| 15 এপ্রিল 2024
Categories
গল্প সাহিত্য

একটি সামন্তীয় চেয়ার

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট
রাম ছাড়া রামায়ন কল্পনা করা যায়? যেমন চিনি ছাড়া পায়েস! আমাদের আড্ডায় জহির না থাকলে মনে করবেন ওরকমেরই একটা কিছু। এও বলতে পারেন ওটা একটা তক্তা বিহীন খাট। সেই আড্ডাটা পায়ে দাঁড়াবে না। সমুদয় কথা বলবো আমরা ও নিরবে মুচকি মুচকি হাসবে শেষে দুটো কথা বলে একটা পেরেক ঠুকে দেবে। মানে ধান গাছ হলেও অসুবিধে নেই ওটাকেও কাঠ বানিয়ে ছাড়বে! দুটো পেরেক তার ঠোকা চাই-ই চাই। এই সে দিন বিষুদবার কথায় কথায় মোহনের বিয়ে নিয়ে কথা উঠলো। হবু শ্বশুরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরদোর, গ্যারেজে চার চাকার গাড়ি, ছাদের সিড়িতেও মার্বেল পাথর, গ্রামের বাড়িতেও নাকি সান বাঁধানো পুকুর ঘাট, দু’দশকের দুবাই ফেরত শ্বশুরের জমিজিরাত ধান-পাটের গোলা বাড়িতে পাকা রাস্তা, কী নেই! মোহন আবার পড়াশুনোয় ভালো না তাই বলে পাত্র হিসেবে সুকুমার রায়ের গঙ্গারাম বলা যাবে না। দেখতে শুনতে চেহারা সুরত মাশাল্লা ছয় ফিট ছুঁইছুঁই। বাপের কারবার সে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেই যাতায়াত করছে। তখন থেকেই ইট ভাটায় ১০০ ইট সাপ্লাই হলে দু’খানা ইটের টাকা তার পকেটে ঢোকে। তাই বলছিলাম দু’পাঁটটা গঙ্গারামের খচচা সে অনেক আগে থেকেই যোগান দিতে শিখে গেছে। তো মোহনের শ্বশুর বাড়ির আলাপ কেবল খোলস খুলতে শুরু করেছে। উত্তর পাড়া, দক্ষিণ পাড়া হয়ে আমাদের পাড়াও প্রবেশ করেছে। জহির এ নিয়ে তাঁর দাদুর গপ্পো জুড়ে দিল। দাদুর ভাইয়ের সম্মন্ধ একেবারে পাকা। বিয়ে নিয়ে হাজার কথা। এটা মেলে তো ওটা মেলে না মানে বংশ মেলে তো কর্ম মেলে না। কর্ম মেলে তো বংশ মেলে না। দাদুর বাবা আব্দুল গফুর বললেন তোমাদের আর কিছু মেলাতে হবে না যা দেখার আমি দেখে নিয়েছি। ওখানেই বিয়ে দেব। রায়টা দাদুর বাবা দিয়েছিলেন বেশ গুরুগম্ভীর ভাবে রায়ের কালে এজলাসে বসে থাকা বিচারপতিও অতটা গভীর থাকে না। 
একজন প্রশ্ন করলো তো তিনি রায়টা কী দেখে দিলেন? 
– আর বলিসনে চেয়ার দেখে! 
– সে কিরে! এতো কিছু থাকতে চেয়ার! 
– হুম, ‘চেয়ার’- গফুর সাহেব সবার উদ্দেশ্য বললেন, তোমরা কী কেউ আইতনার কোনায় একটা চেয়ার দেখেছো? 
– সভায় বসা কেউ কেউ বলে উঠলো হুম বিলক্ষণ একটা চেয়ার দেখেছি তবে বেশ পুরাতন। 
– ব্যাস হয়ে গেল! 
– কী হয়ে গেল? 
– গফুর সাহেব বললেন তা চেয়ারখানার বয়স কত হবে? একেবারে চোখটা বুজে বললেন যেন তিনি দেখতে পাচ্ছেন! তা কম করেও ত্রিশ, চল্লিশ, পঞ্চাশ। 
– তাঁর কথায় সবাই সায় দিলো। এ নিয়ে কোন সংশয় নেই। 
– একজন বললো তো হলো না হয় পঞ্চাশ! এ দিয়ে আমরা কী করবো! 
– আব্দুল গফুর আরো গম্ভীর! তোমাদের বুঝতে হবে ঐ বাড়িতে পঞ্চাশ বছর আগেও চেয়ারে বসার লোক ছিল। 
অতএব এখানেই বিয়ে হবে…
এবার জহির গম্ভীর হয়ে বললো তোমরা এখনকার মধ্যবিত্তরা ইট-পাথর দেখো, রবীন্দ্রনাথের দিয়ে যাওয়া রুচিটুকুও আর দেখো না! 
মোহনের বিয়ের আলোচনায় একটা পেরেক ঠুকলো জহির।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত