নক্ষত্রবেলা

হ্যালো নক্ষত্র।

হু, শুনতে পাচ্ছি, বলো।

বহুদিন পরে আমার আকাঙ্ক্ষিত কণ্ঠস্বর ইথারে ভেসে ভেসে আসে। স্বাতী মনে হয় ব্যস্ত আছে। ওর চাকুরিটাই ঝামেলার। এ্যাডমিন ক্যাডারের চাকুরিতে ব্যস্ততার সীমা নেই কোনো, সব সময় কিছু না কিছু লেগেই আছে। আচ্ছা, এই শেষ বিকেলেও অফিসিয়াল ব্যস্ততার কোনো মানে হয়?

আচ্ছা, তুমি মনে হয় ব্যস্ত আছো। পরে কথা বলি-

আমি ধীরে সুস্থে উচ্চারণ করি বাক্য দু’টো। আসলে মুখে এ কথা বললেও এখন আমার ফোন রাখতে ইচ্ছে করছে না। কত মাস পরে কথা বলছি ওর সাথে! আমি চুপচাপ অপেক্ষা করি- ওপাশ থেকে স্বাতী কী বলে তাই শোনার জন্য।

ব্যস্ত তো আছিই। ব্যাপার সেটা না, ব্যাপার হলো তোমাকে আবার বলছি, তুমি ভাই প্লিজ আমাকে তুইই বোলো। এইসব তুমিটুমি শুনতে ভালো লাগে না। কতদিন এক কথা বলতে হয় বলো তো।

স্বাতীর কথায় আমি মন খারাপ করি না, কারণ এই কথাটা ও সব সময়ই বলে। ওর কথার সাথে ইয়ারফোনে ভেসে আসা টুকটাক শব্দ শুনতে শুনতে আমি চুপ করে থাকি। ব্রহ্মপুত্রপাড়ে আমাদের এনজিওর রেস্টহাউজের ছাদটা শীতল বাতাসের আদরে কেমন শিরশির করে। আমি চোখ বন্ধ করে ভাবতে চেষ্টা করছি স্বাতীর পরনের শাড়ির রং, চুলের এলোখোপা জড়িয়ে রাখা গার্ডারের পুরুত্ব, কানের দুলের ঈষৎ নড়ে ওঠার ছন্দ। এমন নিবিড় অনুভবের সময় ওর বরাবরের ভর্ৎসনা আমি গায়ে মাখি না, মাখতে নেই। যখন আমি খুব করে স্বাতীকে ভাবতে চাই, ওর এসব কথা গায়ে মাখলে একদমই চলে না।

আচ্ছা শোনো, অরুণদা, আমি ফোন রাখছি। পরে কথা হবে আবার।

স্বাতী ফোন রেখে দেয়। ইয়ারফোনটা খুলে ফেলে আমি রেলিং ধরে ঝুঁকে দাঁড়াই। নিচে শীর্ণ ব্রহ্মপুত্র কুলকুল করে বইছে। ছাদের শীতল বাতাসের শিরশিরানি এবার কংক্রিটের জঙ্গল পেরিয়ে আমার শরীরের ভেতর একটু একটু করে জায়গা করে নিতে থাকে। এমন একলা সময়গুলোতে স্বাতী আমার পুরোটা জুড়ে রাজ্যপাট বিছায়। আমি চোখ বন্ধ করে আরও আরও বেশি করে ভাবতে থাকি ওর গলার চিকন সোনার চেইনে হীরের ছোট্ট লকেটটার কথা, সেই লকেটের নিচেই ওর মসৃণ ফর্সা ত্বক, ব্লাউজের চারকোণা গলার নিচে ওর স্বর্গের মতো বুক যা আমি দেখিনি কোনোদিন…।

একটা বউ কথা কও পাখি ডেকে উঠলো কোথাও। কী আশ্চর্য! স্বাতীকে যখনই আমি এমন করে ভাবি, বউ কথা কও পাখিটা ডাকে! অন্য সব বারের মতো এবারও আমি পাখিটাকে দেখতে পেলাম না কিন্তু বউ কথা কও বউ কথা কও সুরটা বাতাস কেটে কেটে আসছে এখনও। আমি চোখ বন্ধ করে সে ডাক শুনি। স্বাতীর সাথে বউ কথা কও পাখিটার কী সম্পর্ক তা এবারও আমার বোধগম্য হয় না।

অরুণদা, আপনি এখানে? ওদিকে সবাই আপনাকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেল।

উফ! আচমকা রাজনের কণ্ঠস্বরে আমার ঘোর কেটে যায়। ঈষৎ হলদে কোমল ত্বক, শাড়ির ভাঁজের নিচের সব রহস্য নিয়ে স্বাতী বেমালুম উধাও হয়ে যায় অন্য কোনোখানে। টুক করে হারিয়ে যায় বউ কথা কওয়ের সুরের রেশটুকু। আর আমি চোখ খুলে মূর্তিমান হাসিখুশি রাজনকে দেখতে পাই।

কেন, আমাকে খুঁজছ কেন হঠাৎ?

রাজন বলে-

না না, তেমন সিরিয়াস কিছু নয়। সবাই মিলে বাতাবি লেবু মাখা খাচ্ছিলাম, তাই। নিয়ে আসব আপনার জন্য?

রাজন আমার জুনিয়র কলিগ, গত সপ্তাহেই আগের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে এখানে জয়েন করেছে। এবারের ট্রেনিং সেশনে আমার কো-ট্রেনার। খুব সদালাপী, আন্তরিক ছেলেটা। ও সত্যি সত্যিই এখন বাতাবি লেবু মাখা আনতে চলে যেতে পারে সেই আশঙ্কায় আমি তাড়াতাড়ি বলে উঠি-

আরে না না। এই অবেলায় আর লেবু খাব না। তার চেয়ে বরং বলো কেমন লাগছে তোমার। এটা তো তোমার প্রথম ট্রেনিং প্রোগ্রাম?

আমার তো খুবই ভালো লাগছে- ঝকঝকে দাঁতে টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনের মতো হাসি ধরে রেখে রাজন যোগ করে-

আসলে অরুণদা, আমার ট্রেনিং সেশন সব সময়ই ভালো লাগে। আর এবারেরটা খুবই গোছানো প্রোগ্রাম হচ্ছে।

রাজনের সাথে গল্প করতে ভালো লাগছে। ওর সাথে তেমন আলাপ পরিচয় হয়নি অফিসে। একে তো আমি তেমন আলাপী মানুষ নই, তার ওপর ও আসার মাত্র অল্প ক’দিন হয়েছে।

আমাদের গল্পের কোন ফাঁকে ব্রহ্মপুত্রের বুকে টুপ করে সূর্য ডুবে যায়। শিরশিরানি বাতাস আরও হিমের কাঁপন নিয়ে আসে। আলোর শেষ রেখাটুকু মিলে গেলে আমরা অর্ধেক শেষ হওয়া গল্প নিয়ে যার যার রুমে ফিরি।

তারপর সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গভীরতর হতে থাকে। যাবতীয় কর্মব্যস্ততা এক পাশে সরিয়ে রেখে আমি বিছানায় নিজেকে এলিয়ে দিই। বাতি নেভানোর আগে হঠাৎই মনে পড়ে আজ শুকতারাকে একবারও দেখিনি। শুকতারা আমার মেয়ে, আমার প্রিয়তম মুখ। আচ্ছা প্রিয়তম কি সত্যিই? তাহলে স্বাতী?

এইসব উত্তর না মেলা প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে ভিডিও কল দিই রোহিনীর নম্বরে। কী আশ্চর্য! সেই কবে থেকে আমার পুরো জীবন ঘুরপাক খাচ্ছে এইসব জ্যোতিষ্কের দলে। স্বাতী, রোহিনী, শুকতারা! এমনকী আমি নিজেও- অরুণ! আমার পুরো জীবনজুড়ে কতগুলো নক্ষত্রের ঘুর্ণিপাক।

রোহিনীকে এলোচুলে কী অসম্ভব আবেদনময়ী লাগে মেয়েটা জানে না বোধহয়। মোবাইলের স্ক্রিনের পুরোটা জুড়ে এখন রোহিনী। ওর সদ্যস্নাত সুন্দর শরীরটার ওপর লালচে চুলগুলো ছড়িয়ে আছে এলোমেলোভাবে। শুকতারা আজ ঘুমিয়ে পড়েছে আগেই, অসময়ে। ওর মুখের আধো আধো বোল আজ আর শোনা হলো না। রোহিনীর নিখাদ সুন্দর শরীরটা দেখতে দেখতে আমি বেখেয়ালে ডেকে উঠি-

রোহিনী!

হুম বলো- চোখ দু’টো মোবাইল স্ক্রিনে স্থির করে আলতো উত্তর দেয় সে। আমি হঠাৎই কথার খেই হারিয়ে ফেলি। রোহিনীকে আমার বলতে ইচ্ছে করে যে এই মুহূর্তে ওর কলাপাতা সবুজ কাফতানের ভেতরের হলদেমতো ফর্সা শরীরটা খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আমি বলতে পারি না।

রোহিনীর সাথে আমার কথাবার্তা যা হয় তার সবই সংসারী। রোজকার রান্নার নুন ফুরিয়েছে কিংবা রোগান জোশ রাঁধবে বলে ওর কাশ্মিরী মরিচগুঁড়ো দরকার, বাথরুমে এয়ার ফ্রেশনার বদলানোর সময় হয়ে এলো বলে, শুকতারার নতুন একটা ছড়ার বই কিনতে হবে- এমন। বাইরে থাকলে কী খেলে, কখন ঘুমোবে, শুকতারার কাশিটার কী অবস্থা- এমনসব কথার বাইরে কথা হয়ই না বলতে গেলে।

কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে এই একলা রুমে আমার রোহিনীর শরীরটাকে খুব নিবিড় করে পেতে ইচ্ছে করছে। নিতান্ত অনভ্যস্ততায় ওকে বলা হয় না সে কথা।

আচ্ছা শোনো, মনে করে তোমার অষুধগুলো খেয়ো- বলে ফোনটা কেটে দেয় রোহিনী।

ঘরটা অন্ধকার করে দিয়ে আমি বিছানায় গা এলিয়ে দিই। এখানকার বিছানাগুলো খুব আরামদায়ক আর পরিষ্কার। সেই আরামের আশ্রয়ে রোহিনীর সবুজ কাফতান, তার ভেতরের মাখন শরীর আমাকে ভীষণ টানছে। ওই শরীরের সাথে আমার অভ্যস্ততার সম্পর্ক, ভালোবাসা তাতে কতটুকু আছে আমি জানি না। কিন্তু ভালোবাসা না থাকলেও শরীরে শরীর মিলতে পারে সুখের সর্বোচ্চতায়- এই ক’বছরে আমার জানা হয়ে গেছে। আশ্চর্য লাগে নিজেরই, রোহিনীর জন্য মনের কোথাও হয়ত এতটুকুও জায়গা নেই; বহুকাল আগে স্বাতীর কাছে মনের পুরোটাই খোয়া গেছে অথচ আমাদের দাম্পত্য প্রেমের রাতগুলোতে সেটা বাধার সৃষ্টি করে না, রোহিনীর সাথে এক হতে এখনও আটকায় না কোথাও।

নিজের শরীরে আচমকা এই ফুঁসে ওঠা জোয়ার ঠেলে সরাতে আমি অন্যদিকে মন দিতে চাই। ইন্সটাগ্রামে স্বাতীর প্রোফাইলে ঢুকি। চমৎকার সব ছবিতে ভরা স্বাতীনক্ষত্র নামের প্রোফাইলটা। শুধু ওর বা বন্ধুদের ছবি নয়- বই, ফুল, পাখি, কীসের ছবি নেই? মেয়েটার এই প্রোফাইল যেন নিজেই একটা আলাদা স্বাতী।

স্বাতী একটা অদ্ভুত মেয়ে। ওর সাথে পরিচয়ের এই তো দশ বছর চলে। তখন যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম, তারই একটা স্টুডেন্ট ওয়ার্কশপে ওকে প্রথম দেখেছিলাম। হাসিখুশি মেয়েটার সাথে অন্য সবার মতো আমারও ভালো সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। এই পর্যন্ত বেশ ছিল সবকিছু কিন্তু ওকে আমি আমার করে চাইলাম ঠিক কখন? এ প্রশ্নের উত্তর মেলে না।

এসব উল্টোপাল্টা ভাবতে ভাবতে ঘুম হাওয়া হয়ে গেছে চোখ থেকে। আমার খুব ইচ্ছে করছে এখন একটা তারা খসে পড়ুক। মা বলত তারা খসে পড়ার সময় মন থেকে তিনটা জিনিস চাইলে ভগবান তা পাইয়ে দেন। গত কয়েক বছরে যতবার তারা খসে পড়া দেখেছি, আমি একটা জিনিসই চেয়েছি মনে মনে- স্বাতীকে যেন আমি পাই এ জন্মে, পরের জন্মে, তার পরের জন্মে। আচ্ছা, পৃথিবীর কোনো না কোনোখানে কি এখন তারা খসে পড়ছে? পড়ছে নিশ্চয়ই, সেই না দেখা তারার কাছে আমি আবার মনে মনে চাই- স্বাতীকে আমি যেন পাই এ জন্মে, পরের জন্মে, তার পরের জন্মে…

স্বাতীকে সত্যি সত্যি পেয়ে গেলে জীবনের জটিল হিসেব কী করে মেলাব তার উত্তর আমি জানি না। রোহিনীর সাথে এই অভ্যস্ত বসবাস তুলে দেবো? শুকতারা? ওকে কি রোহিনী নিয়ে যাবে? এমন প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজিও না কখনও, কাপুরুষের মতো এড়িয়ে যাই। তার চেয়েও বড় অ্যাবসার্ড হলো স্বাতীকে এসব নিয়ে কিছু বলতেই পারি না কখনও।

মনে আছে তখন রোহিনীর সাথে দাম্পত্য কলহের চূড়ান্ত, স্বাতী তখন ঢাকায় চাকুরি করে। একই অফিসপাড়া হওয়াতে ওর সাথে মাঝেমধ্যেই দেখা সাক্ষাৎ, ফোনে কথা হতো। বিধ্বস্ত মানসিক অবস্থায় ওর সাথে দেখা আর কথা হওয়ার বিষয়টা আমাকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিল আর আমি বনলতা সেনের মতো মেয়েটার প্রেমে পড়েছিলাম। কিন্তু যেদিন ওকে বলতে গিয়েছি সে কথা, মুখে রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে স্বাতী বলেছে-

অরুণদা, যদি কোনোদিন এমন কথা মনেও না আনতে পারো, সেদিন আবার কথা বোলো আমার সঙ্গে।

সেদিন আমার মুখের দিকে ফিরে না তাকানো মেয়েটা রানীর মতো মাথা উঁচু করে হেঁটে গিয়েছিল পেছনে আমাকে আর একটা কাজ ফুরোনো অফিসপাড়াকে ফেলে। এই ক’বছরে আমার সেই প্রেম বুকের ভেতরে পাকাপোক্ত বসত গেড়েছে। তবু ছ’মাসে ন’মাসে যখন স্বাতীর সাথে কথা হয়, তখন সে কথা মুখে আনার সাহস করি না। তবে ওকে আজকাল আর তুই তোকারি করে কথা বলতে পারি না অবশ্য। ও বিরক্ত হলেও না। কী একটা আশ্চর্য কারণে ওকে ‘নক্ষত্র’ ডাকায় এখনও আপত্তি করে না ও।

স্বাতীর সাথে আমি সংসার করি কল্পনায়, সে সংসারে মনোমালিন্য নেই, মন খারাপ নেই, আলু-পেঁয়াজের দাম বাড়া কমার সাথে মেজাজের ওঠানামার সম্পর্ক নেই। সে সংসারে রোহিনী, এমনকী শুকতারাও নেই। তবে মাঝেমধ্যেই সে কল্পনার সংসার ছেড়ে রক্তমাংসের স্বাতীকে পেতে ইচ্ছে করে আমার, যেমন করছিল আজ বিকেলেও- ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে ওর গোলাপি আঙ্গুল, পাতলা ঠোঁট, ডান কানের লতির কালো তিলটা, বিউটি বোন, ওর ফর্সা বুকের ঠিক মাঝখানে একটা চমৎকার গিরিখাদের মতো গভীর খাদ…।

দূরে কোথাও আবার একটা বউ কথা কও ডেকে ওঠে, এই রাতের বেলাতেও। আমি সম্মোহিতের মতো সেই ডাক শুনতে শুনতে হারিয়ে যেতে থাকি স্বাতীর গভীরে।

মোবাইলের রিংটোন পৃথিবীর সবচেয়ে বিশ্রী জিনিস। সকল সম্মোহনকে এক ধাক্কায় কেমন সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে সেটাও বিস্ময় নিয়ে এসেছে, স্বাতীরই কল! আমি রিসিভ করে কান পেতে শুনি ওর কণ্ঠ।

অরুণদা, রাজন আর তুমি একই অফিসে চাকরি করো? বাপ রে! আচ্ছা শোনো, রাজনের কথাই তোমাকে বলেছিলাম- আমার ফিয়ান্সে।

আমি শুধু উচ্চারণ করি- আচ্ছা!

শোনো, ও একটু আগে ট্রেনিংয়ের কথায় কথায় তোমার কথা বলল, তাই জানলাম।

আমার এসব শুনতে ভালো লাগছে না। আমার সাথেই কেন এমন হয় কিংবা রাজনের কেন অন্য সব জায়গা রেখে আমার অফিসেই জয়েন করতে হলো- এমন আজগুবি ভাবনা ভাবতে ভাবতে আমি কলটা কেটে দিই। স্বাতীর মুখে ওর প্রেমিক কিংবা হবু বরের কথা শুনতে আমার অসহ্য লাগে। যে আমি ওর কথা শোনার জন্য উদগ্রীব প্রতীক্ষায় থাকি, সেই আমার আচমকা কল কেটে দেয়ায় স্বাতী কি অবাক হয় এক সমুদ্র দূর থেকে? হলেই বা কী এসে যায়! এসব বিচ্ছিরি বাস্তবতা থেকে এই মুহূর্তে আমার খুব গভীর কোনো কিছুতে ডুবে যাওয়া প্রয়োজন। আচ্ছা, বউ কথা কও পাখিটা কোথায় গেল? ওর ডাক শুনব বলে আমি কান পেতে দিই চারপাশে, কোত্থাও নেই।

আমি রোহিনীর নম্বর ডায়াল করি, ভিডিও কল। ক্লান্ত অবসন্ন সময়ে ডুব দেয়ার জন্য এর থেকে ভালো জায়গা আমার জানা নেই। মাঝে মাঝে গুম হয়ে যাওয়া সময়ে রোহিনী আমাকে মহুয়ামাতাল করে দিতে পারে। আমার এখন তেমন মাতাল হতে ইচ্ছে করছে। সবুজ কাফতানে পৃথিবীর সমস্ত মহুয়া ফুল জড়ো করে রোহিনী স্ক্রিনে এসে দেখা দিয়েছে।

হ্যালো রোহিনী, তোমাকে খুব আদর করতে ইচ্ছে করছে। একটু সময় দাও না, এই পাঁচ মিনিট। প্লিজ প্লিজ প্লিজ…

আমার এই অদ্ভুতুড়ে আবদারে রোহিনীও কি অবাক হয় এক সমুদ্র দূর থেকে? হলেই বা কী এসে যায়!

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত