ইন্দু বিন্দু (পর্ব-১০)    

শ্রীচৈতন্যের জীবনী নিয়ে মধ্যযুগেই কয়েকটি গ্রন্থ লেখা হয়েছিল। তবে বাংলা সাহিত্য-আসরে আত্মজীবনী সাহিত্য এসেছিল বেশ চমক দিয়ে। চমক এ জন্য যে, আধুনিক যুগ ইংরেজ এবং ইংরেজি সাহিত্যনির্ভর হয়ে উঠেছিল। ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিতরাই সমাজ-সাহিত্য-রাজনীতিতে অবদান রেখেছিলেন। কিন্তু বাংলায় ‘আত্মজীবনী’ লেখার ইতিহাস একেবারেই ভিন্নভাবে এসেছে। কোনো ইংরেজ প্রভাবিত বা কোনো শিক্ষিত লোক আত্মজীবনী লেখেননি। লিখেছেন অজপাড়াগাঁয়ের প্রায় অশিক্ষিত এক মেয়ে। তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, কেউ তাঁকে পড়তে বা লিখতে শেখাননি। লেখাপড়া অর্জন করেছিলেন তিনি নিজে, সম্পূর্ণ একাকী। তাই সাহিত্যের আঙ্গিনায় তিনি একটি বিস্ময়। তাঁর নাম রাসসুন্দরী। তাঁর বইয়ের নাম ‘আমার জীবন’। তারপরে আত্মজীবনী অনেক পেয়েছে বাংলা সাহিত্য ও বাংলা সাহিত্যের পাঠক।

আরও একটি আত্মজীবনী ইন্দু বিন্দু’র সাক্ষী হতে যাচ্ছেন আপনি। আদরের নৌকা,শব্দের মিছিল-এ বিক্ষিপ্তভাবে নিজের জীবন নিয়ে লিখেছেন, ইরাবতীর পাঠকদের জন্য ধারাবাহিকভাবে নিজের জন্মতিথিতে নিজের আত্মজীবনী লেখা শুরু করলেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। আজ রইলো আত্মজীবনী ইন্দু বিন্দুর দশম পর্ব।


বসন্ত বিলাপ 

কলকাতার বাঙালীর মাঘোত্সব বইমেলা ফুরিয়ে যাওয়া মানেই শীতের যাই যাই ভাব। তখন স্মরণে, মননে বসন্ত জাগ্রত ঘরে ঘরে। শীত পড়বে কি পড়বে না এই শুনতে শুনতে শত্রুমুখে ছাই দিয়ে শীত তার দাপট দেখিয়ে মাঘেই বিদায় নেয়। শীতের পাততাড়ি গুটিয়ে নিয়ে ফিরে যাবার তোড়জোড় হলেই  লেপ-বালাপোষ-লাইসেম্পি আর যাবতীয় শখের শীত পোষাকদের রোদ খাইয়ে গুছিয়ে ন্যাপথলিন বলের আড়ালে তোলার পালা।

এ বসন্তের প্রতিটি মূহুর্তেই আমাদের বেঁচে ওঠা নতুন করে। বাদাম গাছের পাতাগুলো ঝরে গিয়ে কেমন ন্যাড়া হয়ে যাওয়া । হঠাত তার পাতার অগ্রভাগ থেকে মুকুলোদ্গম । কচি পাতা সবে গজানোর শুরু । কমল মুকুলদল খুলিল বুঝি!  আগুণ রং তার। পাতাশূন্য, রিক্ত গাছ সেই আগুণ রঙে সিক্ত।  সেই গাছের শুকনো ডালে বসে কোকিল তার সন্তানসম্ভবা প্রণয়ীকে খোঁজে আর শিস্‌ দেয়। বসন্তের হিম জোছনায় ভোররাত থেকে কোকিলটা প্রহর গোনে। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই তার সঙ্গীটিকে কাছে পাবার আশায় ডাকতেই থাকে সে। ওদিকে মুকুলিত আমশাখায় আমের বউল আসা… সজনে ফুলের গন্ধে বসন্ত এসে যায় ।
শীতের অন্তিম নিঃশ্বাসটুকুনি থাকতে থাকতেই ভুঁইচাঁপা গাছগুলো কেমন শ্রীহীন হয়ে পড়ে । বসন্তের হাওয়া গায়ে মেখে একটু উষ্ণতা পেলেই মাটির মধ্যে থেকে ওদের স্টকগুলো বিকশিত হয়ে সদর্পে ঘোষণা করে তাদের অস্তিত্ব।
শীতের অবসান মানেই বাঙালীর ঘরে নিম বেগুণের গন্ধ। কাঁচা আম দিয়ে টকের ডাল আর সজনে ডাঁটা দিয়ে চচ্চড়ি, টোপাকুলের অম্বল । এসব নাকি খেতেই হয় এসময় ।
বনফুলের বিখ্যাত অণুগল্প “নিমগাছ” মনে পড়ে? শুরুতেই সেখানে নিমের প্রশস্তিবচন।
পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ!

” কেউবা ভাজছে গরম তেলে।
খোস দাদ হাজা চুলকানিতে লাগাবে।
চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ।
কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে।
এমনি কাঁচাই …
কিম্বা ভেঙে বেগুন-সহযোগে।
যকৃতের পক্ষে ভারি উপকার”
সবশেষে লেখক সর্ব গুণান্বিত গৃহবধূকে তুলনা করেছেন বাড়ির নিম গাছের সঙ্গে।

কথায় বলে
নিম নিসিন্দে যেথা, মানুষ মরে না সেথা।
কিম্বা  
নিম তিত, নিসিন্দে তিত, তিত মাকালের ফল, তার চেয়ে অধিক তিত, বোন সতীনের ঘর। কি ভালো লোকগান নির্মলেন্দু চৌধুরীর!
 
নিম আর বেগুণ জুটি মিলে প্রথম পাতে ভাতে দিলে? জমে যায় খাওয়া । সুললিত বেগুণের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তখন মুচমুচে নিমের গন্ধে।  
 
মঙ্গল কাব্যে চোদ্দ শাকের বর্ণনাতেও সেই নিমের নাম আছে। আর হবেনাই বা কেন? নিম বেগুণে মজেছে মন, গরম আসছে বুঝবে তখন।  

সেই কারণেই বুঝি শীতের অবসান মানেই বাঙালীর ঘরে নিম বেগুণের গন্ধ। নিম বেগুণ হল বসন্তের আগমনে মধ্যাহ্নভোজের অন্যতম শুরুয়াত, শরীর সুস্থ রাখার জন্য। আর রান্না করতেও ঝামেলা কম।  

শ্রীচৈতন্যচরিতামৃততেও উল্লেখ আছে নিম বেগুণ ভাজার ।

“নূতন নিম্ব পত্রের সহিত ভর্জিত বার্তাকী”  

শীতের পার্টির অবসান। তেল-ঝাল-গরগরে রান্নাবাটির বিরাম। বসন্তে চাই হালকাপুলকা মানে সহজপাচ্য। কারণ পেট ঠান্ডা রাখো নয়ত রোগের প্রকোপে পড়বে বাপু! জন্মেছ ট্রপিকাল দেশে, মরিবে কি অবশেষে? তাই বুঝি এদেশের আমগাছে মুকুল  আর চিরুনির মত সারে সারে সজনে ডাঁটায় বাতাসে সজনে ফুলের ঘ্রাণ।

ছোটবেলায় বসন্তের খোলা জানলায় দাঁড়ালে বড়রা বলতেন বসন্ত কিন্তু ভয়ানক। যতটা দেয় ততটাই নেয় উশুল করে।  সত্যি তো, ঘরে ঘরে অসুখ এই সময়ে। আর ঋতু পরিবর্তনে এই মারণ ব্যাধির থেকে মুক্তিলাভের আশায় আবার নতজানু আমরা নারীশক্তির কাছে। বাসন্তীপুজোর আয়োজন। কারণ যমদংষ্ট্রা বসন্ত ঋতুর রোগের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে অতি প্রাচীনকাল থেকেই আমরা পরিচিত। ঋতুর নামে রোগও রয়েছে বটে। কি আর করি?

ফাগুণ হাওয়ায় সব দান করেছি যে আজ। তাই তো আমার আপনহারা, বাঁধনহারা প্রাণ।  

এই বসন্তেই মায়ের কত বারব্রত পালন দেখেছি। বাসন্তী-অন্নপূর্ণা পুজো, নীল ষষ্ঠী, চড়ক সব তো এই বসন্তেই। অশোক ষষ্ঠীর দিন বাসন্তী দুর্গার পুজোতে ভোরে উঠে ছ’টি অশোক ফুলের শুকনো কুঁড়ি গিলে খাওয়া? কলা কিম্বা টক দৈয়ের মধ্যে পুরে। কি করে খাও মা? মা বলত, মা হলে তুইও পারবি।
অশোক অষ্টমীর দিন চৈতালী দুর্গা অন্নপূর্ণার পুজোয় আবার আটটি অশোক কুঁড়ি খেতে হবে একই ভাবে।  পরে জেনেছি অশোকফুলের ওষধি গুণ মেয়েদের রোগের অব্যর্থ। তাই বাত্সরিক টীকাকরণ বলে মনে হয় আমার। অশোক অষ্টমীর দিন আবার ওষধির সেকেন্ড ডোজ। বহুযুগ আগে থেকে আয়ুর্বেদিক অশোকারিষ্ট ওষুধটির কথা আমরা জানি। আর অশোক কুঁড়িতে প্রাকৃতিক ফাইটো ইস্ট্রোজেনের উপস্থিতিও চমকে দেয় আমায়। তাই দুয়ে দুয়ে এক করে ফেলি।

বাসন্তী পুজোর হাত ধরে মনে পড়ে যায় চড়ককে। সেই ছড়াটা?

খড়কে ডুরে শাড়ী পরে খুকুমণি যায়
চড়ক পুজোর ঢাক বাজে ঐ গাঁয়ের কিনারায় ।
পাশের গাঁয়ের বাঁশের সাঁকো
চলছে খুকু থামছে নাকো।
ঘুঙুর ঝুমুর নূপুর বাজে আলতা পরা পায়।  

সেইসঙ্গে সারাটা চৈত্রমাস ধরে গাজনের উপবাসী সেই সন্ন্যেসীদের বাড়ি বয়ে রোজ এসে মাধুকরী করা? আমাদের মফঃস্বলে এসবের খুব ঘটা ছিল।
বাবা তারকনাথের চরণে সেবা লাগে… শুনতে পেলেই মনে হত, আহারে! কিছু দিয়ে আসি ওদের। সারাদিন উপোস থেকে দিনের শেষে ওরা হবিষ্যি ফুটিয়ে দুটো খাবে।
চড়ক শেষ হবে নীলের পুজো করে। মাও সামিল এই নীল ষষ্ঠীর ব্রত পালনে।

গ্রীষ্মের বারব্রতর উপোসকালীন দিনগুলোয় মায়ের হেঁশেলে ছিল শরবতি বিলাসের তুমুল তোড়জোড় । রন্ধন পটীয়সী মায়ের হাতের জাদু রেসিপি আর অভিনব পরিবেশনায় সে শীতল পানীয়ে চুমুক আমাদের কাছে হয়ে উঠত উষ্ণতা মাখানো গ্রীষ্ম দিনের একটুকরো পরম পাওয়া। পুজোআচ্চা তো উপলক্ষ্য মাত্র। আর রোজকারের একঘেয়েমির ডাল, ভাত, থোড়, বড়ি, চচ্চড়ি, মাছের ঝোল থেকে বেরিয়ে এই শরবতি বিলাসে বাড়িশুদ্ধ সকলেরি হত রীতিমত শারীরিক ডিটক্সিফিকেশন। আর দুষ্প্রাপ্য সেই শরবতের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বরফ কুচি।

সে সময় বরফ ছিল দুষ্প্রাপ্য বস্তু। ঘরে ঘরে ফ্রিজ ছিল না । নীল ষষ্ঠীর দিনে বাড়িতে লার্জ স্কেলে তরমুজের শরবত, বেলের পানা  কিম্বা বিজয়াদশমীর সিদ্ধির শরবত যাই হোক খুচরো বরফ কিনে আনা হত বাজার থেকে। ইনসুলেটর কাঠের গুঁড়ো মাখানো বরফ। তাড়াতাড়ি গলবে না। রানিং ট্যাপ ওয়াটারে সেই বরফ ধুয়ে খেয়েছি। কেউ ভেবেছি তখন বরফের গুণমান নিয়ে ? অবিশ্যি তখন আমরা ভাবতেও পারিনি শহরের বুকে মিনারেল ওয়াটারের বোতল বিক্রি হবে। মিনারেল ওয়াটারের কোম্পানির স্ট্যাম্প চুরি করে টিউবওয়েলের জল ভরে সিল হবে মহার্ঘ জলের বোতল। তখন বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলেই যেমন কলের জল খেয়েছি তেমনি খেয়েছি বাজার চলতি বরফকুচি দেওয়া শরবত।

এই বরফ প্রথম কাশ্মীর থেকে দিল্লীতে গোরুর গাড়ি করে এনেছিলেন মুঘল সম্রাট । আর সেই বরফ দেওয়া ঠাণ্ডা পানীয়তে চুমুক দিয়ে দিল্লীর বাদশারা নাকি গরম নিবারণ করতেন। দিল্লীতে সেই বরফ এনে স্টোর করা হত বরফখানায়। আর সে যুগের ক্যাপিটাল সিটি কলকাতায় সাহেব-সুবোরা বরফ আনতেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাহাজে করে ।  

আমার মায়ের গ্রীষ্মকালীন উপোষের দিনে একদিকে পুজোর যোগাড় অন্যদিকে রান্নাঘর ধোয়ামোছার পরে শুরু হত শরবতি বিলাসের তোড়জোড়। শীত-গ্রীষ্মের সন্ধিক্ষণে পাকা বেল ওঠে বাজারে। গুণ সর্বস্ব বেলের নাম অমৃত ফল। তাকে খোসা মুক্ত করে জলে ভিজিয়ে, দানামুক্ত করে নিয়ে এক টুসকি নুন, সামান্য চিনি মিশিয়ে ঘেঁটে নেওয়া আর তারপর বাড়িতে পাতা টক দই ফেটিয়ে সেই বেলের মধ্যে মিশিয়ে দেওয়া। ওপর থেকে কাগচি লেবুর পাতা ছিঁড়ে দেওয়া। আর এক টুকরো কাগচির রস ছড়িয়ে ঠান্ডা করতে দেওয়া।
কোনও দুপুরে টুকটুকে লাল তরমুজের শাঁস বের করে তার বীজ যতটা পারা যায় হাত দিয়ে ছাড়িয়ে কাঁটা দিয়ে বড় ডেকচিতে ঘেঁটে নেওয়া। এবার ক্রাসড আইস। কিভাবে? বাজারই বরফকে হামান দিস্তা তে গুঁড়ো করে নিয়ে । এবার এক টুসকি বীটনুন। সামান্য চিনি আর লেবুর রস দিয়ে সুদৃশ্য কাঁচের গ্লাসে পরিবেশন। দুপুর সূর্য তখন মাথার ওপরেই থাকত। ঠিক এখনো যেমন গর্জে ওঠে ঠিক বারোটায়। সেই ভর দুপুরে কেউ আর আমার স্টাডি টেবিলে আলগা হাতে রেখে যায় না কাঁচের গ্লাসে দুধ সাদা টক দইয়ের ঘোল। বাড়িতে পাতা টক দই ফেটিয়ে নুন, চিনি আর কাগচি লেবুর গন্ধে ভরে ওঠা সেই ঘরোয়া লস্যি থুড়ি বাঙালির ঘোল পেলে মনে হত, মা, কি করে বুঝতে পারে? আমার এখুনি সেটাই খুব দরকার ?
আজকাল আমপান্না মিক্স হয়েছে। আমাদের ছোটবেলায় কালবোশেখির ঝড়ে পড়ে যাওয়া কাঁচা আমগুলো খোসাকে প্রেশার কুকারে খোসা সমেত সেদ্ধ করতেন মা । খোসায় ঠাসা ভিটামিন যে! তারপর খোসা থেকে আমের শাঁস ছাড়িয়ে নিয়ে আবারো কাঁটা দিয়ে ঘেঁটে নিতেন। এবার ঠান্ডা জল, বীট নুন, চিনি মিশিয়ে ওপর থেকে জিরে ভাজার গুঁড়ো ছড়িয়ে সূর্যাস্তের ঠিক আগেই হাতে পাওয়া যেত কাঁচা আমের শরবত। আম পোড়ানোর কি দরকার? অবিশ্যি উনুনের আমলে মরা আঁচেও চাড্ডি কাঁচা আম গুঁজে দেওয়া হত ছাইচাপা আগুণের মধ্যে। তবে সেদ্ধ করলে সহজে হয়। বিশেষ বিশেষ বৈশাখি বিকেল ভরে উঠত সেদিন । আর এখন ঝড়ে আম কুড়োয় যে সব দস্যি ছেলে তারা শরবত চেনে না।  থারমোকলের বাক্স বন্দী প্ল্যাস্টিকের প্যাকেটে মোড়া পেপসি চেনে। শরবত তাদের কাছে বিলাসিতাই বটে।
আর আমাদের আধুনিক অভিজাত ছেলেপুলেরা মকটেল শিখেছে। সুদৃশ্য কাট গ্লাসের সুরাপাত্রে স্ট্র ডুবিয়ে, ছোট্ট ছাতা, একটুকরো চেরি কিম্বা আধখানা স্ট্রবেরী অর্থাৎ দেখনদারি এবং অতি অবশ্যই পহেলে দরশণ ধারী পানীয় চাই তাদের। আর রূপ সর্বস্ব, গুণ সামান্য মহার্ঘ্য এই আধুনিক গ্লোবালাইজড শরবতে তাদের ফ্যাশন ইন আর ঘরোয়া রেসিপিতে রসনা আউট। যতসব রঙ্গিন রাসায়নিক সিরাপ আর সুগন্ধ তাদের পচ্ছন্দ। তাদের কাছে বেলের পানা, তরমুজের শরবত, টক দইয়ের ঘোল কিম্বা কাঁচা আমের এই শরবতি বিলাস অতি তুচ্ছ। সেকেলে শরবত। তবে এ স্বাদ যারা পেলনা তারা জীবনের আরো অনেক রসাস্বাদন থেকেই বঞ্চিত হল, এ আমার বিশ্বাস। এখন বাজারী বরফ মানেই বিভীষিকা। বাজার চলতি বরফ দিয়ে বানানো দোকানের শরবতে কিন্তু বিষ। মর্গের শব সংরক্ষণের বরফ, বাজারের মাছ সংরক্ষণের বরফ আর পথের ধারের আখের রসওয়ালার বরফ কিম্বা নিম্বুপানিওয়ালার বরফ মিলেমিশে একাকার এখন। খেলেই কিন্তু শরীরের দফা গয়া । জন্ডিস থেকে হেপাটাইটিস, আন্ত্রিক থেকে কলেরা, ডায়েরিয়া থেকে ব্লাড ডিসেনট্রি  এ সবকিছু বিচিত্র নয় কিন্তু।  
ততক্ষণ বেঁচে থাকুক মায়ের হাতের শরবত-ই-বিলাস! 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত