়ে আসেন
মৃত নয় অমৃত মুজিব কীর্তিমান পৌরুষে…
গণতন্ত্রে জনতাতন্ত্রের মহানায়ক জাতির জনক
বলে যায়- বাংলা আমার ভাষা, আমি বাঙালি
দেশ আমার স্বাধীন বাংলাদেশ।

 

 

 

 

রক্ত থেকে পাওয়া

তুমি কেমন পুরুষ দেখিনি বঙ্গ জনক
তুমি কেমন নারী জানিনি বঙ্গ মাতা
কেমন দুষ্ট জানা হলো না ছোট্ট রাসেল
সে নাকি সাইকেল চালাত বেশ, বুদ্ধিদীপ্ত চোখ, রেগে মেগে গোমরা হওয়া মুখ
বাবা তার আদরের নাতীর নাম রাখলেন রাসেল
আরজু মণি আরেক নাতনীর নাম
এভাবেই ছিল আমার বাবার মুজিব স্মরণ

প্রতি শ্রাবণের জোৎস্না বিহীন কালো রাতে কেমন যেন আউলা হতেন বাবা,
তার পবিত্র  মুখ, বিষন্ন, উদ্ভ্রান্ত মনে
উম্মাদের মতো বিড় বিড় করতেন,
মাঝে মাঝে কোরান তেলাওয়াতে চিৎকার করতেন, গভির রাতে কাতরাতে কাতরাতে জিকির করতেন।
অভিসম্পাত দিতেন চিৎকার করতে করতে
আগস্টের প্রভাতে ফাতেহা দরুদ পড়তেন মা
ধবধবে ফর্সা মা, পড়তেন কালো শাড়ি
হালোয়া রুটি শিরনি সমেত মোনাজাত করতেন বাবা
ফাতেহা শরিফে কোন মোল্লা হুজুর দাওয়াত দেয়া হতো না
কেমন জানি ভয় করতেন বাবা

হরিণের চামড়ায় জায়নাম বিছাতেন
এরপর কি করুণ কান্নায় সুরেলা কন্ঠে
বাবা মোনাজাত করতেন

দেখা দেখি দু হাত জড়ো করে
মোনাজাতে অশ্রু ঝরাতাম আমরা

বাবা বলতেন,
আত্মঘাতী বাঙ্গাল শেখ সাহেব কে বুঝল না, এমন ঘাতকের দেশে স্বাভাবিক হই কি করে।
পিতা মুজিবের জীবিত কালে
কোন দিন আওয়ামীলীগ করেনি বাবা
পীরের সন্তান, অনুরাগী ছিলেন ভাসানির

৭৫ এ  জ্বালিয়ে দিলো রাগ অনুরাগ বেহাগ
গুরুর গুরুচন্ডালি প্রতারণায় বাবা হতবাক
হুজুরের নাম শুনলেই হতেন অগ্নিশর্মা।

উর্দি পড়া কালো চশমার শাসক জিয়া
অন্য অনেক জলে ভাসা ভাসানুসারি লোভ লাভের আশায় প্লট নিলো পাহাড়ের
তারা পাহাড়ের প্লটের টোপ গেলাতে চাইলো, গ্রাম সরকার আরো কতো কি।

লোভের বর্শি কাটা গেলানো গেলো না তাঁকে
সিদ্ধান্তে অটল পাহাড় সালেহ আহমদ
সেই তো আমার পিতা, মুজিবের অনুরক্ত
মুক্তিযুদ্ধের রক্ত, মুজিবের ভক্ত

চশমা পরা মেজরের বর্শিগাথা নেতারা
উল্লাসে ছুটছে দমানোর নিমিত্তে
দমাতে হবে সালেহ আহমদ কে
হয়রানি মামলা হলো অগ্রজদের নামে
আমিও কি বাদ পড়েছি? ধারাবাহিক সেই নোংরা খেলার পুরানা প্রতিশোধে?
মুজিবের চেতনা মাথা নত জানে না।

পিতা মুজিব, তোমাকে দেখেছি হৃদয়ে
তোমাকে জেনেছি বাবার মুখ থেকে
সেই থেকে আমাদের উজানে পথচলা
সেই থেকে তোমার কথা বলা
সেই থেকেই মুজিববাদের পাঠ নেয়া
সেই থেকেই হাসু বুবুর কর্মী হওয়া
আমি আমরা
পরিবার থেকেই পেয়েছি মুজিবের চেতনা
পরিবার থেকে পেয়েছি সুবিধার বিপরীতে চলা
পরিবার থেকেই নিয়েছি মুজিবের চেতনা
হাসিনা রেহেনার প্রেরণায় আমাদের পথচলা।
দিয়েছি তো রক্ত, আমরা মুজিবের ভক্ত
শেখ মুজিবের চেতনা, শেখ হাসিনা প্রেরণা
মুজিবের বাংলায়, রাজাকারের ঠাই নাই
মুজিবের চেতনা, কোন বাঁধা মানে না।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত