| 3 মার্চ 2024
Categories
এই দিনে কবিতা সাহিত্য

চৈত্রের না-চৈত্রের কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

আজ ১৪ এপ্রিল কবি, সম্পাদক নীলাদ্রি দেবের শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


 

এক.
জানি খুব বৃষ্টি হচ্ছে কোথাও
কোথাও রোদ, রামধনু
তবু চৈত্রমাসে
শুকনো একটা ঠোঁট
খসখসে একটা পাতা তুলে রাখি
 
দুই.
পাতা খসে গেলে
পাতা তুলে রাখে কেউ
 
কেউ তুলে রাখে শ্বাস
 
তিন.
লতিয়ে যাওয়া কোন পাতার গায়ে
মাকড়সার জাল লেগে আছে
লেগে আছে পাপ ও পূণ্যের মধ্যে
আস্ত হাইওয়ে
দ্রুতগামী একটি স্বপ্নের পাশে
রক্ত রঙের ফুল
 
চার.
অন্ধকার ঘর থেকে বাইরে তাকিয়ে দেখি : অন্ধকার
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে, একটি ঘরের ভেতর… অন্ধকার
 
প্রতিটি পলক শুধু আলোর অভাবে জ্বলছে
 
পাঁচ.
একটি রাতের পোশাক
একটি আলোর বাতি
ধূপের শব্দগুলো স্থির
 
সমস্ত পায়ের ছাপ ছায়া দিয়ে ঢেকে যায় দ্রুত
 
ছয়.
কোথাও কোন আর্টপেপারে ফুল
হারমোনিয়ামের আলোগুলোও ভীষণরকম মৃদু
 
তবু জল থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নিচ্ছে শালুক গাছ
 
সাত.
দূরত্ব কমে এলে ছায়া আরও স্পষ্ট হয়ে আসে
চৈত্র কাছে এলে… ঝড়
 
আট.
একটি শুকনো মেঝে
মা মুছে মুছে আমাদের করে তুলেছিল
আলোর আঘাত জমতে জমতে মেঘ
মেঘের আঁচলে পিছলে যায় সময়
 
ক্ষত আমরা সবাই মেনে নিলেও
এখনও যতিচিহ্ন শিখিনি
 
নয়.
– পদ্মপাতা এত ঘন হয় কি?
ছোট কোন শালুক গাছের বন
পাতার গায়ে ঝুরো ফুলের রেণু
– মৌমাছির পায়ের কাছে মধুর বিজ্ঞাপন
 
গোলপুকুরের ঘাটগুলো
নিজেদের খুব কাছেই চলে আসছে
 
দশ.
এমন একটা পথ
সোজা
আরও সোজা হতে কি পারত?
 
উঠোন ভর্তি রোদ
রোদ খুঁজছি
 
এগারো.
উঠোন জুড়ে শুকনোপাতা
নতুন, ভীষণ নতুন কোন পাতার ওপর
সূর্য রঙের আলো
 
পুরনো ঘাস, শ্যাওলার গায়ে
গত জন্মের দাগ
 
বারো.
নত হলাম
নত
 
হিংসেগুলোও দাঁড়িয়ে আছে
ভালবাসার মত
 
তেরো.
শুকনো মাটির ভাঁড়ে
অমলতাসের ফুল
দু’এক দানা সবুজ পাতা
এতটুকুই
 
যেন মুঠোর মধ্যে জীবন
 
চৌদ্দ.
ছায়ার ওপর ছায়া
তার ওপর আরও গভীর ছায়া
 
সূক্ষ্ম কোন আলো এখন…
অপেক্ষা
 
পনেরো.
সীমানাপ্রাচীর উঁচু হচ্ছে
ভাগ হচ্ছে আলো এবং ছায়া
 
আলের পাশে সবটা নিয়েই
স্বচ্ছ আলপনা
 
ষোলো.
এমন একটা আঁচড়
কাটতে চাইছি সবাই
জলের উপর স্পষ্ট, ইঁটে কিংবা ঘাসে
 
ক্ষতের পাশে হাত বোলাচ্ছে মা
 
সতেরো.
স্তর! এতেই ভুলে আছি
 
পৃথিবীও ভুলে গেছে ভালোবাসার স্তর
 
আঠারো.
ফাঁকা দোয়াতের মধ্যে দিয়ে
কতবার দেখেছি আবছা রঙিন রাত
ফ্যানের ব্লেড বারবার কেটেছে স্থির ছবি
 
আজকাল সকালেও উড়ে বেড়ায় পেঁচা
গান গায় নৈশপ্রহরী
 
স্পষ্ট হতে থাকে কয়েনের তৃতীয়তল
 
ঊনিশ.
স্তব্ধ কাঠের কাপ, পাথরের বাটি
ভেতরের ধুলোবালি, পিঁপড়ের ডিম
 
একলা জীবনের পাশে কত কিছু থাকে
তবু একা লাগে
 
কুড়ি.
বন্দরে শব্দ এত! এত শব্দে মিশে আছে কত জলপথ
মাস্তুল নোঙর জেটি সোয়েটার রিংটোন
কত কথা বলা হয়, শব্দের স্থিরতা না জেনেই
 
গভীরতার বিশেষ কোন একক দেখিনি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত