নগরের উত্তাল হাওয়া ও পাখির জীবন

মানুষের গল্প বলতে বলতে মানুষকে আর কতো মানুষ বানাবে। জন্ম তাদের আজন্ম অসহায় বাতায়নের মধ্যে, শুধু মন্থর হয়না বলে মহাকালের চাকায় চক্কর কাটতে কাটতে পৃথিবীর পথে নিজের গরিমায় স্থির হয়। আলো আধাঁরের ভিতরে জীবিত জীব ভেবে আলাদা করে আপন উপস্থিতি। সংস্কারের খেই তোলে মুখে তবু সে আদিম বৃত্তের মধ্যে ঘুরপাক খায়। বেরবার বাসনা কেউ কেউ বুকের পাঁজোড়ে পুঁষে মাছের মতো সমুদ্রে ঝাপদেয়। তবু নোনা জলেই আটকে পড়ে, চতুর শিকারীর জালে ধরা খায়। মুক্তি মেলেনা সহজ সীমানা আঁকে সময় গ্রন্থি। লসাগু-গসাগু হিসেব কষতে কষতে গাণিতিক ছকে আটকায়, আবার কেউ লুটুর ছক্কার নেশায় ঢুবে বুঁদ বুঁদ কাটে। ইশপের গল্পের অলিতে গলিতে পেরিয়ে কিনবা পানুর পরতে অন্য নিজেকে আবিস্কার করে। চাষাবাদ জীবনের মতো করে গড়ে লাঙ্গল-ফলা। চাষের জমীন ভুল নীড়ানিতে ব্রাকেটে ঢেকে হয় পতিত জীবন। কারো কারো হাওয়ার দিকে তাককরা থাকে সেয়ানা জীবন, নৌকার পালের মতো ঘোরায়। ভুল বাতাসে পাক খায় মাঝ নদীতে এক নৌকা জীবন। সরল রেখায় চলতে চলতে মায়ার বোঝা টেনে কুঁজো হয়ে পড়া গাধার জীবন, সর্ষে ফুল চোখের পাতায় অনিশ্চয়তার দিকে আটকে যায়। তারপরও সচেতন ভাবে ক্ষুধার্ত অর্থ গুলো ক্যাসিনোর টেবিলে হাত বদলায়। সব থেকে সত্য ও সুন্দর প্রেম, সেখানে আশ্রয় খোঁজে, ব্যার্থ বিপ্লবী। চুমুতে সান্তনার মুক্তি মেলে ভেবে ঠোটে বাড়িয়ে ঠোট কে ধরে। এভাবে গল্পের প্লট ভিন্ন মোড় নেয়।

 

তারচেয়ে পাখিদের গল্পে উড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঠিকানাহীন ডানায় ভর করা উড়াল জীবন। সিমানাহীন আকাশে পাখির থাকেনা কোন হুকুমতের তরফদারী। শৈল্পিক নীড়ে জমানো খড়কুটো খাদ্য ঋতুর সুখ। ভৈরবী রাগের শিস ঠোঁটে নিয়ে প্রকৃত প্রভাত ফেরে। বরং বুলবুলির মতো একটা জীবন পেলে, খাজনাহীন মওকুফ জীবনের আস্বাদ জাপিতো হবে। পৃথিবীতে শাসকের অবিচার ছিলো বলে ‘তোতা কাহীনি’ সমাগত দিন থেকে অনাগত দিনে পৌছে যাবে! সে সমীকরণ মিলুক অথবা নাই বা মিলুক। তবু পাখিদের বর্ন বিভাজন নেই বলে বৃক্ষেরা জীবিত থাকে। পাখির তুমুল কলরবে বৃক্ষের সবুজে আসে সতেজ প্রান। আরো ফোটে ফুল রঙিন মুগ্ধ মদিরা সৌরভে। নেশাতুর যেই পাখি সুর ভাজে বসন্ত দিনে সন্ধ্যা দুপুর অথবা মধ্যম রাতে, ছয়-নয়, আট -পাঁচ এই সব সময় না মেনে। এ যেন মানুষের এক চোদনা জীবন, রামের করাতে ফালি ফলি স্বপ্ন শেকড়।  শৃঙ্খল খেলার কোট সাজায়ে বসে থাকে ভোতা মুখো সামরিক নীতি। মহানগরের সব লুটপাট হয়ে যায় আমলার চর্বনে। কিছু কিছু ভেকধরা সাধু হয় অসাধু পুটলি ঝুলিয়ে লাভ ক্ষতি গননা করে। কোন কোন আতেল জীবন থাকে পাশ কাটিয়ে বাঁচার। পাখিদের কোন সিমানা থাকেনা বলে পালাবার তাড়না জাগেনি কোন কালে। এইবার তবে পাখির জীবন হোক। 

 

মুখোশের মহাজন মানুষই হতে পারে বলে শ্রেনী নির্মান করে ভিন্ন তরিকায়। মুখোশের আড়ালে বেরসিক ও রসিক হয়ে যায়। তবু ক্রমাগত গনতন্ত্র নিজের কিতাব ভুলে মোড় নেয় স্বৈরাচারের দিকে। নীতি শব্দের বিষদ অর্থ না জেনে রাজনীতি কপচায়। এই নিয়ে গড়াতে গড়াতে গনতন্ত্রের রাজা মন্ত্রী ঘোষণা দিতে পারে সিভিলাইজেশন পর্বতে আমাদের আবাসন। বিরক্ত জীবনের ঠোঁটে পানপাত্র তুলে নেয় মুচকি হেসে। এই ধোয়া ধোয়া আবছায়া মেঘালয়ে সময়ের বিবর্তনে বর্ষার ঝুমঝুম হয়ে ক্লান্ত কিনবা বেদনা ঝরে পড়ে। কোন কোন বুক আগুন পোষে, সে কি জানে মায়াবী নদীর স্রোত? আগরা নগরের প্রেম যেমন বোঝে, বিশ্বযুদ্ধের মৃত্যুর ইতিহাস তারা জানে। জানে এ মহানগরে ক্ষমতার আধিপত্য ফলানোর ছল্লিবল্লি। আর রাষ্ট্রীয় দানব দাবা খেলায় চেক খাওয়া রাজার মতো কোট বদলায়, বিশপকে বিপন্নতার দিকে ঠেলে দেয় ভেবে আসন্ন বিজয়। এই সব হারামিপানা বুঝলে বুজপাতা না বুঝলে তেজপাতা। কিন্তু এও কেন হয়! একটা গানের সুর বুকের বাগানে শুকন পাতার মর্মর বাদ্যের আস্ফালন, তবু মেজাজে মার্জিন টানে বন্দুকের নলে বরং বেশি তৃপ্তি পায়। পাখির সভাব ভিন্ন কথা বলে, সুরের তাড়না ঠোঁটে সারাক্ষন ছুয়ে চলে বাতাস- আকাশ। মানুষের ইতিহাসে যুদ্ধই গর্বের সাথে লেখা থাকে। অকারণ বিলয়কে নিজেদের আত্মাহমের ট্যাগ লাগিয়ে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীর সভ্যতা। অবশেষে পাখিরাও বুঝে ফেলে মানুষ কেবল নিজস্ব রক্ত ভালোবাসে সংঘাতে। তাই প্রতিটি যুদ্ধের পর আবার যুদ্ধের আয়োজন করে। পাখিরা দুঃখ পায়, ঠোটের শিস প্রতিবাদী বিষে রুপ নেয়। মানুষের অহেতুক অহমের জীবন মিশে যাক মৃত্তিকায়। ক্ষতি কি! এবার তবে পাখির জীবন হক।

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত