| 16 এপ্রিল 2024
Categories
এই দিনে কবিতা সাহিত্য

নীলাঞ্জন সাহার কবিতাগুচ্ছ

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি কবি নীলাঞ্জন সাহার শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার কবিকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


 
 
জীবনানন্দ দাশ 
 
আকাশে রয়েছে যতোগুলি তারা, তারাদের পাশে
গ্রহ দেবতারা
তাদের নীচেই যতো নদীজল, জলেরা গিয়েছে
যতোগুলি পাড়া, সেসব পাড়াতে যতো আছে গাছ
আর গাছে গাছে পাখিদের বাসা
সেই বাসা জুড়ে ছানাদের গান, আর চাষীদের
গোলাভরা ধান
সে ধান কুড়িয়ে মাঠের ইঁদুর
জ্যোৎস্না পেরিয়ে যায় যতো দূর, সেই দূরে দূরে
রাতের পেঁচারা শিকারের খোঁজে ঘুরে ঘুরে ওড়ে
আর ওড়ে চিল রোদ্দুরে স্নান
শিশুর মুখের অনাবিল ঘ্রাণ আর ঘন কালো
মেয়েদের চুল
পথের দুধারে ভিতু বুনোফুল
সেই ভিতুদের বন্ধুরা ঘাস
আপনাকে চেনে এক ডাকে সব
জীবনানন্দ দাশ!
 
 
 
 
আত্মকথা
 
সমুদ্রকে বেশি ভালোবাসি বলে
পাহাড় আমাকে চূড়ায় উঠতে দিলো না।
 
 
 
 
উপলব্ধি
 
চেষ্টা করে দেখলাম
নিজেকে নকল করাই সবচেয়ে কঠিন।
 
 
 
 
 সকাল
 
জলতরঙ্গের শব্দে ভাঙে ঘুম
হয়ত তুমি কোথাও চায়ের কাপে গুলে দিচ্ছো চিনি…
 
 
 
 
 
 
মুগ্ধতা
 
তোমার বাগানে কত ফুল, প্রভু
আমি তবু তার নাকফুলে
সব মুগ্ধতা খরচ করে ফেললাম!
 
 
 
 
কৃষ্ণচূড়া 
 
ভোরবেলা
রাস্তা দিচ্ছে ঝাঁট
কর্পোরেশনের লোক
নক্ষত্রের পোড়া ছাই
কবিতার বাতিল শব্দ
আর কিছু পাতা ও পালক,
সবটা চোখে পড়ছে না অবশ্য ওর
হয়ত সইটুকু পারে, আদতে নিরক্ষর
সারাক্ষণ চুপচাপ থাকে তাই
হঠাৎ ঘুম ভাঙা কৃষ্ণচূড়াটি
উঁচু ডাল থেকে
অমলিন কিছু ফুল
ঝরিয়ে ডাকলো তাকে,
ভাই !
অমনি লঘু পায়ে লোকটা ঝাঁকড়া চুল
খুশির রুমালে কুড়িয়ে আলতো ফুল
নরম হেসে হাত ছোঁয়ালো গাছে
কার জন্য ফুল?
প্ৰেয়সী নাকি মা মরা ছোট্ট মেয়ে?
শুধু কৃষ্ণচূড়ারই জানা আছে!
 
 
 
 
 
 
 
কাঠুরে 
 
গাছের প্রাণ আছে। জন্মান্তরও।
মানুষের হাতে কাটা পড়া গাছ
কেউ কেউ মানুষ হয়েই জন্মান।
ছায়া দেন। ফল দেন। স্নিগ্ধ বাতাস আজীবন!
কিন্তু অকৃতজ্ঞ আমরা একদিন তাঁর দিকেই
পাথর ছুঁড়ি। ছুটে যাই। রক্ত চেটে খাই। কী মিষ্টি!
গাছেদের জন্মান্তর আছে। আমাদেরও।
আমরাই গতজন্মে কাঠুরে ছিলাম!
 
 
 
 
 
 
 
রুমাল 
 
মানুষ কখনো নিজের রুমালে কাঁদে না, ঘাম মোছে
রোদ বা সামান্য বৃষ্টিতে মাথায় জড়ায় কিম্বা
বাড়ি ফেরার পথে কিনে আনে দেশী মুরগির ডিম;
আমি আজ পর্যন্ত কাউকে নিজের রুমালে কাঁদতে দেখিনি!
 
আসলে, মানুষ তেমন কোনো রুমাল না পেলে কাঁদে না!
 
 
 
 
জুতো 
 
অন্তত জুতো হ’লেও দুজনে থাকা যেত
হাঁটা যেত একই রাস্তায়
আমি খন্দে পড়লে ছন্দপতন
হতো তোমার, তুমুল বর্ষায় জলকেলি
করতাম কাদাজলে
ফিরে আসতাম একই ঠিকানায় প্রতিদিন
তারপর সারারাত একে অপরের
পাথর ও কাঁটার ক্ষতে রাখতাম হাত
 
জুতো হ’লে আরো কত কিছু হতো
একজন ছিঁড়ে গেলে সহমরণে যেতাম
সহজেই
 
 
 
 
 
 
 
পাঁচিল 
 
পাঁচিল টপকে যে গাছ
আমরা একদিন তার নীচে
মাথা বাঁচিয়েছিলাম বৃষ্টিতে
 
পাঁচিল টপকে যে গান
তার সুরে আমরা একদিন
ভিজে গিয়েছিলাম
 
পাঁচিলের ওপাশে যে মুখ
আমরা একদিন তার ছবি
এঁকেছিলাম স্কুলের খাতায়
 
বন্ধুর পিঠে পা রেখে
ভাঙা কাচ অগ্রাহ্য করে আমরা একদিন
কত পাঁচিলই না টপকাতে চেয়েছি
 
অথচ আজ সামান্য হাওয়ার পাঁচিলে
কত মুখ দেখেও দেখতে পাইনা!
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত