কবির অজানা জীবন


আজ ০৪ এপ্রিল কবি, নৃত্যশিল্পী, গায়ক, চিত্রপরিচালক মায়া এঞ্জেলোর শুভ জন্মতিথিতে ইরাবতী পরিবারের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।


খাঁচার পাখি


 
বাতাসের আগে ছুটে চলে মুক্ত পাখি
স্রোতে স্রোতে ভেসে বেড়ায়
স্রোত শেষ হলে তবু
সে ভাসে মুক্ত পাখি
কমলা রোদে ডুবে তার ডানা
পুরো আকাশই তার সাহসের ঘোষণা
 
তবে রুদ্ধ খাঁচায় যে পাখির অস্থির হাহাকার
ক্ষোভের অগ্নিদণ্ডে হয়তো সে দেখতে পায়
যেন সে ডানা কাটা— দু’পায়ে শিকল বাঁধা পাখি
তবু সে গলা ছেড়ে কণ্ঠ খুলে গান গায়
 
অজানা সুরে কাঁপা কাঁপা নিঠুর কণ্ঠে
গান গায় খাঁচার পাখি
দীর্ঘকাল ধরে
সে গান গায় করুণ সুরে
সেই সুর শোনা যায়
দূর পাহাড়ের কাছে
আহা খাঁচার পাখি মুক্তির গান গায়
 
অন্যরকম মৃদু বাতাসের কথা ভাবে মুক্ত পাখি
বৃক্ষের আকুলিত নিশ্বাসে বিনিময় করে সে বাতাসের
বিনিময় করে সে উজ্জ্বল বাগানে অপেক্ষমাণ স্থুল কীট পতঙ্গের
সে ঘোষণা দেয় আকাশ শুধু তারই
 
তবু স্বপ্ন সাহসে দাঁড়িয়ে যায় খাঁচার পাখি
দুঃস্বপ্নের ভেতর চিৎকার করে ওঠে তার ছায়া
সে হয়ে যায় ডানা কাটা— দু’পায়ে শিকল পরা পাখি
তবু সে গলা ছেড়ে কণ্ঠ খুলে গান গায়
 
অজানা সুরে কম্পিত কণ্ঠে
গান গায় খাঁচার পাখি
দীর্ঘকাল ধরে
গান গায় সে নিধুয়া সুরে
সেই সুর শোনা যায়
দূর পাহাড়ের কাছে
আহা খাঁচার পাখি মুক্তির গান গায়।
 
 

আমি উত্থিত হই


 
নির্মম তিক্ত মিথ্যায়
ইতিহাসে লিখে রাখতে পারো আমার নাম
মাড়িয়ে যেতে পারো আমাকে কঠিন কাদামাটির ভেতর
তবু এমন ধূলাবালিতেই আমি উত্থিত হবো।
 
আমার ধৃষ্টতা তোমাকে অস্থির করে তোলে?
তবে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে আছো কেন
আমার শয়নকক্ষে তেল বিছানো
আমি হাঁটছি আর যেন হয়ে যাই তৈলাক্ত
 
যেন চাঁদের মতো, সূর্যের মতো
আমি হাঁটি আমি চলি তীক্ষ্ণ স্রোতের মতো সরল
উত্তুঙ্গ আশার মতো
আমি উত্থিত হবো।
 
তুমি কি আমায় ভঙ্গুর, নত মাথায়
এবং নিম্নগামী চোখে দেখতে চেয়েছিলে?
কোমল অশ্রুবিন্দুর মতো পতন্মুখ শিরদাঁড়া
কিংবা আমার আত্মায়মাখা কান্নার মতো
দুর্বল দেখতে চেয়েছিলে?
 
আমার ঔদ্ধত্য তোমাকে আক্রান্ত করে?
খুব বেশি ভয় পেও না।
আমি হাসিতে ফেটে পড়ি
যেন নিজের গভীরাঙ্গন খনন করে
পেয়ে গেছি সাহসের খনি।
 
তোমার কথার গুলিতে আমাকে বিদ্ধ করতে পারো
তোমার চোখের করাতে আমাকে কাটতে পারো
তোমার ঘৃণায় আমাকে হত্যা করতে পারো
তবু আমি বাতাসের মতোই উত্থিত হবো।
 
আমার কাম তোমাকে অস্থির করে তুলছে?
কাম কি তবে হঠাৎ করে আসে
যেন আমি নেচে ওঠি, যেন আমি বস্তুর সম্মেলনে
পেয়ে যাই হীরা মাণিক্য।
 
ইতিহাসে শরমের হাটবাজারের বাইরে
আমি উত্থিত হই
বেদনা ও নিপীড়নের গহীনে যে ইতিহাস
আমি তার ভিতর থেকে উত্থিত হই
আমি তো ক্ষীপ্তলম্প বিশাল কৃষ্ণ মহাসাগর
স্রোতে স্রোতে আমি থাকি ফুলে ফেঁপে
 
সন্ত্রাস ও ভয়ের অন্ধকার ছেড়ে
আমি উত্থিত হই
আশ্চর্য সুন্দর ভোরের মতো
আমি উত্থিত হই
 
পূর্বসূরীদের দান হয়ে আমি উত্থিত হই
আমিই তো দাসদের স্বপ্ন-আশা
আমি উত্থিত হই
আমি উত্থিত হই
আমি উত্থিত হই

অনুবাদ: শাহাদাৎ তৈয়ব


আমি জানি খাঁচার পাখি কেন গান গায়


মুক্ত পাখি লাফিয়ে ওঠে
বাতাসের পিঠে
আর ভেসে যায় ভাটিতে
যতক্ষণ না স্রোত মিলিয়ে যায়
পাখি তার ডানা ডোবায়
সূর্যের গোলাপি রশ্মিতে
আর আকাশটাকে দাবি করার স্পর্ধা দেখায়।
কিন্তু যে পাখি আঁটসাঁট খাঁচায়
নতমুখ পা পা হেঁটে যায়
দুর্দমনীয় ক্রোধের পিঞ্জরের ভেতর দিয়ে
কদাচিৎ দেখতে পায়
তার ডানা দুটো আটকানো আর
পা দুটো বাঁধা
সুতরাং সে গান গাইতে গলা ছাড়ে।
খাঁচার পাখি গান গায়
অজানা আতঙ্কের
দ্বৈত স্বরধ্বনি পাখিটির
তবু প্রত্যাশা প্রশান্তির
দূর পাহাড়ে
তার সুর শোনা যায়
খাঁচাবন্দী পাখি
স্বাধীনতার গান গায়।
মুক্ত পাখি এক পশলা ঝিরঝির বাতাসের কথা ভাবে
বৃক্ষের দীর্ঘশ্বাসের ভেতর বয়ে যায় কোমল সমীরণ
ভোরের উজ্জ্বল ঘাসে অপেক্ষায় থাকে হৃষ্টপুষ্ট পোকা
সে আকাশকে দেয় নিজের নাম।
কিন্তু খাঁচাবন্দী পাখি দাঁড়ায় স্বপ্নের সমাধির পাশে
তার ছায়া চেঁচিয়ে ওঠে দুঃস্বপ্নের চিৎকারে
তার ডানা দুটো আটকানো, পা দুটো বাঁধা
সুতরাং সে গান গাইতে গলা ছাড়ে।
খাঁচার পাখি গান গায়
অজানা আতঙ্কের
দ্বৈত স্বরধ্বনি পাখিটির
তবু প্রত্যাশা প্রশান্তির
দূর পাহাড়ে
তার সুর শোনা যায়
খাঁচাবন্দী পাখি
স্বাধীনতার গান গায়।

একটি প্রতারণা


আমাকে তোমার হাত দাও
আমার জন্য জায়গা করো
তোমাকে
কবিতার এই ক্রোধের বাইরে
পরিচালনা ও অনুসরণ করতে।
অন্যদেরও থাকুক
শব্দকে স্পর্শ করার
গোপনীয়তা
এবং থাকুক
ভালোবাসা হারানোর ভালোবাসা
আমার জন্য
আমাকে তোমার হাত দাও।
অনুবাদ: আন্দালিব রাশদী


 

 

অ্যামেরিকান সাহিত্যে কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে মায়া এঞ্জেলো ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সাবলীল মতাদর্শ ও পরিশীলিত রাজনৈতিক চিন্তার একজন মানুষ ছিলেন তিনি। সাহিত্যজীবনের দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরে লিখেছেন অজস্র কবিতা, প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথা। আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আই নো হোয়াই দা কেইজড বার্ড সিঙস’ লিখে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নন্দিত হন। ধর্ষণ, বর্ণবাদ, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সাহসী ও দৃঢ় উচ্চারণের জন্য সবার কাছে দারুণ প্রশংসিত হয় তার এই আত্মজীবনী। সাহিত্যে বহুমুখী সৃষ্টিকর্মের জন্য পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। তার আরেক সফল রচনা ‘জাস্ট গিভ মি অ্যা কুল ডিঙ্ক অফ ওয়াটার ফর আই ডাই’ নামক কাব্যগ্রন্থ ১৯৭১ সালে মনোনীত হয়েছিল পুলিৎজারের জন্য।

ঘানারম্যাকলম এক্স ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠলে একপর্যায়ে তিনি ঘানায় গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে তিনি সেখানে লেখক ও সম্পাদক হিসেবে রেডিওতে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের কাজ করেন। ১৯৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন বেসামরিক অধিকার সংগঠন আফ্রো-আমেরিকান একতা সংগঠন তৈরিতে সাহায্যের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। সাতটি প্রশংসিত আত্মজীবনী লেখার জন্য পর্যাপ্ত জীবনযাপন করার সময় এঞ্জেলের অসাধারণ জীবনের অনেক বর্ণনা অসম্ভব সব বিষয়বস্তুকে ঘনীভূত করে পাঠকের সামনে উপস্থিত করেন তিনি। কবিতা ও লেখালেখি ছাড়া আরও অনেক বিষয়ের সঙ্গে ছিল নিবিড় সম্পৃক্ততা। যা পাঠক মহলের কাছে হয়তো আদৌ অজানা। তার জীবনের তেমন পাঁচটি অজানা বিষয় নিয়ে এ রচনা।

নৃত্যশিল্পী মায়া এঞ্জেলো

তার বয়স তখন মাত্র বিশের কোঠায়। সদ্য বিবাহিতা এবং এক সন্তানের মা। ব্যক্তিগত অনটন আর মনের তাড়না থেকে সাধ জন্মাল নাচ শিখবেন। যেমন ভাবা অমন কাজ, ভর্তি হয়ে গেলেন নাচ শেখার প্রতিষ্ঠানে। স্যানফ্রান্সিসকোর একটি একাডেমিতে শুরু করলেন আধুনিক নাচের ওপর প্রশিক্ষণ নেয়া। প্রশিক্ষণের একপর্যায়ে গঠন করলেন তিনি আল ও রিটা নামের একটি নাচের দলও। নিউইয়র্কে ফিরে যাওয়ার আগে সিদ্ধান্ত নেন আফ্রিকান নৃত্য নিয়ে পড়াশোনা করবেন। যোগাযোগ করলেন ত্রিনিদাদিয়ান নৃত্যশিল্পী পার্ল প্রিমুসের সঙ্গে। স্যানফ্রান্সিসকোর বিখ্যাত নাইটক্লাব বিট-ইরা, পার্পল অনিঅনসহ বিভিন্ন ক্লাবে পেশাদার নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি। সফল নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথ মসৃণ হয়ে যায় তার জন্য। সিদ্ধান্ত নেন গানের অ্যালবাম করবেন। পরিকল্পনা গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকাশিত হয় তার প্রথম অ্যালবাম ‘মিস ক্যালিপসো’।

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অর্জন

গায়িকা হিসেবে তার অনেক সাফল্য থাকলেও সঙ্গীতের জন্য তিনি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হননি। ১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের লেখা কবিতা ‘পালস অফ মর্নিং’ আবৃত্তির জন্য লাভ করেন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড। এর আগে ১৯৬১ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘দ্য গিফট আউটরাইট’ কবিতার জন্য কবি রবার্ট ফ্রস্ট এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন। সে হিসেবে রবার্ট ফ্রস্টের পর মায়া এঞ্জেলো একমাত্র কবি যিনি এই পুরস্কারে ভূষিত হন।

চিত্রপরিচালক এঞ্জেলো

সাহিত্যচর্চা, নৃত্য অনুশীলন ও সঙ্গীতচর্চার পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। হলিউডের জনপ্রিয় অ্যাকশান হিরো ওয়েসলি স্নাইপস অভিনীত ‘ডন ইন দ্য ডেল্টা’ নামক চলচ্চিত্রের পরিচালক মায়া এঞ্জেলো। ছবিটি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল। পারিবারিক জীবনের বিয়োগান্তক সব ঘটনা, মাদকদ্রব্যের ব্যবহার, জাতিগত দ্বন্দ্ব^, প্রচলিত কুসংস্কারের কথা ইত্যাকার বিষয়গুলো ছিল এই চলচ্চিত্রের মূল প্রতিপাদ্য। পারিবারিক বন্ধনের প্রয়োজনীয়তা, সুশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার সুফল ও সামাজিক দৃষ্টি উন্মোচনের নিমিত্তে তার এই চলচ্চিত্রটি ছিল দুর্দান্ত একটি প্রয়াস।

শেরী, বাইবেল ওকার্ডস

লেখক হিসেবে তখন তিনি সবার কাছে বেশ জনপ্রিয় ও সমাদৃত। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায় তিনটি জিনিসের বিশেষ উপযোগিতা ছিল তার কাছে। শেরী (স্প্যানিশ ওয়াইন), বাইবেল ও প্লেয়িং কার্ডস। যখন কোনো হোটেলে রাত কাটাতেন বেশ ভোরে উঠে যেতেন তিনি। করিডোরে কিংবা আশপাশের কামরায় হাঁটাহাঁটি করতেন। হোটেলের দেয়ালে কোনো ছবি টাঙানো দেখলে স্টাফদের সেগুলো নামিয়ে ফেলতে বলতেন। বিছানায় যতক্ষণ থাকতেন তার সঙ্গে থাকত শেরী, কার্ডস ও বাইবেল। নিবিড়চিত্তে কার্ড নিয়ে একা একা সিঙ্গেল প্লেয়ার গেম সলিটেয়ার খেলতেন। হলুদ লিগ্যাল কাগজে প্রতিদিন ১০-১২ পৃষ্ঠা করে লিখতেন আর রাতেরবেলা সেগুলো সম্পাদনা করতেন।

যৌন ব্যবসা নিয়ে লেখা : জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য তিনি যৌন ব্যবসা সম্পর্কে লিখেছেন। তার আত্মজীবনী ঘাঁটলে দেখা যায় জীবনের একটা সময় তিনি গণিকা হিসেবেও কাজ করেছেন। সমকামী গণিকাদের মধ্যস্থতাকারীও ছিলেন তিনি। ১৯৯৫ সালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যৌন বিষয় নিয়ে লেখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন- আমি আমার জীবনের বাস্তব সব অভিজ্ঞতার কথা লিখেছি যাতে কেউ বলতে না পারে এগুলো নিছক গল্প! আমার মনে হয় আমি কখনও ভুল কিছু করিনি বা ভুল কিছু লিখিনি। আমার কুঠুরিতে কোনো কঙ্কাল নেই। তথাপি আমার কোনো কুঠুরিই নেই। সমালোচকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন- তারা তাদের মতো মিথ্যাচার করে আর তরুণরা সেসব শোনে আর বিশ্বাস করে। হয়তো হতে পারি আমি কুৎসিত। আমার বাবা অথবা মা কোনো ভুল করেননি এবং আমিও ভুল কিছু করিনি।

মায়া এঞ্জেলোর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘জাস্ট গিভ মি অ্যা কুল ড্রিঙ্ক অফ ওয়াটার ফর আই ডাই’, ‘অন দ্য পালস অফ মর্নিং’, ‘অ্যান্ড স্টিল আই রাইজ’, ‘শেকার হোয়াই ডোন্ট ইউ সিঙ’ ‘ফেনোমেনাল ওম্যান’ বিশেষ সমাদৃত। আত্মজীবনীর মধ্যে ‘আই নো হোয়াই দা কেইজড বার্ড সিঙস’ ও ‘মম অ্যান্ড মি অ্যান্ড মম’ উল্লেখযোগ্য।

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত