| 5 মার্চ 2024
Categories
গল্প সাহিত্য

মধ্যবর্তিনী

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

   বর্ষার জলভরা মেঘ ঝুঁকে পড়েছে রৈবতক পাহাড়ের উপর। গুরুগুরু গর্জন মনে করিয়ে দিচ্ছে আসন্ন ভারি বর্ষণের কথা। কৃষ্ণ-বলরাম , দুজনেই ব্যাস্ত। লোকজন, হাঁক ডাক , রথ সাজান চলছে দ্রুত গতিতে। দ্বারকার প্রাণ পুতুলি, রাজকন্যা সুভদ্রা , আজ অর্জুনের সঙ্গে চলেছে শ্বশুরবাড়ি , ইন্দ্রপ্রস্থ।
   
 অর্জুন দাঁড়িয়ে ছিল । একলা। বারো বছর পরে ফিরছে পরিবারের কাছে। ভুরুতে ভাঁজ। আকাশের মেঘের কালো ছায়া মুখে। চিন্তিত অর্জুনের দিকে এগিয়ে গেল কৃষ্ণ। যত বড় শ্রেষ্ঠ পুরুষ হও না কেন, রমণী দরবারে তুমি অসহায়! সমবেদনার হাত রাখলেন অর্জুনের কাঁধে কৃষ্ণ:
চিন্তা করে লাভ নেই। ভদ্রাকে  নিয়ে যাবে স্থির করেছ। এখন ইন্দ্রপ্রস্থে ঝড়ের জন্য,প্রস্তুত থেকো। দেরি করো না। দাদা অস্থির হয়ে পড়েছেন। 
 কৃষ্ণ! দ্রৌপদীর শর্ত অনুযায়ী, পাঁচ ভাই বাইরে বিবাহ করতেই পারে, কিন্তু, রাজ অন্তঃপুরে থাকবে শুধু সে একলাই। এর নড়চড় হতে পারবে না। 
 তবে আজ এই আইন লঙ্ঘন কেন বন্ধু?
 সখা। সুভদ্রা আমার প্রাণের আরাম। একান্ত নিজস্ব নারী। গত একটি বছর স্বপ্নের মত কাটালাম দুজনে। এখন একলা যাবার প্রশ্নই আসে না।

রথ চলেছে। বৃষ্টি নেই। থমথম চারিদিক। ঠান্ডা বাতাস। চারিদিকের প্রকৃতি দুপুরের মেঘলা আলো মেখে অতি মনোরম। রাতের মধ্যে পৌঁছে যাবার কথা ইন্দ্রপ্রস্থ।
নীল আর সোনালী জরির ঘাঘরা, সোনালী কাঁচুলি,সুভদ্রা অপরূপা হয়ে , একহাতে ভর দিয়ে নরম কুশনে বসে আছে। চোখ দুটি অল্প ভিজে। তার মন খারাপ ।  তবু লক্ষ্য করছে অর্জুনের ভাবান্তর।  তাড়াতাড়ি নিজের কোমল হাত, অর্জুনের মুখের উপর বুলিয়ে দিয়ে , মাথাটি টেনে নিল কোলের উপর।
 একবছর দ্বারকায় সুন্দর সময় কাটল আমাদের ভদ্রা। এবার একটু মানিয়ে নিও।
 চিন্তা করবেন না। আমার সহ্য ক্ষমতা অসীম। 
 যদি অপমান করে কেউ? তাচ্ছিল্য করে?
 অলংকার করে নেব!
যদি কারো হাতের পুতুল হতে হয়! যদি নিজের বলে কিছু না থাকে?
পুতুল থেকে দেবী হবার পথ আমার জানা আছে। নিজের বলতে কেবল আপনি।
সেখানেও যদি…!
পুরো ভরসা আছে। 
অর্জুন অবাক । এত গভীর মনন এই মেয়ের? মুখ নিচু করে, আধশোয়া সুভদ্রার ঠোঁটে চুম্বন করল সে।

গলার ভাঁজে লুকিয়ে রাখা তিলের উপর হাত রাখে দ্রৌপদী। চার পান্ডবের সঙ্গে নিয়মিত সঙ্গমে, অদ্ভুত কৌশলে এই তিল রয়ে গেছে স্পর্শহীন। কুমারী। নিজের ঠোঁট প্রথম ওখানে রাখবে অর্জুন। ভাবতেই কেঁপে উঠল সে। সঙ্গমের সময় হিংস্র যুধিষ্ঠির। একবার অস্ফুটে নাম নিয়েছিল অর্জুনের। তিনদিন কথা বলেনি যুধিষ্ঠির। ভীম আবেগপ্রবণ। বার বার প্রশ্ন করে তার লেগেছে কি না! নকুল সহদেব তাকে সমীহ করে। সঙ্গম হয় বটে। নিছক কর্তব্য পালনের মত।  প্রতিবার সঙ্গমে কাজ করে শরীর, মন পড়ে থাকে অর্জুনের কাছে।
এখনো সে যেন অধরা কুমারী। এখনো জাগেনি প্রার্থিত রোমাঞ্চ। এতদিন তার অনন্ত প্রতীক্ষা খাক হয়ে পুড়ে যায়নি শুধু একটা আশায়,আসবে সে। আসছে। আর কটা মাত্র দিন।
চার পান্ডবদের আছে অন্য স্ত্রী। তাতে তার কিছু মনে হয় না। মনে করার মত আবেগ জাগেনি।  কিন্তু, অর্জুনের এক একটি বিবাহের খবরে তীব্র তীক্ষ্ম জ্বলন্ত শলাকা ফোটে। কিছুতেই মানতে পারেনা। তারপর যখন জানা গেল, সুভদ্রা প্রেমের খবর, ভিতরের ভূমিকম্প হয়ে উঠল অসহ্য। তবু ভরসা ছিল বিয়ের সময়কার এক শর্তের উপর-তিনি ছাড়া কোনো রানী থাকবে না রাজ অন্তঃপুরে। সে শর্ত রাখলেন না তাঁর স্বামী। তাঁর প্রেমিক। বারো বছর পরে আসছে। সঙ্গে অন্য নারী!

রাত অনেক। নিরাপদে পৌঁছেছে ইন্দ্রপ্রস্থ। আয়োজনের ত্রুটি ছিল না কোথাও। সুন্দর একটি কক্ষে সুভদ্রাকে বসিয়ে রেখে , অর্জুন একটু ইতস্তত করে , তার হাতটি ধরে বলল:
 আমি একটু দেখা করে আসি। তুমি ভয় পাবে না তো?
গলা ধরে এল সুভদ্রার। এ যেন সেই চেনা অর্জুন নয়! কেমন ভীত। শঙ্কিত। অপরাধী ভাব। প্রেম মানে তো আশ্রয়। যে সম্পর্ক এত প্রশ্ন তোলে, সেখানে প্রেম কোথায়? দুহাতে অর্জুনের গলা জড়িয়ে সে বলল:
  নিশ্চিন্তে যাও। আমি অপেক্ষায় আছি।
তারপর অনেকখানি সময় কেটে গেছে। অর্জুন ফেরেনি। বাইরের ঝমঝম বৃষ্টির শব্দ। ঘুম আসছে না। আসবে না সহজে। তার একটু ভূতের ভয় আছে। এই নিয়ে কম কৌতুক করত  অর্জুন?  আসল উদ্দেশ্য ছিল, সুভদ্রাকে বুকের মধ্যে থরথর করে কাঁপতে দেখা! তার শরীর নিয়ে ছেলেমানুষের মত খেলা করত। একদিন বলেই বসল সে,
কত রমণীর সঙ্গে প্রেম আপনার। নারী শরীর অজানা নয়। তবে ?
কি তবে?
লজ্জা পেয়ে সে বলল থাক। বলতে হবে না।
এমন বললেই তাকে কাছে টেনে গভীর আশ্লেষে বলবে অর্জুন:
তুমি আমার নিজের। নিজের। করো সঙ্গে ভাগ করতে হবেনা তোমায়। এ আমার বড় শান্তি। বড় আরাম।
   চোখের কোল বেয়ে গড়িয়ে পড়া জল মুছে, ঘরের এদিক ওদিক তাকাল সুভদ্রা। দেওয়াল গিরির আলোয় সব জিনিস কেমন কাঁপা কাঁপা। হঠাৎ ঘরের কোণে দেখতে পায় একটা মাকড়সা। কেমন স্থির দৃষ্টিতে দেখছে তার দিকে। শয্যার ধারে সরে যায় সে। মাকড়সা দৃষ্টি সরায় না। তার কেমন ভয় ডয় করে। প্রাণপণে চোখ বন্ধ করে সে।

কপাট বন্ধ। এক মস্ত নিষেধের মত দ্রৌপদীর ঘরের কপাট বন্ধ।  বাইরে অর্জুন। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। দেওয়াল মশালের আলো নিভু নিভু। কোনো দাসী বা অন্য লোক কেউ নেই। অর্জুন টোকা দিল। একবার। দুবার। তিনবার। খুলে গেল কপাট। হতাশার, বিষাদের , অপেক্ষার বারো বছর সরিয়ে, অর্জুন-দ্রৌপদী মুখোমুখি।
অর্জুন দেখে দীপ্তি। এত বছর পরেও সমান উজ্জ্বল। ওই টেঁপা ঠোঁট। থুতনির ভাঁজে গভীর অভিমান।
দ্রৌপদী দেখে, ব্রোঞ্জের মত কঠিন শরীর। সেই পুরুষ চোখ। প্রথম দেখা থেকে আজো স্বীকার করে দ্রৌপদী, অর্জুনের মত চোখ কারো নেই।  যোগী আর ভোগী-একসঙ্গে লীলা করে দুই চোখের তারায়। উপেক্ষা আর আসক্তি-যে পুরুষের চোখে থাকে, তার  থেকে দৃষ্টি ফেরান মুশকিল। নির্নিমেষ চেয়ে থাকে দুজনে। অনন্ত শুভদৃষ্টি। সম্বিৎ ফিরে কথা বলে দ্রৌপদী। শীতল বরফ স্বর:
  এখানে কেন? কেন এসেছ এখানে? যাও। যাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছ, তার কাছে যাও। যাও!
  নারী চরিত্রে অভিজ্ঞ বলে গর্ব ছিল অর্জুনের। এখন মনে হচ্ছে, জানার অনেক বাকি। চরম অসহায় ভাবে সবচেয়ে সহজ কাজটি করে। নতজানু হয়ে বসে বলে-
   ক্ষমা করো দেবী।
 পুরুষ ক্ষমা চাইলে নারী নরম হয়ে ওঠে, এমন কথা ভেবে খুশি হয় পুরুষ। দ্রৌপদীর রাগ আরো বেড়ে গেল!
ঠান্ডা বরফ গলায় বলল:
    ক্ষমা চাইবেন না। আপনি আমার স্বামী। আপনার অধিকার আছে অপমান করবার!
অর্জুন বুঝতে পারছে, এই নারীর ভিতর গর্জন করছে এক পাগল নদী। আর বেশি শব্দ খরচ করলে, বিপদের সমূহ সম্ভাবনা।  একটি শব্দ না করে কোলে তুলে নেয় তাকে। ঠোঁট ডুবিয়ে দেয় গলার তিলে। শিউরে উঠে চোখ বন্ধ করে দ্রৌপদী। বাইরে শব্দ করে বাজ পড়ে। চকিত অর্জুন! সুভদ্রা ভয় পেল না তো! নতুন জায়গা! উচাটন মন , কিন্তু হাতের বাঁধন শিথিল হলে চলবে না।  বাতাসে সরে গেল নীল রেশম বস্ত্র। কালো হিলহিল , পদ্মগন্ধা কেউটে ঝাঁপিয়ে পড়ল অর্জুনের উপর। রোমে রোমে শরীরে শরীরে ঘর্ষণে আগুন জ্বলে। বার বার নেভে। আবার জ্বলে। শেষ হলেও শেষ হয় না।
          সূর্যোদয় মুহূর্তে , ক্লান্ত দ্রৌপদী আধো ঘুমন্ত চোখে চেয়ে দেখে, চলে যাচ্ছে পুরুষ। চলে যাচ্ছে সুভদ্রার কাছে।  এতদিন অর্জুন কাছে না থেকেও, তার কাছেই ছিল। আজ প্রাসাদে ফিরে এলেও, অর্জুন আর তার মাঝে রয়ে যাবে সুভদ্রা। পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে দ্রৌপদী। এক হাতে আঁকড়ে ধরে অর্জুনের ফেলে যাওয়া উত্তরীয়।
      

   সকালে  হন্তদন্ত হয়ে অর্জুন এলো:
ভদ্রা, তুমি ঠিক আছো? শোনো, আমাকে তো রাজ্যের নানাকাজে ব্যাস্ত হতে হবে। তুমি যাও। দ্রৌপদীর সঙ্গে দেখা করে এসো। তোমার সঙ্গে রাতে দেখা হবে।
ব্যস্ত পায়ে আবার কোথায় যেন চলে গেল সে। চাপা শ্বাস ফেলল সুভদ্রা। দ্বারকায় সারাদিন খুনসুটি, ছোট ছোট কৌতুক, বাধাহীন প্রেম, সখী পরিবৃত অর্জুনের রহস্যালাপ-একদিনেই সব কেমন স্বপ্ন মনে হচ্ছে!
   দাসী তাড়া দিল:
        ছোট রাণীমা। স্নান করবেন চলুন।

          রুচি আর প্রাচুর্যের মিশ্রণে দ্রৌপদীর বারমহল দেখবার মতন। মূল্যবান রেশম, ভেলভেট , জরির আচ্ছাদনে মোড়া ছোট ছোট স্বর্ণ সিংহাসন। পাথরের কারুকার্য করা মেঝের উপর সোনার তৈরি নানারকম ছোট ছোট বস্তু। বিশাল কক্ষের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত বিছানো দামী গালিচা। ঘরের দেওয়াল থেকে ছাদ-দেখার মত স্থাপত্য। উজ্জ্বল অথচ স্নিগ্ধ নীল আভা। পাণ্ডব পাটরানীর উপযুক্ত বসবার ঘর বটে।
        দ্রৌপদীর কাজ অনেক। রান্না থেকে শুরু করে , মাতা কুন্তীর পূজা উপাচার, অতিথি, দান ধ্যান, স্বামীদের সমস্ত খুঁটিনাটি-যাবতীয় সব কিছু তার নির্দেশেই চালিত হয়। গতরাতের ঘটনায় তার উঠতেও একটু দেরি হয়েছে। এমন সময় দাসী খবর দিল-
 কৃষ্ণ ভগিনী, অর্জুন পত্নী সুভদ্রা আপনার দর্শন প্রার্থী।
কে এসেছ?
যন্ত্র চালিতের মত একই জবাব এলো।
অর্জুন পত্মী! মূর্খ দাসী। ক্রোধে দাঁতে দাঁত পিষে সে উত্তর দিল-অপেক্ষা করতে হবে। আমি আসছি। বেশ অনেকক্ষণ পরে, নিজেকে মহার্ঘ করে সাজিয়ে বারমহলে এসে দ্রৌপদী একটু ধাক্কা খেল। উচুঁ আসনে নয়। নীচে গালিচায় বসে আছে সুভদ্রা। পরণে সাধারণ উজ্জ্বল গেরুয়া রঙের শাড়ি। অল্প গহনা। স্নান শেষে , ভিজে চুল ছড়িয়ে আছে। কপালে চন্দনের টিপ। সোনার বরণ শরীরের উপর এসে পড়েছে সূর্যের আলো। গোটা ঘরকে আলোময় করে বসে আছে সে। দ্রৌপদী মুগ্ধ হতে হতে সামলে নিল। নিজের দামী সাজসজ্জা এই রূপের কাছে নিতান্ত মলিন। সুন্দরী তার মত নয় এ কন্যা। কিন্তু জগতে সরলতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য আর কিছু নেই। বৃষ্টিধোয়া গন্ধরাজের মত চোখ দুটি তুলে তাকাল সুভদ্রা। আঁচল গলায় জড়িয়ে গড় হয়ে প্রণাম করে বলল:
দিদি। আমি আপনার দাসী মাত্র। আপনার চরণ সেবার অধিকার চাই।
দ্রৌপদী স্তম্ভিত। যে কন্যাকে মাথায় করে নিয়ে এসেছে অর্জুন, তার দেমাকে ফেটে যাওয়া উচিত মেদিনী। সে এসব বলে? তাড়াতাড়ি তাকে তুলে ধরে বলে দ্রৌপদী:
  তুমি অর্জুন প্রেয়সী। তোমার মুখে এসব শোভা পায়না।
কথার ভিতরের শ্লেষ ধরে ফেলে আরো নতমুখ সুভদ্রা বলে,
আমি আগে এক নারী। তারপর অর্জুন প্রেয়সী। নত হতে জানা, নারীর স্বভাব গুণ। সে ক্ষমতা আমার আছে।
আমাকে আপনার ছায়া ভাববেন দিদি।
তাই না কি! তবে শোনো, দ্বারকা নয় এটি ইন্দ্রপ্রস্থ।
নিজেকে অর্জুনের কাছের মানুষ ভেবে গর্ব বোধ করোনা। দ্রৌপদীর আদেশ বিনা এখানে একটি পাতাও হেলবে না। যখন তখন অর্জুনের দেখা পাবার আশা আর করো না।
দ্রৌপদীর শ্লেষ উপেক্ষা করে , সুভদ্রা বলে-
  প্রেয়সী হল তৃষ্ণার জল দিদি। সে যেখানেই থাক, প্রেমিক তার কাছে আসবেই। জলকে ছুঁয়ে সে বাঁচায় নিজের অস্তিত্ব। আপনাকে দেখে গেলাম। পরে আসব আবার।
     চলে যেতে উদ্যত সুভদ্রা। সোনার  বরণ শরীরে গেরুয়া বস্ত্র যেন ত্যাগ আর তপস্যার প্রতীক। প্রণাম করে যেতে যেতে বলে,
প্রেমপূর্ণ  কলসের শব্দ হয়না। সে আপনাতে পূর্ণ, আপনাতে সুখী।
-এর অর্থ? এর অর্থ বলে যাও। আমি নই অর্জুন প্রেয়সী?
ম্লান হাসে সুভদ্রা
   আপনিই সব দিদি। আপনি সঙ্গিনী। মহিষী। সচিব। আপনি অর্জুনের ক্রোধ। আমি অর্জুনের শান্তি। আপনি না থাকলে অর্জুন যোদ্ধা হবে না। আমি না থাকলে অর্জুন প্রেমিক হবে না।
রাজহংসীর মত গ্রীবা উঁচু করে নিজ মহলে চলে যায় সুভদ্রা। শুকিয়ে যাওয়া পদ্মের মত বসে রইল দ্রৌপদী।
  আকাশে ঘন মেঘ।  ঘরে নেমেছে আঁধার। এখুনি বৃষ্টি নামবে। জলের গন্ধ ভরা বাতাস ঢুকছে। এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে সাজানো ঘর। বারোবছর প্রতীক্ষা শেষে, অর্জুন ফিরেছে। কিন্তু, ফিরেছে কি?  যে যায়, সে কখনো ফেরেনা। যে ফেরে, সে অন্য কেউ। তাকে চিনতে আরো কেটে যাবে কত কাল!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত